চোখের চাহনী বেশ চমৎকার। চোখে চোখ রাখলে মনে হয় কোনো নির্জন বাগানের মাঝে দাড়িয়ে আছে দির্ঘ্য মাইল পর্যন্ত আর কেহ নাই। এমন অনেক বার হয়েছে রুদ্রের। দোলনকে ডাকলে অথবা দোলন ডাকলে ভেতরে একটা আগুনের কু-লি উত্তপ্ত হয়। মানুষ আগ্রন থেকে বাঁচতে চায় অথচ রুদ্র দোলনের চাহনীর আগুনে পুড়তে চায়।
আমিনা একটা কথা বলবো
হ্যা, বলো।
আসলে… আসলে…
বলেই রুদ্রের মুখ থেকে আর কিছু বের হচ্ছে না পিছু দৌড়াতে লাগলো।
আরে কি কথা বলে যাও?
এরই মধ্যে রুদ্র নাই।
দোলনদের বাসায় কিংবা বারান্দায় রুদ্রের কোনো কাজ নেই। ভবিষ্যতেও কোনো কাজ হবে না। তবু তাদের বাড়ীর সামনে এসে উকি ঝুকি দেয় রুদ্র। একবার যদি দোলন বের হয় তবে অন্য মনস্ক হয়ে দাড়িয়ে থাকে রুদ্র। দোলনও রুদ্রকে দেকলে কিছু একটা বলতে চায়।
আজও ঠিক একই অবতারনা। দোলন বাসার সিড়িতে বসে মোবাইল ঘষাঘষি করতেছিল। রুদ্র দাড়িয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে। রুদ্রকে দেখে দোলন ক্ষেপা কণ্ঠে বলে, ‘ওই ঐদিন এমন করলা কেনো?
কি করলাম?
কি বলতে চাইলা, তারপর দৌড় দিলা কেনো?
এমনি
এখন বলো কি বলতে চাইছিলা।
ভুলে গেছি মনে হলে হলে বলবো।
এখনই মনে করো। নাইলে বাড়ীর সবাইকে বলবো…
কি বলবা দোলনের কথা কেড়ে নিয়ে ভয়ে ভয়ে বলে রুদ্র।
বলবো রুদ্র আমাকে যা তা বলেছে।
দোলনের কথা রুদ্রকে খুব বড় করে ধাক্কা দেয় যদিও রুদ্র বুঝতে পারে যে তার থেকে কথা শুনতেই দোলনের হুমকি দেয়া।
তবু দোলনের কথার ভারে আজ সারা রাত একবরের জ ন্যও চোখ বন্ধ করেতে পারেনা রুদ্র।
যাকে একটা কথা বলতে চাইতেই হুমকি দেয় আর কথাটা বলার পর কি বলবে তার তো কোনো ঠিক নাই।
দুই দিন বাড়ীল আশেপাশে রুদ্রকে দেখতে না পেয়ে দোলন একটু খিটখিটে মেজাজে বসে আছে। রুদের দেখা পেলেই কিছু একটা করে বসবে। যেমন কথা তেমন কাজ। রুদ্র দোকান থেকে একটা চায়ের কাজ নিয়ে দোলনদের বাড়ীতে ডুকতেই দোলন সামনে দাঁড়িয়ে চোখ বড় করে মাথা নাড়াচ্ছে।
কি? সামনে থেকে সরো
দোলন চাপা স্বরে ক্ষিপ্ত ভাবে বলে ওঠে, ‘আজ এখান থেকে এক পাও লড়বি না আমি না বলা পর্যন্ত।
আচ্ছা এখন ভেতরে যাই চা শেষ করি।
মনে হচ্ছে চা খাওয়ার সময় দিলো রুদ্রকে। দোলন সিড়িতে বসে বসে ফেসবুক চালাচ্ছে। চা পানের মধ্য দিয়েই নিজে নিজে বলে, ‘আজ খুব সুন্দর লাগছে’
আমি সুন্দরই
হ্যা, তাই বললাম।
চা পান শেষ কাপ দোকানে দিয়ে আসি তারপর কথা বলি। দোলন একবার চোখ বড় করে তাঁকায় পরে রুদ্রের কথায় সায় দেয়। চায়ের কাপ দোকানে দিয়ে দুই দিনের জন্য উধাও হয়ে যায় রুদ্র।
আসলে কাউকে ভালো লাগা যত সুখের তার চেয়ে বড় অসুখ আর নাই। মনে মনে যতটুকু ভালো লাগা কাজ করে তার বিন্ দু মাত্র প্রকাশ করতে ততটাই কষ্ট কিংবা ভয় হয়। শুধ্র মাত্র দেখার জন্য একটু কথা বলার জন্য রুদ্র প্রতিদিন সুযোগ পেলেই দোলনদের বাড়ী কিংবা বাড়ীর আশেপাশে ঘুর ঘুর করে। অথচ কিছু একটা বলার কথা বল বলতেই খুব অসহায় হয়ে গেছে।
দোলনকে নিজের ভালো লাগার কথা বলতেই কি হবে দোলন কি বলবে তা ভাবতেই অচেতন হয়ে যায় রুদ্র।
মানুষ না বলতে পেরেও মরে যাকে দেহ বিয়োগ না মন বিয়োগ বলে।
রুদ্র মন স্থির করে দোলনের সঙ্গে দেখা হলেই কিছু কথা বলবে যা হয় হোক।
বরাবরের মতো চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতেই দোলনদের বাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে ভেতরে অনেক মানুষের ভিড় দেখে বোধ করে কিছু কেনাকাটি হচ্ছে। আট দশজন মহিলার মধ্যে দোলনকে খুঁজে নেয় রুদ্র। দোলনও রাগে ক্ষোভে ঠোট বাকায়। রুদ্র মাথায় ইশারা করে ছাদে যেতে বলেই নিজে ছাদে যেতে থাকে। চা এখনও শেষ হয়নি। ছাদে দরজার পাশেই দাঁড়িয়ে দোলনের জন্য অপেক্ষা করছে সে। লিফ্ট থেকে বেড় হয়েই ছাদের দরজায় কোনো সময় ক্ষেপন না করেই রুদ্রের কলার চেপে ধরে দোলন
তুই কি আমারে পুতুল পাইছিস যে যেমন নাচাবি তেমনি নাচবো? কয়দিন ঘুরাচ্ছিস কথা বলবি বলবি বলে।
আরে ছাড়ো বলেই গলা থেকে দোলনের হাত সরায়। এ প্রথম দোলনকে তুমি করে বলে শুনতেই দোলন একটু অবাক হয়।
ওই তুই আমাকে তুমি করে বললি কেনো?
আরও অনেক কিছু বলবো। আর বলবো বলেই ছাদে আসতে বলছি।
মাথা নাড়িয়ে চুল এলোমেলো করে জানতে চায় দোলন।
বলো কি বলবা?
আমি দিনের পর দিন কোনো একটা কারনে অস্থির সময় কাটাচ্ছি। কারনটা বলতে না পারার কারনেই এ অস্থিরতা।
শুনি কি সে না বলা কথা
আসলে জানি না কথা শুনার পর আপনি কি ব্যবহার বা প্রতিউত্তর করেন তবে বলেই চলে যাই।
আপনাকে আমার খুব ভালো লাগে।
রুদ্রের কথা শুনে দোলন নি:শ্বাস ভেতরে নিয়ে চোখ বড় করে। কিছু অবাকের ছলে।
পিছন ঘুরে রুদ্র বলে, ‘মনে হয় আপনার কাছে যা তা বলি। মনের সব কথা প্রকাশ করি।
ওই তুমি জানো আমি বিবাহিত। আমার সন্তান আছে। আমি তোমার বড়। আমাকে ভালো লাগার কি আছে। রুদ্রের কথা কেড়ে নিয়ে বলে দোলন।
ভালো লাগার যে কি কারন আছে সেটিই তো বের করতে পারছি না। আবার না বলেও থাকতে পারছি না। কেনো জানি আপনাকে আপন আপন মনে হচ্ছে। বলছি না আপনি আমার প্রেমিকা বা আমার সঙ্গে কাজ বাদ দিয়ে কথা বলেন। কিন্তু মানুষকে ভালো লাগতেই তো পারে, না? রুদ্রের বাচন ভঙ্গি দেখে মুচকি হাসে দোলন।
বলতে থাকে রুদ্র। আমি আপনাকে খুব পছন্দ করি। ভালো লাগে আপনাকে। ভালোবাসি।
আবারও নি:শ্বাস ভেতরে নিয়ে চোখ বড় করে রুদ্রের দিকে তাঁকায়। সময় ক্ষেপন না করে রুদ্র বলে, ‘ক্ষেপবেন না, আমি বলে যাই। আর আসবো না কিছু বলবো না।
সব শেষ কথা হচ্ছে আপনাকে আমার কিছু একটা মনে হয়। আমি জানি না একটু পর আমার কি হবে। আপনি কি করে বসেন, না জানি আমার এলাকা ছাড়াতে হয়। তবে আমি সত্যিই আপনাকে পছন্দ করি ভালোবাসি। এতো কেনো নোংড়ামি নাই কোনো উদ্দেশ্য নাই বলে, ছাদ থেকে দরজা অতিক্রম করতে চাইলেই পিছন থেকে দোলন ডাক দেয়, ওই শোনো?
রুদ্র পিছন তাকায়
দোলন বলে, ‘আগে যেভাবে আসা যাওয়া করতে যেসভাবে আসা যাওয়া করবা বরং আরও কয়েববার বেশি। রুদ্র খানিক অবাক হওয়ার আগেই দোলন বলে, আর একটু আগে কি যেনো বললা, ‘তুমি’? আমাকে তুমি করেই বলাব।
রুদ্র আপ্লুত ভাবে তাকায় দোলনের দিকে। মনে হয় দোলনের খুব কাছে যায়। দোলন সুযোগ না দিয়ে বলে বলে এখন যা ভাগ এখান থেকে বিকেল যদি না দেখতে পাই তোরে তবে সত্যিই এলাকা ছাড়া করবো বলেই হাত নাড়িয়ে রুদ্রকে যেতে দেয়। সিড়ি বেয়ে রুদ্র দোলনদের বাড়ী থেকে বেরিয়ে পড়ে। ছাদ থেকে অতৃপ্ত দৃষ্টিতে দোলন তাঁকিয়ে থাকে।