সকলকে জানাই নববর্ষ ১৪২৮ এর শুভেচ্ছা। এ বছরও করোনা ভাইরাসের কারণে রাষ্ট্রীয়ভাবে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। সরকার বলেছে ঘরোয়াভাবে অনুষ্ঠান পালন করতে। তাই আমরা ঘরেই মজা আর হই-হুল্লোড় করব। পহেলা বৈশাখ পালিত হয় চৌদ্দোই এপ্রিল। মোগল সম্রাট আকবর এই অনুষ্ঠানের প্রবর্তক। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খিষ্ট্রান সব ধর্মের লোক নির্বিশেষে পালন করে এ অনুষ্ঠান। পহেলা বৈশাখ বাংলা বর্ষের প্রথম দিন। এ দিনটি পৃথিবীতে বসবাসকারী বাঙালী ভাষা-ভাষী সকলেই পালন করে।

আনন্দ বিনিময়ে এ দিনটি সবার জন্য উন্মুক্ত। এ দিনটিতে কোনো ধর্মভেদ থাকে না। এটি বাঙালীর একটি সার্বজনীন লোক উৎসব। সর্বস্তরের মানুষ এ দিনটি উদযাপন করে। আনন্দের সাথে বরণ করে বাংলা নতুন বর্ষকে। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হল নববর্ষ। অতীতের ভুল-ভ্রান্তি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় পহেলা বৈশাখ। বৈশাখ মাসের এক তারিখকে পহেলা বৈশাখ হিসেবে পালন করা হয়। এ দিন সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ছুটি পালন করা হয়। এ দিনটি এক সময় পালিত হতো ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে। এর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির। কারণ কৃষিকাজ মূলত ঋতু নির্ভর।

সম্রাট আকবরের আগে অন্য কোনো শাসক বাংলা সনকে এত গোছালোভাবে গণনা করেননি। কৃষিকাজের সুবিধার্থেই তিনি বাংলা সন প্রণয়ণ করেন। প্রথমে এটি পরিচিত ছিল ফসলী সন হিসেবে। আকবরের রাজত্বের উনিশতম বর্ষে এই ফসলী সন বঙ্গাব্দে পরিণত হয়। তিনি মূলত খাজনা ও রাজস্ব আদায়ের প্রয়োজনে এটি প্রবর্তন করেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে পহেলা বৈশাখ পালনের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। এই বঙ্গাব্দ সূচনা করার জন্য আমরা সম্রাট আকবরকে কখনো ভুলব না। এ উপলক্ষ্যে এখন এ দিনটিতে সবাই সবাইকে মিষ্টিমুখ করায়। এ দিনটিতে বিভিন্ন জায়গায় মেলা বসে। সবাই আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। এটি আমাদের জন্য একটি শুভ দিন।

পূর্বে নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা। এখনও এ দিনকে কেন্দ্র করে হালখাতার প্রচলন রয়েছে। হালখাতা বিষয়টি ছিল পুরোটাই অর্থনৈতিক ব্যাপার। চিরাচরিত এ অনুষ্ঠানটি আজও পালিত হয়ে আসছে বাংলায়। বাংলাদেশের জাতীয় সন হলো বাংলা সন। ‘এসো হে বৈশাখ’ গানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেছিলেন এই দিনটিকে বরণ করার জন্য। পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রাণের উৎসব। এ উৎসব সর্বজনীন। বাংলা নববর্ষের সঙ্গে ধর্মীয় কোনো অনুসঙ্গ জড়িত নেই। এটি বাঙালির প্রাণের উৎসব।

এ বছর আবারো লক ডাউন। অনেকের অনেক আত্মীয়-স্বজনের প্রাণ গেছে এ মহামারীতে। কখন যে এ মহামারীর বিনাশ হবে, কেউই জানে না। কারোই মনের অবস্থা ভালো নেই। আশা করছি মহামারী শীঘ্রই বিদায় নেবে। সবাইকে ভালো থাকতেই হবে মহামারী মোকাবেলার জন্য। পুরো বছর ভালো কাটুক সবার, এই কামনা করি। বাংলা নতুন বছরের আগমনে সবার জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা।