সকাল বেলার পাখি

সকাল বেলার পাখি হতে মনটা কেবল চায়
গাছের ডালে কিচিরমিচির করতে বাগিচায়।
ভোরের আলো ফোটার আগে নামাজ পড়া শেষ
ফোটা ফুলের গন্ধে ব্যাকুল কিযে লাগে বেশ।

দূর্বা ঘাসের শিশির ফোঁটা উদোল পায়ে দলতে
ভোরের হাওয়া গায় লাগিয়ে ভালো লাগে চলতে।
বরকত আসে ঘুরেফিরে সকল কাজ ও কর্মে
আল্লাহ খুশি,স্বস্তি মেলে, সম্পাদন হয় ধর্মে।

সকাল বেলার লাগলে হাওয়া বালাই হয় দূর
সুস্থ দেহ সুস্থ মনে আনন্দ ভরপুর।
……………………………………………

তুমি মালিক খোদা

পৃথিবীর কারো কাছে চাইনা কিছু আর
তুমিতো মালিক খোদা দয়ারই ভান্ডার
আমায় তুমি ক্ষমা করো সহি করো না
মনের সকল কথাই জানো চাইগো করুণা।

জেনে-বুঝে পাপের খাতা পূর্ণ করেছি
লজ্জা আমার তোমার কাছে ভুল তো করেছি।
শয়তানে কুমন্ত্রণা দেয় না যেন আর
দু’হাত তুলে পানা চাই ওহে পরওয়ার।

আলিমুল গায়েব তুমি দো-জাহানের মালিক
তামাম সৃষ্টির স্রষ্টা তুমি, তুমি তো খালিক
আমায় তোমার দয়া হতে ফিরিয়ে দিওনা
ঈমানদার না করে খোদা তুলে নিও না।
……………………………………………

বাংলা আমার অহংকার

সবুজ ঘাসে শিউলি হাসে প্রভাতী বেলায়
কিশোর-কিশোরী আঁচলে ভরে সাজবে খেলায়।
গাছে গাছে পাখি ডাকে কুহু-কেকা স্বর
মনে হয় জেগে আছি স্বপ্নের ভেতর।

সোনালী আলোয় রাঙানো সকাল’ শিশিরমোড়া ঘাস
নাও ভাসা শাপলা বিলে দলে যায় হাঁস।
কাস্তে জোয়াল কাঁধে চাষা মাঠের পানে ধায়
গরু মহিষ বাথান চলে খালের ওপারটায়।

ময়না ঘুঘু সুর ধরে বাবু বাঁধে ঘর
এমন দেশের মানুষ আমি দেমাগী অন্তর
সোনার ধানে কাস্তে চলে মুখে তোলে গান
আহা সুরে মনটা জুড়ায় কেউবা চিবায় পান।

নদীর জলে মাছ ধরে কেউ, নানা রঙের পাল
বাংলা আমার অহংকার ভাই, আমি যে বাঙাল।
……………………………………………

কে তুমি সুদর্শনী

আজ বিকেলে রবি দাসের পুল* থেকে
রশিদ চেয়ারম্যান বাড়ীর দরজা দিয়ে যেতে
রিকসায় বসে দেখি
টকটকে লাল স্টাইল বোরকায় হিজাবে
আবৃত মুখখানি
সুদর্শনী কে তুমি?

অমন লাজুক মিষ্টি মৌহময়ী হাসি
বার বার ফিরে তাকানো, তোমার
মায়াভরা চেহারা ভালোবাসি
ও সুদর্শনী কে তুমি?

কাজলে মাখা দুচোখ জুড়ে না বলা কথা
ওরে ডেকে নেয় বার বার
হারিয়েছি তোমার মাঝে
হয়েছি হাসির অলঙ্কার।

সুদর্শনী কে তুমি?

ঘাতক রিকসা আমাকে নিয়ে ছোটে
তোমার হাসিমুখ- মাশকারা ঢাকা চোখে
হারিয়েছি চম্বিত
ব্যকুল পরানে ফিরে আসি
তোমায় ভীষণ ভালোবাসি।

কে তুমি প্রিয় সুদর্শনী?
……………………………………………

বোকা আমি

কতোগুলো কয়লা রাস্তা থেকে কুড়িয়ে
ঘষে ঘষে চেয়েছি খাঁটি বানাতে,পুড়িয়ে।
আসলে,কয়লা ধুলে যায় না ময়লা
বোকা আমি, বুঝিনি পয়লা।

যার ভেতরে নেই’কো আলো
বাহিরে ফিটফাট ভেতরে কালো
তার কাছে কী আশা করা যায়?
বোকা আমি বুঝিনি তো হায়।

আমার কোলে পা রেখে সিঁড়ি বেয়ে
কতো দূর এগোবে বাছা, দেখবো চেয়ে
কয়লা ধূলে ময়লা কী আর যায়?
বোকা আমি, বুঝবো কী উপায়!

চারপাশ ভরেছে খানাখন্দে আবর্জনায়
আগাছায় ছেয়ে গেছে সব গো-খানায়
সে সবে আর কী- থির থাকা যায়
বোকা আমি, বুঝতে জনম যায়!
……………………………………………

কদম ফুলের শৈশব

সেবা’র আসমানে মেঘ দেইখ্যা
মাস্টর’রা ইশকুল ছুটি দিয়া দিছে
বইগুলান ব্যাগে পুইরা
কাঁধে ফালাইয়া দিলাম ছুট!

খালপাড়ে আইসা কদম ফুলে চোখ পড়তেই
ব্যাগ রাইখ্যাই প্রতিযোগ শুরু হইছে
কে কার আগে কদম ফুল লইবো।

পাশের গাছ দিয়া বাইয়া উঠে ডালডুল ভাইঙা
দশবারোটা কদম ফুলের গোল্লা কান্ডসহ ছিঁড়া লইছি।

বাড়ীত যাইয়া ভাতটাত না খাইয়া-ই
কদম ফুলের পাপড়ি খুলে মালাতে জমাই-লাইছি
ভেতরের মনোহর বলে শলা ঢুকাই আমপাতায়
জোড়া লাগাইয়া রেলগাড়ী বানাইয়া
খোলে বাইন্ধা এলাকায় ঘোরাঘুরি।

এমন স্মৃতি মনে রাইখ্যাই বাঁইচা আছি
কদম ফুল তুমি ভালোবাসা
মনের গহীনে অন্ধকারে কদম ফুল
ডীন লাইট হইয়া জ্বইলা আছে।
……………………………………………

মায়ের ফজলি

সাফুজি, তোমার ঠিক মনে আছে কিনা-
আমাদের ঘরের পূব পাশে বিলের উপর
ঝুঁকে থাকা আমগাছটার কথা।যে আমগাছটা
মায়ের হাতে লাগানো ও পরিচর্যাতেই বিশাল
প্রকাণ্ড বিস্তৃর্ণ বৃক্ষে পরিণত হয়েছিলো।

তোমার স্মরণ আছে কিনা-
সে আমগাছটা মায়ের পরম আদর পেয়ে আমগুলো
এতো টকটকে লাল সুঘ্রাণময় মিষ্টি
আর মোহময়ী চামড়ায় আবৃত থাকতো।
তাতে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত অবধি পাড়ার
শিশু কিশোর যোয়ান বুড়ো আম কুড়াতে ভীড় করে
‘মায়ের ফজলী’ আমতলায়।

সাফুজি,তোমার ভাতিজারা
খাওয়ার ছেয়ে বন্ধুবান্ধবদের মাঝে বিলায় বেশী
আহা, যে একবার আমে জীভ লাগায়
আমৃত্যু স্বাদ লেগে থাকে তার পরানে।

জানো সাফুজি,মায়ের আমগাছটায় এবার প্রচুর
ফলন এলেও মোড়ক লেগে ঝরে গেছে আম
গাছ যেনো খালি, যে ক’টা আম আছে বাঁদুর ছলা
ইঁদুর পাখিতে সাবাড়।

কতোজন এসে তালাশ করে ‘মায়ের ফজলি’
দিতে পারি না বলে লজ্জা করে ভীষণ।
তুমি এলে এবার গাছটায় কিটনাশক ছিটাবো
কবে আসবে সাফুজি?
……………………………………………

লুকিয়ে গিয়ে তারা হবো

এশার গগন পশ্চিমেতে জোনাক জ্বলা তারা
ওযুর পরে কালেমা মুখে হলাম পাগলপারা।
কে ঝুলালো এমন করে তারাবাতি গগন গায়
টিপিটিপি চোখ মেরে সে ডাকছে আমায় ওখানটায়।

আহা এমন মাতোয়ারা রুপের ঝলক দেখতে পাই
আমিও বুঝি তারা হবো? জোসনা ঝরা রাত্রি চাই।

ঝিলিক দেয়া তারকারা রাতের গায়ে হাটবসায়
এতো সুন্দর করে তারা চোখের ঘুম পালিয়ে যায়।
ঝাড়ের ফাঁকে চন্দ্র হাসে মিটিমিটি আলো বায়
চিকন হাওয়া আলতো ছুঁয়ে দেহ মন জুড়ায়ে যায়।

জ্বলজ্বল করা তারার সাথে সখ্য গড়ে একদিন
লুকিয়ে গিয়ে তারা হবো কেউ পাবে না কোনদিন!
ও মারে মা কি যে ব্যাকুল, তারকারা করছে গো
ডাকছে আমায় তারা হতে, আনন্দে মন ভরছে গো।
……………………………………………

সুখ কোথা পাই

জমানার কোনো প্রাণী সুখে নাই
তবসুখ বাইয়া পড়ে কইন্যার গতরে
হাসির ঝলকে তামাম দুনিয়া লুইটা পড়ে
মরিয়া স্বপ্ন বুনো, আগুন পোহাইবারলাই।

বিলাই চোখে ফুল ঝলসাইয়া যায়
বনজুঁই নাচে দখিনা হাওয়ায়
কইন্যার রূপ ক্যানভাসে জ্বলে
কোন সারথি সখি আমার কথা বলে।

জমানার সব বোকা চান্দি-চাটারা পরীসুখ চাটে
সুদর্শন পুরুষ হেবলা-কালা মাইয়া লয়ে সংসার আঁটে।
সুখের সন্ধানে ভেলা ভাসায় গঙ্গা-যমুনায়
দুচোখে গলে সুখ; তবসুখ কোথা পায়!
……………………………………………

সত্য কোথায়?

সত্য কোথায় আর?
নারকেল ভাঙা পানির গ্লাস
দুধের বোতল, তরমুজের লাল কোলাজ
পান্তা ভাতের সানকি ; কোথাও নেই।

সত্য পালালো কোথায়?
গাভীর দুধের ভাটে -জেলের জালে
নৌকার ছৈয়ায়
কিশোরীর ফুলে ওঠা বুকে কিবা
দুঃখিনীর গড়িয়ে পড়া অশ্রুতেও নেই।

সত্য হারালো কই?
হোমিওপ্যাথির দোকানে সাজানো শিশি
জর্দার কৌটা, চিনির বয়াম
রান্না ঘরের মোসলা বাটা কিবা
রাজনীতির সভা-মঞ্চ বক্তৃতায় নেই।

এপাড়ায় নাটকের সংলাপ
সাংবাদিকের খেরোখাতায়
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজিরায়, অফিসে
কাগজে কলমে উন্নয়নে, পুলিশের চেয়ারে
আদালত সংলাপ কিবা
নকশি কাঁথা পাঠে কোথাও সত্য নেই।

প্রেম পিরিতি কিবা ষোড়শীর মিষ্টি হাসিতেও
সত্য খুঁজে পাওয়া যায় না।

তবে সত্য কোথায়?
হ্যাঁ, এই দুর্দিনে বেঁচে আছি এটাই সত্য।