হৃদয় ভেঙো না, তুমি

প্রিয় সব কবিতা উৎসর্গ করে
স্বত্ব তোমার নামে দিয়ে
মিটিয়ে গেলাম কবিতার দেনমোহর
একটাই আরজি, হৃদয় ভেঙো না তুমি।

জীবন অতি সামান্য,
সে-ও তোমার জন্য রেখে গেলাম
মিটিয়ে দিয়ে অনাবশ্যকীয় চুক্তি
কেবল মিনতি, হৃদয় ভেঙো না তুমি।

তোমার জন্য পাড়ি দিতে পারি
উথাল-পাতাল নদী
চাও তো দিতে পারি সময়ের দাম
একটাই আরজি, হৃদয় ভেঙোনা তুমি।

স্বর্গের ঠিকানা অনায়াসে দিতে পারি
দিতে পারি বিশ্বাসের ছাড়পত্র আমার
শুধু পারি না কথা দিতে
এ- জীবনে তোমাকে ভুলে থাকবার।।
…………………………………………..

বায়োপিক

বাড়বাড়ন্ত সবুজ ঘাসের মতো
উড়ু উড়ু মনের কচি অনুভূতিগুলো
কালোবাজারিতে হাত বদল হচ্ছে
শিয়াল-শকুনের মতো খুবলে খুবলে খাচ্ছে
একদল পশু তার মূল্যবোধ।

ফুটপাতে নিয়ন আলোয় শুয়ে থাকা
নারীটির আর্ত চিৎকার প্রতিধ্বনিত হয়
নিজের মনে,
কেউ শুনে না ক্রন্দন, কেউ হয়ে উঠে না আপন।

রক্তে মাংসে গড়া মানবমূর্তি
লালসার আগুনে পুড়ে পুড়ে কংক্রিট হয়
যা দিয়ে নির্মাণ হয় নির্মলাদের বায়োপিক।
…………………………………………..

প্রেমের শক্তি

ডাহুক পাখির মতো রাত জেগে
মন পোড়ায় কুয়াশা ভেজা অনলে
গভীর রাতে দু’চোখে স্বপ্ন এসে বলে
‘একদিন আলো ফুটবেই ভাগ্যাকাশে’।

ঝরে পরা শিউলির মতো শুভ্র রং ছড়িয়ে
পুরনো তানপুরায় বেদনার সুর তোলে
শোনায় সুরের করুণ রাগিণী
কিছু কথন কিছু বেদন কিছু শোকের বাণী।

কড়কড়ে নোট নিয়ে যে শিকারে আসে
তার কামার্ত শরীরে প্রেম থাকে না ;
প্রেম থাকে অন্তরে। তবুও অস্পৃশ্যা
মায়ের মতো প্রেম খুঁজে মানুষের মাঝে।

অচ্ছুৎ নারীর জীবনে প্রেম আসুক বারবার
প্রচল সময়ে জেগে উঠুক বিবেক সবার
জেনে যাক মন–
‘সূর্য নয় নক্ষত্র নয় প্রেমের শক্তি তারও বেশি’।
…………………………………………..

সত্যান্বেষী

নিঃশ্বাসের বিষক্রিয়ায় ফুটছে ফুল হাসছে প্রকৃতি
ফুসছে দুকূল, ঝরছে বকুল, কাঁদছে শিকারি
প্রলোভনে বশবর্তী আমি এক জ্ঞান পাপী
নষ্টদের দলে আস্থার সাথে সুখ চিত্রকল্প আঁকি।

প্রতিবাদী কন্ঠস্বর থেমে যায় বিমাতার বৈরী চুম্বনে
সুধী রক্তচোষারা চুমু খায় দুঃশাসনের কপোলে
এ আর নুতন কি!

সত্যের কান্ডারি, দুঃখ বিলাসী মানবিক মানুষটি
যখন হাতে পায় বিস্ময়কর দূর্ভাগ্যের ছাড়পত্রখানি
তখন পৌষের সুংসংবাদ শুনানো ছাড়া উপায় কি!

পাখির সুখ লুকানো যে পালকে উড়তো ডানা মেলে
সে পাখি ঘুমিয়ে আছে পাথরের বুকে মাথা রেখে
সীমাবদ্ধতার ভেতর অসীমকে ফেরাতে
সংবেদনশীল মন এপিটাফ লিখে কবিতার বুকে।

নগরের যাপিত জীবন সৌখিন নগ্ন দূর্বৃত্তায়নে বন্দী
নৈতিক সংকটে শিশুর ললাটে মেলে ধর্ষিতা উপাধি
এই কঠিন সময়ে কে হবে পাপ মুক্তির দিশারী!
কে হবে সত্যের পুজারী! আর কে হবে সত্যান্বেষী।
…………………………………………..

হ-য-ব-র-ল জীবন

চৌধুরী বাড়ির শান বাঁধানো পুকুর ঘাটে
নূপুর পরা দস্যি মেয়েটি আর আসে না;
নাইতে গিয়ে কান্নার জলে আর সে ভাসে না
এখন আর লুকোচুরি খেলে না।

সজনে গাছের ডালে ওত পেতে থাকা
মাছরাঙা পাখিটিও আর আসে না;
পুকুর জলে যুগল হাঁসে ছুঁয়াছুঁয়ি আর হয় না
পদ্মপাতায়,বৃষ্টির পানি আর জমা থাকে না।

যে মেয়েটি বকুলের মালা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতো
সে আজ ভুল ঠিকানায় দাঁড়িয়ে কড়া নাড়ে
বাবুর মনোরঞ্জনে। এই যে হ-য-ব-র-ল জীবন
হাতে হাতে রঙ বদলায় আর বদলায় মানুষের মন।
…………………………………………..

তুমি নেই

তুমি আজ পাশে নেই, তাতে কী
উজার করে দিয়েছো প্রেম- প্রীতি
সময়ে ভুলে গেছো, তাতে কী
তোমায় নিয়ে কবিতা তো লিখি।

আমায় ভালোবাসলে না ; ক্ষতি কী!
তোমায় নিয়ে বিরহে তো আছি
এই যে বিরহে বসবাস সুখেরই নামান্তর।
…………………………………………..

নির্ভরতার পাহাড়

একাকী থাকা আশ্চার্য্য কষ্টের ভাগ নিবি
নাকি তেভাগা বন্ধকী জমির বিষন্নতা নিবি
তুই, হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি দুঃখ নিবি!
শোন তোকে একটা কিছু নিতে -ই হবে।

ঝরে পড়া অশ্রুবিন্দু নিতে পারিস
জ্যোৎস্নামাখা নিঝুমরাত নিতে পারিস
গোলাপি ঠোঁটের যন্ত্রণা নিতে পারিস
নাকি গোলাপ দেহে কামনার ঢেউ নিবি!

পাড়ার অলিগলিতে থৈ থৈ জলের কান্না আছে
কামিনী ফুলের গন্ধে মাতাল মন আছে
বানের জলে ভেসে আসা একটা কদমফুল আছে
নিঃসংকোচে বলতে পারিস।

প্রাণের ভেতরে প্রাণের সন্ধান দিতে পারি
মনের ভেতরে মনের স্থান দিতে পারি
প্রত্যাশার শিশিরবিন্দু থেকে
তোকে একবিন্দু জল দিতে পারি।

শোন তোকে আমি দিতে পারি–
হাতের উল্টোপিঠে কামরাঙা ঠোঁটের স্পর্শ
তুই আমার নির্ভরতার পাহাড় হলে –
প্রজাপতির ডানায় সুখ দিতে পারি
পরিযায়ী মনে স্বস্তি ফেরাতে পারি
তোকে ভালোবেসে আশ্রয় চাইতে পারি।।
…………………………………………..

ভালোবাসা

যে হৃদয় পাষাণ তার বুকে ঢেউ জাগে না
সাগর বুকে হু হু বাতাস কেবল কান্না ঝরায়
আর তার জলরাশি অপার রহস্য জাগায়;
বেদনা- সুখ দুটোই ওর মধ্যে লুকিয়ে আছে।

আমি অপেক্ষমান এক প্রেমিক; নিতে চাই
বালুচরে লুকিয়ে থাকা ঝিনুকের বুক থেকে
সবটুকু সুখময় ভালোবাসা।
…………………………………………..

ভালোবাসার কথা

পাহাড় সম উঁচুতে বসে মৃত্তিকাকে বলো-
প্রিয়তমা, এই বুকে মাথা রাখো;’
দু’জনার এই যে দূরত্ব
ঠিক যেন আকাশ আর সমুদ্র।

বৃত্তের ব্যবধানে দু’ জনার দূরত্ব অনেকখানি
অথচ হৃদযন্ত্র হৃদয়ের বারান্দায় বসে
হৃদয়ের খেরোখাতায় রোজ
লিখে চলে
হাজারো ভালোবাসার কবিতা।
…………………………………………..

ঘুণপোকা

ঘুণপোকাটি অহোরাত কেটে যায়;
কাটতে কাটতে জড়ো করে,
গুঁড়ো কাটের ঢিবি, অজান্তেই পোকাটি
তীক্ষ্ণধারে কেটে যাচ্ছে মনের অতল।

বেদনার পাল্লা ক্রমশ ভারী হচ্ছে
আর কেবলই মনে হচ্ছে
আমার প্রিয় স্বদেশের ঘুণ পোকাটির কথা।