বহুদূর

মাঝে মাঝে হারিয়ে ফেলা রাস্তাগুলোও আপন লাগে মাঝরাতে;
রাত্রিবেলার গন্ধ নিতে হেঁটে যাওয়ার সময়।

কি যেন সব কালো কালো ফিসফিসানি সুর;
কানের কাছে বলতে থাকে কথা ভালো হওয়ার।

কুচকুচে সবুজ রঙের গাছের নিচে থমকে যাওয়া মন;
দেখতে পায় দিগন্তের ওই ছোট্ট বিন্দু আলো।

যেতে হবে স্তরে স্তরে পেরিয়ে রাস্তা সব;
ছেড়া চপ্পলে লাগানো সেফটিপিন।
…………………………………………..

ভাবনায়

কখনো ভাবিনি মেঘ, বৃষ্টির ছাতা ধরে, শুন্য মনের কোণে বসে থাকে চুপচাপ!
কখনো ভাবিনি দিন, সব রাত পার করে নিয়ে যায় নিয়মের বেহিসাব সব।
দিন দিন প্রতিদিন-
রাত রাত প্রতিরাত-
সব ঘোর কেটে গেলে মনে হয় মায়া সব।
মায়া সব তোমাতেই, মায়া আছে মায়াতেই,
মায়া যতো পড়ে আছে তোমার চোখের ওই পাতাতেই।
জ্বলন্ত নিভন্ত নদী, মাঝি এক মায়া গান
গেয়ে যায় জীবনের সোজা বাঁকা রাস্তায়, সস্তায়।
তোমার চোখের কোনে জলের ফোঁটার মতোই
আমিও জমে থাকি আস্থায়।
সব ঘোর কেটে গেলে মনে হয় মায়া সব,
সব ঘোর হাতে পেলে মনে হয় মায়া সব,
আমি সব, তুমি সব, বয়ে যায় বাকি সব …!!
…………………………………………..

নিরুদ্দেশ হবো

তোকে ভাববো বলেই ভেবেছি।
যদি নাইবা ভাবতাম তাহলেও
ভাবনায় ভাবতাম কিছু ভেবে।
চল তবে আজ দুজনেই ভাবি।
তুই যা পারিস কর, আমি ডুবি।
গাঢ় গেরুয়া বসন যদি পরি!
ফিকে হাওয়ার দিকে মুখ যদি করি!
এক চুমুকেই যদি টেনে নি সব ধোঁয়া!
মাদক নয়, গাঁজা নয়,
তোর মন পুড়েছে যে গল্পতে,
সেই পোড়া ধোঁয়া সবটাই ,
যদি এক নিমেষেই নিয়ে নিতে চাই!

আহা, কোন রাত্রিতে এতটা নিরুদ্দেশ হওয়া যায়?
…………………………………………..

প্রথম যৌবন

এতটা কঠিন করে ভাবার দরকার নেই; এতটা কঠিন করে ভেবো না।
জানলার কাছে আছে রাখা সবগুলো অজুহাত।
বিপদমুখী কান্নাগুলোর হলো অবসান।
যা যা ছিল ভাববার, সবটাই ফুলের টবে পুঁতে দিয়েছি; ওরা জলাঞ্জলি গেছে।
শুধু রোদকে বলেছি টান টান হয়ে হেলান দিয়ে থাকতে নিম্নমুখী।
নইলে নাক ভেঙে পাঠিয়ে দেবো গঙ্গার জলে।
আর হ্যাঁ; শোনো, ওই যে লাল ভাবনাটা শুয়ে ছিলো যে বিছানায়; তাকে ধুয়ে দিও একবার।
নইলে পাড়া পড়শির ঘুম ভেঙে যাবে আবার।
আমি তাহলে এখন চলি; বড্ড দেরি হলো।
রাস্তায় যেতে যেতে কুড়িয়ে নেবো ছেলেবেলার স্বপ্নগুলো।
আমি এখন আসি নানা চলি।
…………………………………………..

গল্পটা হোক এক পৃষ্ঠার

তুমি কোনো গল্পে ফিরে এসো আবার ।
আমি কলম বুলিয়ে ছবির মতো করে লিখে যাবো বর্ণের আগমণ।
এমন করেও কি গল্পের সূচনা হয়ে যায়?
এমন করেই কি আবার গল্পেরা ফুরিয়ে যায়?

একটা পৃষ্ঠা চেয়েছি শুধু ।
এর থেকে বেশি কিছু নয়, তবুও সেটাও বোধ হয় না পাওয়ার রাস্তায় উড়ছে গোলাকার বৃত্তে।
আধো আধো আলোতে মায়ায়।

গল্পের শুরু থেকে শেষ, অথবা শেষ থেকে শুরু,
সবটাই বারো থেকে বারোর ফাঁকে ঘুরেই চলেছে নিয়ম করে।
এঁকে বেঁকে সাপ মতো গতিপথ বেয়ে চলেছে সময়।
কোথাও একটা ছোট্ট আঘাত চাই , শুরুটা হতে হবে মস্ত।
কিন্তু ভুলে গেছি বারে বারে একই বিবরণে লেখা থাকে –
“আঘাতে মরেছে যে, আঘাত কি তার লাগে এতো সস্তায়?”
তবুও গল্পে এসো, শুধু গল্পেই থেকো বারে বারে।
এরথেকে বেশি কিছু আর নয়।
একটাই পৃষ্ঠা চেয়েছি শুধু একটাই পৃষ্ঠা চাই।।
…………………………………………..

হলুদ স্বপ্নে

হলুদ গন্ধে মন মেতেছে ঝাপসা ছেড়ে লাল,
লালের আবীর লালের খাঁচায় টলছে টলোমল।
বারুদ নদী, সামনে যুগল হংস সাঁতরে যায়,
কি আছে আর কি বা ফাঁকা হিসাব মেলা দায়।
রাত্রি দিনের ছন্নছাড়া পাগলামি চকচকে,
হলুদ চাদর চায়ের কাপে মুখ লাগিয়ে ছোটে।
উড়তে হবে উড়তে হবে ডানায় ভীষণ ভার,
রাত্রি দিনের ক্লান্তি যতো মিলছে বালির উপর।।
…………………………………………..

সবটাই স্বপ্ন বাস্তবে

গোপনে গোপনে প্রেম হয় না,
এ বড়ো শক্ত জিনিস।
জাহ্নবী রাজপুত্র, প্রেম দাও না!
অতো কি ভাবার আছে, সবকিছু এলোমেলো পড়ে আছে, সাজিয়েতো রাখিনি কিছুই, মিছে কেন রাগ করো ঝুড়ি ভোরে!
জাহ্নবী রাজপুত্র, ছোঁওয়া দাও না!
বুকে তোমার বজ্র কঠিন বাজে,কান পেতে শুনি ওরা বলে – “রাজকন্যা”, ভালোবেসে বলি হতে যদি চাস, মুছে ফেল লজ্জা ও ক্লেশ; তছনচ করে সব ভেঙে যাক, চোখে মুখে চাই তার রেশ।”
জাহ্নবী রাজপুত্র, ঠোঁট দাও না!
এক চিলতে গোলাপি রঙের সুখ, ঠোঁটে আমি মাখিয়ে নেবো, যতটা আদিম হওয়া যায়, ততটাই আদিমতা ছুঁড়ে দেবো।
তুমি শুধু নদী বুকে ভেসে থেকো মায়া হয়ে,
বারে বারে ডুবে ডুবে তোমাতে শুদ্ধ হবো।
জাহ্নবী রাজপুত্র, এক আকাশ বুক দাও না!
সবকিছু শেষ হয়ে যাবে ঠিকই কথা রাখি, শুধু একবারই বুকে চোখ বুজে শোবো!
…………………………………………..

পরম পাওয়া

আমাকে ঈশ্বরী বলে ডাকলে!
কেন ডাকলে?
প্রশ্ন এলো মনে, তবুও কোথাও খুশির আনাগোনা, মেঘের সাথে মেঘ জুড়লো, শব্দে শব্দে জানাশোনা!
আমি আমাকে ঈশ্বরী বলে ডাকলাম!
বিবর্ণ কোনো রঙে এক চিলতে স্বপ্নের সংগ্রাম;
কোথাও একটা দিগন্ত পেরোনো ফাঁকা মাঠ, ঘুঙুরের তালে তালে নেচে উঠলো ছন্দে।
এ কেমন স্বরলিপি, এ কেমন গাছ?
ছায়াময় মনে হয় মাঝে মাঝে,
মাঝে মাঝে ঝাপসা রোদে ঝিলমিলানো মাছ।

মৃত্যুর পরে জীবন ফিরলো আবার!
নতুন জীবন ভুলেছে পুরানো সব, বাঁচার মতই বাঁচতে হবে বলে আবার করে কলম নিয়েছে হাত।
তাই বলে ঈশ্বরী হবো ভাবিনি!
ভাবিনি পূজার থালায় আমার জন্য থাকবে ফুলের রাশি।
আজীবন কিছু না পাওয়ার যন্ত্রনা, ভুলিয়ে দিলো এক শব্দের হাসি!
আমাকে একটা নীলাভ পাপ দিও তাই অজানা!
দূর থেকে দূরে যাক, বয়ে যাক অসময়ী ঈশ্বরী চেতনা।।
…………………………………………..

সংঘর্ষ

যতটা আগুন জেলেছে বাতি, ততটাই বুক জ্বলেছে ঝড়ে।
শুয়ে আছে আত্মার পুড়ে যাওয়া ছাই, হলুদ ওই বালির উপরে।
মাটি পেতে দেরি হলো তার,
মাটি বুঝি পাবে না সে আর,
যতদূর যাওয়া যায় কল্পনা, ততদূরই বালি ধূসর।
একটুখানি হলুদ বালি পেয়ে, আত্মার তৃপ্তি খোঁজে মন।
যতটা আগুন জেলেছে বাতি, ততটাই জ্বলে মরেছে জীবন।।
…………………………………………..

কয়েক সেকেন্ড শুধু লাগলো

ভয় লাগলো, তুমি যখন দৌড়ে এসে জাপটে ধরে বললে “ওরা আমাকে বেঁধে ফেলেছে পিঞ্জরে!”
আমি একে একে দরজা জানলা বন্ধ করে দিলাম।
করাত হাতে শিকল টেনে দিলাম,
সদর দরজার গায়ে মর্জিনার মতো লাগিয়ে দিলাম চকের ক্রস!
তোমাকে লুকিয়ে দিলাম খাটের নিচের ময়লা জমা ধুলোর আড়ালে।
তারা এলো!
বললো কোথায়?
আমি বললাম “পালিয়ে গেছে ওদিকে!”
ওরা চলে গেল তবু মন জুড়ে থেকে গেল ভয়!
যদি আবার আসে!
কিছু সময় পর তোমাকে ডাকলাম।
ঘুম ভাঙা চোখ নিয়ে তুমি তাকিয়েই থাকলে আমার দিকে, আমিও তাকিয়েই থাকলাম।
টপ টপ করে পড়া জল শুধু থামলো না।
ওরা আবার এলো কিছু সময় পর!
আমি এবার দরজা খুলেই দিলাম, ওরাও তাকিয়ে থাকলো খাটের দিকে তাকিয়ে।
নিঃশব্দে চলে গেল মাথা নিচু করে।
আমি পাথরের মতো খোলা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকলাম মুর্তিসম।
হাওয়া এলো শুধু , আলো এলো শুধু, কোনো সভ্য মানুষ এলো না।
যে মানুষটাকে বাঁচাতে চাইলাম সেই তো আর বাঁচতেই চাইলো না!