বৃথা চেষ্টা

মূলত একটা কবিতা লিখতে চাইছি
যে কবিতার প্রতিটি শব্দে ঝরে পড়বে
অবাঞ্ছিত হৃদয়ের বিন্দু বিন্দু রক্ত
যে কবিতার প্রতিটি চরণে লেখা হবে
থেমে যাওয়া জীবনের আত্মহুতি দেওয়ার
মর্মস্পর্শী বেদনায় কাতর গল্প।
মূলত একটা জীবন আঁকতে চাইছি
যে জীবনের প্রতিটি দেয়াল জরাজীর্ণ
রোদ্র ঝড়-বৃষ্টির প্রতিকূলে হেঁটে, খুঁটি গুলো-
দাঁড়িয়ে থাকবে পৃথিবীর বিষাদ স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে।
তেরো নদী সাত সমুদ্র হেঁটে এসেও আমার লেখা হয়নি
একটি কবিতা, আঁকা হয়নি একটা জীবনের ছবি।
…………………………………………..

দুর্দিন

পৃথিবীর মন খারাপের দিনে
ভরসাহীন অভাবগ্রস্ত সকল প্রাণী,
তবু যেনো মন গলেনা-
ব্যথিত হয়না রাজনীতিকের গলা।
রাজকোষাগার জালিমের দখলে
নব চালের ভাত খেয়ে নিয়েছে রাক্ষুস
ফসলের মাঠ নিয়ে যুদ্ধ বিত্তবানের
চিতার আগুন জ্বলে কৃষকের মনে।
দূর্যোগের ডামা-ডোল বেজে উঠলো
মধ্যবিত্তের দ্বারে দ্বারে,
তবু যেন বন্ধ হয়না দুর্ণীতি
রক্তখেকো রাজনীতিকের।
খাবার পায়না মানুষ, পায়না কুকুর
হয়তো একদিন মশাও পাবেনা রক্ত,
পৃথিবী হবে রক্ত শূণ্য।
অবশিষ্ট্য কিছু কী থাকবে অনাগত শিশুটির জন্য?
…………………………………………..

আমার জানতে ইচ্ছে করে

আগুন লাগে নাকি লাগিয়ে দেয়া হয়?
বাসের চাকা ছাত্রের বুকে উঠে নাকি উঠিয়ে দেয়া হয়?
আমার জানতে ইচ্ছে করে,
আমার আরো অনেক কিছু জনতে ইচ্ছে করে।
অগ্নি দ্বগ্ধ মানুষ আর লাশ ছাড়িয়ে নাঈম কেন ভাইরাল হয়?
নাঈমরা কী আমাদের ভুলিয়ে দিতে চায় অগ্নি দ্বগ্ধের তরতাজা বেদনা?

আমার জানতে ইচ্ছে করে
কেন একটার পর একটা দূর্ঘটনা ঘটে?
কে ঘটায়? ঈশ্বর? নাকি মানুষ?
সরকারি দল? নাকি বিরোধী দল?
এটা নয় কী সিরিয়াল কিলিং?
ঈশ্বর ও কি তাহলে?

নাকি একটা ভুলে যেতে অন্যটা?
নাকি নিউজ হওয়ার কোন বিষয় থাকেনা বলে?
ছাত্ররা কি ভুলে গেছে নিরাপদ সড়কের কথা?
নাকি এবার নিরাপদ ভবনের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করবে তারা?

আমার জানতে ইচ্ছে করে,
খেলনা পিস্তল দিয়ে শিমলার জামাই
কেমনে করে বিমান চিন্তাই?
আমার আরো অনেক কিছু জানতে ইচ্ছে করে,
সব কিছু বলা ও যায়না।
…………………………………………..

তুমি বিনা বর্ষা

তুমি বিহীন এই বর্ষার বৃষ্টি প্রকোপতাও
আমার স্তিমিত হৃদয় কে মোহিত করছে না,
একদা পুকুর পাড়ের যে কদমগুচ্ছ,
তোমার হাতে খোঁপায় শোভা পেত,
আজ এ মায়াহীনদিনে তা শুধু পায়ে পিষ্ট হচ্ছে।

বৃষ্টিকে আলিঙ্গন করার তীব্র নেশা
আমার মনকে নাড়ায়না আর,
পুকুরের জলে এখনো নিশ্চয় বৃষ্টি ফোটার আগাতে ফুসকা ফোটে,
অথচ সে আঘাত এখন হৃদয় তটে আনন্দ-বেদনার সঞ্চার করতে পারেনা।

তোমাদের উঠোনের আকাশে এখনো নিশ্চয়ই রোদ-বৃষ্টির খেলায় শিয়াল মামার বিয়ে চলে,
তুমি হয়তো এখনো বৃষ্টি স্নান করো
খেয়ালী মনে উদাস আকাশ পানে চেয়ে
অথচ সে ভিজে যাওয়া এখন আমার তৃষ্ণা মেটায় না।
…………………………………………..

শর্তহীন

কেন মন জানেনা আজ কার টানে
মন বিষন্নতায় ছুটে দূর পানে,
আঁখি মেলে যাকে যায় না দেখা
হৃদয়’টা পড়ে থাকে তার কাছে।
শব্দহীনতার কথামালা বুঝে নিয়েছে মন
সপে দিয়েছে সকল চঞ্চলতা,
জীবনটা একান্ত নিজের জেনেও
লিখে দিয়েছি শর্তহীনতায়।
…………………………………………..

স্মৃতি

ছোট্ট দুটি পা পিছলে যেতে চায়
কুয়াশায় আধো ভেজা শুকনো পথ
দূর্বাঘাসের মাথায় যেন ধুলছে হিরে
মিষ্টি রোদের ঝলমলে খেলা।

মাথায় পাঁচ কলি টুপি
হাতে কায়দা রেহেল জায়নামাজ,
মোক্তবে এককোণে ঘাপটি মেরে বসা
মৌলভী সাহেবের চোখে যেন বাজপাখি।

সুরে সুরে গুঞ্জিত আরবি হরফ
মেয়েদের মৃধু গুঞ্জনে কোরআন তেলাওয়াত
সীমান্তের পদুয়ার মত মৌলভী সাহেব
মাঝিরে শুরু লাইনে করে পায়চারি।

ছোট্ট দুটি হাত মেলে ধরতে হয়
দৈত্য-সম বেতের সম্মুখে,
কাঁপে হাত কাঁপে সারা গতর বেত্রাঘাতে
তবু দমে না মন।

ছোট্ট একটা দেহ বাড়ি ফিরে যায়
মাড়িয়ে রাজ্যের সকল পথ
কাদায় গড়াগড়ি পুরোদস্তুর শরীর
মায়ের চোখ রাঙানি বোনের বেত্রাঘাত
তবুও থামে না মন।
…………………………………………..

ক্ষুধা

রঙ ছড়ানো ঝলমলে দিগন্তের দিকে
পৃথিবীসম স্বপ্ন নিয়ে ক্ষুধার্ত চোখে
তাকিয়ে থাকা শিশুটির চোখে বর্ণ ধর্ম
বলতে একটি জিনিসই বুঝায় “ক্ষুধা”।

উন্নয়নের ডামাডোল বাজিয়ে যে রাজা
প্রভাব অবিনশ্বরে নশ্বর করেছে রাজ্য,
শ্রমিকের ঘাড়ে তুলে দিয়ে কথিত উন্নয়ন
প্রতিনিয়তঃ চুষে নিচ্ছে রক্ত মজলুমের।

যতই দেখাচ্ছ চোখ ভুলানো রঙ্গের লীলা
ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর শিশুটির মুখে
খাবার দিতে না পারা পিতার চোখে
পৃথিবীর সকল রঙ কালো।
…………………………………………..

বর্ষার খেলা

বদ্ধঘরে উন্মাদ আমি বাহিরে বর্ষার পাগলামি
মেঘেদের বড্ড স্পর্ধায় লাগামহীন বৃষ্টিতে
ঝিঙ্গে গাছের মাচাটা যেন নুয়ে পড়ছে
পুকুরের শোল, কৈ চরছে কাদামাখা উঠোনে,
সাদা-কালো ধূসর হাঁসগুলো এক পায়ে দাঁড়িয়ে
বিরতি দিয়েছে সকল কার্যাদির।
বেপরোয়া বৃষ্টি প্রাচীর গড়েছে, দিচ্ছে অশনি,
প্রকৃতির এমন খেলায়, কথা কয়ে উঠে শরীর।
এই বিষাদের প্রাচীর ভেঙে একদিন
আমি তোমার কাছে পৌঁছাব।
হতাশার দিন কেটে যাবে, তুমিও আমার হবে,
শুধু ফেলে আসা সময় গুলো ফিরিয়ে দিতে পারবে না।
…………………………………………..

ফিরে এসো

বিষন্ন মন চোখ জোড়া হয়না এক
রাত ততটা দীর্ঘ্য নয়
যতটা দীর্ঘ্য মনে হচ্ছে আজ
তুমি রেখে যাবার পর।

স্মৃতিগুলো তড়িৎ প্রবাহে
বিন্দু জলে নেমে আসে লোচনে
শূন্যতা ঘিরে রাখে অন্দরে
নিয়ন আলোর বিষাদ কারাগারে।

জীবনটা এতটা রঙিন মনে হয়নি কখনো
যতটা মনে হচ্ছে তুমি বিহনে,
অভিমানের সকল দরজা ভেঙ্গে
শর্তহীন ফিরে এসো আজ।
…………………………………………..

দীর্ঘশ্বাস

আজ আমরা মধ্য বয়সে এসে দাঁড়িয়েছি
যতগুলো বছর পৃথিবীতে বেঁচে আছি, ঠিক
আর ততগুলো বছর পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারবো কিনা জানিনা।
আমরা এখন নিতান্তই মানুষ থেকে বৃক্ষে পরিণত
হয়েছি, আমরা ফল বৃক্ষ।
আমাদের এখন অন্যকারো প্রয়োজন বা বৃদ্ধির জন্য ও বেঁচে থাকতে হয়,
আমাদের কাছে এখন আবেগের ছেয়ে বাস্তবতাই অনেক বড় হয়ে দেখা দেয়।
অথচ আমরাই একদিন বলেছি আবেগ-ই সব।
এতকিছুর পর ও আমাদের সম্পর্ক কিন্তু
একটা নামে এসে দাঁড়ায়নি, বলা যায় বলার মত কোন সম্পর্ক ও আমাদের তৈরী হয়নি।
তুমি খেলার চলে ভালোবাসি বললেও আমি জানি
সে বলার মধ্যে একটা গাড় আবেগ নিহিত ছিলো,
তাই তো আমি চুপি চুপি ভালোবেসেছি তোমায়,
আমি যতবারই খেলার চলে বলেছি, আমি শুধু তেমায় ভালোবাসি তোমাকেই চাই।
সেটা যতটুকু খেলার মত ছিলো, তার ছেয়ে বেশি ছিলো আমার আত্মার আমার হৃদয়ের গাড় চিত্তের
আবেগ জড়িত করুণ সূর, হয়তো তুমি বোঝনি,
হয়তো বুঝেছো।
হোকনা খেলার চলে আমরা কিন্তু দুজনই একই কথা গুলো বলেছি আমাদের তরে।
তোমার সেদিন হাত কেটে রক্ত বের হয়েছিলো কিন্তু! আমার বের হয়েছে অশ্রু,
তুমি কি জানো কতটুকু কাটলে কতটুকু দগ্ধ হলে ভেতরটা,
অশ্রু বের হতে পারে?
নজরুল একই কথা বলেছিলো ক ফোটা রক্ত দিয়ে এক ফোটা অশ্রু হয়?
আমি ও বলছি বিজ্ঞান কী আজও কোন থার্মোমিটার আবিস্কার করতে পেরেছে?
অথচ তুমি আমাকে বলেছিলে প্রেম কী?
দিনের শেষে তুমি কখন বাড়ির আঙ্গিনায় এসে দাঁড়াবে সেই আশায় যখন কেই একজন বুকের ভেতর তীব্র আকাঙ্খা আর উত্তেজনা নিয়ে দূর থেকে সেই আঙ্গিনায় বাজ পাখির মত তাকিয়ে থাকবে, হয়তো তুমি আসবে, হয়তো আসবে না, তুমি জানবেইনা কেউ একজন শুধু তোমার জন্যই অপেক্ষায় আছে, আমি বলি এটাই প্রেম।
তুমি আজও জানোনা আমিই সেই ছেলে যে তোমার জন্য দুপুরটাকে সন্ধা করে দিতো, কখন তুমি একবার আসবে।
অথচ তোমার সাথে প্রায় প্রতিদিনই আমার দেখা হতো , তবু লুকিয়ে আরো একবার দেখার যে ইচ্ছে,
আমার বোধহয় লুকিয়ে দেখাটাই প্রেম।
কতগুলো বছর পেরিয়ে গেলো অথচ আজ ও বুকের ভেতর দীর্ঘশ্বাস।
যেদিন তোমার সাথে শেষ দেখা হয়েছিলো
সেদিন তুমি অন্যকারো কবিন নামায় স্বাক্ষরকৃত অধিকারিনী,
তবু তুমি তার অন্তরালে আমার জন্য যে দু ফোটা জল রেখে গিয়েছিলে, আমায় ভালো থাকার উপদেশ দিয়েছিলে,
সেদিন আমার আর বোঝার বাকী ছিলোনা যে,
তুমি খেলার চলে যে কথা গুলো বলেছিলে, সে কথা খেলা নয়, সে ভালোবাসা।
তুমি জানো? তোমার রেখে যাওয়া সে দুফোটা অশ্রু বিন্দু ফুপিয়ে ওঠা বোবা কান্নায় হয়ে আজও আমার দুঃসপ্ন হয়ে মধ্য রাতে ঘুম ভাঙ্গায়।