অবসর যাপন

যে শহর আলাদা করেছে আমাদের
সে শহর আমার প্রাণের
এ শহরে আমি অবকাশ যাপন করেছি
সুপার মার্কেট, পেট্রোল পাম্পে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেছি, তোমার জন্য।
বাড়ির কাছের মুদি দোকান তোমার বড্ড প্রিয়
ঐখানে দাঁড়িয়ে তোমার বাড়ির আমগাছটা দেখেছি কতদিন -অকারণে ঐ গলি দিয়ে হেঁটেছি
এটা আমার প্রেম-
এটা আমার ভালবাসা।

তোমার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সময়
আমাকে যন্ত্রণা দেয়,
সবকিছু বড় প্রিয়,
গনেশ তোমার বাড়ির মালি
আমার প্রিয়বন্ধু!
তোমার চিলেকোঠার সিঁড়িতে যে রঙ্গীন পাতাবাহার
আমারই দেওয়া-পাঁচটা পাতা ছিল
এখন অসংখ্য পাতা, তোমার নাকি খুব পছন্দের- গনেশই খবর দেয়।
আর হ্যাঁ-
যে রাস্তায় তোমার আসা-যাওয়া
আড়ালে দাঁড়িয়ে তোমার চলে যাওয়া দেখি
বুকের ভেতরটা মোচড়ে উঠে
ব্যাথায় চিনচিন করে, আনমনে দুফোঁটা অশ্রু ঝরে
বিকেলের গোধুলি রঙ্গে মিশে যায়
তোমার ঝাউ বারান্দা তখন খা খা শূন্যতায়।

সন্ধ্যা ঘনায়
সমস্ত আলো জ্বলে ওঠে
অশ্রু ভেজা চোখে তোমার শান্ত মুখটা দেখি
নিজেক পরিচিত মুখগুলোর আড়ালে লুকাই
আমার অবসর, বিষন্ন জীবন এমনি করেই তোমাকে খুঁজে।
এভাবেই আমি বেঁচে থাকবো
তোমাকে খোঁজে – এ আমার নেশা
কিছুদূরে –
সীমান্ত পেরিয়ে তোমার শহর।
…………………………………………..

দেখা হবে

কথা ছিলো
আমাদের দেখা হবে
ততদিনে সময়ের রোজনামচা পুরো হয়েছে
এ্যালবামে জমেছে অনেক ওলটানো পাতা
নিরীহ হৃদয় নিয়ে চোখের গনিতে
বুটিকের কানামাছি ভেলানো সময়ে
অনবরত তোমাকেই খুঁজি।

আমার চোখ ভেসে ভেসে তোমারি দিকে যায়
মনে হয় ঐতো ঐখানে তুমি!
কি এক বিস্ময়কর প্রেম?
কাদা কাদা এই সব ভালোবাসাবাসি
ঝরে পড়ে গন্ধগোকুল সময়
ব্যর্থ হয় গোধুলী বিকেল।
শুধু মনে মনে আজো জানি
প্রবল রিমঝিম নিয়ে রুলটানা পাতাগুলি
জলে ভেঙে এক হবে
আমাদের দেখা হবেই।
…………………………………………..

তোমাকেই বলছি

তোমাকে দূর পাহাড়ে দেখি
এক নির্জন শূন্যতায়-
চোখের অবগাহন
ক্ষত-বিক্ষত দংশনে।

যে পাহাড় এত আলোকিত ছিল
আজ শুধুই অন্ধকার!
আমাকে দেখো-
পৃথিবীর সব আলো
এখানে থমকে গেছে-
শুধুই নিঃসঙ্গতা।

আমার বারান্দা জয়ন্তী ফুলে ছেয়ে গেছে
সূর্যস্নানে ঘুম ভাঙ্গে-
অস্তমিত সূর্যের আলোয়
নুড়িপাথর চকচক করে
চমকে দেয় চোখ।

আর – হ্যাঁ
উত্তরের জানালা দিয়ে
তোমার অন্ধকার যাপন দেখি!
হাহাকার সঙ্গ দেয়, কেবলই সঙ্গ দেয়…
…………………………………………..

ক্ষরণ

ভেবে নিওনা সেইসব দিন রাত্রির জন্য আমার চোখে জল
এ হলো যাপিত জীবনের কড়চা
কস্মিনকালে ও কোনকিছুই মনে পড়েনা
মনে পড়ে কি?
দু’চারটে লাইন লিখি, স্মৃতি বড্ড দাগা দেয়
বুকে রক্তক্ষরণ হয়;
সেই রক্ত শব্দ হয়, কলমের আঁচড়ে
ঝরে পরে ফোটায় ফোটায়
কবিতার লাইন হয়।

খবর আসে কাঁটাতারের ওপার থেকে
এই দু’চারটে লাইনে শ্রাবণ ধারা বয়
কারো চোখে বৃষ্টি আর বৃষ্টি
কবি ভীষণ ব্যস্ত…..
এইসব খবর
কবিকে ভাসায় ভাসিয়ে নেয়
উত্তর থেকে দক্ষিণ।

ওটা স্মৃতি
যৌবনের একটা অধ্যায়
ভাটার খবর বড়ই তেতো
কী আসে যায়?
…………………………………………..

ফিরে আসো

ফিরে আসো
তপ্ত হৃদয়ে
দাও একদন্ড সময়
শুধু বসে থাকো
দেখো জলতল
ফিরে চাও
দেখো এ হৃদয় এখনো আকুল
কাঠফাঁটা রৌদ্দুরে
কি আছে?
…………………………………………..

সকাশে

পৃথিবীর ত্রিসীমানা পেরিয়ে
সবুজ দ্বীপ থেকে
চমৎকার একটি খাম
ভিতরে…………
প্রিয়তমা,
ভীষন-ই মনে পড়ছে তোমাকে…
…………………………………………..

তোমার কাছে

খোলা জানালায় বাতাসের স্নিগ্ধ হাসি
দিগন্ত প্লাবিত সবুজ ক্ষেত
ধানের শিষের নি:শ্বাস ছুঁয়ে যায়
আমার হৃদয়
তুমি নেই,
বাগানে হরেক রকম ফুল
ফুলের কানে ভ্রমর
পাপড়ি উল্টে সুর খুঁজে ফিরে
বলে যায়
কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো-
হঠাৎ বৈশাখী ঝড়ো হাওয়া
কবিতার খাতা উড়তে থাকে
আমি ভেসে চলি
তোমার কাছে….
…………………………………………..

স্বপ্ন

সবাই যখন ব্রাউন সুগারের নেশায়
স্বপ্ন দেখে আমেরিকায়,
আমি তখন নিজেকে জানার আশায়
স্বপ্ন দেখি শান্তিনিকেতনের।
সবাই যখন এ্যালকোহলের মাদকতায়
লিভিং টুগেদারে ব্যস্ত,
আমি তখন পান্তা খেয়ে
শান্তি খুঁজি শীতল পাটির।
সবাই যখন ব্রেক ড্যান্সে মত্ত,
আমি তখন ভারতীয় দ্রোপদীতে ব্যস্ত।
সবাই যখন প্লেবয় এর পাতা ওল্টায়,
আমার তখন চোখ থাকে সঞ্চিতার পাতায়।
…………………………………………..

তুমি

লিখতে গেলেই তুমি
প্রতিটি শব্দে তোমার উপস্থিতি
প্রতিটি পংক্তি তুমিময় কবিতা
দু:খ কষ্ট ভালবাসা
জীবনের পুলক ও যন্ত্রণা
সেখানেও জড়িয়ে তুমি
পুরো আকাশ জুড়ে তুমি
জীবনটা তুমিতেই ভরা
শ্রাবণ কি আশ্বিনে ফাল্গুন কি…

গোঙ্গানির সুরে তোমার নাম
ভোরের স্বপ্নে বোবা চিৎকার
দু’চোখের ডানপাশে অশ্রু ফোটা, তুমি;
বামপাশে খেলা করে সংসার।
…………………………………………..

বড় ঘাতক তুমি

পৃথিবীতে কত শত হৃদয়
তারপরেও তোমাকে নিয়ে এত টানাহেঁচড়া
বনহংস কিংবা শঙ্খচিল ও হতে পারনি
সবুজ হৃদয় ও নেই তোমার
বড় ঘাতক তুমি!
শিকারী হয়ে সবার হৃদয়ে পেরেক বসাও।