আনন্দের ঢেউ

এবার তবে খুলছে স্কুল
বইছে আনন্দের ঢেউ
সবার সাথে হবে দেখা
রোধবে পারবেনা কেউ
অনেক দিন পর খোলছে স্কুল
লাগছে খুব খুশি
লেখাপড়া করব গিয়ে বিদ্যালয়ে
পড়ব বেশি বেশি
স্কুল মাঠে করব খেলা
হবে পড়লেখা
সব প্রতীক্ষা হবে শেষ
থাকবনা কেউ একা।
……………………………………………

মন বসেনা ঘরে

শরত এলে মন বসেনা
ঘরের ভেতরে
শরত আমায় পাগল করে
নানা উপাচারে
শরত আমায় উদাস করে
শুভ্র মেঘের দল
শরত আমায় বিভোর করে
সাদা কাশফুল
শরত প্রভাত হাতছানি দেয়
ঝিরিঝিরে বাতাস
শরত আমায় মুগ্ধ করে
নীল সুভাষিত আকাশ
ছাতিম ফুলের সোঁতা গন্ধ
মন আনচান করে
শরত ভোরে পাখির ডাকে
ওঠে সরব করে
শরত জোসনা বাহির টানে
থাকতে চায়না ঘরে
শরত আমায় নিয়ে ছুটে
দুর অচিনপুরে।
……………………………………………

শেখ মুজিব

একদিন এক ছোট্ট শিশু
জন্ম নিল এক গাঁয়ে
রাস্তা ঘাট নেই সেথায়
চলত হত মাঝির নায়ে
তবু খোকার নেই অবাধে
কোথাও চড়ার বারণ
যদিও সে ছিল দুরন্ত
বাবা মায়ের প্রাণ
পরের কষ্ট সইতেনা তাঁর
ছিল পরোপকারী
পরকে ছাতা দিয়ে খোকা
ফিরে নিজের বাড়ি
বাবা বলে খোকা তোমার
গায়ের চাদর কই?
খোকা বলে বাবা, বন্ধুর
গরম কাপড় নেই
একদিন ছোট্ট খোকা বড় হয়ে
হলেন দেশের নেতা
সবাই চিনি সবাই জানি
তিনি জাতির পিতা।
……………………………………………

শরতের পদাবলী

আসো যদি আমার গাঁয়ে
দেব কাশফুল
নীল মেঘের পাপড়ি
হেসে মশগুল
শাপলা আছে আমার গাঁয়ে
পড়তে দেব হাতে
শরত কালে শিউলি ফুল
ঝরে পড়ে রাতে
যদি আসো আমার গাঁয়ে
দেখবে ডাহুক পাখি
পুব আকাশে সূর্য দেখে
ভরবে তোমার আঁখি
শরত কালে ধানের গোছা
বাতাসে দোল খায়
পাল তুলে দেয় মাঝি
পুবের হাওয়ায়
আমার গাঁয়ে আসো যদি
শরত প্রভাতে
দুর্বা ঘাসে শিশির কণা
ঝলমল করে তাতে
শরত আসে আমার গাঁয়ে
মেঘের ভেলায় ভেসে
শরত হেসে বিদায় জানায়
হেমন্তকে ভালোবেসে।
……………………………………………

স্পর্শে অনুভব

বৃষ্টির ফোটা হাতে স্পর্শ করতেই মনের মধ্যে এক অপূর্ব অনুভূতির জেগে ওঠে
দক্ষিণ থেকে কালিদাসের মেঘদূত
নিয়ে আসে তোমার খবর
আমি আমার অবয়বে মেখে দেই বৃষ্টি কণাগুলো
তখন আমাকে নিয়ে যাও অনিন্দ্য এক মুহূর্তে
শরতের জোছনা মাখি আমার সারা শরীরে
তখন আমার শুভ্র স্বপ্নগুলো উড়ে যায় দূর দিগন্তে প্রজাপতি হয়ে উড়াউড়ি করে সবুজ প্রান্তরে।
……………………………………………

তোমার জন্য

তোমার জন্য রেখে দিব শরতের নীল আকাশ
যে আকাশে চাক চাক মেঘের আনাগোনা
কদম কেয়া কেতকী শিউলি ফুল রেখে দিব
হেমন্তের আগমনের সুসংবাদ রেখে দিব
কৃষকের স্নিগ্ধ হাসির রেশ রেখে দিব শীতের প্রত্যাশায়।
তোমার জন্য রেখে দিব শরতের বিকেলের ঝিরিঝিরি বাতাস
অনাকাঙ্ক্ষিত মেঘের পরিশ্রুত এক ফোটা বৃষ্টি পানি
শরত সন্ধ্যার পঞ্চমী চাঁদ রেখে এঁকে দিব তোমার ললাটে
বিকেলের রংধনুর রং মেখে দিব তোমার সারা গায়ে
তোমার জন্য আমি রেখে দিব সমস্ত দিনের ক্লান্তি শেষে যে টুকু প্রশান্তি আসে।
……………………………………………

উদ্বাস্তু

পার্কের বেঞ্চে বসে অলস সন্ধ্যা
উড়ে যায় এক ঝাঁক পাখি
সেজেগুজে তরুণ তরুণীরা গল্পে মশগুল
লেকের পাড়ে কর্পোরেশনের বাতি জ্বলে ওঠে ঝলমল করে ওঠে বিবি পুকুরের পানি
গাড়ির হর্ণ আর হকারদের চেচামেচিতে মুখরিত চারপাশ
কেউ ফিরে যায় আবার কেউ ফিরে আসে
মধ্য রাত পর্যন্ত চলে মানুষের আসা যাওয়া
যুগল প্রেমের স্রোতে ধেয়ে চলে এক ঝাঁক তরুণ তরুণী
সন্ধ্যা আমার কাটে কেবল পথ চেয়ে।
……………………………………………

নিয়তি

শেষ স্টেশন আসার আগেই বাসের গেটে এসে দাঁড়ায় তোরাপ আলী
বহুদিন পর বাড়ি ফেরা তাঁর
এখন ইচ্ছে হলে শহর থেকে বাড়ি যায়না ; লকডাউন সারা দেশ জুড়ে।
আজই লকডাউন উঠে গেল
তোরাপ আলী কারখানা বের হয় তাড়াতাড়ি
সূর্য ডোবার আগে নদী পার হতে হবে
যেতে হবে বরিশালের গৌরনদী।
গত মাসের চৌদ্দ তারিখ বাড়ি থেকে আসা হয়ছিল
আজ পরের মাসের ঊনত্রিশ তারিখ মনে মনে হিসেব করে সে।
বহুদিন দেখা হয়না ময়না পাখি
আদর করে নতুন বউয়ের নাম রেখেছে তোরাপ আলী
বিয়ের এক সপ্তাহের মাথায় সারা পৃথিবী জুড়ে চলে লকডাউন।
কিছু দেখার সুযোগ হয়নি অবাধে দুজনার।
……………………………………………

পথ ও পথিক

পথ পথিককে নিয়ে যায় বহু দুর
লতার মতো বেয়ে নিয়ে যায় তাঁকে
ফিরে আসেনা সবটুকু
কিছু অবশিষ্ট রয়ে যায় পরতে পরতে।
নির্জনতা পথিককে উপলব্ধি করতে সাহস জোগায় সম্ভাবনার আঙ্গিনার।
পথিক পথের মাঝে সংযোগ ঘটায় অপার সম্ভাবনাময়
পৎ আর পথিক এক সুতোয় গাঁথা।
……………………………………………

গড়মিল

বড় পাষণ্ড আর হিংস্র হয়ে ওঠে রাতের আঁধারে
দিনের আলোয় তোমাকে ঠিক বুঝতে পারিনা ;
মেলাতে পারিনা তাঁর হিসেব
রাত আর দিন ভীষণ গড়মিল।