আন্তঃ দহন

আমি সত্যি আর তোমায় ভালোবাসি না
এমন কথা মেনে নিতে- অনেক বেশি কষ্ট হয়,
বুকের ভেতর চিনচিন ব্যথা হয়।

এই জীবন বহুতল ভবনের মতই
সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে এক তলা, দু’তলা
অনেক হোঁচট খেয়ে, শেষ তলায় এসে পৌঁছে ছে !!

সত্যি তোমাকে এখন আর মনে করিনা,
এই কথা মেনে নিতে অনেক বেশি যন্ত্রণা হয়।

এই জীবনে সকাল হেসে একটা মস্তবড় সূর্য উঠেছিল,
অনেক বেশি তিব্রতায় ঝলমলে রোদ্দুর দিয়েছিলো।

এই জীবনেই কোকিল ডাকা পলাশী ফাগুন এসে ছিলো,
এখন সেই সব আর নেই, এখন বুক জুড়ে ক্ষত-
বীভৎস স্মৃতির হাট বসে,
স্মৃতিরা – যন্ত্রণা ফেরি করে।

সুখ সুখ গন্ধ লাগে যখন মনে পরে
তোমাকে আমি আর সত্যি ভাবি না।

এ জীবন এখন আর সেই- দুরন্ত প্রেমিকের জীবন নেই,
এই জীবন এখন বেহায়া কুকুরের মতো
শূন্য বুকের ঘরে তোমার মায়ার বিষ্ঠায়
কেমন যেন গন্ধ খুঁজে।
…………………………………………..

যে ভুলে তোমায় ভুলি

তারাদের উঠোনিতে যখন
একচিলতে চাঁদের আলো পড়ে,
তখন দুঃখ মরু এই হৃদয়ে-করে ছুঁই ছুঁই।

গভীর রাতের একাকি আঁধারে
জোনাকিদের খেলার ছলে-
যে কথা মনে পড়ে,
তা হলো বলে ছিলে আমায়
মনে রেখ ভালোবেসেছিলম।

আচ্ছা যে ভুলে তোমায় ভুলি,
সে ভুলে কি তুমিও ভুল ?
বোকার মতো ভাবি কী সে ভুল –
বুঝি না আজও বুঝি না।

বিবেকের কাছে ধ্বংসিত হই বারেবার,
তোমার সেই মুখ সেই চোখ আজও
আমার দু’চোখে ভাসে অবিরাম-
তোমার দু’চোখে এখনো
পদ্য আর গদ্যের ছড়া-ছড়ি।

মনে পড়ে আমায়?
আমি এখনো তোমায়,
পদ্যে খুঁজি গদ্যে আঁকি কাঁদি অব-লীলায়।

এখন শরৎ কাল-
আকাশে নীল আর সাদা মেঘের ভেলা,
অনুবাদের দৃষ্টি দিয়ে যা দেখতে তুমি।

মনে পড়ে বলে ছিলে আমায়?
আমি তোমার জীবনের শেষ অধ্যায়,
যা ছিলো মিছে শান্তনা –
জীবন তোমার বহতা নদী,
একেবারেই বর্ষার জোয়ারে
শ্যাওলা ভেসে যাওয়ার মতো।

এখন শ্রাবণ মাস-
আকাশে ঘন কালো মেঘের ছড়াছড়ি,
যা দেখে এক সময় কাব্য করে বলতে-
তোমায় একদিন না দেখলে,
আমার মনের আকাশ যেমন সাজে
ঠিক তেমন।

বড্ড অবাক লাগে অনেক বেশি ভাবায়,
তারপর ও ভুল করে মাঝে, মাঝে
তোমায় ভুলে যাই।

তুমি আমায় ভাল না বেসে ও
ভালবাসার ভঙ্গিমা করতে,
যেমন- ধরি মাছ না ছুঁই পানি।

আমি আজও হাঁটি ঐ পথ ধরে বারবার,
যে পথে তুমি একদিন হারিয়ে গিয়েছিলে-
কুয়াশা ঢাকা সন্ধ্যায়।

আমি এখনো ভাবি অবাক হয়ে
সেই দিনের সেই কথা গলো –
অপূর্ব ভাবে মঞ্চায়ন করেছিলে।
বড় আশ্চর্য হই আমি, সেই দিন-
হারিয়ে গিয়েছিলাম তোমার সেই কথার ছলে।

আমি বুঝিনি তখন-
নদী তার গায়ে কোনো চিহ্ন রাখেনা,
পদ্মা, মেঘনা, জমু্না,
তাদের গা দিয়ে কত ফুল ঝরে গেছে,
কতকিছু হারিয়ে গেছে-
তাদের দেহের জলের গহীন অরন্যে।
তারা কী তা মনে রেখেছে-
তুমিও তা মনে রাখনি!

অজস্র বার আকূতি করেছি
হাতছানিতে ডেকেছি তোমায়,
তোমার মাঝে আমায় ডুবিয়ে-
হারিয়ে গেছ কোন সে সুদূর অজানায়?
…………………………………………..

তবে কেমন হতো

হঠাৎ করে যদি সব আয়োজন শেষ হয়ে যায়,
যদি এমনি করেই থেমে যায় পায়ে চলা পথ,
তবে কেমন হতো, কেমন হতো !!

আজও এই দু’চোখ স্বপ্ন দেখে
এই চোখ দুটো যদি মরে যেত
বেদনার সব রঙ যদি ধূসর হয়ে যেত
যে সুখের পান্ডুলিপি আজও
দু’ঠোঁটের ফাঁকে মৃদু হাসির ঝর তোলে,
সি পান্ডুলিপি যদি বাতাসে উড়ে যেত
তবে কেমন হতো, কেমন হতো !!

আমার মনটা এখন আর মন নেই
সে যেন এক বারো রঙের পেন্সিল,
আমার হৃদয় একখন আর হৃদয় নেই
সে যেন এক বহুরূপী কলঙ্কিত রঙের পুতুল।
সৃজনশীলতা ভদ্রতার মুখোশের আড়ালে
যে বিষের পেয়ালা হাতে-
তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের তৃষ্ণা মেটানোর প্রতিক্ষায়,
সে যদি আবার সব কিছু
ঝেড়ে ফেলে নতুন করে জন্ম নিতো
তবে কেমন হতো, কেমন হতো !!

বহুকাল ধরে বহু রাত্রিতে নিদ্রাবিহীন,
গন্তব্যহীন পথে হেঁটেছি
হিংস্র প্রাণির মতো ধ্বংস লীলায়
মেতেছিল যে হৃদয়,
সে হৃদয় যদি রক্তাক্ত হয়ে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যেত
তবে কেমন হতো, কেমন হতো !!

অন্তরের বসুধায় যে মাঠ- ঘাট দুঃখের খরায়
প্রতিশোধের অনলে দাও দাও করে জ্বলছে,
তা যদি এক সুখের শ্রাবণ এসে
কানায় কানায় ভরে যেতো।
তবে কেমন হতো,কেমন হতো !!

শরলতার আড়ালে যে কাঠিন্য বাসা বেঁধেছে
তা যদি ভেঙে চূর্ণ হয়ে যেত,
যে জীবন দাঁড়ি,কমাহীন করছে যাপন
যদি হঠাৎ করেই-
একটি দিয়াশলাই কাঠির মতো
নিজেই কিছুক্ষণ জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে,
ভালো কিছু করার প্রতিক্ষায়
নিজেকে গড়ে তুলতো,
তবে কেমন হতো, কেমন হতো !!
…………………………………………..

সে-দিনও চেয়েছিলে অবাক চোখে

সেদিনও চেয়েছিলে অবাক চোখে,
কি যেন বলতে চেয়ে ও বলতে পাড়নি।

কি এমন ভয় ছিল তোমার?
আমিতো মনের দ্বার খুলে-
হৃদয়ের কান পেতে ছিলাম।
আমি তোমার দুচোখের ভাষা বুঝেছি,
সরল দুচোখ মেলে দেখেছি তোমার
দু-ঠোঁটের কাঁপন।
উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম আমার বুকের জমিন,

এত কঠিন তুমি! কি ভাবে পারো?

তুমিও তো কম কঠিন নও,
তুমি আমার দুচোখর ভাষা বুঝ,
আমার দু-ঠোঁটের কাঁপন বুঝ
আর,আর আমার এই মনের ভাষা কী
বুঝেছ কখনো ?
আমি কঠিন ছিলাম কবে বল?
তুমিই তো আমাই বন্ধু নামের,
ছোট একটি শব্দে, শিকল দিয়ে বেঁধেছ।

আমি কত কাল তোমায় নিয়ে স্বপ্নে হারিয়েছি,
কোন এক পহেলা বৈশাখে,
তোমার হাতে হাত রেখে
প্রথম সকাল দেখবো।

কোন এক পহেলা ফাল্গুনে,
তোমার প্রিয় ফুল পলাশ হাতে,
তোমার ঘুমের ঘরে হানা দেবো-
সে কি তুমি জানো?

আমিও তো তোমায় নিয়ে মনে, মনে
ছবি এঁকেছি,
কত যত্নে সাজিয়েছি তোমায়-
সে কি তুমি জানো?

শেষ বিকেলের সূর্য এনে তোমার কপালে,
টিঁপ ফুটিয়ে ছি।
শরতের নীল দিয়ে তোমার অঙে- শাড়ি জড়িয়েছি।
কাশফল দিয়েছি তোমার খোঁপায়,
চৈতালি জোৎস্নাকে বৃষ্টি করে-
তোমার গা ভিজিয়ে স্নান করিয়েছি।

ঐ সেই আকাশের রঙধনু এনে
তোমার গলায়-হার বানিয়ে পড়ায়েছি।
কখনো কি বুঝতে পেড়েছ এই আমাই?

তুমি আর আমি কৈশোর থেকে আজ বার্ধক্যে,
তার পর কত দিন-কত মাস-কত বছর পর
আবার তুমি আর আমি।
অনেক বদলেছ, দুচোখর নিচে
কালো দাগ পড়েছে,
কপালে ভাঁজ পড়েছে,চোখ দু-টি,
এখনো অবিকল-মন কারে।

তোমার বর্ণনা নাইবা দিলাম,
তার পরও বলি তুমি কেমন আছো?
…………………………………………..

প্রাক্তন

ব্যর্থ প্রেম-
পুরোনো ফ্রেমে বাঁধা আধ আঁকা ছবি
কিছু গলিতো স্বপ্নের আহাজারি,
জলাঞ্জলি দেওয়া সেই দীর্ঘ রাত্রি।
অনাকাঙ্ক্ষিত ভাংচুর –
ধরণীর আলো দেখবার অপেক্ষায় থাকা
একটি হৃত্পিণ্ডের করুণ মৃত্যু!

ক্ষত রয়ে গেছে-
দিবালোকের দেওয়ালে দেওয়ালে
বিমর্ষ চিৎকার,
বাতাসে বাতাসে আহ-কি সেই কানাকানি ।
চরিত্র বদলে গেছে।

ব্যর্থ জীবন-
জীবনের শিরোনামে হঠাৎ পরিবর্তন
জড়তা কাটেনি আজো,
সেই মুখ সেই চোখ দেওয়ালে দেওয়ালে
আঙুলের ছাপ।
প্রশ্ন রয়ে গেছে –
এতো কিছু রেখে বদলায় কী করে মানুষ?
সেই গোধূলির ঘ্রাণ মাঝ রাত্রিতে
আমার বুক পিঠে লেপ্টে থাকা
ভালবাসা মাখা-সেই সুন্দর নখের আঁচড়!

ভালবাসা আজো মরেনি-
চোখ বন্ধ করলে
মুগ্ধতা পাওয়া যায় তোমার চুলের ঘ্রাণে,
কপালের লাল টিপে,
তোমার চোখের কাজলে
তোমার হাসিমাখা সেই গালের টোলে।

আমাদের সম্পর্কের এখন
নতুন একটা নাম হয়েছে,
“প্রাক্তন”।

বিশ্বাস ভাঙেনি জানো?
বলেছিলাম তোমায় বলেছিলাম সমাজকে
সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়নি
সম্পর্ক কখনো শেষ হয়না,
ভালো কিছু সময় ফুরায় মাত্র।
আমাদের স্বপ্ন আছে ভালবাসা আছে
আর সম্পর্ক তার শুধু নাম পরিবর্তন হয়েছে।
সব কিছুইতো সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়,
তাই আমাদের সম্পর্কের নাম হয়েছে।