বৃষ্টি হচ্ছে খুব, ঝুম বৃষ্টি। কোথায় আছো আদুরী? কেমন আছো? তুমি যেখানে আছো বৃষ্টি কি হয়না সেখানে? যদি বৃষ্টি হয় আমার কথা কি মনে পড়ে না? তুমি থাকলে তোমায় নিয়ে এখন বৃষ্টিতে ভিজতাম খুব। কত গুলো বছর হয়ে গেলো তুমি এলে না তোমার পেলাম না কনো খোঁজ। তোমার নাম্বারটিতে কত কল করেছি, আচ্ছা তুমি কী আমার কথা মনে করে একটিবারের জন্যেও নাম্বারটি খোলে দখোনি? কত কবিতা কত মনের না বলা কথা লিখে পাঠিয়েছি, কখনো কি পড়ে দেখোনি? খুব মন চাচ্ছে আজ আবার কিছু লিখি তোমায়। যদি সত্যিই পড়ে থাকো, নাম্বারটি যদি খোলো আবার। একটি বার উত্তর দিও, তুমি কোথায় আছো কেমন আছো? তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখেছি পড়ো সময় পেলে না হয়।

এভাবে বাঁচতে হবে, ভাবিনি কোনোদিন
তোর নরম গালের হাসি দেখবো না আর,
ইচ্ছে করেই হয়ত বুঝিনি কোনো দিন।
এভাবে ফাগুন এসে চলে যাবে-
তোর নরম ঠোঁটের আদর পাবোনা,
কাঁদবো আমি দেখবিনা তুই…!!
আমিও আর পারছিনা-
জানি আমার মতো বুঝবিনা তুই আমাকে,
একলা ঘরে আমি এক- একলা মানুষ,
হাত বাড়ালেই তোকে আর পাচ্ছিনা।
তুই কি ফিরবি আবার আর এক-
ফাগুন আসার আগেই…?
তোর কষ্ট গুলো উড়িয়ে দিবো সন্ধ্যে
তারায় মিলিয়ে দিবো-
সুখ গুলো তোর ফিরিয়ে দিবো
তুই জোনাকি, আমি হবো-তোর- আলো।
জানো আমার হাসি নেই আনন্দ নেই,
স্বপ্ন! ঝরাবকুল,
শুধু বেঁচে থাকবো বলেই বেঁচে আছি।
যা ছিলো সব ভুল ছিলো,
তাই ভুলটাকেই ফুল ভেবে সামনে এগুতে চাই
তুমি চাইলে সঙ্গী হতে পারো-
আমার বেখেয়ালি মন…

তোমার উত্তরের অপেক্ষায় থাকবো। এমন বৃষ্টির রাতে চা খেতে খুব ইচ্ছে করছে। যাই তোমার প্রিয় কাপ জোড়ায় ঠোঁট ভিজিয়ে নিই।
বারান্দায় রাখা আদুরীর প্রিয় ইজিচেয়ারটায় বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতেই মুঠোফোনটা শব্দ করে উঠলো। কাঁপা, কাঁপা হাতে মুঠোফোনটা নিতেই স্কিনে ভেসে উঠলো এসএমএস। এসএমএস টি আর কারোর নয় আদুরীর, লেখা আছে তাতে-

“ভুলের পাহারে চরে ভাবছো বসে ভুল ছিলো
কত রাত ঘুম হীন ছিলো
কত স্বপ্ন বুনা ছিলো
কী সহজেই বলে দিলে ভুল ছিলো।”

কী যে খুশি লাগছে আজ আমার তুমি যদি বুঝতে আদুরী । লেখাটি পড়ে চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো আমার। চোখ দুটি ঝাপসা হয়ে গেলো। আমি কী কিছু লিখবো, নাকি কল দিবো। কল দিলে কি ধরবে?
রিং হচ্ছে বেশ কিছুক্ষন মন শুধু বারবার বলছে আদুরী কলটলি ধরো,একবার কলটি ধরো আদুরী। হঠাৎ করেই রিং হওয়া বন্ধ হয়ে গিয়ে সেই চেনা কণ্ঠস্বর ভেসে এলো কানে। মুঠোফোনের অপর প্রান্ত থেকে আদুরী বলল,
“সব কিছুই ভুল ছিলো?”
“ভুলতো ছিলোই, বিশ্বাস করাটা ভুল ছিলো না কি? এই যে এতো আগলে রাখা বুকের ভেতর কষ্ট পোষা, কার বিরহেয় আজ এমন গল্পকথা? সহজ করে দুঃখ দেওয়া গেলে, সহজ করে বলাও যায় ভুল ছিলো।”

আদুরী মৃদু হেসে বলল,”ভালোবাসার সময় দেখিনি কিছুই, খুজিনি দোষ গুণ । ভালোবাসি বলে ছিলে তাইতো ভেবেছি আপন। ভালোবাসার আলিঙ্গনে ভুলে ছিলাম ভূবন। তুমি বললে ভুল ছিলো!!”

“হ্যাঁ! তবুও বলবো ভুল ছিলো। তোমাকে চাইতে গিয়ে আমি সুখ খুঁজিনি। আর তুমি আমাকে চাওনি সুখ খোঁজেছ। দোষ গুণ সবাইর থাকে আমারও আছে। আমার সবচেয়ে বড় দোষ তোমাকে চেয়েছি, আর গুণ – তা হলো এখনো আমি তোমার জন্য সুখ খোঁজি। তাই সব, সব কিছুই ভুল ছিলো….”

আদুরী খুব অবাক হয়ে বলল, “কী বললে তুমি?আমি তোমায় চাই নি, বাহ্! হ্যাঁ, হয়তো আমি তোমায় চাইনি- চেয়েছি তোমায় আকরে ধরে রাখতে, ভালোবাসার ঘর বাঁধতে। নাড়ীর টান ছিড়ে পিতার শাসন পেরিয়ে আপন ভূবন ছাড়িয়ে, আজানা পথে শুধু তোমার হাত ধরে চলতে চেয়েছি। তুমি বলছো তোমায় চাইনি সুখ খোঁজেছি? হ্যাঁ! সুখ খোঁজেছি তোমার মাঝে আমি সুখ খোঁজেছি।”

“এভাবে সুখ পাওয়া যায় না। সব মেয়েকেই একদিন অন্য একটা অচেনা নীড়কেই আপন করে নিতে হয়। কতটুকুই ভেবেছ আপন? প্রয়োজন ফুরিয়ে এলো যখন, হয়ে গেলাম ঝরা পাতা, খসে পড়া স্মৃতির মলাট জানে সেই অব্যক্ত কথা। খেয়ালে, খেয়ালে নীড় ছেড়েছ, সম্ভাবনা মুছে অস্তিত্ব ভুলেছ, যে পাখি উড়তে শিখে যায় সে কি বিশাল আকাশের মায়া ভুলতে পারে? ফেলে রেখে গেছো শুধু স্মৃতির পালক। তাই বলবো সব কিছুই ভুল ছিলো…”

“সত্যিই এভাবে সুখে থাকা যায় না নিলয়। তাই সুখের খোঁজে ভিন্ন দেশে পারিজমাই অবশেষে, নতুন করে নতুন সুরে, নতুন কোনো সুখের সন্ধানে।”

“তুমি যদি নতুন করে নতুন ঠিকানায় সুখ খোঁজে না পাও। তবে না হয় ফিরেই এসো, ভুল গুলো সব ফুল ভেবেই না হয় বাকিটা পথ চলবো। একটা জীবন একলা জীবন যাচ্ছে ক্ষয়ে- মায়ার বাঁধন যায় কী ছেড়া! অষ্টপ্রহর নষ্ট হলো সুখ মিললো না আদুরী সুখ মিললো না।”

“বলেছিলাম তোমায় ভালোবাসা ছাড়া কিছু চাইনি আমি প্রিয়। যদি ভালোবাসে ডাকো আসবো আবার বাসবো ভালো।”

“বেশ তবে তাই হোক অভিমান-অভিযোগ সব ভুলে, এই মায়া ভরা শূন্য ঘর আবার নাহয় পূর্ণ হোক। প্রিয় ফুল রেখে দিবো, প্রিয় বইও। চায়ের কাপ দুটি নতন করে আবার কথা বলবে, এ বেলা ফুরিয়ে এলে গল্প হবে বেশ, ও বেলায়ও। তুমি কি এখনও চায়ে দু, চামাচ চিনিই নাও নাকি আর একটু বেশি বা কম?”

“সব যদি হয় প্রিয় চা-তে না হয় একটু কমই মিষ্টি দিও। বৃষ্টিতে তোমার সাথে ভিজতে চাই এক সাথে রামধনু দেখতে চাই। সাগর, আকাশ, পাহাড়, প্রকৃতির সবটুকু সুখ, ভালোবাসা তোমায় দিতে চাই। তোমার নতুন বই এর মলাট হতে চাই। তোমার ছায়া হতে চাই, অনেক দিন বাঁচতে চাই। তোমার হাতে হাত ধরে বহু দূর যেতে চাই। মৃত্যু এলে তোমার বুকে লুকিয়ে যেতে চাই। আমার সমাধিতে তোমার প্রিয় ফুল চাই। তোমার বই এর নতুন গল্প হয়ে উঠতে চাই।”

”বেশ, মিষ্টি না হয় দিবোই না। আমার মতো র-চা খাও বুঝি আজকাল? কত দিন এক সাথে বৃষ্টিতে ভেজা হয় না দুজনার! মনে আছে তোমার? প্রথম যেদিন আমার বাড়ি এলে সেইদিন- শেষ বিকেলের সূর্য ডুবে সন্ধ্যা নেমেছিলো। আর অমনি বৃষ্টি শুরু হলো, কী যে ঝুম বৃষ্টি, আমার বাড়ি এসে তোমার প্রথম বায়না বৃষ্টিতে ভিজবে। যেই বলা সেই কাজ। তারপর প্রচণ্ড জ্বর হলো তোমার, আমার ও।
খুব ঝগড়াও করলাম দুজন এই বৃষ্টি ভেজা নিয়ে, বুকের মধ্যে লেপ্টে থেকে বললে আর এমন করবে না। কিন্তু কে শুনে কার কথা, বৃষ্টি হলে আবার বৃষ্টিতে ভেজা আবার জ্বর।
বাড়ির ছাদে তোমার যত্নে বেড়ে উঠা ফুলের গাছ গুলোর খুব যত্ন নেই জানো? রোজ নিয়ম করে পানি দিই, আগাছা পরিস্কার করে দিই। আগে তুমি যেমন যত্ন নিতে ঠিক তেমন।
বারান্দায় তোমার প্রিয় সেই পুরোনো ইজিচেয়ারটায় কখনো ধুলো জমতে দেইনি।
তোমার প্রিয় চায়ের কাপ দুটু প্রতিদিন বিকেলে, চা ভর্তি করে নিয়ে বসে থাকি।
যাক সেই সব কথা, এসে না হয় নিজের চোখেই দেখে নিবে।
তোমার মুখে কিছুই আটকায় না। নতুন করে শুরু করার আগে মৃত্যু শব্দটি কেনো নিলে?
আর তুমিইতো আমার জীবনের মস্তবড় উপন্যাস, মলাটতো আমি। আমি নামক মলাটের ভেতর যত্ন করে রাখবো তোমায়। হাজার জনম ধরে।”

“আচ্ছা নিলয়, দোলনচাঁপা ফুল গাছে কী ফুল ফুটেছে? ফুলে ফুলে ভরে গেছে ছাদটা?খুব দেখতে ইচ্ছা হয়।”

“সেই কথা কী আর মুখে বললেই হবে, তুমি এসে দেখতে যদি তোমার দোলনচাঁপা, টগর, কচমচ, ড্যাফোডিল, সব গুলো গাছে কি সুন্দুর ফুল ফুটেছে। দোলনচাপা যখন ফুটে আমার ঘুম হয়না জানো। তোমাকে খব ভাবি তখন। ফুলগুলোর দিকে তাকিয়ে খুব মায়া হয়। একসাথে যখন নানান গাছে নানান রঙের ফুল ফুটে ছাদটা হয়ে যায় রঙিন ফুল ছাদ।”

“আচ্ছা তোমার কি চুল পেকে গেছে সব? দেখতে ইচ্ছা হয় সাদা চুল দাড়িতে কেমন দেখায় তোমায়।”

“সাদা চুল দাড়িতে আসলেই কেমন দেখায় আমায়, তোমার মতো করে ভেবে দেখিনিতো কোনোদিন। কি করে দেখবো বলো? তুমি যখন ছিলে আমাকে কি আয়না দেখতে হতো? তুমিইতো আমার আয়না ছিলে। তাই অমন করে আয়নায় আজকাল আর দাঁড়ানো হয়ে উঠে না। তুমি এসে না হয় দেখো। আমি কিন্তু আমার চুল গুলো এখনো বড়ই রেখেছি, আমার বড় চুল রাখা তোমার খুব পছন্দ তাই।”

“খুব জানতে ইচ্ছা করে তখন যে জ্বরের ঘোরে আবোলতাবোল বলে আমাকে জরিয়ে ধরতে, এখন আর কাকে ধরো? কেমন করে কাটাতে দিন? কেমন করে রাত জাগতে পূর্ণিমা চাদেঁর সাথে?”

“তোমাকে তো বলাই হয়নি আদুরী, তুমি চলে যাবার পর আমার আর মানুষ ভালো লাগতো না, এমন কি আমার প্রিয় বন্ধু অনিলকে ও না।
কাজের দিদিকে না করে দিয়েছি সেই কবেই। আমার যে কিছু স্টুডেন্ট ছিলো তাদেরকেও। তুমি চলে যাবার পর আমার আর কাউকেই ভালো লাগেনা। মনে হয় এই ঘরে এই বাড়িতে কেউ আসলে তোমার স্পর্শ, তোমার গায়ের গন্ধ মলিন হয়ে যাবে।
যখন পূর্ণিমা হয়, মায়াবী চাঁদ উঠে আকাশে, আমি তখন ছাদে চলে আসি তোমার প্রিয় চা-কাপ জোড়া নিয়ে, তোমার দোলানচাঁপাদের সাথে কথা হয়, চাঁদের সাথে গল্প হয়।”

“সাগর জলে পা ভিজিয়ে হাঁটতে কি, কল্পনাতে আমার পাশে? আমার খুব জানতে ইচ্ছা করে নিলয়।”

“সেই যে তোমাকে নিয়ে আমাদের বিয়েরপর হাওয়াবদল এর জন্য সাগরে গিয়েছিলাম, আর কখনো যাইনি জানো? তুমিই বলো একজীবনের সব সুখ স্মৃতি তোমায় ঘিরেই তা ভুলে গিয়ে অন্যকাউকে…, থাক না হয় সেইসব কথা আসলেই দেখতে পাবে তোমার ঘরে তুমি ছাড়া আর কেউ নেই।
এবার বলো তুমি কেমন হয়েছ এখন, আমার মতো তোমারও কি চুল পাক ধরেছে, চোখের নিচে ভাঁজ পড়েছে কি?
তুমি কি এখনো মন খারাপ হলে আইসক্রিম এর জন্য ছটফট করো। তোমার প্রিয় মুরালি, নিমকি কেউ কি এখন এনে দেয়?
খুব করে কি আপন করে বায়না ধরে আমার মতো বলার কেউ হয়েছিলো?”

“হাহাহা আইসক্রিম আর খেতে হয় না, কারণ মনই খারাপ যে আর হয় না। মনটা সাথে করে নিয়ে আসতে পারিনি। মনটা তোমার কাছেই বাঁধা পরে আছে।
মুরালি, নিমকি এখন আর ভাল লাগেনা সব চাইতে প্রিয় মানুষটাইতো যে নেই আমার কাছে।”

“আদুরী কেউ কি আমার মতো তোমায় বুঝতো খুব? খুব জানতে ইচ্ছে করে খুব…”

“বুঝার কথা বলছো আমিতো অন্য কাউকে খুঁজিনি।
আমি জানতাম তুমি একদিন সব মান অপমান ভুলে খোঁজবে ডাকবে আবার আপন করে।
তুমি এত দেরি করলে কেন? যানোনা তুমি ছাড়া কেউ আমার মান ভাঙাতে পারে না।
তোবে কি তুমি আমায় আর আগের মতো ভালোবাসনি! তবে কি অন্য কেউ আমার জায়গায় ছিলো তোমার মনে?”

“কখনো না, তুমি ছাড়া কখনো কেউ ছিলো না, জানো? আমি কি মান ভাঙানোর চেষ্টা করিনি! করেছিতো। কিন্তু তোমার এত জিদ।
আমি জেনো আর তোমায় খোঁজে না পাই সবরকম যোগাযোগ মাধ্যম গুলো বিচ্ছিন্য করে দিয়েছিলে। কত কল করেছি তোমার বন্ধ নাম্বারে, কত খোঁজেছি তোমায়!

এখনো বৃষ্টি হয় দুচোখে আদুরী
এখনো বৃষ্টি হয়!!
বসন্তের দিন এসে চলে যায়
রয়ে যায় পলাশের ঘ্রাণ,
যেমন করে তুমি চলে গিয়েও
স্মৃতির মলাটে অমলান।
এখনো নবান্ন আসে উৎসবে হয় মুখর
পাকা ধানে ভরে উঠে উঠন,
শুধু তুমি আসোন হয়ে সোনালী ভোর”

“আসবো কেন? আমার বাড়ির ঠিকানা ভুলে গেছ, ভুলে গেছো আমার মন খারাপ হলে সাগর জলে পা ভিজিয়ে বসে থাকি?
ভুলে গেছো আমি বৃষ্টি ভালবাসি, ভুলে গেছো কীভাবে আমার মান ভাঙাতে হয়? কেন এতো দিন আসোনি আমায় ভালোবাসনি?”

“কিছুই ভুলিনি জানো? এখনো বৃষ্টি হলেই একা ভিজি আপন মনে। জ্বর হয় সেই জ্বরে সুখ হয়- তোমায় ভেবে। কিছুই ভুলিনি, আমি ছাড়া আর কেইবা পারে তোমার মান ভাঙাতে। আমারও খুব অভিমান হয়েছিলো জানো? খুব ভালোবসি তোমায় প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ। এবার দেখো ঠিক একটুও আর ভালোবাসায় কমতি হবে না।”

“বৃষ্টির জলে কত চিঠি পাঠিয়েছি । আকাশে চাঁদ আর মিটিমিটি তারার কাছে নালিশ করেছি কত?”
“সেই জন্যেই বুঝি আদুরী, অবেলায় বৃষ্টি হতো। চাঁদের পাশে একটা তারা ভীষণ একলা বসে থাকতো?”
“কেন নিলয়, কেন এতো কষ্ট দিলে? কেন,কেন! আসবো না আমি আসবো না।”
“এবার এসেই দেখো কখনো আর কষ্ট দিবো না। বুকের ভেতর শক্ত করে খুব যত্নে আগলে রাখবো।
একা কাপে চা খেতে আর ভালো লাগেনা জানো? একলা ঘরে তোমার স্মৃতি বড্ড কথা কয় ঘুম আসে না, তোমার মতো কেউ আমায় ভালোবাসেনি, বাসবেও না।”
“সত্যিই আমি আর পারছি না নিলয়। চলে আসো সকল বাঁধা ছিন্ন করে। তোমার ভালবাসার পাজরে বন্দি করো আমায়, আমার অহংকারকে চুর্ন করো হে প্রিয়। মুক্ত আকাশে একলা ভাসতে ভাসতে আমি ক্লান্ত। খুব ক্লান্ত।”
“এইতো আসছি রাত পোহাতে নেই আর বাকি। তোমার সব ক্লান্তি দূর করে দিবো। দুজন মিলে মুঠোয় মুঠোয় সুখ উঁড়াবো”
“সত্যি বলছ তুমি আসবে, আমাকে নিতে আসবে? সেই আগের ঠিকানায় চিনে আসতে পারবে ভুল হবে না তো?
মনে আছে আমার বাড়ির কাছে শিউলি ফুলের গাছ থেকে, মুঠো ভরে আমার জন্য ফুল এনে আমায় শুভ সকাল বলতে?”
“তোমার বাড়ির সেই শিউলি তলা ইচ্ছে করলেই কী ভুলে যাওয়া যায়? তোমার মনে আছে ফুল গুলো হাতে নিয়েই মিষ্ট সকালের মতো হেসে উঠতে? মনে আছে তোমার এমন কোনো সকাল আসেনি তখন, ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলেই প্রথম আমায় দেখতে!”
“তা নিয়ে ছুটি আমাকে যা খেপাত, বলতো আপা তুই পারিসও বটে। পাগলটাকে রেখেছিস বসিয়ে। প্রতদিন বেচারাকে কেনো ডাকিস এতো ভোরে?”
“কেমন আছে ছুটি, মনে আছে আমার কথা, এখনোকি আমায় নিয়ে তোমায় বকে খুব?”
“ওত আর দেশ থাকেনা। থাকে ইউএস-এ, ফোন করে রোজ দু,বেলা করে।
তোমার মনে আছে প্রথম যেদিন তোমার জন্য রান্না করতে গিয়ে হাত পুড়িয়েছিলাম আমি। আমার চেয়ে বেশী কষ্ট পেয়েছিলে তুমি এত ভালবাসা এত মায়া কি করে ভুলে গেলে?”
“ইস্! সেই দিনের কথা মনে হলে এখনো গা শিউরে উঠে, কেন যে যা পারতে না তাই করতে চাইতে! বলেছিলাম কত তুমি পারবেনা তবু আমার জন্য তোমার প্রথম দিনই রান্না করা চাই, চাই। কে বলেছে ভুলে গেছি, তোমার কি মনে হয় তোমার ভালোবাসা কেউ ভুলে যেতে পারে? আমার এই ঘর জানে বাড়ির উঠোন জানে, প্রতিটি মুহূর্ত জানে, কতটা ভালোবাসি তোমাকে।”
“তুমিতো জানতেই নিলয়, রাগটা আমার বেশী। কেন তবে সেইদিন আটকালে না আমায়। বললে না কেন যেওনা কেন জরিয়ে ধরে চুমু খেলে না? পাগলী বলে বুকে নিলে না। কেন এত গুল দিন, রাত, বছর, মাস কষ্ট দিলে?”
“অভিমানটা যে এত বেশি হবে বুঝতে পারিনি, আমিতো ভেবেছি একটু পরেই চলে আসবে। সেই একটু পর একদিন হলো আমারো রাগ বাড়লো। দিন গিয়ে সপ্তাহ, তারপর মাস পেরিয়ে বছর। আমিও কেমন জানি দিন গুলো গুনতে, গুনতে নিজের জেদটাকে বড় করে ফেলেছিলাম। আর কষ্ট দিবোনা, কখনো না, কখনো না।”
“তুমি জানতে আমি তোমায় পাগলের মতো ভালোবাসি । আমার জেদটা একটু বেশী, বলো তুমি জানতে না তবে কেন, কেন……?”
“আদুরী,শোন না ক্ষমা করে দাও এবার, অভিমান মুছে ফিরো এবার। হুম জানতাম তো তোমার যেমন ভালোবাসা বেশি তেমন জেদটা ও।”
“আমি আর তোমাকে হারাতে চাই না নিলয়। অনেক হলো জেদ এই জেদের জন্য অনেক কেদেঁছি হারাতে হয়েছে তোমায়”
“আমিও আর হারাতে চাইনা তোমায়, দেখো এবার আমারা খুব ভালো থাকবো খুব। “
“আমি আর কিছু হারাতে চাই না, আমার বসন্ত আমার বৃষ্টি আমার চাঁদ তারা সবই মিথ্যা তোমাকে ছাড়া। আচ্ছা তুমি আসবে আমায় নিতে?”
“আজ রাত এত বড় কেন বলতো, এখনো কেনো সকাল হচ্ছে না কখন দেখবো তোমায়? কত কাল দেখি না। সকাল হলেই দেখবে সেই শিউলি তলায় আমি আছি দাড়িয়ে যেমন করে আগে থাকতাম রোজ।”
“আমি তবে সেইদিনর মতো লাল শাড়ী পরবো।”
“আমি, আমি পরবো তোমার দেওয়া সেই নীল পাঞ্জাবি”
“নীল কেন পরবে? আলমারির উপরে ডান দিকে সাদা পাঞ্জাবি আছে সেটা পরবে। মনে নেই আমি যে ফুল তুলে দিলাম ঐটা পরে আসবে।
“হ্যাঁ তাইতো, তোমার খুব মনে আছে দেখছি, ঠিক আছে তোমার কাজ করে দেওয়া সাদা পাঞ্জাবিটাই পরবো।
আদুরী একবার বলোনা আবার সেই দিনের মতো ভালোবাসি শুধু ভালোবাসি তোমাকে।”
“তুমি সেই আগের মতোই আছো। মনে আছে পাহাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে তোমায় জরিয়ে চিৎকার করে বলেছিলাম ভালবাসি।”
“হুম খুব মনে আছে এবারো কি দেখা হলে প্রথম এমন করে জড়িয়ে ধরে বলবে ভালোবাসি?”
“হুহু! কি শখ! বলবো না।”
“তাহলে কার কাছে শখ করবো বলো, তুমি ছাড়া কে আর আছে আমার? বলো না এবার, ভালোবাস আমায়?”
“ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি।”
“আমিও খুব বেশি ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি আর কখনোই ভুল হবে না প্রমিজ, প্রমিজ।”
“মনে থাকবে?”
“খুব, খুব, খুব মনে থাকবে।”
“আর আমি যদি খুব রাগ করি?”
“তুমি যদি খুব রাগ করো তখন আমি চুপ করে তোমাকে বুকে জড়িয়ে নিবো।”
“হুম খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখবে। আর যেতে দিবেনা মনে থাকবে?”
“মনে থাকবে, থাকবে, থাকবে।”
“আমার জীবন থেকে অনেক ভালোবাসা মিস্ করেছি নিলয়, আর করতে পারবো না এবার যদি যেতে দাও আমি হারিয়ে যাবো। দূর আকাশে মিলিয়ে যাবো আর পাবে না আমায়, মন থাকবে?”
“কখনোও আর হারাতে দিবো না মন থাকবে। সকাল হয়ে এলো আমি আসছি তুমি তৈরি থেকো। “
“ঠিক আছে সাবধানে এসো। আমি অপেক্ষায় আছি।
“আবার বলো ভালোবাসি তবে খুব সাবধানে আসবো।”
“দুষ্টুমি এখনো ভুলনি।”
“এসেই দেখো তোমার সেই রেখে যাওয়া দুষ্টু প্রেমিকটাই আছি। বেশিক্ষণ আর অপেক্ষা করতে হবে না আদুরী, আমি আসছি, দেখা হবে ভালো থেকো।”

দেখা হলো আবার সেই চেনা যায়গায়। সেই চেনা মানুষ, চেনা শরীরে গন্ধ, শিউলি ফুলে ভরে আছে গাছটা। আদুরীরও বেশ কিছু চুল পাক ধরেছে, চোখের নিচে ভাঁজ পড়েছে। চোখ দুটি সেই আগের মতোই- স্নিগ্ধ সুন্দর।

“কি দেখ ফুল গুলো দাও আমকে।”
“বুকে আসো আগে”
“আমার খুব লজ্জা করছে নিলয়”
“আমার কাছে আবার লজ্জা কিসের?”
“বুড়ো বয়সে কী ডং তোমার”
“আমি বুড়ো!”
“নয়তো কী”
“তাহলে তুমি আমার বুড়ি। চলো বাড়ি ফিরে যাই”
এই নাও এই গানটি শুনতে শুনতে আমার কাধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে থাকো। এখনই বাস-গাড়ীটি ছেড়ে দিবে৷

গান বাজছে-
সেইতো আবার কাছে এলে
এতোদিন দূরে থেকে বলো না
কি সুখ তুমি পেলে
সেইতো আবার কাছে এলে…

এ কেমন ভালোবাসা কে জানে
কি ভেবে গো ব্যথা দিলে এই প্রাণে
নি-জ হাতে মনিদ্বিপ নিভায়ে
আবার নিজেই দিলে জ্বেলে
সেইতো আবার কাছে এলে…

তুমিইতো আমায় ভালো চিনো
তুমি ছাড়া কোনো গান
ভাবতেও পারি না তা যেন
তবুও যদি ভাবো সবি ছলনা
সেই কথা মুখে কেনো বলো না?
ঝরা মালা কেনো দাও পরাইয়ে
ধুলিতে দাওনা তারে ফেলে,
সেইতো আবার কাছে এলে…