হেমন্তফুল

জাগলো পাড়া বাংলা সারা
হেমন্ত আজ আসলো গাঁয়,
খুশির আবেশ কৃষাণ প্রাণে
শিশিরকণায় চুমলো পা’য়।

ধানের মাঠে দখিন হাওয়ায়
ঝাঁপটা দিলো সুখের রেষ,
ধানের গন্ধে হইলো মাতাল
আমার সোনার বাংলাদেশ।

হেমন্ত সুর যায় শোনা যায়
আসলো নব আলোর বান,
পাকপাখালির কণ্ঠে আজি
যায় শোনা যায় ঋতুর গান।

পাড়া গাঁয়ের চাষীর প্রাণে
লাগলো এসে খুশির দোল,
শিশিরভেজা নতুন ভোরে
ফুটলো আজ হেমন্তফুল।
……………………………………………

লাগে বলুন কেমন-ত

পাকাধানে ঢেউ তুলে আজ
আসলো ঋতু হেমন্ত,
শীতল হাওয়া ঝাঁপটা দিলে
লাগে বলুন কেমন-ত।

কৃষাণ প্রাণে খুশির আবেশ
নয়তো যেমন তেমন-ত,
ভোরের দোরে হাসলে রবি
লাগে বলুন কেমন-ত?

হালকা শিশির বিন্দু কণায়
সুখেই নাচে এ মন-ত,
হাওয়ায় ভাসে ধানের গন্ধে
লাগে বলুন কেমন-ত।

ন্যাড়া মাঠে কিশোর মেলা
গিন্নির হাসি সেমন-ত,
ধান মাড়ানোয় ব্যস্ত পাড়া
লাগে বলুন কেমন-ত।

নতুন চালের পিঠা পায়েশ
নিয়ে এলো হেমন্ত,
এই যে মসাই আমার বাড়ি
রইলো পিঠার নেমন্ত।
……………………………………………

মিঠারোদ

মিষ্টি কাঁচা রোদের মেলা
ভোরের সবুজ ঘাসে,
ঝিকিমিকি মুক্তো যেনো
সেই সে রোদে হাসে।

ফুলের পাড়া জেগে ওঠে
হাওয়ায় ভাসে ঘ্রাণ,
মিষ্টি রোদে ফুল কলিরা
নেয় করে নেয় স্নান।

প্রজাপতির ডানায় দেখি
ঝিলিকমারে রোদ,
হাওর মাঠে সোনা ধানে
জাগে সুখের বোধ।

মিষ্টি রোদের ছোঁয়া পেয়ে
গায় পাখিরা গান,
নতুন ধানের গন্ধে নাচে
গরীব চাষীর প্রাণ।

মিঠারোদে ঝলক পেয়ে
হাসে শহর গাঁও,
শান্ত শীতল মিষ্টি হাওয়া
ভিড়ায় খুশির নাও।
……………………………………………

ধুমছে চলে নেমন্ত

শরৎ ঋতুর লেজটা ধরে
আসলো ফিরে হেমন্ত,
সবুজপাড়া হাসলো সারা
ধুমছে চলে নেমন্ত।

নতুন ধানের নতুন চালে
পিঠাপুলির উৎসব,
চাষীর ঠোঁটে হাসি দেখে
পালায় ব্যথা খুঁতসব।

হরেক স্বাদের মিষ্টি পিঠা
ছড়ায় দারুন ঘ্রাণ যে,
তাদিন তাদিন নেচে উঠে
খোকা খুকির প্রাণ যে।

কি যে মজা মায়ের হাতে
রান্না করা ফিন্নি,
ধানের কাজে বাড়ি বাড়ি
ব্যস্ত ভীষণ গিন্নি।
……………………………………………

হৈমন্তিকা

হৈমন্তিকা আসলো ভেসে
দখিনা হিম বায়,
সুখের বাঁশি উঠলো বেজে
আজোপাড়া গায়।

ধানের কাজে ব্যস্ত কৃষাণ
ক্লান্ত দেহেও সুখ,
রইবে না আর চিন্তা প্রাণে
কোন রকম দুখ।

সুভাসমেখে ফুটলো হেসে
নব ঋতুর ফুল,
পাখির কণ্ঠে হৈমন্তি গান
শান্ত নদীর কূল।

বাংলা জুড়ে নব আলোয়
হাসলো নব ভোর,
মাটির বুকে ফলছে সোনা
খুললো সুখের দোর।

মাহানন্দে তুলবে গোলায়
নতুন আমন ধান,
শুকরগুজার করছে চাষী
পেয়ে প্রভুর দান।
……………………………………………

নব ঋতুর সাজ

বাংলা মায়ের বক্ষজুড়ে
নব ঋতুর সাজ,
সুখের বাঁশি বাজে শুনি
পাড়াগাঁয়ে আজ।

কাস্তে হাতে কৃষাণ মাঠে
কাটে আমন ধান,
উদার করা সুরে আবার
গাইছে কেহ গান।

বাড়ি বাড়ি গিন্নিরা সব
দিচ্ছে কাজে মন,
চাষীর ঠোঁটে হাসি ফুটে
পেয়ে কষ্টের ধন।

মাঠে মাঠে পাখপাখালি
উড়ছে ঝাঁকে ঝাঁক,
ক্ষেতে ক্ষেতে নিত্যনতুন
তাজা সবজি শাক।

সকাল দুপুর সন্ধেবেলা
নেইতো কাজে শেষ,
এই তো আমার জন্মভূমি
সোনার বাংলাদেশ।
……………………………………………

ন্যাড়া মাঠে

আমান ধানের ন্যাড়া মাঠে
শিশু-কিশোর মেলা,
শান্ত বিকেল সবাই মিলে
খেলছে মজার খেলা।

ঝাঁকে ঝাঁকে শালিক পাখি
আসছে মাঠে নেমে,
ধানের পোঁকা ধরছে তারা
উড়ছে থেমে থেমে।

মাঠের পরে গাঁয়ের রাখল
ছড়ায় বাছুর গরু,
স্বাধীন ভাবে খাচ্ছে মাঠে
তরতাজা ঘাস তরু।

ন্যাড়া মাঠে শান্ত বিকেল
গোল্লাছুটের ধুম,
শিশিরকণা আলতু করে
আঁকছে ঘাসে চুম।

শিশু-কিশোর হৈ-হুল্লোরে
মাতিয়ে রাখে পাড়া,
হেমন্ত আজ সবার প্রাণে
দিচ্ছে সুখের নাড়া
……………………………………………

সুখের ঝিলিক ভাসে

চাষী প্রাণে সুখের ছোঁয়া
নতুন ধানের গন্ধে,
শরৎ শেষে হেমন্ত আজ
হাসে দারুন ছন্দে।

নতুন ভোরে সবুজ ঘাসে
শিশিরবিন্দু মেলা,
সূর্যিমামার মিষ্টি আভায়
ঝিলিমিলি খেলা।

ধানের মাঠে ব্যস্ত ভীষণ
গাঁয়ের গরীব চাষী,
রাখালরাজা মধুর সুরে
বাজায় না আর বাঁশি।

সবুজ গাঁয়ে হেমন্ত সাজ
দেখলে জুড়ায় আঁখি,
গরীব চাষীর হাসি দেখে
স্বপ্ন হাজার আঁকি।

বাংলা মায়ের শান্তাচলে
সুখের ঝিলিক ভাসে,
শীতল বায়ে পাড়া গাঁয়ে
হেমন্ত ফের আসে।
……………………………………………

নব আলোর বান

হেমন্ত গান গাইছে পাখি
সবুজ বনে বনে,
সুখেরি ঢেউ খেলা করে
গরীব চাষীর মনে।

ঠাণ্ডা হাওয়া শিশিরকণা
ভিরায় সুখের নাও,
তরতাজা শাক সবজিতে
ভরে সারা গাঁও।

শিমেরমাছা সেজে উঠে
ফুটে কতো ফুল,
নতুন চালে পিঠা পায়েশ
হয়না স্বাদের তুল।

শিশিরভেজা মিষ্টি ভোরে
নব আলোর বান,
প্রজাপতি উড়ছে স্বাধীন
গাইছে ভোমড় গান।
……………………………………………

চোখজুড়ানো সাজ

মাঠের পরে ব্যস্ত কৃষাণ
ব্যস্ত ভীষণ গিন্নি,
নতুন চালে হরেক পিঠা
রাঁধছে মজার ফিন্নি।

নব সাজে উঠছে জেগে
ছোট্ট পাড়া গাঁও,
চাষীর ঘরে ভিড়ল বুঝি
মাহানন্দের নাও।

দুঃখ ভুলে সবার ঠোঁটে
মিষ্টি হাসির রেষ,
হেমন্ত চাঁদ নব আলোয়
ভড়লো সারা দেশ।

সবুজ বনে পাখিরা সব
তুললো গানের সুর,
প্রাণে প্রাণে হেমন্ত ঢেউ
অশান্তি হয় দূর।

চাষীরা সব মাঠের পরে
করছে সুখে কাজ,
বাংলা মায়ে পড়লো বুঝি
চোখজুড়ানো সাজ।