দুলাল খান এবং কবীর হোসেন আমার চেয়ে কিছুটা ছোটো হলেও আমরা তিনজন খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। কবিতার ঘোরে কিছুকাল আমরা একসাথে কাটাই। তখন সেলফোন ছিল না, আমাদের কারো বাসায় ল্যান্ডফোনও ছিল না। দরিদ্র মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের তিন কিশোর। আমাদের যোগাযোগ হতো বাসায় বাসায় গিয়ে খোঁজ করে। দুলাল খুব কম বয়সেই, এসএসসি পরীক্ষা দিয়েই, কাজে লেগে যায়, কাজ নেয় খবরের কাগজে। সিনে-রিপোর্টিং করে করে ওর মধ্যে একটা রঙিন জগত গড়ে ওঠে। প্রতি সন্ধ্যায় দুলাল আমাদের স্বপ্নের জগতের গল্প শোনাত। এই কাগজ সেই কাগজ ঘুরে দুলাল কাজ নেয় জনকণ্ঠে। জনকন্ঠ তখন মাত্র বেরিয়েছে। সাহিত্য সম্পাদক নাসির আহমেদ। দুলালই আমাকে নাসির ভাইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। আমি নাসির ভাইকে কবিতা দেই, নাসির ভাই মন দিয়ে পড়েন, দরকার হলে এডিট করেন এবং ছাপেন। নাসির আহমেদ ছিলেন দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক আহসান হাবীবের সহকারী, আহসান হাবীবের গুণ অনেকটাই তিনি পেয়েছেন। স্বজনপ্রীতি, গোষ্ঠীপ্রীতি তাঁর মধ্যে কম ছিল। লেখা ভালো হলে অচেনা লেখকের লেখাও তিনি ছাপতেন। লেখা ভালো না হলেও যদি তিনি দেখতেন একে দিয়ে হবে, তাঁর লেখা এডিট করে ঠিকঠাক করে ছেপে দিতেন। তরুণদের নাসির ভাই খুব এনকারেজ করতেন। এই গুণ তাঁর সময়ের খুব কম সাহিত্য সম্পাদকেরই ছিল।

কয়েকটি লেখা ছাপা হওয়ার পর একদিন নাসির ভাই আমাকে বলেন, আসেন, কাজী নজরুল ইসলাম, আসেন। আমি বসি, তাঁকে কবিতা দেই। তাঁর কি মনে হয়, হঠাৎ বলে ওঠেন, আপনাকে দেখলেই কাজী নজরুল ইসলামের নাম মনে আসে। কাজী জহিরুল ইসলাম কোনো আধুনিক কবির নাম হতে পারে না। একই কথা আমাকে ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক আল মুজাহিদীও বলেছিলেন। একদিন কবি জসীম উদদীন পরিষদের সাহিত্য সভা শেষে মুক্ত আড্ডায় আমার নাম বিড়ম্বনার কথাটি তুলি। চলচ্চিত্র গবেষক অনুপম হায়াৎ সেদিন ছিলেন সেখানে। তিনি আমাকে বলেন,

আপনার ডাক নাম কি?
আমি বলি, বাদল।
তিনি বলেন, তাহলে আপনার নাম বাদল জহির।
মনে মনে কয়েকবার আওড়ালাম, বাদল জহির। না, মন্দ লাগছে না।
কিন্তু আমার তো কাজী জহিরুল ইসলাম নামে কয়েকটি বই বের হয়ে গেছে। পত্রিকায় কত কত লেখা ছাপা হয়েছে।
তাতে কী? এটা কোনো সমস্যা না।

নাসির ভাইও একই কথা বলেন, এটা কোনো ব্যাপারই না। একজন আধুনিক কবির নাম হবে আধুনিক। দুই শব্দের নাম। রফিক আজাদের নাম কি ছিল জানেন? রফিকুল ইসলাম খান। আল মুজাহিদী তাঁর নাম বদলে রাখেন রফিক আজাদ। আল মাহমুদের আসল নাম হল মীর আব্দুশ শুকুর আল মাহমুদ। তিনি সেটা ছেটে আল মাহমুদ করেছেন।
আমি বলি, নাসির ভাই, আরজ আলী মাতুব্বর তো প্রাচীন নাম, তিনিও তো বিখ্যাত হয়েছেন।
নাসির ভাইয়ের মেজাজ খারাপ হয়। তিনি চুপ করে থাকেন। আমি তাঁকে তেল দেই।
ঠিক আছে, আপনি একটা নাম দিয়ে দেন।
তাঁর মাথা ঠান্ডা হয়। একটা প্রিয় নাম বের করেন, যেটার সাথে জহির লাগিয়ে দিব।
আমি বলি, আমার উপন্যাসের নায়কের নাম অনন্ত।
এই তো সুন্দর নাম। আপনার নাম অনন্ত জহির।

পরের শুক্রবারে জনকন্ঠের সাহিত্য পাতায় অনন্ত জহিরের কবিতা ছাপা হয়। কবিতার নাম ‘পুরুষ পৃথিবী’। আমি পত্রিকাটি চোখের সামনে মেলে ধরে অনেকক্ষণ দেখি। নাহ, এটা আমার নাম মনে হচ্ছে না। আমি অভিমান করি। অনেকদিন কোনো পত্রিকা অফিসে যাইনি। কয়েক মাস পরে আবার নাসির ভাইয়ের অফিসে যাই। তিনি আমাকে দেখেই বলেন,

আসেন অনন্ত জহির, লেখা এনেছেন?
আমি বলি, এনেছি। বলেই তাঁর হাতে কবিতা তুলে দিই, শিরোনামের নিচে লেখা কাজী জহিরুল ইসলাম। তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। আমাকে কিছুই বলেন না।

ঠিক আছে, রেখে যান।
আমি রেখে আসি। কবিতা ছাপা হয়। এরপর অনেক কবিতা ছাপা হয় জনকণ্ঠে। অনন্ত নামটি কিন্তু নাসির ভাই ছাড়েননি, অন্য একজনকে দেন, তাঁর নাম অনন্ত জাহিদ। অনেক দিন পর আমাকে একদিন বলেন,
দেখেছেন অনন্ত জাহিদ কেমন বিখ্যাত হয়ে গেছে। আপনি তো আমার দেওয়া নামটি নিলেন না।

নাসির ভাইয়ের সহকারী ছিলেন কবি শাকিল রিয়াজ। এক পর্যায়ে শাকিল রিয়াজের সাথেও পরিচয়, সখ্য হয় এবং জানতে পারি শাকিল আমার স্ত্রী মুক্তির ক্লাসমেট। নাসির ভাইয়ের অবর্তমানে যখন শাকিল দায়িত্বে থাকতেন, প্রায়শই আমার কবিতা ছেপে দিতেন। দৈনিক আজাদ এবং দৈনিক নব অভিযানের পর জনকন্ঠেই আমার সবচেয়ে বেশি কবিতা ছাপা হয়েছে।

২০০৩ বা ২০০৪ সাল হবে। বাংলা সাহিত্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ আমি আর নাসির ভাই মিলে করে ফেলি। হঠাৎ একদিন নাসির ভাইকে বলি,
এই বিভাজনটা ভাঙা যায় না? আল মাহমুদের লেখা ছেপে দেন। কথাটা আমি খুব সাহস করে বলে ফেলি। আমাকে দৌড়ানি দেবে কিনা এই ভয়ও ছিল। নাসির ভাই আমাকে খুব ভালবাসতেন এবং বিশ্বাস করতেন। তিনি কিছুক্ষণ চিন্তা করলেন। এরপর বলেন,
কর্তৃপক্ষ রাজী হবে না।
তিনি যেহেতু আলোচনায় এসেছেন, আমি আরেকটু এগোই। আমার এতো আগ্রহ দেখে তিনি বলেন,
আল মাহমুদও জনকন্ঠকে লেখা দেবে না।
আমি তখন এক লাফে অনেকখানি এগিয়ে যাই। বলি,
মাহমুদ ভাইকে রাজী করানোর দায়িত্ব আমার আর জনকন্ঠ কর্তৃপক্ষকে রাজী করানোর দায়িত্ব আপনার।
কয়েকদিন পরে আমি ফোন করি। নাসির ভাই বলেন,
আপনার জন্য সুখবর আছে। আপনি যদি আল মাহমুদের কবিতা এনে দিতে পারেন তাহলে এবার জনকন্ঠের ঈদ সংখ্যা আল মাহমুদের লেখা দিয়ে লিড করবো।

আমি সন্ধ্যায় মাহমুদ ভাইয়ের বাসায় যাই। মাহমুদ ভাইও আমাকে শর্তহীন ভালোবাসেন। আমি যা খুশি তাই মাহমুদ ভাইকে বলতে পারি। এই ঘটনার ২/৩ বছর পরের এক ঘটনা। আমি তখন আইভরি কোস্টে কাজ করি। ছুটিতে ঢাকায় এসে মাহমুদ ভাইয়ের বাসায় যাই। আমরা নাস্তা টাস্তা খেয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিয়েছি। তখন ডোরবেল বাজে। মাহমুদ ভাই চোখে কম দেখেন, কে কে বলে চেঁচিয়ে ওঠেন। দরোজা খোলে তাঁর মেয়ে জিনিয়া। একগাধা লোক লাইট-ক্যামেরা, ট্রাইপড, এটা-সেটা নিয়ে ঢুকে পড়ে। মাহমুদ ভাই বলেন, কে, কে আপনারা? ওদের একজন ট্রাইপডের ঠ্যাঙ লম্বা করতে করতে বলে, আমরা এনটিভি থেকে এসেছি। আজ সারাদিন আপনার সাথে কাটাব। আমাদের আসবার কথা মাহমুদ ভাই। আগে থেকেই শিডিউল করা ছিল। তিনি গলাটা খাদে নামিয়ে বিনয়ের সাথে আমাকে দেখিয়ে বলেন, আমার বন্ধু এসেছে বিদেশ থেকে, আজ সারাদিন আমি তাঁর সাথে কাটাবো। আজ যে আমি আপনাদের সময় দিতে পারব না। আমি বিস্ময়ে হতবাক। পূর্ব নির্ধারিত শিডিউল বাতিল করে তিনি পুরো টিমকে ফেরত পাঠিয়ে দেন।

মাহমুদ ভাইকে জনকন্ঠের কথাটা বলে ফেলি। অবশ্য গত কয়েক মাস ধরেই আমি মাহমুদ ভাইয়ের কাছে নাসির ভাই সম্পর্কে খুব ইতিবাচক কথা বলে বলে তাঁর মন নরম করে রেখেছিলাম। তিনি খুব জোরে জোরে হা হা হা করে হাসলেন।
তুমি নাসিরকে চেনো না। সে আমার লেখা ছাপবে না।
আমি বলি ছাপবে। সেই দায়িত্ব আমার। আপনি লেখা দেন।
ঠিক আছে, যাও, তুমি যখন বলেছ, কথা দিলাম, লেখা দিব।

এখন লেখার জন্য আমি রোজ তাঁর বাসায় যাই। লেখা আর বের হয় না। আমি প্রায় আশা ছেড়েই দিয়েছি। একদিন আমার বাসায় টেলিফোন করে মাহমুদ ভাই বলেন,
জহির আসো, কবিতাটা লিখে নিয়ে যাও।
ফোনটা রেখেই আমি ড্রাইভারকে বলি, গাড়ি স্টার্ট দাও। আসতে আসতে নাসির ভাইকে ফোন করি,
নাসির ভাই, আশা ছেড়ে দিয়েন না, মাহমুদ ভাই কবিতা দিবেন, আমাকে ফোন দিয়েছেন, আমি যাচ্ছি।
নাসির ভাই বলেন,
অনেক দেরী হয়ে গেছে, যদি সত্যি সত্যি দেয়, কবিতাটা নিয়েই আপনি জনকণ্ঠে চলে আসবেন।
আমি মাহমুদ ভাইয়ের বাসায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে নাসির ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বলেন,
জহির আমি একটা কাজে গুলশানে যাচ্ছি। আপনি কবিতাটা পেলেই আমাকে ফোন দিবেন।

ড্রয়িংরুমে কাগজ কলম নিয়ে বসি। মাহমুদ ভাই চোখ বন্ধ করে বলে যাচ্ছেন, আমি লিখছি। একটানে কবিতা হয়ে গেল। শেষ হওয়ার পরে মাহমুদ ভাই বলেন, কি লিখেছ, পড়ো। আমি পড়ি, দেখি তাঁর মুখ কান্নায় বিকৃত। আমি যতবারই মাহমুদ ভাইকে তাঁর পাশে বসে তাঁর কবিতা পড়ে শুনিয়েছি ততবারই দেখেছি তাঁর মুখ মলিন, কান্না কান্না ভাব। তিনি বলেন,
যাও দিয়ে দিলাম জনকন্ঠকে।
আমি নিচে নামতে নামতে নাসির ভাইকে ফোন দেই, নাসির ভাই বলেন,
আসেন, আমি নিচেই দাঁড়িয়ে আছি।
নেমেই নাসির ভাইকে কবিতাটি দেই। তিনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। পড়েই বলেন,
কেবল আল মাহমুদের পক্ষেই সম্ভব এই বয়সে এমন কবিতা লেখা। থাংক ইউ জহির।
তখন কিন্তু এই ঘটনাটি আমার কাছে এতো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি, আজ মনে হয় আমি এবং নাসির ভাই মিলে বাংলা সাহিত্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ করেছি।

সেই বছর জনকন্ঠের ঈদ সংখ্যা লিড হয় আল মাহমুদের কবিতা দিয়ে। এর পরের বছর প্রথম আলোতেও আল মাহমুদ। বিভাজনটা ভেঙে গেল। একজন প্রকৃত কবি কোনো একটি নির্দিষ্ট গন্ডিতে সীমিত থাকবেন কেন? তিনি লিখবেন সর্বত্র। মাহমুদ ভাইয়ের সেই কবিতার নামটি এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তবে নামটি জোগাড় করে এই লেখার সাথে ভবিষ্যতে যোগ করে দেবার ইচ্ছে আছে।

এরপর আল মাহমুদের জন্মদিন এলেই নাসির ভাই আমাকে ফোন দেন।
জহির, মাহমুদ ভাইয়ের ওপর একটা গদ্য দেন। আজই লাগবে কিন্তু।
আমি বলি, নাসির ভাই, আমি তো অফিসে। এখানে কি বইপত্র আছে, কীভাবে লিখবো?
নাসির ভাই বলেন, আল মাহমুদকে তো আপনি গিলে খেয়ে রেখেছেন। তাঁকে নিয়ে লিখতে আপনার বই লাগে?
আমি তাঁর এই কথায় আপ্লুত হই, অফিসে বসেই লিখে ফেলি। ফ্যাক্স করে পাঠিয়ে দেই। সেই লেখা মাহমুদ ভাইয়ের জন্মদিনে লিড হয়।

আমার বাসায় যেসব আড্ডা হত, তাঁর অনেক গুলোতেই নাসির ভাই এসেছেন। বাংলাদেশের শিল্প সাহিত্যের যে ক’জন আমার প্রাণের মানুষ, নাসির ভাই তাঁদের একজন। আমি তাঁকে এবং কবি আতাহার খাননে যৌথভাবে একটি বই উৎসর্গ করি।

২০০৪-এর ফেব্রুয়ারী মাস। আমি বলি,
নাসির ভাই ছোটো কবির জন্মদিনে কিছু ছাপানো যায় না?
নাসির ভাই বুঝতে পারেন আমি কি বলতে চাচ্ছি। বলেন,
হ্যাঁ যাবে, যদি বড় কবি লেখেন।
আমি তাঁর চোখ দেখার জন্য তাকিয়ে থাকি। তিনি পেস্টিং করছেন, আলোকোজ্জ্বল টেবিলে তাঁর চোখ। অনেকক্ষণ পর আমার দিকে তাকালে বলি,
কার লেখা চান?
যদি আল মাহমুদকে দিয়ে লেখাতে পারেন, তাহলে ছেপে দিব।

আমি মাহমুদ ভাইকে বলার সাথে সাথেই তিনি লিখে ফেললেন। ২০০৪-এর ১০ ফেব্রুয়ারী আমার ৩৬তম জন্মদিনে জনকন্ঠের সাহিত্য পাতায় আমার ওপর আল মাহমুদের লেখা ছাপা হল। সেই লেখা আল মাহমুদের প্রবন্ধের বই ‘কবির সৃজন বেদনা’-তেও অন্তর্ভূক্ত হয়েছে, ‘কাজী জহিরুল ইসলামের কবিতা – তারুণ্যের প্রতি আমার পক্ষপাত’ শিরোনামে।

এখন কবি নাসির আহমেদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের বার্তা পরিচালক। অনেকেই জানেন না কবি নাসির আহমেদ ৭/৮ শ গান লিখেছেন। সাবিনা ইয়াসমিন থেকে শুরু করে সব বড় শিল্পীই তাঁর গান গেয়েছেন। একদিন আমার বাসায় জিনাত রেহানার সাথে নাসির ভাইয়ের পরিচয় হয়। অথচ জিনাত রেহানা নাসির ভাইয়ের লেখা গান গেয়েছেন আরো কত বছর আগেই। তাঁরা দুজন পরস্পরকে কাছে পেয়ে এবং সেই স্মৃতি রোমন্থন করে বেশ পুলকিত হন।

সব কিছুর ওপরে নাসির ভাই একজন কবি, তাই এই লেখাটি তাঁর একটি কবিতা দিয়েই শেষ করছি।

জীবনানন্দের বরিশাল, শহরের কোমর জড়িয়ে
যে নদী চলেছে একা বয়ে নীরবে কালের স্রোতে ভেসে
আমি সেই নদী তীরে চাই আমার স্বপ্নের অধিষ্ঠান
তুমি কি সম্মতি দেবে নারী: কবিতার বনলতা সেন?
বরিশাল স্বপ্ন ছুঁয়ে থাকে, বরিশাল ঘুমে জাগরণে
কীর্তনখোলার তীরে বসে স্বপ্ন শুধু তোমাকেই ডাকে
উত্তুরে হাওয়ায় শীত নামে ঝাউবনে শিশির ঝরিয়ে
সেইখানে গান হয়ে ওড়ে চিলের ডানায় সোনারোদ।
কীর্তনখোলার বাঁকে বাঁকে জীবনানন্দের কবিতারা
বসে থাকে আশ্চর্য রমণী! আমার বিস্ময় শুধু জাগে
আমি কি কবিতা ভালবেসে নাকি শুধু তোমার আগ্রহে
এই শহরের প্রেমে মজে এখানে চেয়েছি অধিষ্ঠান!
এই জিজ্ঞাসার সদুত্তর আমার নিজেরও জানা নেই
মুকন্দ দাসের গানে মজে বিদ্রোহ পতাকা তোলে মনে?
এ শহরে কেউ একা একা রাত জেগে আমাকে কি পড়ে
জানি না কিছুই কোন মোহে বরিশালে মগ্ন আজও মন।
বরিশাল তুমি জেগে থাকো, ডাক দিলে কাছে টেনে নিও
নিভৃতে জড়িয়ে ঠোঁটে ঠোঁট বলব তুমিই ছিলে প্রিয়।

(বরিশাল)
হলিসউড, নিউ ইয়র্ক। ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮।