নদীচুরি

একটা নদী পকেটে পুরে
গেরাম থেকে বেরিয়ে গেলাম
সামনে এল ঝুমকো বন
তাকে একটু এড়িয়ে গেলাম।

পাহাড় দেখে পুলিশ ভেবে
ভয়ে হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলাম
আলতো ক’রে তার ঝাঁকড়া
সবজে চুল নাড়িয়ে দিলাম।

কাকতাড়ুয়া পিছু নিলে যে
কী ঝামেলায় জড়িয়ে গেলাম!
বুদ্ধি ক’রে ঢালের বুকে
খানিক পথ গড়িয়ে গেলাম।

পুকুর ক্ষেত খাখা পাথার
উটকো টিলা ছাড়িয়ে গেলাম
তার পরেই তেপান্তরে
এই আমি তো হারিয়ে গেলাম।
……………………………………………

অকেজোর স্বপ্ন

শাদা বকফুল ভাবে বক হয়ে
একদিন উড়ে যাবে
হলুদিয়া চাঁদা ভাবে ঘুড়ি হয়ে
উড়ে-উড়ে দূরে যাবে।

উড়ু-উড়ু শুধু আমার এ মন
অনুক্ষণ ভাবে জলদি কখন
হাওয়া হয়ে ছুটে গিয়েই তোমার
ধল আঁচলে লুটাবে।

কচি ঘন ঘাস আশা একরাশ
বুকে নিয়ে বেড়ে ওঠে
রাজহাঁস হয়ে ছুটবে নিমেষে
কত মাঠ ঘাট গোঠে।

আমার এ মন কী-যে উচাটন
সারাক্ষণ ভাবে অচিরে কখন
প্রজাপতি হয়ে তোমার সিঁথিতে
শুধু লুটোপুটি খাবে।

পলক না-ফেলা রোদের ঝলক
ভাবে কিশোরীর নাকে
নিকানো নোলক হয়ে চলকাবে
শোলক শোনাবে তাকে।

আমি ভাবি ঝোরা হয়ে ক্ষণেক্ষণে
মাতব তোমাকে নিয়ে আলাপনে
গীতল কথার শীতল পরশে
আমাকেই খুঁজে পাবে।

আকাশের বুকে তিল এঁকে দিতে
ভাবে ঝিলমিলে বিল
হারিয়ে সে যাবে দূরপ্রান্তরে
হয়ে কোনো গাঙ চিল।

আমার এ মন পাখির মতন
বড় উন্মন যখনতখন
শুধু ভাবে ঘেসো ধানটুনি হয়ে
তোমার বুকে লুকাবে।

কাঁচারঙে-মাজা ঝলমলে এক
ঝাঁক মাচা-ভরা ঝিঙে
ভাবে – নেচেগেয়ে মাতাবে পাড়াগাঁ
হয়ে টিঙটিঙে ফিঙে।

আমি নগণ্য কুড়ে ঝরাপাতা
ভাবি সারাবেলা এলেবেলে যাতা –
সাধ হয় – হারিয়ে যাই তোমার
ঝলমলে কিংখাবে।

তুলোতুলো মেঘগুলো দিগন্তে
ভেসে এসে ভাবে খুব
খোকার রঙিন জামার পকেটে
আচমকা দেবে ডুব।

ফুরফুরে রাঙা ফড়িঙের মতো
আমার এ মন ভাবে অবিরত
কীভাবে তোমার উতল উছল
সান্নিধ্যটা পাবে?

চরে নয়া ঘর ভাবে ঘুমঘোরে–
কখনো হরিণ হ’লে
তাধিন নেচে সে ঘুরবে ভীষণ
শুধু বনজঙ্গলে।

কাজ নাই আজ তাই সারাদিন
আমি তো স্বাধীন! আমি তো স্বাধীন!
ওগো কাশফুল আমার সঙ্গে
দূরপাথারে কি যাবে?
……………………………………………

আমার আছে একপশলা বেলা

দিনের একটা ঝলমলে ধলপহর আছে
ধলপহরে ডহর আলোর বহর আছে।
ফুলতোলা মেঘ। তাররাঙা এক দুপুর আছে
মাঠের হাটের শুকনো পাতার নূপুর আছে।

আঙিনাতে ধানের আঁটির মড়াই আছে
ধান গুনতে ছন্নছাড়া চড়াই আছে।
ঘাস-অরণ্যে কাশফুল রাজকন্যা আছে
তার জন্যে রোদ চুমকির বন্যা আছে।

একলা একা খেরো ঘরটা দাঁড়িয়ে আছে
অপেক্ষাতে দিন ভর আগবাড়িয়ে আছে–
কেউ আসবে– এই ভাবনায় মগ্ন আছে
এমন রঙিন কত-না তার লগ্ন আছে।

মেঠো পথের এক মুঠো দিগন্ত আছে
দিগন্তে প্রান্তররা প্রাণবন্ত আছে।
প্রান্তরে পালতোলা হাওয়ার মাদল আছে
আলটপকা অঝোর জলের বাদল আছে।

শেষ বিকেলের নিকেল-করা বৃষ্টি আছে
বৃষ্টির সুরটা পুরটুপুর মিষ্টি আছে।
ধান টুনি আনমনে গায়। সে ব্যস্ত আছে–
তারও পরে এ দায়িত্ব ন্যস্ত আছে।

ঝুম কোটিলার জংলা সবুজ চাতাল আছে
মোহন ঘ্রাণে মহুয়া বন মাতাল আছে
বনের মোড়ে বোতাম ফুলের বাদাড় আছে
বলতে পারো – বাদাড়তো নয় আদাড় আছে।

অই যে লোকটা যায়। তার এক কিচ্ছে আছে
গল্প বলিয়েহ বেসে – খুব ইচ্ছে আছে।
কণ্ঠে যে তার উতল গীতল পদ্য আছে
ঝুলিতে কী? চমক অনবদ্য আছে!

ক্লান্ত দিনের শান্ত স্নিগ্ধ সন্ধ্যা আছে
সন্ধ্যা মালতি রজনিগ্নধা আছে।
গোধূলি টিপ লাল সুজ্যির অস্ত আছে
আস্ত চাঁদটা উঁকি দেয়। তা মস্ত আছে।

জোছনা ধোয়া রাতের হলুদ আলতা আছে
পেখম মেলা কদম শিমুল চালতা আছে।
জোনাক চাদর জড়ানো টুং পাহাড় আছে
টুং পাহাড়ের চোখ-জুড়ানো বাহার আছে।
……………………………………………

আমার আছে কী

আমার আছে কী?
এসব ছবিই হৃদয় ফ্রেমে
গভীর প্রেমে
আগলে রেখেছি।

এক চিলতে জল
আমার আছে ঝিল মিলে নীল
এক চিলতে জল
সেই-নাজলে একটা নদী
করে টলমল।

নদী! নদী! কোথায় ছোটো
কোথায় তোমার গাঁও?
তোমার গাঁয়ের খোঁজে আমি
ভাসাতে চাই নাও।

নাও নয় তো যেন তেন
ময়ূর পঙ্খি এযে
ময়ূর পঙ্খিতে পান্তরে
ছুটবে তুমুল তেজে।

তেপান্তরের দৈত্য দানো
হোক-না ভয়ঙ্কর
দৈত্য দানো ডাইনী বুড়ির
পাই না মোটেও ডর।

ডাইনী বুড়ি থলেতে চাঁদ
পুরতে চেয়ে ছিল
তাই লুকোতে গিয়ে চাঁদটা
নদীতে ডুব দিল।

চাঁদ ভেসে যায় নদীর জলে
সে তো অনেকক্ষণ
আমার আছে একফালি জল
সাত রাজারই ধন।
……………………………………………

রৌদ্রের অভিধান

আকাশ বলে, ‘নদী মানেই পাহাড়।
তার বুকে যে কত্ত রঙের বাহার।’
পাহাড় বলে, ‘আকাশ মানেই খামার।’
আলটপকা চেঁচায় চড়ুই, ‘ওটা আমার। আমার।’
খামার বলে, ‘ঝরনা মানেই নূপুর।
সেই-না নূপুর বাজিয়ে নামে বৃষ্টি টাপুরটুপুর।
টাপুরটুপুর রুপোর দুপুর ঝরে নিদাঘ ঠাকুরপুকুরপাড়ে
কাশফুল আর জংলা বাঁশের ঝাড়ে
ঘর অন্দর দোর উঠোনের ধারে।’
নূপুর বলে, ‘দুপুর মানেই গন্ধ।
সোঁদাসোঁদা মিঠে গন্ধে ঘাসেরা পায় ছন্দ।’
ঘাস হেসে কয়, ‘সম্ভবত, অতল মানেই সাগর।
সাগরে ঢেউ দারুণ ডাগরডাগর।’
সাগর বলে, ‘শোনো।
ধান্য মানে কোনো
নীলাভ ধল পাথার।
সেখানে ধানটুনি হাওয়ায় খুব কাটে ডুবসাঁতার।’
এসব শুনে পাথার নড়েচড়ে
এবং জিগেস করে,
‘পাথার মানে কী?
অভিধানের পাতায় মাথা গুঁজে
হন্যে হয়ে বেদম খুঁজে-খুঁজে
কিছুই তো পাই নি!’
একটুখানি থমকে থেকে রৌদ্র কানে-কানে
বলে, ’কারণ এই –
আমার লেখা এই-না অভিধানে
অই পাতাটা নেই।‘
……………………………………………

বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা নদী

বুকের ভেতর লুকিয়ে-থাকা একনদী নীল ঢেউ
দিনরাত্রি চলকে ওঠে – জানে না তো কেউ।
সেই নদীতে দোদুল দোলে উছল আকাশফিতে
তার বুকে মেঘ উঁকি মারে উল্কি এঁকে দিতে।

ডুব দিয়ে খুব তারা হাসে রাত্রি নেমে এলে
কদমমতো চাঁদ দেয় ঝাঁপ হলদে পেখম মেলে।
শাপলাশালুক। বেতসঝোপ। পদ্মপাতার পোকা
রৌদ্রছায়ার লুকোচুরি। জলে হাওয়ার টোকা।

মনমাঝিটার কণ্ঠজুড়ে অঝোরে সুর ঝরে
পানসি নায়ে পশরা নিয়ে যায় দূর-বন্দরে।
নদীর পাড়ে মাঠ ও ঝাড়ে রঙের মেলা শত
যতটা চাই মুঠোমুঠো নিতে পারি তত।

কল্পনারই আল্পনাতে এই নদীটা পুষি
তার সঙ্গে খোশগল্পে মাতি যখন খুশি।
ইচ্ছে হলেই নদীর কাছে কিচ্ছে শুনি আর
খুব মজা পাই যখন-তখন সাঁকো পারাপার।

আদর করে ডাকি তাকে ইচ্ছেনদী নামে
যত্নে পুরে রেখেছি এই হৃদয়পুরের গ্রামে।
হৃদয়পুরে লুকিয়ে-রাখা একচিলতে নদী
দিনরাত্রি কী উদ্দাম বইছে নিরবধি।
……………………………………………

বৃষ্টি এল এলোমেলো

রোদটা তুমুল ভিজবে বলেইহঠাৎ বৃষ্টি এল
ঝুমঝুমিয়ে এলেবেলেকী যে এলোমেলো।

বৃষ্টি এল গুনগুনিয়ে
গান শুনিয়ে
টাপুরটুপুর
হাওয়া ছাপিয়ে
কাঁপিয়ে দিয়ে
তপ্ত দুপুর।

দুপুর এখনকী মনোরম শীতল বেলা
টুপটাপটুপ গীতল বেলা!
একটু আলো। একটু কালো
লাগল মনে ভীষণ ভালো।

কিন্তু রোদেরএকটা যে ভয় আছে
সর্দি কাশি জ্বর যদি হয় পাছে –
মেঘকাঁথাটাজড়িয়ে নিয়েতাই দিল সে ঘুম
একলা একা। বাড়িটা নিজঝুম।

রোদের ভেজা-নাওয়া কোনো কিছুই হল না
ঘটল ব্যাপার যা –
বৃষ্টি দোরে কড়া নেড়ে ফিরে গেল শেষে
আবার নিরুদ্দেশে।
অভিমানী লিখল চিঠি নীলাভ এক খামে
জলকালিতে হতচ্ছাড়া রোদ ছোকরার নামে –
‘আমাকে আর তোমার দাওয়ায় আসতে ব’লো না!’
……………………………………………

মায়ের কথা ভাবি যখন

মায়ের কথা ভাবি যখন
মায়ের পাশে থাকি তখন
মনে মনে মায়ের কত
মিষ্টি মুখটা আঁকি তখন।

আমি থাকি দূরের দেশে
আল টপকা কোনো ক্ষণে
মায়ের কথা পড়লে মনে
ইচ্ছেটা হয় একনিমেষে
ছুটে এসে
মায়ের আঁচলখানা ধ’রে
খুবটিক’রে
‘আম্মা’ ব’লে ডাকি তখন।

ব্যস্ত থাকি নানান কাজে
সময়গুলো
কেবল উড়ু উড়ু তুলো
দূর প্রান্তর মাড়িয়ে যায়
হারিয়ে যায়
ব্যস্ততারই ভাঁজে-ভাঁজে।
ছেলেবেলা ডানা মেলে
এলেবেলে
স্মৃতির চিলেকোঠায় এলে
মাকে ভীষণ ভালবাসায়
মনে আগলে রাখি তখন।

সেল ফোনটা কাছেই থাকে
প্যান্ট কোঠরে
কাজ সেরে ঠিক ফিরে আসি
আবার ঘরে-
একাজ ওকাজ সব সারা হয়
তবু হয় না একটু সময়
টেলিফোনে
মাততে খানিক আলাপনে–
মায়ের সঙ্গে কথা বলাই
থাকে শুধু বাকি তখন।
……………………………………………

দূরের ডাক

মেঠোপথ ঝোপঝাড় ছাড়িয়ে
স্যাঁতসেতে ধান ক্ষেত মাড়িয়ে
বিল ঝিল নদ নদী পেরিয়ে
চলো যাই ঘুরে আসি বেড়িয়ে।

রোদ্দুর যদ্দূর ছড়ায়
আলো মাখা হাওয়া পাতা নড়ায়
কেঁপে ওঠে তাজাড গাঘাসের
থমথমে ঘন বন বাঁশের–

সেখানে কি ডাকে রোজ কোয়েল
তা ধিন তানাচে পাখি দোয়েল
প্রজাপতি খুব বুঝি চঞ্চল?
চলো যাই খুঁজি সেই অঞ্চল।
……………………………………………

বাবাকে মনে পড়ে

বাবাকে নিয়ে লিখব আমি এক টুকরো পদ্য
ইচ্ছেখানা পুষে রেখেছি স্মৃতির প্রীতি জুড়ে
কিন্তু আজো মিলল না সে- সময় অনবদ্য
কুসুম উমে ঘুমিয়ে পড়ে ব্যথা হৃদয় খুঁড়ে।

কদম রাঙা পেখম মেলে রোদ যখন খেলে
নিদাঘ মেঘ ঝুমকো তালে অঝরে ঢালে বৃষ্টি
নিত্য নদী চলকে ওঠে উজান ঠেলে-ঠেলে
চমকে দিয়ে থমকে থেকে হাওয়া বাজায় শিসটি–

তরতরিয়ে রুপোর কুঁড়ো ছড়িয়ে বুড়ো চাঁদ
আউল রাতে বাউল সাজে ভাঙে আলোর বাঁধ
ঘুরে ফিরে যে ভীষণ করে বাবাকে মনে পড়ে
কল্পনারই আল্পনাতে বাবাকে করি সৃষ্টি।

কিংবা আলটপকা কোনো সোঁদা মাটির গন্ধ
ঝরা পাতার পেঁজা ডানায় ভিজিয়ে গেলে মন
কাশফুলরা ঘাসফুলরা খোঁজে ঘুড়ির ছন্দ
উতালা হয়ে বাবার কথা ভাবি অনুক্ষণ।

ঝাপসা চোখে কীভাবে দেখা হবে বাবার মুখ
চশমা তা-ই হয় না পরা – নামতে পারে বৃষ্টি;
উদ্দীপনা- আশায় রাখে ভরিয়ে এই বুক
আজো বাবার চশমা- পরা দীঘল দৃঢ় দৃষ্টি।

বাবার অনুশাসন- কথা অনুরনণ হয়ে
নদীর মতো নিরবধি হৃদয়ে যায় বয়ে
আমার চোখে স্বপ্ন এঁকে হারিয়ে গেছে বাবা
বড়ো হওয়ার ঝড়ো স্বপ্ন কী বর্ণিল মিষ্টি।
……………………………………………

অপেক্ষা

তুমি এলে-
এলেবেলে
মেঘবলাকা পেখম মেলে
আবিররাঙা আকাশজুড়ে
ঘুড়ির মতো ঘুরেঘুরে
প’রে রঙিন আলোর চুড়ি
রিনঝিনিয়ে বাজিয়ে তুড়ি
বাউল হয়ে বেড়ায় খেলে।

তুমি এলে-
বেড়ায় খেলে
ডাগর ঢেউরা নদীর বুকে
চলকে ওঠে তুমুল সুখে
বাজিয়ে জলের রুপোর নূপুর
ঝুমুরতালে ছাপিয়ে দুপুর
ছুটে চলে উজান ঠেলে।

তুমি এলে-
উজান ঠেলে
মিষ্টি হাওয়া শিসটি বাজায়।
রোদপরীরা দোল-আঙিনায়
রাঙিয়ে পা জল-আলতায়
নেচেগেয়ে
ঢেউয়ে-ঢেউয়ে ওঠে নেয়ে
রঙের ডালি দেয় যে ঢেলে।

তুমি এলে-
দেয় যে ঢেলে
বৃষ্টিধারা শীতল ঝোরা।
আনকোরা এক শিহরণে
পাতার ফাঁকে ক্ষণেক্ষণে
উতল গীতল ছন্দে মেতে
সোঁদা মাটির গন্ধে মেতে
কাঁপতে থাকে কদমজোড়া
নীরবতা ঝেড়ে ফেলে।

তুমি এলে-
সব অবসাদ ঝেড়ে ফেলে
পরম মায়ায়
নিঝুম নীলের নরম ছায়ায়
আলোর ঘড়া গড়িয়ে দিয়ে
কুসুম-আলো ছড়িয়ে দিয়ে
বেলাশেষে
রুপোলি চাঁদ আসে ভেসে
রেশমরেশম রঙের রেলে।

তুমি এলে-
রঙের রেলে
জোনাকিরা এসেই পাড়া
বন ও পাহাড় দেয় পাহারা।
ফেলে-আসা জংলাকোনো বাংলো বাড়ির বারান্দাতে
নিদাঘ নিবিড় ফর্সা রাতে
হারিয়েযাওয়া বুবুর সোনারনোলক ওরা খোঁজার ছলে
ক্লান্তি এলে শোলক-বলা বকফুলে মুখ গোঁজার ছলে
মখমলি ঘাসচাদর ছেয়েবিছায় আলো দলেদলে।
ছেঁড়াখোঁড়া ঝোপঝাড় সব মাড়িয়ে গিয়ে
পুলিনপাড়ের পাথারখানা ছাড়িয়ে গিয়ে
আবার তারা গাঙশালিকের ভরসা পেলে
বেণীবিলের শঙ্খবাঁকে এসে জোটে
রঙজলসায় মেতে ওঠে
জাফরি কেটে
আঁধার ছেটে
লাল বুটিদার মশাল জ্বেলে।

তুমি এলে-
মশাল জ্বেলে
তারার মেলা জেগে থাকে
শাটিনশাদা জোসনাশাড়ির আঁচলজুড়ে
চুমকি মেখে
উল্কি এঁকে
কাছেদূরে
আলোর আঁকিবুকি আঁকে
একটুও নয় অবহেলে।

তুমি এলে-
অবহেলে
ধলপহরে
রঙবহরে
রঙশিকারে ব্যস্ত ভ্রমরযায় না ভুলে
গান শোনাতে গুনগুনিয়ে হেলেদুলে
সকালসন্ধ্যে
কী সানন্দে!
নয় সে মোটেও দুষ্টু ছেলে।

তুমি এলে-
এই আমি যে দুষ্টু ছেলে
দুষ্টুমিতে রইব না আর
তোমার আমি বাধ্য হব
সাধ্যমতো
আপত্তি নেই কানমলাতে দাও-না যত।
তোমার সঙ্গে ঝুমকো পাহাড়
ডহর বনে ঘুরব আমি
প্রজাপতির মতো করেখুব আনন্দে উড়ব আমি।

আমি তোমার অপেক্ষাতেআজো স্বপ্নগুলো আঁকি –
আসবে তুমি এ প্রান্তরে অবুঝ সবুজ-হলদে পাখি।