অতি ‘আবেগ’ মানুষকে অনেকটা খারাপের দিকেই নিয়ে যায়। ‘বদ’ মেজাজও মানুষকে খারাপের দিকে নেয়। কী অদ্ভুদ বিষয়! ভালো গুন এবং মন্দ গুন দুটিই খারাপের দিকে নিয়ে যায়।
সকাল থেকে সুজনের মন একটু অস্বাভাবিক। তার মন খারাপ হলে গলা থেকে গাল, চোখ-মুখ গরম হয়ে যায়। মনে হয় বাহির থেকে গরম বাতাস মাথা দিয়ে ভেতরে ডুকে। মন খারাপ হলে সুজন একা থাকতে পছন্দ করে। পারলে গানও শোনে। রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দিয়ে অল্প শব্দে প্রিয় গান চালিয়ে দিলো, ‘চির দিনের দুনিয়ায় হয়েছে হায় প্রেমেরই জয়/ যুগে যুগে প্রেমের কারণে মরনের কেউ করেনি ভয়’।
গান শোনে আর চোখের জলে ভেসে যায় সুজন। সত্যিই অন্য দিনের মন খারাপের মতো আজকে তাকে অস্বাভাবিকই মনে হচ্ছে।
কাঁদতে কাঁদতে রুমের জানালা দিয়ে বাইরের আলো দেখে। ভাগ্যক্রমে সুজনের পাশে সুবজ গাছের সমারহ আছে বলে পাখিদের কিচিরমিচির ডাক শোনে। কয়েকটি পাখি উড়াউড়ি করে তা দেখে সুজন আরও কাঁদে।
মানুষ পাখি হতে চায় না কারণ মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। পাখিরা সেরা জীব না। তাই মানুষ পাখি হতে চায় না। কিন্তু আজ সুজনের পাখির মতো উড়তে ইচ্ছে করে। স্বাধীন জাত জীব পাখি। নিজের মতো করে চলে।
এসব কেনো যেনো আজ বেশি ভাবে সুজন। কেনোনা তিন চার দিন পপির সঙ্গে তার কথা হয় না। গত বুধবার ওর সঙ্গে সুজনের বেশ মান অভিমান এমনকি ঝগড়াও হয়েছে। পপি সুজনকে ফোন দিতেও নিষেধ করেছে। পপির কথা মতো চার দিন হলো ফোন দেয় না। ফেসবুকে আসলেও ক্ষুদেবার্তাও পাঠায় না। পপিও…
অভিমন না ঝগড়া অনেক সময় কিছু সম্পর্কে তা বোঝা যায় না

দুই.
পৃথিবীতে দু রকমের প্রেমিক বিদ্যমান
এক. কাউকে ভুলে যেতে অন্যকে ভালোবাসে আর
দুই. শুধু ভালোবাসা পেতেই কাউকে ভালোবাসে।
আরও এক বিরল রকমের প্রেমিক আছে যারা সব রকমের মানুষের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে অনেকটা হলুদের মতো।
সুজন ভাবে সত্যিকার প্রেমিক বা ভালোবাসার মানুষ কারা? দুজন দুজনকে যতœ নেয়া। দুজনের পাশে থাকার মতো প্রেমিক কি এখন বিলুপ্তির দিকে? নিজের মোবাইলের ডিস্পেলেতে পপির ছবি দেখতে দেখতে ভাবে।
ভালো কী শুধু আমিই বাসি? তাই আমিই কষ্ট পাচ্ছি। পপি কী আমাকে ভালোবাসেনি? যদি বাসে তাহলে কেনো এমন করতে পারলো? একবারও কী খবর নিতে পারলো না। কেনো এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিলো?
নিজে নিজে বকতে বকতে মেসেঞ্জারের ক্ষুদেবার্তাগুলোতে ডুকে সুজন। টার্চ মোবাইল বলে এক ঘষায় মেসেঞ্জারের অনেক দূরের বার্তাগুলো আসতে আসতে নিচে চলে যায়। তিন, সাড়ে তিন বছরের সম্পর্কের এক বছর আগের বার্তাগুলো নিজেদের অনেক গভীরে নিয়ে যায়।
-সুজন আমি তোমাকে পেয়ে অনেকটা হাসতে শুরু করেছি
-এমন মনে হলো কেনো?
-মনে না করার তো কিছু নেই। আমার বর সাহেদকে পরিবারের পছন্দ মতো বিয়ে করেছি। তার কথা মতো চলার চেষ্টা করেছি। সে মানুষটা আমাকে ঠকিয়েছে। কানাডা গিয়ে প্রবাসীকে বিয়ে করেছে। আমি খেলাম কি খেলাম না কোনো খবর নেয়নি। মন চাইলে নয় মাসে ছয় মাসে ফোন দেয়। আমার বয়স কত? খুব তো বড় হইনি।
-তুমিও তো তার সঙ্গে যেতে পারতে। তুমি গেলে না কেনো। আর তুমি যে এখন আমার সঙ্গে কথা বলছো এতে তুমিও তো তোমার বরকে ঠকিয়েছো।
-কান্নার ইমু পাঠিয়ে পপি ক্ষুদেবার্তা পাঠায়, তোমার কথা ঠিক কিন্তু তোমার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগে আমি ছয় সাত বার আত্মহত্যা করতে গিয়েছি। নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে পেরে ওঠতে পারিনি।
-অদ্ভুদ!
-তোমার সঙ্গে আমার পরিচয় আল্লাহ হয়তো নিজেই করিয়েছেন। আসলে তোমাকে আমি বোঝাতে পারবো না তোমাকে আমার কতটা প্রয়োজন ছিলো। আমি বলছি না আমার সঙ্গে সেক্স করো, এটা করো সেটা করো। কিন্তু আমি যে একজন মানুষ। আমার যে কথা বলতে হয়। ছোট ঘরের মেয়ে বলে শ্বশুড়বাড়ীর কেউ আমার সঙ্গে খুব একটা মিশে না। বলার জন্য হয়তো কথা বলে।
-তোমার কথার জবাব নাই আমার কাছে। তবে ভালোবাসি…
-কাকে?
-তোমাকে মানে পপিকে।
-হাহা
-হাসো কেনো?
-তুমি আমাকে কেন ভালোবাসবা?
-কিছু প্রশ্নের জবাব কারও কাছে থাকে না। তবে প্রশ্ন করা মানুষটি বুঝতে পারে। তুমি সুন্দর। বর্তমান সময়ে প্রেমিক প্রেমিকারা যা বলে তার মতো বলে চাপাবাজি করতে চাই না।
-আমি শুনতে চাই বলো তুমি। আমার শুনতে ইচ্ছে করে।
-তুমি কিউট, হেব্বি সুন্দর। দেখলে মন উতালা উতালা করে।
-তাই?
-হুম
কিছু কিছু ভালোবার সম্পর্কগুলোর গভীরতা এভাবেই শুরু হয়

তিন.
একজন মানুষকে আসলে মানুষ কেনো পছন্দ করে? এ প্রশ্নের অনেক জবাব থাকে। তবে সত্যি কোনো জবাব কেউ দিতে পারে না। পপি মেকাপ ছাড়া চলচ্চিত্র কিংবা নাটকের শিল্পীদের মতোই সুন্দর। তবে পপির সৌন্দয্যের চেয়ে তার অসহায়ত্ব সুজনকে আকর্ষিত করেছে বেশি।
তাই অতীত জেনেও তার সঙ্গে কথা বলা ক্ষুদেবার্তা পাঠানোসহ একজন শুভাকাঙ্খাখির মতো দিন পার করতে শুরু করে।
পপির কথা বলার মানুষ নাই। সুজনের আর্থিক তেমন অভাব নাই বললে চলে। দুদিন হলো নিজের চাকুরির একটি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় সুজন। এটা একটা ধৃষ্টতা বলা চলে। ক্যাণ্টেম্যাণ্টের চাকুরি কেউ না বলে দেয় সুজন তা দেখিয়ে দেয়। তার ভিতর কিছু ভাবনা কাজ করে যার বাইরে সে গেলে অসুস্থ হয়ে যায় মানসিক ভাবে। ক্যান্টেম্যান্টের চাকুরি না বলে দিয়ে বিকেলে পপিকে ক্ষুদেবার্তা পাঠায়, ‘আই লাভ ইউ জান!
-হঠাৎ এতো উতালা কেনো মশাই?
-এমনি কি করো?
-তোমাকে ভাবি, তুমি
-এটাই তো সমস্যা
-কি সমস্যা? আমি তোমার কাছে এখন সমস্যা?
-আরে না। তা বোঝায়নি তুমি আমাকে ভাবছো সে জন্য আমি তোমাকে আমার ভাবনায় রাখি
-আই লাভ ইউ টু
-এটা কেনো?
-এমনি
ভালোবাসার গল্পগুলো হয়তো এমনই হয়…

অভাব না থাকলেও নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে খুব একটা চিন্তা করে না সুজন। ঢাকার বাইরে কোথায় যেতেও চায় না পপির জন্য। দোষ সুজনের না। এমন প্রেম আর প্রেমিক যুগল থাকে যারা নিজের বোধের বাইরে যেতে চায় না।
তবে বিষয়টি পপিকে বুঝতে দেয় না সুজন। পপিও এ বিষয়ে তেমন খবর নেয় না।
পপির অসহায়ত্বে নিজে প্রেমে পড়ে গেলেও পপি আসলে ভালোবাসে কি না এ বিষয়টি বুঝতে বা জানতে চায় না সুজন। পপির দরকার সঙ্গ। কথা বলার মানুষ। দিন দিন পপির বুড়ো হওয়া মন যৌবনে আসলে তা প্রেমের না নিজের ভেতরের কথা প্রকাশ করার দরুন। পপির কথাগুলো প্রেমের বহি:প্রকাশ হিসেবে নিয়ে সুজন একগেয়েমি ভাবে ভালোবাসতে শুরু করে।

আচ্ছা তোমাকে এতো রাতে ক্ষুদেবার্তা দেই। যখন তখন ফোন দিই। তোমার কোনে সমস্যা হয় না। তোমার বর কখন ফোন দেয়? তোমার ফেসবুক, আইমু বা হোয়াটসআপের পাশওয়ার্ড জানে না তোমার বর?
-এসব বিষয় নিয়ে তার তেমন মাথা ব্যথা নাই। আমি যদি তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যাই তবে তো সে বেঁচে যায়।
-মানি?
-এমনই। যাক বাদ দেও এসব কথা। মেয়ে মানুষ বলে অনেক জায়গা আমি ফেলনা। হয়তো কেউ কেউ আছে ফেলনার মতো।
-তুমি তো আমার কাছে পুতুলের মতো। তোমাকে খুব ভালোবাসি। তেমাার সব কষ্টগুলোকে মুচে দিবো এক এক করে…

চার.
কোনো প্রেমিক বা প্রেমিকা যখন হলুদের মতো প্রেমি হয় তবে সবার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। এটা সুজনের ভাবনা। মানুষ যখন আরও ভালো চায়। তখন বর্তমানকে এড়িয়ে চলে। আজকাল এমনই দেখতে পায় সুজন। পপি কিছুটা আনমনা থাকার চেষ্টা করে সুজনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে। মাঝে মাঝে ‘তোমাকে একটু পর ফোন দিচ্ছি।’ বলে ফোন রেখে দেয়। সুজন অনেক পরে ফোন দিয়েও ব্যস্ত পায়।
যেমন করে দ্রুত প্রেমে পড়ে সুজন তেমনই নিজের ভেতর কষ্টগুলো জমা হতে থাকে। রাত শেষে সকালে পপি ক্ষুদেবার্তা দেয়, ‘সরি কাল ব্যস্ত ছিলাম তাই ফোন দিতে পারিনি।’
ফিরতি কোনো জবাব দেয় না সুজন। এমন কয়েকবার হলো। তাই একই কথার জবাব আসে না তার। তবে নিজে কষ্ট পাচ্ছে বিষয়টি পপি যেমন বুঝতে চায় না তেমনই সুজন বলে না।
হয়তো কিছু প্রেম শুটিংয়ের মেকাপের মতো আসলটা বোঝা যায় না

পাঁচ.
সুজন। বাবু আজ একটা সুখবর আছে।
-কী?
-সাহেদকে ডিভোর্স দিবো। ওকে ছাড়া ও বাড়ী পাহাড়া দিয়ে আমার জীবন নষ্ট করতে চাই না
-কেনো কি হয়েছে?
-তোমাকে তো মিজানের কথা বলিনি।
-কে ওনি?
-ও আমার স্কুল থেকে বন্ধু ছিলো, ওকে আমি ভালোবাসি। আমার বাবা মা সাহেদের সঙ্গে আমাকে বিয়ে দেয়। পরে মিজান অন্য একজনকে বিয়ে করে। ওর স্ত্রীর সঙ্গে ওর ডিভোর্স হয়ে গেছে।
-তো?
-তো আর কি এখন তো সমস্যা নাই আমি ওকে বিয়ে করবো।
-তাহলে আমি কি করবো?
-মানি কী? আমি কখনও বলেছি তোমাকে বিয়ে করবো?
-এতো দিন তাহলে কি সম্পর্ক ছিলো আমাদের?
-দূর। তোমার সঙ্গে কথা বলে তো আমি হাসতে শিখেছি। আমার জীবনকে তো তুমি বদলে দিয়েছো
-তাহলে মিজানকে বিয়ে করতে বলছো কেনো? আমাকে কেনো না?
-আজব। তোমাকে বিয়ে করবো কেনো? আর বিয়ে করে আমাকে নিয়ে কি করবে, কোথায় থাকবে, কোথায় ওঠবে? আর তোমার সঙ্গে আমি কথা বলতাম আমার কথা বলার মানুষ ছিলো না।
-যে তোমার জীবন বদলে দিয়েছে তাকে এসব বলছো?
-দেখো তুমি আমাকে সঙ্গ দিয়েছো। আর কি করেছো? তোমাকে যে আমার খুব ভালো লাগতো আমি তা কখনও বলিনি।
-তাহলে কথা বলেছো কেনো? এতো বছর? কয়েক সপ্তাহ কয়েক মাস?
-এমনি
-আর বলছো কি করছি তোমার জন্য? তোমাকে চিনলাম। মনে থাকবে।

‘সম্পর্ক যখন ভাঙ্গে তখন দু চার কথা থেকেই শুরু হয়’
ক্ষর্দেবার্তাগুলো পড়তে পড়তে চাপাকান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সুজন। মোবাইল রেখে বিছানায় গড়াগাড়ি করে।

মানুষ যখন মনের দুরত্বের বাইরে থাকে তখন তাকে ছোঁয়া যায় না। মানুষ যখন অভিনয় করে তখন অধিকার খাটানো যায় না। বুকের ভেতরটা এখন প্রখর রোদে শোকানো গাছের পাতার মতো, সামান্য আগুনে জ্বলে ছাই হচ্ছে সুজনের ভেতরটা। বার বার পপির একটা কথা কানে বাজে, তুমি কি করছো?
সুজন জানতো না পপির আগে একজন প্রেমিক ছিলো।
কিছু কিছু সময় কান্না আর চাপা কান্না ছাড়া কিছু করার থাকে না। নিজেই চিন্তা করলো পপির সঙ্গে কথা বলবে না তবে কিছু লিখবে।

প্রিয়,
তুমি আমার প্রিয় হয়েই থাকবে।
একটা প্রশ্ন করেছিলে যে, ‘তুমি কি করছো?
আজ তাহলে গোপন না রাখি। বলি তোমার জন্য কি করছি…
গতানুগতিক এ সময়ের প্রেমিক প্রেমিকারা যা করে আমি তোমার জন্য তা করিনি। তোমার সঙ্গে ফস্টিনস্টি করিনি। রুম যাপনও করতে চাইনি। তবে তোমার জন্য করেছি… কী? শোনো…
তোমার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার সময় আমি একটি প্রভাবশালী কোম্পানীতে চাকুরি করতাম। ওই কোম্পানীতে চার বছর চাকুরি করার বেতনের টাকা তোমার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার তিন বছরেও খাচ্ছি। সে চাকুরিটা তিন ছেড়েছি তোমার জন্য। ভাবছি তোমাকে সময় দিই।
আমার কোনো আর্থিক অনটন নাই।
দু বছর আগে আর্মিতে লোক নিচ্ছিলো আমি লাইনে দাঁড়াই তারা আমাকে নেয়ার প্রস্তাব এবং কাজ শুরু করে। আমি চিন্তা করি এখানে ডুকা মানে তোমার সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখা সম্ভব হবে না। তাই আর্মিতে যাইনি। কারণ তখন তোমাকে ছাড়া আমি কিছু বুঝতে চাইনি।
এই তো গত অক্টোবর মাসে ক্যান্টেম্যান্টে আমাকে ডাকে চাকুরিতে জয়েন করতে তাও করিনি। এসব তোমার জন্য। ভাবছি বাসায় অনলাইনে কিছু করে বেকারত্ব কাটিয়ে দিবো।
তোমার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর আমি অসুস্ত হয়নি। আমার কাঁশিও হয়নি। এটা সত্যি না। অভিনয়। আমার অসুস্থতা লুকিয়ে তোমাকে সঙ্গ দিতাম। গভীর রাতে কখনও বলিনি আমার ঘুম আসছে, তোমার সঙ্গে কথা বলেছি। তোমার আনন্দের জন্য।
এসব করেছি তোমার সঙ্গে থাকার জন্য। চাকুরি করতে গেলে ব্যস্ততায় থাকতে হতো। জানি এটা আমার বোকামি ছিলো এসব করা। কিন্তু এ অবস্থায় এসে কিছু করার নাই।
আমি তো তোমার জন্য যা খুশি করতে পারতাম। তোমার জন্য সব করার মতো ছিলাম আমি।
ঘুমের মানুষকে জাগানো যাবে কিন্তু যে মানুষ ঘুমের ভান ধরে তাকে কখনও জাগানো সম্ভব না। তুমি তোমার মিজানকে নিয়ে সুন্দর সংসার গড়ো এটা প্রত্যাশা করা ছাড়া হয়তো আমার কিছু করা নাই।
আমার যে ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে আমি নিজকে মানিয়ে নিবো।
তুমি ভালো থেকো…
ক্ষুদেবার্তা পপির, মেসেঞ্জার, আইমু, হোয়াটসআপ এবং ইমেলেও পাঠায় সুজন। সব মাধ্যমেই সিন হয়।
মোবাইল বিছানায় রেখে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়ায় সুজন। বুক ফেটে কান্না আসে। হঠাৎ মেসেঞ্জারে ক্ষুদেবার্তা আসে পপির, সুজনের বড় এক পত্রমিতালীর জবাব দেয় পপি,
‘সরি, আমার কিছু করার নাই। তুমি ভালো থেকো। আমি কিছু করতে পারবো না। আমাকে মাফ করে দিও।’
ক্ষুদেবার্তা পড়ে চোখ বন্ধ করে সুজন। অধিকার না থাকলে নিশ্চুপ নিরব থাকতে হয় মানুষের। বিশাল পৃথিবীতে অনেক মানুষের ভিড়। কোটি মানুষের ভিড়ে মানুষ একা এবং অসহায় মানুষের কাছেই।
কিছুই করাই নাই। জীবনের এক সময় কিছু করা থাকে না কান্না ছাড়া। চোখ বন্ধ করে চোখের উঠানে কান্নায় গাল মুখ ভাসায় সুজন…