মেঘা ওয়াশরুমে, হোসেন রুমে বসে দুই বোতল মদ খেয়ে ক্লান্ত। হোসের শ্বাসকষ্ট, হোসেন মেঘার স্বামী। হঠাৎ হোসের শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেল, মেঘা তাড়াতড়ি এসে ইনহেলার দিয়ে মুখে ছাপ দেওয়ার পর হোসেনের শ্বাসকষ্ট কমে। সুস্ত হওয়ার পর ঠাস করে মেঘার গালে চড় দিয়ে বলল, এত লেট করলি কেন? তুকে কি জন্য বিয়ে করেছি? এটা সাথে রাখতে পারিসনা?
মেঘা : আমি তো ওয়াশরুমে গোসল করছিলাম।
হোসেন : যাও এখান থেকে…
মেঘা কাঁদছে,
পরদিন ছিল মেঘার জন্মদিন, তাই মেঘা সেজেগুজে হোসেনকে বলল, চলনা একটু বাহির থেকে ঘুরে আসি,
হোসেন : আরে রাখ তোর ঘুরাঘুরি, অফিসে একটা ফাইল জমা দিতে হবে, না দিলে চাকরি শেষ তখন এত ফুটানি করবে কি করে? যত্তসব –
হোসেন মেঘাকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে চলে গেল।
একটু পরে মেঘা বিছানা থেকে উঠে বেলকনিতে হাঁটছে, হঠাৎ একজন লোক একটা খাম এনে দিয়ে বলল,এটা আপনার চিঠি।
মেঘা চিঠি দেখে চমকে উঠে, কে দিয়েছে?
আমার তো চিঠি দেওয়ার মত কেউ নেই?
মেঘা চিঠি খুলে পড়লো, তাতে লেখা আপনার অনুমতি ছাড়া আপনার ছবি তুলেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। প্রয়োজন হলে আমার এই নাম্বারে কল দিবেন, নাম্বারটা দিলাম।
মেঘা চিঠিটা বিছানার নিচে রেখে দেয়। এমন সময় তার স্বামী আসে। স্বামীকে খাবার দিতে রান্না ঘরে এলো, খাবার নিয়ে দেখে হোসেন মদের বোতল নিয়ে বসেছে আর মদ গিলছে। মেঘার কোন কথা বলার ক্ষমতা নেই | শুধু বলল, আগে খাবারটা…
হোসেন : আরে রাখ তোর খাবার, আমি খাচ্ছি তুই দেখছিসনা, এদিকে আয়, আমাকে ধরে বিছানায় শুইয়ে দে।
মেঘা বার বার মুখটা সরাচ্ছিল,
হোসেন : তুই বার বার মুখ সরাচ্ছিস কেন? আমাতে বুঝি অরুচি হয়েছে?
মেঘা : অরুচি তো তোমাতে হয়নি, হয়েছে মদে, বিশ্রী গন্ধ আমি নিতে পারছি না।
হোসেন : ও তাই বুঝি, এখন আমি ঘুমাই তুই খেয়ে নে।
মেঘা না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছে, পরদিন সকালে হোসেন অফিসে চলে গেলে মেঘা ঐ চিঠির খাম থেকে নাম্বার তুলে কল দিল।
অপর প্রান্ত থেকে একটা ছেলে বলল, আমি আরিফ, আমিই আপনার ছবি তুলেছিলাম। কথা বলার এক পর্যায়ে আরিফ মেঘার সাথে দেখা করতে চাইলো। মেঘা রাজি হয়েই চলে এলো। মেঘা আর আরিফ গল্প করছে ও হাটছে। আরিফ মেঘার সাথে বন্ধুর হাত বাড়িয়ে দিল। দুজন হাত ধরে অনেক জায়গা ঘুরছে, আরিফ মেঘার সব কিছু জানতে চায়, মেঘা আরিফকে তার বিবাহিত জীবন খুলে বলল। আরিফ বলে এই রকম সুন্দরী বউকে কেউ কষ্ট দেয়! আমি হলে খুব ভালোবাসতাম। মেঘা তার বাসায় আরিফকে সাথে করে নিয়ে আসে। দুজনের গল্পের এক পর্যায়ে আরিফ মেঘার ডান হাত ধরে। তারপর কাছে আসে মেঘা ও আরিফকে সায় দেয়। দুজন একসাথে যখন তখন মেঘার স্বামী বাসায় আসে। হোসেন হাততালি দিয়ে দিয়ে রুমে ঢুকে, একসময় হোসেনের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। মেঘা দৌড়ে গিয়ে ইনহেলার হাতে তুলে, একটু হোসেনের সামনে আসার পর মেঘা ইনহেলার নিয়ে মুর্তির মত দাঁড়িয়ে রয় ও তার উপর অত্যাচারের কথা মনে পড়ে। হোসেন মাটিতে লুটে পড়ে ও হাত বাড়িয়ে মেঘার দিকে চায় ইনহেলার দেওয়ার জন্য। মেঘা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে, একসময় হোসেন মারা যায়।