অনিমেষবাবুর অনুবাদের কাজটা গ্রহণ করার পর থেকে আমার মানসিকতার মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আমার সেই উড়ু উড়ু ভাবটা অনেক পরিমাণে কমেছে। আসলে এতোদিন আমার ভেতরে যে হা হুতাশ চলছিলো এবং যা আমি তায়েবার প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ মনে করে আসছিলাম, তা সর্বাংশে সঠিক নয়। আমার নিজের প্রতি নিজের যে কর্তব্যবোধ তা পালন করার অক্ষমতা থেকেই আমার ভাবাবেগ জন্ম নিচ্ছিলো। তায়েবার চারপাশে যারা জড়ো হয়, যারা তাকে সকাল বিকেল দেখতে আসে আমি মনে করতাম, কেউ তায়েবার মঙ্গল চায় না। তারা আসে মজা দেখার জন্য, কষ্ট বাড়াবার জন্য অথবা জাহিদুল এবং ডোরার মতো নিজেদের কৃতকর্মের অপরাধবোধ লাঘব করার জন্য। আমি মনে করতাম, গোটা কোলকাতা শহরে আমিই হলাম একমাত্র ব্যক্তি যে তায়েবার মঙ্গল চায়। আর সকলেই তায়েবার শত্রু।
দৈনিক দশ টাকা আয় করার জন্য তিন সাড়ে তিন ঘণ্টার কঠোর খাটুনি খাটতে গিয়ে আমার চোখ খুলে গেলো। আমি আবিষ্কার করলাম তায়েবার চিকিৎসার যাবতীয় অষুধপত্তর সবটা হাসপাতাল দেয় না, বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়। তার পেছনে অন্ততঃ তিন থেকে সাড়ে তিনশো টাকা ব্যয় করতে হয় প্রতিদিন। এই টাকাটা কে সংগ্রহ করে, কার কাছ থেকে সংগ্রহ করে, কে অষুধ কেনে, কে পথ্য সরবরাহ করে কিছুরই সংবাদ জানিনে। অথচ আমি মনে করি আমি তায়েবাকে ভালোবাসি। এই ভালোবাসার দাবিতে না করতে পারবো হেননা দুঃসাধ্য কর্ম আমার নেই। তায়েবার দেখাশোনার সব দায়িত্বটা যদি আমার ওপর পড়তো, আমি কি করতাম। আমি মনে মনে ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিলাম। তার পার্টির মানুষদের আমি অপরাধী সাব্যস্ত করে বসে আছি। কিন্তু তারা তো টাকাটা ম্যানেজ করছে। জাহিদুলকে আমি ক্রিমিন্যাল ধরে নিয়েছি। আমার বিবেচনায় ডোরা একটি নষ্টা মেয়ে। দু’তিনদিন আগে জানতে পেরেছি, জাহিদুল এখানে সেখানে ডোরাকে নিয়ে যে অনুষ্ঠান করায়, তাতে যে টাকাটা আসে, তার সবটা তায়েবার পেছনে খরচ করে। এমনকি দিল্লীতে গান গেয়ে যে টাকাটা ডোরা পেয়েছিলো, ও দিয়ে আমেরিকা থেকে কি একটা দুষ্প্রাপ্য ইনজেকশন আনিয়েছে। ডোরা জাহিদুলকে বিয়ে করেছে। তাতে এমন অন্যায়টা কি হয়েছে? এরকম অনেক তো ঘটে। হেনা ভাই একটা বিধবা মেয়েকে এ সময়ে বিয়ে করে অপরাধ কি করেছে? মহিলা এবং হেনা ভাই পরস্পরকে পছন্দ করেই তো বিয়ে করেছে। আমি এক ধারে সকলকে অপরাধী মনে করি কেন। পৃথিবীর সকলে ঘোরতরো পাপে লিপ্ত, আর আমি একা ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির এ কেমন করে হয়।

তায়েবার ক্যান্সারের জন্য সবাই দায়ী হবেন কেন? ক্যান্সার রোগ তো আরো অনেকের হয়। এই ওয়ার্ডের অধিকাংশই তো ক্যান্সার রোগী। তারা কাকে দায়ী করে? বড়ো জোর ভাগ্যকে? আমি যে তায়েবার পক্ষ অবলম্বন করে মনে মনে এতো লম্ফঝম্ফ করছি এ পর্যন্ত তায়েবার জন্য কি করতে পেরেছি? হ্যাঁ এ পর্যন্ত একটা কৃতিত্ব আমার আছে। তায়েবাকে সন্ধ্যেবেলা হাসপাতালে প্রতিদিন দেখতে যাওয়ার খরচটা আয় করার একটা ব্যবস্থা করতে পেরেছি। নিজের দীনতা, তুচ্ছতা এবং হীনমন্যতার পরিচয় পেয়ে একটা আত্মঘৃণা ঘুরে ঘুরে বার বার আমাকে দগ্ধ করতে থাকলো। সেদিন সকালবেলা আমি হাসপাতালে গেলাম। ডঃ মাইতি আমাকে একটা পাশের ব্যবস্থা করিয়ে দিয়েছিলেন। দিনটি খুবই সুন্দর। সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে। হাওয়াতে সামান্য হিমেল পরশ। আকাশে চচনে রোদ উঠেছে। শিশুসকালের রোদে চারপাশের গাছপালা চিরদিন এমনই সবুজ থাকবে, সূর্য এমনি করে সুন্দর আলোকরাশি বর্ষণ করবে, এমনি করে মানুষজনের কলকাকলিতে রাজপথ মুখরিত হবে, রাস্তায় রাস্তায় গাড়ি ঘোড়া এমনি ধরনের আওয়াজ করে বাতাস কম্পিত করে তুলবে, শুধু থাকবে না তায়েবা, জীবনের চলমান স্রোত থেকে বাদ পড়ে যাবে শুধু একজন। আল্লার দুনিয়ার এই পরিপূর্ণতার মধ্যে তার প্রস্থানের কোনো চিহ্ন পর্যন্ত থাকবে না। আমার এতো বড়ো ক্ষতি আমি পূরণ করবো কি করে।
তায়েবার কেবিনে যখন প্রবেশ করলাম, দেখে খুবই ভালো লাগলো। সে উঠে বসেছে। সকালবেলা বোধ হয় গোসল করে ফেলেছে। খয়েরি রঙ্গের একটা পাটভাঙ্গা শাড়ি পরেছে। তাকে খুবই প্রফুল্ল দেখাচ্ছে। মুখে মনে হয় ক্রীম মেখেছে, ঘাড়ে পাউডারের দানা ছড়িয়ে আছে। হাসপাতালে আমি কোনোদিন তায়েবাকে এরকম হাসিখুশি দেখেছি মনে পড়ে না। আমার মনের ভেতরে একটা সূক্ষ্ম আশার রেখা খেলে গেলো। তাহলে কি তায়েবার অসুখ সেরে যাবে!

আমাকে দেখামাত্রই তায়েবা কলকল করে উঠলো। এই যে দানিয়েল ভাই, এসে গেছেন। তার কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীতের দু’টো কলি গুনগুন করে উঠলো। এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিল দ্বার। আজি প্ৰাতে সূর্য ওঠা সফল হল কার। পূর্বের দিনের মতো হাততালি দিয়ে উঠতে চেষ্টা করলো। জানেন দানিয়েল ভাই, এই সকালবেলায় আপনি প্রথম মানুষ নন। আপনার আগেও একজন এসেছিলেন, কে বলুন দেখি। আমি বললাম, কেমন করে বলবো কে এসেছিলো। সে ঠোঁট একটুখানি ফুলিয়ে বললো, এসেছিলো, অর্চনাদি। আমি বললাম, এতো সকালে অর্চনা কেমন করে এলো। তার কোনো পাশও ছিলো না। তায়েবা জবাব দিলো অর্চনাদি চাইলে কিনা করতে পারে। তার কত প্রভাব প্রতিপত্তি। এই হাসপাতালে ডঃ সেনগুপ্ত বলে এক ভদ্রলোক আছেন, তিনি অর্চনাদির কি ধরনের আত্মীয় হন। ডঃ সেনগুপ্তকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন। আমি আপনাকে বলেছিলাম না অর্চনাদি খুউব ভালো, আর খুউব রুচিবান মহিলা। দেখুন এই শাড়িখানা আমাকে দিয়ে গেছে। খুব সুন্দর না, আমাকে মানিয়েছে? আমি জিগেস করলাম, এটা কি নতুন শাড়ি? সে কপট রাগের ভঙ্গি করে বললো। আপনি এখনো পর্যন্ত একটা মিষ্টি কুমোড়, নতুন শাড়ির সঙ্গে পুরোনো শাড়ির পার্থক্য পর্যন্ত ধরতে পারেন না। এমন রঙকানা মানুষ আমি জীবনে দেখিনি। তারপর তায়েবা বললো, অর্চনাদি আমাকে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে নিজের হাতে গোসল করিয়েছে। তারপর শাড়ি পরিয়েছে। আমার মুখে ক্রীম মাখিয়ে দিয়েছে। ভীষণ ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে আমার অসুখবিসুখ কিছু নেই। অর্চনাদির শাড়িতে আমাকে মানিয়েছে। কই কিছু তো বললেন না। আমি বললাম, হ্যাঁ খুব মানিয়েছে। জানেন দানিয়েল ভাই, জীবনে আমি আপনার মতো বেরসিক মানুষ বেশি দেখিনি। আপনার কোনো ভদ্রতাজ্ঞান নেই। এমন মুখ গোমড়া স্বভাবের মানুষকে অর্চনাদির মতো এমন একজন রুচিবান মহিলা কি করে সহ্য করেন, আমি তো ভেবে পাইনে।

তায়েবা কথাটা যতো সহজভাবেই বলুক, শুনে আমার কেমন জানি লাগলো। হাজার হোক মানুষের মন তো। তার কথাটা গায়ে না মেখে আমি বললাম, অর্চনার আমাকে সহ্য করার কি আছে? তাকে আমি আগে থেকে চিনতাম, চিঠিপত্রে যোগাযোগ ছিলো। এইতো সম্পর্ক। এ অনেক মানুষই তো বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি সহানুভূতিশীল, অর্চনাও তার একজন। আর তাছাড়া…। তাছাড়া আর কি। অর্চনা তোমাকে খুবই পছন্দ করে। একথা আমাকে বার বার বলেছে। তায়েবা বললো, অর্চনাদি আপনাকে খুব পছন্দ করে। আপনাকে পছন্দ করে বলেই আমাকে দেখতে আসে। আমার সঙ্গে অর্চনাদির তো সেরকম কোনো পরিচয় ছিলো না। আমি বললাম, মানুষ একসূত্রে না একসূত্রে একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হয়। তোমার সঙ্গে পূর্বে পরিচয় ছিলো না। এখন তোমার সঙ্গে পরিচয় হলো। অর্চনাদি কি সুন্দর আর কি লম্বা আর কতো লেখাপড়া জানে। আপনার নিশ্চয়ই খুব ভালো লাগে। আমি বললাম, অর্চনা শুধু আমার বন্ধু, আর কিছু বলতে পারবো না। এবার তায়েবা কথাটাকে ঘুরিয়ে নিয়ে বললো, আপনি দেখতে একটুও সুন্দর নন, তবু এতো ভালো মহিলাদের সঙ্গে এমন ঘনিষ্টতা হয় কি করে। আমি বুঝতে পারিনে, আমি বললাম, তোমার সঙ্গেও আমার একটা ঘনিষ্ট সম্পর্ক আছে, এটাকে তুমি কি বলবে?

তায়েবা তার হাতটা আমার মুখে চাপা দিয়ে বললো, দানিয়েল ভাই, মনে আছে একবার আপনি সন্ধ্যেবেলা আমাদের বাড়িতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছিলো। আপনি শুনেই কারফিউর মধ্যে চলে গিয়েছিলেন। সারারাত আমি ঘুমোতে পারিনি। পরের দিন সকালবেলা আপনাকে কতো জায়গায় খুঁজে শেষ পর্যন্ত ডঃ মফিজ চৌধুরীর বাড়ি গিয়ে আবিষ্কার করেছিলাম, মনে আছে? আমি বললাম, মনে থাকবে না কেন, ও সমস্ত ঘটনা কেউ কি ভুলতে পারে। আচ্ছা, সেদিন আপনি অমন করে চলে গিয়েছিলেন কেন? আমি মনে মনে খুবই চেয়েছিলাম, আপনি রাতটা আমাদের বাড়িতে থেকে যাবেন। কোনোদিন বলিনি, আজ বলছি, খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম। আচ্ছা, সেদিন থেকে গেলেন না কেন? আমি বললাম, তুমি থাকতে বললে না কেন? আমি বললে আপনি থাকতেন। অবশ্যই থাকতাম! আপনাকে থাকতে বলতে হবে কেন, আপনি নিজেই থাকলেন না কেন? সব কথা কি বলতে হয়?

তারপর তায়েবা আমার হাত ধরে বললো, দানিয়েল ভাই, আপনাকে একটা কথা বলবো, রাখবেন? আমি বললাম, বলো। আগে বলুন, রাখবেন। আচ্ছা রাখবো, এখন কথাটি বলো। আপনি আমাকে এখান থেকে কোথাও নিয়ে চলুন। চলুন, আমরা কোথাও পালিয়ে যাই। তার কথাটি শুনে আমি হতবাক হয়ে গেলাম। তায়েবা পাগলামি করছে নাতো। আমি তাকে কোথায় নিয়ে যাবো। আর সে হাসপাতাল থেকে যাবেই বা কেমন করে। জবাব না দিয়ে আমি চুপ করে রইলাম। সে আমার গায়ে ঠেলা দিয়ে বললো, কি চুপ করে রইলেন যে। আমি বললাম, হাসপাতাল থেকে তোমাকে যেতে দেবে? আমি যদি যেতে চাই হাসপাতাল আমাকে ধরে রাখবে কেমন করে? সে ঝঙ্কার দিয়ে উঠলো, আপনি আমাকে চেনেন না? চেনবোনা কেনো। তায়েবাকে আমি বিলক্ষণ চিনি। সে যখন কোনো কিছু করবে ঠিক করে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। যেদিন আসাদ মারা যায় সে রিকশা করে হাসপাতাল থেকে আসছিলো। হঠাৎ করে মিছিল দেখে বেরিয়ে পড়ে, একশো চুয়াল্লিশ ধারা ভঙ্গ করেছিলো। আমরা কেউ বাধা দিয়ে রাখতে পারিনি। আমি মনে মনে ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে উঠেছিলাম। আজকেও যদি সে এরকম একটা কিছু করে বসে। আমি তো জানি তাকে আটকে রাখবো এমন ক্ষমতা আমার নেই। আপাততঃ তাকে একটু শান্ত করার জন্য বললাম, আগে একটু বসো, আলাপ করি কোথায় যেতে চাও। একটা ব্যবস্থা না হয় করা যাবে। সে জেদ ধরে রইলো, না আমি ওভাবে পড়ে থাকবো না। আপনি আমাকে নিয়ে চলুন। আমি বললাম, কোথায় নিয়ে যাবো আগে বলল, তারপর না হয় যাওয়া যাবে। সে জবাব দিলো, আমাকে বলতে হবে কেন, আপনার যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যান। আমি যদি তোমাকে এ অবস্থায় এখান থেকে নিয়ে যাই, তোমার বোন, মা, ভাই এবং পার্টির লোকেরা আমায় কি আস্ত রাখবে? কোনো একটা কারণে তোমার অসুখটা হঠাৎ করে বেড়ে যায়, সকলের কাছে আমি কি জবাব দেবো? আমার মা, ভাই, বোন, পার্টির লোক কি মনে করবে? আমি দেখবো, আপনি নিয়ে যাবেন কিনা বলুন? তুমি জানো, এখানে আমার নিজেরথ থাকার জায়গা নেই। তোমাকে আমি কোথায় নিয়ে যেতে পারি। সে বললো, অন্ততঃ আপনি কোথাও আমাকে নিয়ে বেড়িয়ে আসুন। এই হাসপাতালে থাকতে থাকতে আমি অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। আপনি আমাকে নিয়ে চলুন। এখন কেউ নেই, এই সময়ে বেরিয়ে পড়াই উত্তম। আমি বললাম, আচ্ছা ঠিক আছে, আমি একটু ডঃ মাইতির সঙ্গে পরামর্শ করে আসি। তুমি একটুখানি অপেক্ষা করো। ডঃ মাইতির কাছে যাবেন কেন? আপনি যখন অর্চনাদিকে নিয়ে বেড়াতে যান, তখন কি ডঃ মাইতির পারমিশন চান? আমি বললাম, অর্চনাকে নিয়ে কখন আবার বেড়াতে গেলাম। এ উদ্ভট সংবাদ কার কাছে শুনলে? তায়েবা চোখের রাঙ্গা পুতুলি দুটো দেখিয়ে বললো, ফের মিথ্যে কথা বলছেন, অর্চনাদি আমাকে নিজেই বলেছেন, অর্চনাদিকে নিয়ে আপনি বেলেঘাটা না কোথায় গিয়েছিলেন? আমি হেসে ফেললাম, ওহ সেই কথা বলো। বেলেঘাটাতে তার এক নকশাল বন্ধুর বাড়িতে আমাকে নিমন্ত্রণ করেছিলো। অৰ্চনা আমাকে বাসা চেনাতে নিয়ে গিয়েছিলো। তায়েবা বললো, থাক্ আপনাকে আর কিছু বলতে হবে না। আপনাকেও আমার চেনা হয়ে গেছে। তায়েবাকে আমি কোনোদিন সাধারণ মেয়েমানুষের সঙ্গে এক করে দেখিনি। আমি মনে করতাম, সে মেয়েলি ঈর্ষা, বিদ্বেষ এসবের অনেক উর্ধ্বে। আজকে তার অন্য একটা পরিচয় পেলাম। দীর্ঘদিন ধরে আমি মনের মধ্যে একটা সংশয় লালন করে আসছিলাম। তায়েবার সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক সেটার ভিত্ কি? আমি তার অসুখকে উপলক্ষ করে তার পরিবার এবং পার্টির লোকদের বিরুদ্ধে মনে মনে অসংখ্য অভিযোগের যে খসড়া এঁকেছি তার একটা বাস্তব ভিত্তি পেয়ে গেলাম। আমার নালিশ করার অধিকার আছে, হ্যাঁ আছে, একশোবার আছে। আমার চোখ ফেটে কান্না বেরিয়ে আসতে চাইছিলো। হঠাৎ সে অতি কষ্টে বলে বসলো, দানিয়েল ভাই, আমাকে বিছানায় শুইয়ে দেন। আমার কেমন জানি লাগছে। আমি তাড়াতাড়ি বিছানায় শুইয়ে দিলাম। তার মুখে কোনো কথা নেই। গর গর আওয়াজ বেরিয়ে আসছে।