সেরা কবিতা

জীবন থেকে রঙ হারিয়ে গেলে
নীলাকাশ, সাতরঙা রামধনু
চতুর্দশীর চাঁদ সব
সব কিছু ধূসর মনে হয় তখন।
প্রিয় বই প্রিয় শিল্পীর গান
বড় বেশি বেসুরো মনে হয়।
ঠিক তখনই বুকের ভিতরে
সমস্ত অব্যক্ত যন্ত্রণা কান্না হয়ে নয়
প্রিয় শব্দ হয়ে কোরা কাগজের বুকে
জন্ম দেয় সেরা কবিতার।
…………………………………………..

অবৈধ চারা গাছ

ভালোবাসার আগুনে পুড়ে
খাঁটি সোনা হতে চেয়েছিল ওরা
ভুল করে লোভের আগুনে স্নাত হয়ে
ওদের শরীরে জন্ম নিল
অবৈধ চারা গাছ।
তারপর কোন এক চৈত্রের বিকেলে
রোদ,জল,বৃষ্টি পেয়ে
যখন তারা মহীরুহ
হঠাৎ সবাই মিলে এক সাথে
প্রচণ্ড বেগে ছুটে এল
এক ঝাঁক হাওয়া।
ঐ ঝোড়ো হাওয়ায়
আজ নয়তো কাল
কোন এক দিন নিশ্চয়ই
লোভের আগুন নিভবেই।
…………………………………………..

যখন আমি একা

দূরের যারা তারা দূরেই
লক্ষ যোজন দূরে…
নীলাকাশে ভাসমান
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র তারার মতো।
মনের কাছাকাছি ছিল যারা
তারাও আজ মুখ ফিরিয়ে।
শত মানুষের ভিড়েও
কখনো কখনো মনে হয়
বড় একা নিঃসঙ্গ এ জীবন।
ঠিক তখনই চোখের সামনে ভেসে ওঠে
আমার মৃত মায়ের মুখ।
…………………………………………..

জীবাশ্ম

অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপির
পাতার ভাঁজে শুনি
নিশ্বাসের শব্দ।
দেখি সময়ের স্রোতে
বিবর্ণ পাতার ভিতর
তরুণ বয়সের
অপ্রকাশিত, যণ্ত্রণাক্লিষ্ট
কবিতার জীবাশ্ম।
দু’চোখে এখনো
শিশিরের দাগ।
…………………………………………..

ভিজতে চেয়েছিলাম

আমি ভিজতে চেয়েছিলাম
তোমার প্রেম ঝর্ণার জলে।
ঝর্ণার জল নয়
তুমি ঢেলে দিলে
তোমার তীব্র বিষ।
মৃত্যুর আগে যদি একবার মরতে পারি
তাহলে দ্বিতীয়বার মরার ভয় থাকে না।
ধূপ কি পুড়তে ভয় পায়!
ঘরে সুগন্ধ ছড়াবার জন্য
সে তো পুড়তেই চায়।
…………………………………………..

ব্যর্থ প্রেম–৪

বুকের ভেতরে ভালোবাসার নদীটা
কবে শুকিয়ে খটখটে।
একটু জলের জন্য
ব্যর্থ বালি খোঁড়াখুঁড়ি দিনরাত
এখন বর্ষাও আসেনা তেমন ভাবে।
শুধু একটু জলের জন্য
চাতকের মতো চেয়ে থাকা।
শুধু মিছে স্বপ্ন দেখি
দু’কূল ছাপিয়ে
তোমার ভালোবাসা
আছড়ে পড়ছে আমার বুকে।
…………………………………………..

ব্যর্থ প্রেমিকের কবিতা

তোমাকে দিলাম খোলা আকাশ
আর দিলাম
পূর্ণ স্বাধীনতা
পাখা মেলে ওড়ার।
যখন দিনের শেষে
তুমি ক্লান্ত, অবসন্ন
তখন তোমার জন্য
সাজিয়ে রাখব
আমার ছোট্ট কুঁড়ে খানি।
…………………………………………..

নন্দিনী কথা

শুনেছি হাতে শাঁখা, সিঁথিতে সিঁদুর
পায়ে আলতা, কপালে টিপ পরে
পরিপাটি নন্দিনী এখন একান্তই তার।
আর পাঁচ ভিন্ পুরুষের সাথে
কথা বলা নিষেধ।
সেই শেকল ছেঁড়া নন্দিনী…
পাগল করা নন্দিনী…
এখন ব্যক্তিগত মালিকানায়।
সে এখন রোজ তুলসী তলায় মাথা ঠোকে
স্বামী-পুত্রের মঙ্গল কামনায়।
কত উপবাস কত পূজার্চনা
হায় নন্দিনী…
বোকা নন্দিনী…
শেকল ভাঙার গান গাইতে গাইতে
কখন শেকলে জড়িয়ে পড়েছো…
ঐ হাতের শাঁখা যা তোমার স্বামী তোমাকে
অতি যত্নে ভালোবেসে তোমার হাতে
পড়িয়ে দিয়েছে
সে যে শাঁখার আড়ালে শেকল
তুমি টেরও পাও নি।
তোমার কাছের মানুষটি
তোমাকে আদর করার ভঙ্গিতে
নিখুঁত অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে
তোমার ঠোঁটে, তোমার উন্নত বুকে
নিতম্বে, যোনিতে
খোঁজে তোমার সতীত্ব।
বোকা নন্দিনী
এখনো সময় আছে
তুমি পিছু ফেরো নন্দিনী
তুমি না নারী না সতী
শুধু আগুন, কেবলই আগুন হও।
…………………………………………..

অন্তরীণ

কাছে নয় সাক্ষাতেও নয়
দূরে থেকো চিরদিন।
দূরে আছো বলেই
কল্পচোখে তোমায়
নিজের মতো সাজিয়ে নিয়েছি।
কত নিত্য নতুন স্বপ্ন দেখি রাতভর
তুমি প্রাণ দেবতা
তুমি সখা মোর।
মনে তাই ভয় হয়
কাছে এলে বা সাক্ষাতে
সাজানো বাগান
যদি ভেঙে যায় !
তাই, এই বেশ ভালো আছি।
…………………………………………..

একান্ত আপন

পূজার ফুল বাসি হয়
বাসি হয় প্রাণহীন দেহ,
সময়ের সাথে সাথে
বাসি হয় ফেলে আসা সম্পর্ক।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে
বন্ধু ও আপনজনেরাও
সরে যায় লক্ষ যোজন দূরে…
একাকিত্বই তখন আমার
একান্ত আপন।