অবচেতন

আমাকে ডেকো না;
আমি আজ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন,
কারো হৃদয় ভাঙা আত্ম চিৎকার
আর আমার কানে আসে না।
আমি একছত্র পরিবর্তিত হয়ে
ভারসাম্যহীন সভ্যতার সাথে
তাল মিলিয়ে চলতে শিখেছি।
আমার মৌলিক সত্বাগুলো
আর হিতাহিত জেগে ওঠে না;
যদি পাহাড় ভেঙে পড়ে ঐ
পাশের জীবন সমতলে,
তবুও মন অবচেতনে ঘুমিয়ে থাকে।
আমাকে ডেকো না;
শঠতার সাথে পাল্লা দিতে দিতে
প্রতিবাদে মুখ লুকাতে শিখে গেছি,
কারো অশ্রু সজল চোখ
আর আমার সামনে পড়ে না,
আমার অশ্রু ভরা দু-চোখ ও
কারো সামনে দাঁড়ায় না।
শুধু ঘুসঘুসে চাপা কষ্টগুলো
বুক সাঁতরায় অন্তরালে।।
……………………………………………

স্বপ্ন খুঁজি

চারিদিকে স্বপ্ন ভাঙ্গার গান
তবুও স্বপ্ন খুঁজে মন,
নেই মনের কোনো দাম
নেই ছিটেফোঁটা মান -অভিমান।
দ্বিধার বাঁধ থমকে দেয় চেতনা-
আড়ালে সংকোচে বিস্মৃতি ঘটে
নিত্য অপ্রকাশিত স্বপ্ন গুলোর;
তবুও স্বপ্ন খুঁজি বাঁচার তাগিদ
নতুন একটা দিগন্তের হাতছানির।
দৃষ্টিতে খুঁজে পাই অস্বচ্ছতা
মৌলিক আচরণেও লাগে
সীমাহীন অসম্পূর্ণতা-
কেন হলো মৃত্যু?
সেই দ্বিধাহীন স্বপ্ন গুলোর
কীসের প্রাপ্তির প্রহর গুণে
অসমাপ্ত চেতনাগুলো?
সুন্দর স্বপ্নরা আর আসেনা অগোচরে
ভয় পেয়ে থমকে যায়;
অজানা আশঙ্খার ডরে।
তবুও খুঁজে বেড়াই স্বপ্ন
একফোঁটা আবেগের ছল,
স্বপ্নহীন জীবন যে বড়ো
নিষ্প্রাণ মরুর সমতল।
……………………………………………

অবনত মস্তক

পৃথিবী আজ উত্তপ্ত। ধ্বংস লীলার খেলায় মেতেছে সর্বত্র
কোন এক সময় এই পৃথিবীটা সুন্দর, স্বর্গময়, বাসযোগ্য ছিল
ছিল প্রেম, প্রীতি, মমতায় ভরা স্বর্গময়তা বিরাজমান
আজ সেই স্বর্গে চলছে বুক চিরে আর্তনাদ।।
বিশ্বাস নেই ভ্রাতৃত্বের, বিশ্বাস নেই পিতৃত্বের,
নেই বিশ্বাসটুকু বন্ধুত্বের
কিসের আসায় বাচঁতে আগ্রহী আমরা!
আমরা কী আদৌ বেঁচে আছি?
আগামীর দিনগুলো কী আমরা আবার অতীতের কোমলতায় ফিরিয়ে দিতে পারবো?
পৃথিবীর নিরবতাকে অসহায়ত্ব ভেবে দুৃমড়ে মচড়াতে চেয়েছি।
সুযোগ পেলেই গ্রাস করে নিতে চেয়েছি পৃথিবীর একাংশ আধিপত্য বিস্তারে
কে আমি?
পৃথিবীর একটা জমির অংশে জন্ম নেওয়া ছোট্ট একটা জীব মাত্র
এই মাটিতে গড়াগড়ি দিয়েই বেড়ে উঠেছিলাম তিল তিল করে
প্রকৃতি আমাকে হাসতে শিখিয়েছে, কাদঁতে শিখিয়েছে
কিন্তু বেড়ে উঠতে উঠতে নিজেকে পৃথিবীর শাসক ভাবতে শুরু করে দিলাম
পৃথিবীর দেওয়া উপহার আমার ভালো লাগেনা
আমার দৌরাত্ম্য চাই
বিলাসী জীবন চাই, চাই চাই চাই
চাওয়া পাওয়ার শেষ নাই
মানব হয়ে আমরা মানব পাচার করতে পারি
পারি ধর্ষন, খুনের মতো কতো জঘন্য অপরাধ
নেই আমাদের কোন ভয় নেই
আমরাই একমাত্র সর্বগ্রাসী।
কই সেই দৌরাত্ম্য!
পৃথিবীর ধ্বংস ঠেকানোর ক্ষমতা কী কারোরই নেই!
……………………………………………

ক্ষীণ চেতনা

মহান হওয়ার বাসনা নিয়েতো জ্ঞানী জন্মায় না
কলমের আচঁড়ের নিরব কথনে সম্পর্ক ভাঙে না;
মিছে মিছে আমি তুমি সম্পর্ক গড়তে ব্যস্ত
সমসাময়িক চিন্তাভাবনা দিয়ে চলে নিত্য নৈমিত্য।
জ্ঞানীর কলম এগিয়ে চলে নিঃস্বার্থ পদচারণে
আধারের পথে আলো ছড়ানোর পদাঙ্ক অনুসরণে;
একজীবনে ঘটবে কী তা বলতে পারার জ্ঞান
ঘটেছে কী তা বিশ্লেষণ তো নেহাত প্রয়োজন।
জ্ঞানীজন পায়না মূল্য বাস্তব জীবন গতিতে
তার রাখা সৃষ্টি সীমাই বাঁচিয়ে রাখে দীর্ঘপথে;
কত জ্ঞানী ক্ষয়ে গেছে এই ত্রিভুবন মাঝে
তাদের কথায় ফলছে অবিরত বর্তমানটাই মিছে।
জ্ঞানীজনে চায়না পুরষ্কার কলমের আত্মস্বীকৃতি
কলম জানে কালি ফুরোলে নেই তার প্রতিকৃতি;
তাই তো সে এগিয়ে চলে নিয়ে অবিরাম গতি
মহান হতে নয়, মহান সৃষ্টিতে তার জ্ঞানই চির সাথী।
……………………………………………

বেনামি

একটা কবিতা লিখেছি বলে
নিছক কবি ভেবোনা
মনের কিছু অবয়ব তুলে ধরলাম বলে
আমায় মনসিজ বলোনা।
আমি সমাজ -সংস্কারে বেড়ে উঠতে গিয়ে
কিছুটা জ্ঞান অর্জন করেছি মাত্র,
কিছু অন্ধ রীতিকে আশ্রয় করে বাঁচতে গিয়ে
কিছুটা সংকীর্ণ হয়ে, হয়েছি পরিবর্তিত একছত্র।
আমিতো আমি নয়, এক সভ্যতার নাম
যার মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে
একটি জাতিসত্তা অবিরাম।
পরিবর্তনের সাথে পাল্লা দিতে দিতে
হয়েছি কালের স্রোত
ভাঙা- গড়া নিত্য রীতি
নেই তার অবরোধ।
বৃথায় আমি মহান সৃষ্টি,
মনে মনে মরি ভেবে
সৃষ্টির কী মহিমাতে সঁপেছি উদাত্তে
অশনি নির্মূল উদ্ভবে।
……………………………………………

ওরা কেমন আছে

পথেএকটু খানি হেঁটে গেলে
ঐ ক্ষুধার্ত ভিখাড়ী শিশুর দল
দৌড়ে এসে হাতে পায়ে ধরে
পয়সা চাইত কত চোখে ফেলে জল।
জানিনা তারা আজ কেমন আছে
কাটছে সময় কেমন করে,
রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে
কোথায় ঘুরে বেড়ায় মরে?
কেবা রাখে তাদের খবর
পড়ছে যে দিন কাল,
নিজের প্রাণ সংশয়ে সবার
ঘরবন্দির বেড়াজাল।
কত নিদ্রা অনাহারে কাটছে
জানে ঐ অন্তরযামী,
শুনেছি তারা ক্ষিদের জ্বালায়
ধরে পদতল আর্তনাদে পথগামী।
এই তো এলো খুশির ঈদ
কাটাবে যে যার মতো,
ঘরে বসেই করবে পালন
যে যার সাধ্য মতো।
ওরাওতো এমন দিনে
কাটাতো খুশির ইদ,
বেড়ানোর ছলে দুটো পয়সা
দিতো বাড়তি পথিক।
আজকে তাদের সেই আশাতেও
জুটেছে গুড়ে বালি,
ঈদের সেমাই জুটবে কী গো!
রোজ যে পেট খালি।
……………………………………………

করজোড়

ও বিধাতা ডাকছি তোমাই
দু-হাত করজোড়,
মাতলে কেন এমন করে
প্রাণ নাশে থেকে ঘোর।
তুমিই পারো প্রাণ দিতে আর
বাঁচিয়ে রাখতে সৃষ্টি,
সেই তুমি আজ একি খেলায় মেতে
নামালে বিশ্বময় মৃত্যুর বৃষ্টি।
জানি তুমি রুষ্ট কভূ
মানব সৃষ্ট আচরণে
দানের জোড়ে দেখায় জোর
তোমারই মানবতার কারনে।
তাইতো তোমার রাগ হয়েছে
ক্ষিপ্ত প্রাণ -নাশোদ্বেগে,
মরণফাঁদ করনাকে পাঠালে বুঝি
বিশ্বময় ধ্বংসের বেগে।
ও বিধাতা বাঁচাও মোদের
বিশ্ব অবাক নিথর,
তুমি ছাড়া নেই তো মুক্তি
ফেরায় মৃত্যুর দুয়ার।
করনাকে ধ্বংস করে
বাঁচাও মোদের প্রাণ,
আরেকটি বার দাওগো সুযোগ
করবো সৃষ্টির গুণগান।
……………………………………………

অল্পে তুষ্ট

অল্পে তুষ্ট মনটা বড়
স্বল্প রকম বেশ,
ঠকার মাঝে প্রাপ্তি খুঁজে
অহরহ অনিমেষ।
দীনতা তার মূর্ত অবয়ব
সকাল শেষে রাত্রি,
হাতরে খুঁজি সময়টাকে
সব খানেতেই ফাঁকি।
যেদিক তাকাই দুচোখ ভরে
দেখি দৌরাত্ম্য,
ত্যাগ ছেড়ে ভোগের নিমিত্তে
হারালো স্বর চিত্ত।
কী বা ক্ষতি যদি অল্প কমে
একটু সন্তুষ্টি,
শ্রান্ত মনে সন্দীগ্ধতা ছেড়ে
আপনতা করি সৃষ্টি।
অধিক ছেড়ে অল্পে ভরুক
প্রাপ্তির সীমারেখা,
জীবন প্রদীপ জ্বলে ক্ষণিক
শেষ খানে তার ফাঁকা।
……………………………………………

নতুন বছর

নতুন বছর নবীন আলোয়
রাঙাবে প্রতিটি প্রভাত,
ভ্রাতৃত্বময় সৌহার্দ্যতা মিশে
ছড়াবে আলোক প্রপাত।
নতুন বছর বয়ে আনবে
ডিজিটাল চিন্তা চেতনা,
অন্তরালে ঢাকা গ্লানিবোধ
উন্মুক্ততায় হবে উন্মাদনা।
নতুন বছর মুজিববর্ষ
বিশ্ব জানে সুখ্যাতি,
রাখবে গড়ে ইতিহাস দীর্ঘ
কল্যানকামী দেশ সারথি।
মুক্ত বায়ু, মুক্ত বিবেক
মুক্ত চিন্তা চেতনা,
নবীন বছরে হোক সফল
ডিজিটাল স্বপ্ন সাধনা।
……………………………………………

ব্যর্থতার মাঝে সফলতা

ব্যর্থতার মাঝে সফলতা
পাশ ফেল বড় কথা নয়
জীবন গড়ার কাজে,
বিফলতা দিয়ে শুরু করো
সফলতা আনো তেজে।
লেখা পড়ায় ভালো মন্দ
ফল প্রকাশ আছে,
প্রতিটি ধাপে থাকবে সুফল
এমনকি কথা সাজে?
পরীক্ষার পাশ ফেল দিয়ে
সঠিক হয়না যোগ্যতার বিচার,
প্রতিকূলতা আর অনর্থের মাঝে
কাটে অনেক সম্ভাবনার দুয়ার।
অনেক সফলতা পিছিয়ে পড়ে
অনেক ব্যর্থতা আসে এগিয়ে,
পাশ ফেল নয় ভাগ্য নির্ধারক
যদিও মূল্যায়ন সফলতা দিয়ে।
মূর্খ হয় নীতির পন্ডিত
পন্ডিত জনে হয় মূর্খ,
হাজার গুণে গুণান্বিত জনেরও
ব্যর্থতার ইতিহাস আছে দীর্ঘ।
অন্ধকারে আলো হাসে
হাসায় জীবন সর্বত্র,
দিন-রাতের সম্মিলনে
রচিত প্রতিটি মুহূর্ত।
……………………………………………

গুরু জ্ঞানেশ্বর

জ্ঞানে জ্ঞানেশ্বর পথদ্রষ্টা তুমি হে
জীবন আলোক দ্বিশা,
শিক্ষা দিয়ে জাগাও যে প্রভু
মুক্ত বিবেক প্রত্যাশা।
হাতে খড়ি দিয়ে শুরু করো তুমি
শত জীবন গড়ার কাজ,
শিক্ষিত জাতি গঠনে তোমার
অন্তহীন চেতনার বিরাজ।
জ্ঞান অন্বেষণে জ্ঞানের আলোয়
প্রবেশ করাও মন -প্রাণ,
বিন্দু বিন্দু জ্ঞান অন্বেষণে
তোমার প্রকৃষ্ট অবদান।
তোমারি পদচারণ দেখায় পথ
সভ্যতাও সংস্কৃতির জাগরণে,
মুক্ত আলোর দিশারী তুমি
জেগে থাকো প্রতি ধ্বনিত উচ্চারণে।
শিক্ষাগুরুর মর্যাদা রবে
বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে,
পিতৃ মাতৃ পড়ে তোমারে জানি
স্রস্টারুপি মানব প্রকাশে।
……………………………………………

বিস্তৃত কল্পনা

তুমি আমার অনন্ত কালের
বিস্তৃত শোভাময় ভাবধারা,
সীমাহীন চিন্তালোকের সীমানায়
খানিকটা পাগল পাড়া।
বিন্দু বিন্দু আঁকা স্বপ্নগুলোর
অস্ফুট কোমল ছোঁয়া,
যেন মগ্নতাও বিষন্নতার মাঝামাঝি
বিমূর্ত কিছু পাওয়া।
আমি কল্পনায় হারায় স্বপ্নিল চিন্তনে
হৃদয় বেগ স্পন্দনে,
চোখেতে লুকানো ভাষাগুলো যেন
নেচে যায় সুর মূর্ছনে।
তুমি-আমি, আমি-তুমি
তোমাতে স্বপ্ন ময় রঙিন ছুঁতো ধরে,
কীযে অপূর্ব মোহময় মোহনা
ছুটে বেড়ায় তোমার স্বভাবের কিনারে।