“আর কখনো কল দিবে না আমায়”
মোবাইলের ঐ প্রান্তে অনির্বাণের কন্ঠটি অদ্ভুত শোনায় আলোর কানে! কি বলছে অনির্বাণ? ঠিক শুনছে তো আলো!
যে অনি একদিন আলোর কথা না শুনলে অস্থির হয়ে যায় সেই অনির্বাণ কি না বলছে ওকে আর কল না দিতে !
আস্তে করে ফোনটা রেখে দেয় আলো। কি করবে ভেবে পায়না।
উদ্ভ্রান্তের মত এদিক ওদিক তাকায়, কি হয়ে গেলো বুঝে উঠতে পারছেনা। চিৎকার করে শিশুদের কাঁদতে থাকে আলো…
অনির্বাণ আর আলো- দুটি দেহ ঠিকই কিন্তু কবে যে দুটি মন এক হয়েছে, আজ আর সেসব মনে নেই, মনে করতে চায়না আলো। ভার্সিটির ছ্যাকা খাওয়া ছেলেটাকে নিয়ে সবাই হাসাহাসি করে। সবাই জানে ও প্রেমে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু কার প্রেমে তা কেউ জানেনা। আলোও জানে সেই পর্যন্ত।
তারপর হঠাৎ একদিন কেন্টিনে খেতে গেছে আলো। ভরা কেন্টিনের একটি চেয়ারও খালি নেই। ফিরে যেতে উদ্যত হতেই পেছন থেকে ডাক এলো “আলো”…
ঘুরে দাঁড়িয়ে চমকে গেলো আলো , সেই ছেলেটা! ওকে ডাকছে কেন? ওর নাম ধরে ডাকছে! দ্বিধা নিয়ে এগিয়ে গেলো সে।
-আমায় ডাকছেন ভাইয়া ?
হেসে ফেললো অনির্বাণ।
-হ্যা, এখানেতো আর কোন আলোকে দেখছিনা তুমি ছাড়া।
বসো, পাশের চেয়ারটা এগিয়ে দিলো অনির্বাণ। কি করবে আলো, অগত্যা বসতেই হলো ভদ্রতার খাতিরে।
-এই এখানে সিংগাড়া আর চা দে।
চা আর সিংগাড়া খেলো আলো একরকম বাধ্য হয়েই। তারপর- এখানে সেখানে দেখা হলে টুকটাক কথা চলে। এরই মাঝে দুজনের সেল নাম্বারও বদল হলো।
হঠাৎ একদিন অনির্বাণের কল এলো। আলো ধরলো কলটি।
-আলো, দিয়াবাড়ি যাবে ?
-কেন? আলো জানতে চাইলো।
দুধসাদা কাশফুল খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। তুমি গেলে একসাথে দেখতাম।
-কিন্তু ক্লাস ?
-সে হবে। কত ক্লাসই তো গুড স্টুডেন্ট এর মত করে গেলাম। কি লাভ হয়েছে ? হতাশা ছাড়া আর কিই বা পেয়েছি ? একদিনের জন্য কিছু হবেনা। চল যাই।
বললো অনির্বাণ।
না করতে পারলো না আলো। চললো দিয়াবাড়ি অনির্বাণের সাথে। সাদা কাশফুলের অন্য এক দিয়াবাড়ি! আগেওতো এসেছে, কই এতো সুন্দর কাশবন তো চোখে পড়েনি!
সেখানে গিয়ে জানতে পারলো অনির বাউন্ডুলে জীবনের ইতিকথা। ভালবেসে বিয়ে করেছিল ক্লাসমেট রিয়াকে।
কিন্তু রিয়া ওকে ধোঁকা দিয়ে পালিয়েছে। খুব কষ্ট পেয়েছিল সেদিন অনির্বাণ। সেই থেকে আর মেয়েদের দিকে তাকানোর চিন্তাই করেনি। সব কিছু শুনে স্তব্ধ হয়ে রইলো আলো। কি বলবে! ঘৃণা করতে ইচ্ছে করছে নিজেকে। কোন পুরুষের মুখে নিজের মত আরেকটি মেয়ের বেহায়াপনার কথা শুনে লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করছে !
এইসময় হঠাৎ একটি অভাবিত ঘটনা ঘটলো। আলোকে চমকে দিয়ে অনি বললো
-আলো , তোমাকে আমার সাথে প্রেম করতে হবে। তোমাকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে।
-কি বলছেন আপনি ?
-হ্যা আলো, আমার মনে হয়েছে তোমার কাছে আমার কিছুটা সুখ জমা আছে। আমি আজলা ভরে সেই সুখটুকু তোমার কাছে থেকে যত্ন করে নিতে চাই। দিবেতো ?
নাকি রিয়ার মত আমায় আবার কষ্ট দিবে ?
ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ভ হয়ে যায় আলো! কি বলবে বুঝে উঠতে পারেনা।
আস্তে আস্তে বলে,
-কি করে সম্ভব ?
-কেন নয় ? আকুল হয়ে জানতে চায় অনর্বাণ।
-আমি বিবাহিত বলে ?
-চুপ করে থাকে আলো, যেন ভাষাহীন সে। কি যে ভাবছে সে নিজেও জানে না। তাকায় অনির দিকে, কাঁদছে অনি !
-অনি, প্লিজ
প্রথম নাম ধরে ডাকলো আলো।
অনি বললো, বুকে খুব কষ্ট।
আর কোন কথা হয়না দুজনের মাঝে ঠিকই কিন্তু অনেক কথার ঝড় বয়ে যায় হৃদয় মাঝে। অনি কি ভেবেছিল জানেনা আলো কিন্তু মনে মনে সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিল অনিকে আর কষ্ট পেতে দিবেনা , ওর সব কষ্ট বুক পেতে নেবে সে।
তারপরের দিনগুলো যেন হাওয়ায় ভেসে যেতে লাগলো দুজনার। কি করে দিন হয়, রাত কখন পার হচ্ছে দুজনের কারোই সেদিকে খেয়াল নেই।
এক অদ্ভুত নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে দুজন। এভাবেই চলতে থাকলে ভালো হতো। কিন্তু তা নয়। সুখের পরে দুঃখ অবধারিত। অনির্বাণ -আলো’র জীবন ই বা এর ব্যতিক্রম কেন হবে ?
সেদিন কলেজে যায়নি আলো। অবসর পেয়ে একটু মার্কেটিং করবে বলে বেড়িয়েছে। আজকের দিনটি নিজের মত করে কাটাবে সে। অনিটা থাকলে বেশ হতো ; কিন্তু কি একটা কাজে অনি গেছে দেশের বাড়ি। অনির সাথে রিলেশনশিপ হবার পর যেখানেই গেছে আলো, অনি সাথে থেকেছে সবসময়। তাই খারাপও লাগছে। আনমনেই ভাবছিল এসব। পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে অজস্র যানবাহন। পাশ দিয়ে যাওয়া ঐ রিকশাটাতে কে? অনির্বাণ ! নাহ্ তা কেন, অনি তো এখন দেশের বাড়ি, সে কি করে এখানে আসবে? ভালো করে তাকায় সামনের রিকশার দিকে। হ্যা, একটুও ভুল দেখেনি আলো। অনির সাথে মেয়ে! আবারও ধাক্কা খায় আলো। হ্যা, এক সেমিষ্টার জুনিয়ার সেই মেয়েটি, যে মেয়েটি সেদিন অনিকে কাঁদা সিটিয়ে ধাই করে গাড়ি নিয়ে ভার্সিটির গেট দিয়ে চলে গিয়েছিল। সেই মেয়েটি অনির সাথে কেন ? মাথাটা ঘুরে যায় আলোর। আলোদের পাশেই নিতুদের বাসা। বেশ ধনী ফ্যামিলির মেয়ে। আলোই নিতুর সাথে অনির পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। একদিন অনি কথায় কথায় বলেছিল নিতুর সাথে তার এফবি ফ্রেন্ডশিপ হয়েছে। আলো ব্যাপারটা মেনে নেয়নি বলেছিল রিমুভ করতে। অনি রিমুভও করেছিল। কারণ নিতুকে আর অনির ফ্রেন্ডলিষ্টে দেখা যায়নি। আশ্বস্ত হয়েছিল আলো। কিন্তু আজ? এটা কি দেখলো ? তবে কি অনি আলোর কাছে কিছু গোপন করেছে? কেন করেছে ? আর ভাবতে পারছেনা সে। কিসের মার্কেটিং, বাসায় ফিরে এলো। অন্য নামে নতুন একটি আইডি ওপেন করে অনির আইডি চেক করলো। অবাক কান্ড! এখানে নিতুর নাম শো করছে!
আর সহ্য হলো না। অনিকে ফোন দিলো সে …
-অনি কোথায় ?
-এইতো বনানী। কেন?
-তোমার না দেশে যাবার কথা ছিল?
-যেতে হয়নি। কাজ হয়ে গেছে।
-আমাকে জানালেনা যে !
-জানাইনি তো কি হয়েছে, এখন তো জেনেছো।
-ও এই কথা, তোমাকে নিতুর সাথে ফ্রেন্ডশিপ রিমুভ করতে বলেছিলাম। তুমিতো করোইনি উল্টো হাইড করে রেখেছো। কেন এমন করলে?
-থতমত খেয়ে যায় অনি। তারপর বলে তুমি রাগ করবে বলে।
-কি ! তুমি আমায় মিথ্যে বলেছো?
-কেন সমস্যাটা কি? কি হয়েছে? আমিতো ওর সাথে ২/১দিন কথা বলেছি। জিজ্ঞেস করে দেখো।
মাথায় রক্ত চড়ে যায় আলোর। এতোবড় মিথ্যাচার ! কি না করেছে সে অনির জন্য। অনিকে ভালবেসে কতকিছু ত্যাগ করতে হয়েছে তাকে, সেসবের একটি ফর্দই হয়ে যাবে অনায়াসে। অনি চায়না বলে নিজের পৃথিবীটাকে সংকুচিত করে এনেছে আলো।
যখন যা বলেছে অনি, তার মন রাখতে গিয়ে অকাতরে সেসব কিছু ছুঁড়ে ফেলেছে সে। অনিকে সে এতোটাই ভালবেসেছে যে সমস্ত পৃথিবীর বিনিময়েও সে অনিকে ছাড়তে পারবেনা। অনির কষ্টগুলো কখন যে সে নিজের বুকে জমা করেছে জানতেও পারেনি। তার সবসময়ের ধ্যানজ্ঞান শুধু অনি। আর অনি এটা জেনেও কিনা এমন কাজ করতে পারলো? চিৎকার করে বলে উঠলো
-বেইমান, এমন ধোঁকা আমায় দিলে ? দেশে যাবার নাম করে নিতুর সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছো ?
-আলো নিতু আমার সাথে আছে ঠিক কিন্তু কেন সেটা একটু শোন
-চুপ আর একটি কথাও নয়। নিজের ব্যর্থতার কথা ইনিয়েবিনিয়ে বলে মেয়েদের সিম্প্যাথি নিতে চাও। তোমাকে আমি এমনটি ভাবিনি। কিন্তু সব পুরুষদের মত তুমিও সেই নোংরামী টা করলে। ছিঃ ছিঃ ছিঃ কি ভুলটাই না আমি করেছি। ভিষণ ঘৃণা হচ্ছে নিজের উপর।
-আলো যা নয় তা বলোনা। আগে জানো সব তারপর কথা বল।
-আর জানতে হবেনা যথেষ্ট জেনেছি। তোমাদের মত পুরুষ গুলো এমনই হয়। বউ নেই বলে মেয়েদের সিম্প্যাথি পাওয়ার চেষ্টা কর।
-কি, কি বললে ?
এসব কথা তুমি আমায় বলতে পারো ? তোমার একবারও মুখে বাঁধলো না ?
-বাঁধবে কেন? যা সত্য তাই বলেছি। তুমি একটা মিথ্যেবাদী।
-আলো ! ছিঃ, এতো নোংরা তোমার মন মানসিকতা ! আমি ভাবতে পারিনা। ঠিক আছে আমাকে যখন এতোটাই অবিশ্বাস করো, তখন আজ থেকে আমাকে আর ফোন দিবেনা। তোমার সাথে আর কোন সম্পর্ক আমি রাখতে চাইনা। তোমার সাথে রিলেশনশিপ করেছিলাম শান্তির জন্য , কিন্তু তুমি আমায় সম্পূর্ণ হতাশ করেছো। কল দিয়ে নেগেটিভ কথাবার্তা বলে বলে আমায় অসুস্থ করেছো। তাই তুমি আর আমায় কখনওই কল দিবেনা।
-কি! আমি কল দিবো না ? তবে কে তোমায় কল দিবে? ও বুঝেছি নিতু? হ্যা তাতো বটেই! নিতুই তো তোমায় কল দিবে। এখন আর আমার কি প্রয়োজন ?
আরো কি কি বলতে যাচ্ছিল আলো কিন্তু ওপাশ থেকে খটাশ করে ফোনটা কেটে দেয় অনি।
স্তব্ধ হয়ে যায় আলো। এতো রাগ এতো অভিমান! কই আগে তো কখনো এমন দেখেনি ! সামান্য একটা মেয়ে তার অনিকে কেড়ে নিয়ে গেলো! আর অনিও কেমন করে এতো বাজে ব্যবহার করতে পারলো ?
পাগলের মত কাঁদতে থাকে আলো। কিছুতেই মানতে পারছেনা অনির এই আচরণ। অনেকক্ষণ কাঁদলো। সব কিছু তার অসহ্য লাগছে। অনির জন্য কি সে পাগল হয়ে যাবে?
যাকনা, যে যাবার সে চলে ;
কেউ থাকতে না চাইলে কি তাকে কখনো বেঁধে রাখা যায় না গেছে? নিজেকে বুঝাতে চেয়েও ব্যর্থ হলো সে। না, অনিকে ছাড়া সে বাঁচতে পারবেনা, কোন মতেই না। একদিন অনি তাকে ভালবেসেছিল, আর আজ সে অনিকে ভালবাসে, খুব বেশি ভালবেসে ফেলেছে। অনি ছাড়া তার জীবন আজ অর্থহীন। কি হবে এমন জীবন দিয়ে? কাকে নিয়ে সাজাবে এই শুন্য জীবন ? যার জন্য এই জীবন উৎসর্গ করেছে সে ই যদি হারিয়ে যায় তবে আর নিজেকে রেখে লাভ কি?
অনেক সাতপাঁচ ভাবনায় নিজেকে বোঝাতে চাইলো আলো। কিন্তু না কিছুতেই না, এ জীবন আর নয়; যেখানে তার অনি নেই সেখানে এ জীবনের কোন মানে নেই। জীবনটাকেই আজ অনির জন্য উৎসর্গ করে দেবে।
অনির দেয়া ড্রেসটা পরে নিলো, যেমন করে সাজলে অনি খুব খুশি হতো তেমন করেই নিজেকে তৈরি করে বেড়িয়ে গেলো আলো। অসময়ে মেয়েকে বেড়োতে দেখে পিছন থেকে মা ডাক দিলেন, কিন্তু আলো তখন অন্য জগতে। মায়ের ডাক সে শুনবেনা, শুনলেই আর নিজের কাজটি করতে পারবেনা সে। তাই না শোনার ভান করে একরকম ছুটে বেড়িয়ে গেলো সে ঘর থেকে।
পথে দুই দোকান থেকে ইঁদুর মারার দুটি ঔষধের প্যাকেট কিনে সোজা দিয়াবাড়ি এসে থামে। চলে যায় সেই জায়গায় যেখানে আলোর হাত ধরে প্রেম চেয়েছিল অনির্বাণ। আজ সেই প্রেম আলো অনির জন্য এখানেই রেখে যাবে। যখন আলোকে খুঁজে পাওয়া যাবেনা তখন আর কেউ না জানলেও অনি ঠিকই খুঁজে পাবে। কারণ একদিন আলো বলেছিল
-যদি তোমাকে কখনো হারিয়ে ফেলি, আমার সব প্রেম এখানে রেখে যাবো। তুমি এখান থেকে ইচ্ছে হলেই আমার প্রেম অঞ্জলি ভরে নিতে পারবে।
হেসেছিল অনির্বাণ। বলেছিলো
-পাগলী আমার, আমি বেঁচে থাকতে তোমায় কখনওই মরতে দেবোনা সোনা। তুমি না থাকলে যে আমিও থাকবো না।
আজ আলো চলে যাবে কিন্তু অনির্বাণ ঠিকই রয়ে যাবে ! এরই নাম জীবন, এরই নাম ভালবাসা…
দু’চোখ বেয়ে অঝোর অশ্রু নেমে যায়, বাঁধা দেয়না আলো। কাঁদুক এ চোখ। শেষবারের মত তার অনির জন্য কেঁদে নিক। আর তো কাঁদতে পারবেনা, কোনদিনও না। আস্তে আস্তে দু’টি প্যাকেটের বিষ এক প্যাকেটে নেয়। দু’চোখ বন্ধ করে প্যাকেট টা মুখের কাছে এগিয়ে নেয়। কিছুই মনে করবেনা সে আজ। মা বাবা, বোন ছায়া কারো কথাই সে ভাববেনা। শুধু শেষবারের মত অনির মুখটা মনে করার চেষ্টা করে সে…
-সোনা…
অনির ডাকে চমকে তাকায়!
অই তো অনি! আকাশে, বাতাসে, চারিদিকে অনির মুখের প্রতিচ্ছবি ! না না এসব সে দেখতে চায়না । আজ সে কোন কিছুই দেখবেও না শুনবেও না, নিজের প্রতিজ্ঞায় অটল থাকবে সে।
আবারো সে নিজের কাজে মগ্ন হতে চায়। কিন্তু না, এবারও অনির সেই কাতর মুখখানি ভেসে উঠে মনের আয়নায়। হঠাৎ সম্বিত ফিরে পায় আলো। চমকে উঠে নিজের অবস্থা দেখে!
কি করছে এসব, কেনইবা করছে? ও তো কথা দিয়েছে কখনওই অনিকে ছেড়ে যাবেনা। তাহলে এতোবড় সর্বনাশ সে কেন করতে যাচ্ছে ? নিজের জীবনের অধিকার তো সেই কবেই সে অনিকে দিয়েছে। কি করে সে অধিকার সে ফিরিয়ে নিবে? আর অনি যদি আবার কখনো দুঃখ পায় তখন ওকে কে সান্ত্বনা দিবে সে না থাকলে?
না না না, এতোবড় ভুল সে করতে পারেনা। অনি যদি তার না ও থাকে, সে তো অনির। তার সবটা ই তো সে অনিকে দিয়েছে। বাঁচতে হবে, যে করেই হোক তাকে বেঁচে থাকতে হবে।শুধু অনির জন্যই তাকে বেঁচে থাকতে হবে। হাতের ইঁদুর মারার বিষ গুলো ছুঁড়ে ফেলে দেয়। দিয়াবাড়ির মাটির মাঝে ছড়িয়ে পড়ে সেসব। আস্তে করে উঠে দাঁড়ায় সে। ধীরে ধীরে পা ফেলে বাসার দিকে। সাঁঝ আকাশে রক্তিম সুর্য টা তখন আবির ছড়াচ্ছে … যেন অনির্বাণ-আলোর প্রেমের আবির…