এদিকে হামিদা বরাবর তাহাদের বাড়ীতে আসিয়া ভোলার মার খোঁজ করিল। ভোলার মা প্রৌঢ়া বিধবা; ভোলা তাহার যুবক পুত্র। মা নিজের পুঁজিপাটা সর্ব্বস্ব বেচিয়া বাছিয়া বাছিয়া ভোলাকে এক সুন্দরী বউ আনিয়া দিয়াছে। বউ ২/৩ বছরে যুবতী হইয়া উঠিলে, ভোলা সেই মনোমোহিনীর সৎপরামর্শে গৃহস্থালীর ব্যয় লাঘবজন্য মাতাকে গৃহতাড়িত করিয়া দিয়াছে। ভোলার মা এক্ষণে হামিদাদিগের বাড়ীতে কাজকর্ম্ম করিয়া খায়। ভোলার মা একান্ত সরলা, বুদ্ধিশুদ্ধি মন্দ নয়, দোষের মধ্যে কানে একটু কম শুনে। সে হামিদাকে খুব ভালবাসে এবং দশ কাজ ফেলিয়া তাহার হুকুম তামিল করে। হামিদা খুঁজিয়া ভোলার মাকে তাহাদের কূপের নিকট পাইল এবং অপরে না শুনে এমনভাবে কহিল,- “ভোলার মা, আমার সইদিগের খিড়কীর ঘাটে সোজা পূর্ব্বপারে এখখানি পান্সী নৌকা লাগান আছে, সেই নৌকায় ঠিক তোমাদের দুলামিঞার মত কে যেন দাঁড়াইয়া আছেন-দেখিয়া আসিলাম, তুমি গোপনে যাইয়া তত্ত্ব জানিয়া আইস, তিনিই কি না?” ভোলার মা আদেশ পালনে রওয়ানা হইল।
এদিকে হামিদা তাহার পাঠাগারে বসিয়া চিন্তা করিতে লাগিল,- কাল কলিকাতা হইতে দুবেলা তাঁহার দুখানি চিঠি পাইলাম, আজ তিনি এখানে? তাহাও কি হয়? বোধ হয় তাঁহার মত অন্য কোন লোক দেখিয়াছি। আবার ভাবিল,-তিনি এবার কলিকাতা যাইবার সময় বলিয়াছিলেন, ‘যে সকল বিবাহিতা যুবতী আদরে সোহাগে অধিকাংশ সময় পিত্রালয়ে থাকে, তাহারা স্বাধীন-প্রকৃতির হইয়া বে-পরদায় চলাফেরা করে। দেখিও, তুমি যেন সেরূপ না হও; কারণ আমি কলিকাতায় গেলেই তুমি মধুপুরে পার হইবে।’ আমি তখন চোখরাঙ্গাইয়া গর্ব্বভরে বলিয়াছিলাম, ‘তুমি আমাকে কি মনে কর? আমি আর মধুপুরে যাইব না, এখানেও থাকিব না; কলিকাতায় যাইব।’ তিনি দমিয়া গিয়া আমাকে আদর করিয়া বলিয়াছিলেন, ‘না, না, তুমি মধুপুরে যাইও, না যাইলে আম্মাজান ভাতপানী ছাড়িবেন। আমি আর তোমাকে অমন কথা বলিব না।’ আমার প্রেমগর্ব্ব তখন পানি হইল। বোধ হয় তিনি আমার এই প্রেমাভিমানের সত্যতা পরীক্ষার নিমিত্ত চালাকী করিয়া কলিকাতা হইতে চিঠি লিখিয়া তৎপূর্ব্বেই এখানে আসিয়াছেন। পরীক্ষা ত একরূপ পাইলেন, আমি অনাবৃতমস্তকে লোকচক্ষুর দর্শনীয়স্থানে বসিয়া সইএর সহিত গল্প করিয়াছি, তিনি নৌকার ভিতর চুপ করিয়া থাকিয়া আমার বে-পর্দ্দাভাব স্বচক্ষে দেখিয়াছেন। এখন উপায়? তাঁহার কাছে মুখ দেখাইব কিরূপে? এই দোষে তিনি যদি আমাকে ঘৃণার সহিত উপেক্ষা করেন, তবে কি করিব?
হামিদা আবার ভাবিল,-তিনি আমাকে যেরূপ ভালবাসেন ও বিশ্বাস করেন,-এই বলিয়া ট্রাঙ্ক হইতে বৈকালের প্রাপ্ত চিঠিখানি বাহির করিয়া পড়িতে লাগিল,- “সুখ শান্তির আধার প্রাণের হামি,” এইটুকু পড়িতেই তাহার চোখের জল টস্টস্ করিয়া চিঠিতে পড়িতে লাগিল। সে অতিকষ্টে অঞ্চলে চোখ মুছিয়া আবার পড়িতে লাগিল,- “আমাদের ল্-ক্লাস বন্ধ হইতে আর তিন সপ্তাহ বাকী, কিন্তু এই তিন সপ্তাহ ৩ বৎসর বলিয়া মনে হইতেছে। ছুটীর দিন যতই নিকটবর্ত্তী হইতেছে, তোমাকে দেখিবার আকাক্সক্ষা ততই বাড়িয়া উঠিতেছে।” এই পর্য্যন্তপড়িয়া আর পড়িতে পারিল না। প্রেমাশ্র“ অনিবার্য্য-বেগে তাহার বক্ষ-বসন সিক্ত করিতে লাগিল। হামিদা পত্রহস্তে বালিশে মুখ রাখিয়া কাঁদিতে লাগিল।
বৃষ্টির পর আকাশ যেমন লঘু ও পরিষ্কার হয়, ক্রন্দনেও সেরূপ দুঃখের লাঘব হয়। তাহা না হইলে সংসার চলিত না। হামিদার দুঃখের তাপ কমিয়া আসিলে, সে পুনরায় গালে হাত দিয়া ভাবিতে লাগিল,-যিনি তাঁহার দাসীকে এত ভালবাসেন, তাঁহার মনে কি দাসীর প্রতি এত সন্দেহ হইতে পারে? কখনই নয়। চেহারার মত চেহারা কি নাই? আমি তাঁহার মূর্ত্তিতে নিশ্চয়ই অন্য লোককে দেখিয়াছি। এইরূপ বিতর্ক করিয়া হামিদা কথঞ্চিৎ আশ্বস্ত হইল এবং আগ্রহের সহিত ভোলার মার প্রতীক্ষা করিতে লাগিল।
ভোলার মা একখানি ডিঙ্গি নৌকায় খাল পার হইয়া দুলামিঞাকে দেখিবার জন্য পান্সীনৌকার নিকট উপস্থিত হইল। দেখিল, নৌকার সম্মুখভাগে একজন একহারা আধবয়সী লোক চা’র পানি গরম করিবার নিমিত্ত উনুন ধরাইতেছে। এইটি যুবকের পাচক। বাঘ-মহিষের যুদ্ধের ন্যায় উনুনের মধ্যে ভাদুরে খড়ি ও আগুন পরস্পর যুদ্ধ বাধাইয়া তীব্রধুমপুঞ্জে পাচকবরকে ত্যক্ত বিরক্ত ও অন্ধীভূত করিয়া তুলিতেছিল। এই সময় ভোলার মা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল,-“বাবা তোমরা কোথা হইতে আসিয়াছ?” পাচক ক্রোধভরে কহিল,- “কেন? আমরা বেলগাঁও হইতে আসিয়াছি।” ভোলার মা ‘আমরা বেলতা হইতে আসিয়াছি।’ বেলতা হামিদার শ্বশুরবাড়ী। পাচকের ক্রোধের প্রতি ভোলার মার ভ্রক্ষেপও নাই। সে পুনরায় জিজ্ঞাসা করিল,-“নায়ে চরণদার কে?” পাচক বিরক্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু ভোলার মা নাছোড়বান্দা হওয়ায় সে ষোলআনা ক্রোধ জাগাইয়া এবার কহিল, “তোমার দুলামিঞা আছে।” পাচক ভাবিল,-মাগীকে শক্ত গালি দিয়াছি। মাগী ভাবিল,-চরণদার দুলামিঞাই বটে।
এই সময় দুলামিঞা নৌকার ভিতর দুগ্ধ-ফেন-নিভ শয্যায় শায়িতভাবে “রোমিয় জুলিয়েট” হাতে করিয়া বালিকাদ্বয়ের কথোপকথনের বিষয় চিন্তা করিতেছিলেন। তিনি ভাবিতে লাগিলেন, ‘বিবাহিতার মুখে অবিবাহিতার যে গুণের পরিচয় পাইলাম, পরন্তু স্বচক্ষে যেরূপ দেখিলাম, তাহাতে এতকাল ধরিয়া যেমনটির জন্য প্রাণ লালায়িত হইয়া আছে, এইটী সর্ব্বাংশে তদুপযুক্তই বটে, কিন্তু হায়! তাহার বিবাহের যে প্রস্তাব শুনিলাম, তাহাতে বাসনা-সিদ্ধির আশা কোথায়? হায়, হায়, এমন রত্ন ও নরকে নিক্ষিপ্ত হইবে?
এদিকে ভোলার মা ফিরিয়া গিয়া হাসিতে হাসিতে হামিদাকে কহিল-“নৌকা বেলতার, চরণদার দুলামিঞা। তাঁহাকে বাড়ীর উপর আনিতে মাজানকে খবর দেইগে।” ভোলার মা হামিদার মাকে মাজান বলিয়া ডাকিত। হামিদা কহিল,- “তাঁহার আসার সংবাদ কাহারও নিকট বলিও না, নিজ কাজে যাও।” ভোলার মা মলিনমুখে কূপের ধারে চলিয়া গেল। হামিদা ঘরের দরজা ঠেলিয়া দিয়া, আকাশ পাতাল ভাবিতে ভাবিতে অবসন্ন হইয়া পড়িল।
এক প্রহর বেলা অতীত হইল। হামিদার মা হামিদাকে উঠানে চলাফেরা করিতে না দেখিয়া এবং এত বেলায়ও বালিকা স্নানাহার করিতেছে না বলিয়া, তিনি তাহার পড়ার ঘরে খোঁজ করিলেন। দেখিলেন, বালিকা নিতান্ত মলিনমুখে চৌকিতে শুইয়া আছে। তিনি চমকিয়া উঠিয়া বলিলেন,- “মা, অসুখ করিয়াছে কি?” হামিদা আন্তরিক ভাব গোপন করিয়া সলজ্জে কহিল,- “না।” মা কহিলেন,- “তবে অসময়ে শুয়ে আছ কেন? বেলা হইয়া গেল, গোসল করিয়া খাইতে এস।” হামিদা কহিল,- “যাও, আসি।” মা চলিয়া গেলেন, হামিদা পাশ ফিরিয়া শয়ন করিল। অনেকক্ষণ অতীত হইল, তথাপি হামিদা ঘর হইতে বাহির হইল না; মা মেয়েকে না দেখিয়া পুনরায় ডাকিতে আসিলেন এবার বালিকা বলিল,- “আমার খিদে পায় নাই। এখন খাইব না, তুলি খাওগে।” মার মুখ ভার হইল। তিনি চিন্তা করিতে লাগিলেন, ‘মেয়ে কাল উপর্য্যুপরি কলিকাতার দুইখানি চিঠি পাইয়াছে, বুঝি বা জামাতার কোন অমঙ্গল-সংবাদ আসিয়াছে। আমি জিজ্ঞাসা করিলেও মেয়ে তার কিছু বলিবে না। যত কথা তার সইএর নিকট ব্যক্ত করে; আজ প্রাতেও সেখানে অনেকক্ষণ ছিল, আচ্ছা তাহাকেই জিজ্ঞাসা করিয়া আসি।’ এই বলিয়া তিনি আনোয়ারাদিগের আঙ্গিনায় গেলেন।
এদিকে আনোয়ারা শিরঃপীড়ায় কাতর হইয়া শয্যায় আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছে। তথাপি সে শয়ন করিয়া চিন্তা করিতেছে-‘ইনিই কি তিনি? চেহারা ঠিক সেইরূপ হইলেও তাঁহার পরিচ্ছদ এরূপ ছিল না। তাঁহাকে মূল্যবান্ আচকান-পায়জামা-পরিহিত দেখিয়াছি মনে হইতেছে, সুতরাং ইনি তিনি নন।’ আবার ভাবিল, ‘ইঁহাকে যেন সইএর স্বামী বলিয়া বোধ হইল, তাঁহার চেহারা ঠিক এইরূপ।’ পর মুহূর্ত্তে মনে হইল, ‘তিনি ত এমন সুন্দর কোরাণশরিফ পড়িতে পারেন না। বিশেষতঃ সই কাল কলিকাতা হইতে তাঁহার চিঠি পাইয়াছে, আজ তিনি এখানে আসিবেন কিরূপে? সুতরাং ইনি সইএর স্বামীও হইতে পারেন না। তবে ইনি কে?’-এইরূপ নানা চিন্তার ঘাত-প্রতিঘাতে বালিকার কোমল হৃদয় নিষ্পেষিত হইতে লাগিল, ধমনীর রক্ত ঊর্দ্ধগামী হইয়া মস্তিস্ক আক্রমণ করিল, চক্ষু লাল হইয়া উঠিল, সঙ্গে সঙ্গে শরীর গরম হইয়া জ্বর আসিল। জ্বরোত্তাপে বালিকা ছট্ফট্ করিতে আরম্ভ করিল। এই সময় হামিদার মা তথায় আসিলেন। তিনি আনোয়ারার গায়ে হাত দিয়া কহিলেন, “ইস্ গা যে আগুনের মত গরম হইয়াছে, হঠাৎ এরূপ জ্বর হওয়ার কারণ কি?” মুখের দিকে চাহিয়া কহিলেন, “মেয়ের চোখ যে জবাফুলের মত লাল হইয়াছে, সবগুলি রক্ত যেন একযোগে মাথায় উঠিয়া গিয়াছে!” আনোয়ারার দাদিমা কাছে বসিয়াছিলেন, তিনি কহিলেন,- “কি জানি মা, কিসে যে কি হইল, কে বলিবে? বৌএর দিনরাত কথার খোঁচায় বাছার আমার কলেজা ছিদ্র হইয়া গিয়াছে। গত রাত্রিতে ভাত খাইতে দেরি হওয়ায়, বৌ মেয়েকে অকারণ যেরূপ ঘেন্না দিয়া কথা বলেছে, তাহা শুনিলে বুক ফাটিয়া যায়। গালাগালির ঘেন্নায় বাছা আমার উপোসে রাত কাটাইয়াছে, মনের কষ্টে শেষ রাতে বাছা ‘মা, মা’ বলিয়া কাঁদিয়া উঠিয়াছিল। মা, দুঃখের কথা কত বলিব, রূপসী বৌ ঘরে আনিয়া খোরশেদ আমার সব খোয়াইতে বসিয়াছে।”
আনোয়ারার পিতার নাম খোরশেদআলী ভূঞা। ইনি দ্বিতীয় বার জামতাড়া গ্রামের জাফর বিশ্বাসের কন্যাকে বিবাহ করিয়াছেন।
আনোয়ারার দাদিমা হামিদার মাকে কহিলেন,- ‘মা! পাট, ধান, কলাই যে খন্দের যা বাড়ীতে আসে, তার আধাআধি জামতারা যায়। তা ছাড়া বৌ যে কত জিনিষ চুরি করিয়া বিক্রী করে, তার সীমা নাই। ভাল কাপড়-চোপড়, ঘটী-বাটী পর্য্যন্ত বৌ চুপে চুপে বাপের বাড়ী পার করিয়াছে। সেদিন খোরশেদ বেরামপুর হইতে বৌএর ফরমাইস মত বাদসার জন্য ছাতি, জুতা, কোট আনিয়াছে। বাদসা বৌএর পূর্ব্বস্বামীর ঔরসজাত পুত্র।) সেই সঙ্গে এই ছুঁড়িটার জন্য একটা কোর্ত্তা আনিয়াছিল। বউ কোর্ত্তা দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিল, ‘এটা কার জন্য?’ প্রশ্ন শুনিয়াই খোরশেদের মুখ শুকাইয়া গেল। শেষে বাধ্য হইয়া কহিল, ‘মেয়েটাকে কিছু দেওয়া হয় না, এটা তাহারই জন্য আনিয়াছি।’ মা, লজ্জার কথা, বৌ খোরশেদকে যে কত রকম খারাপ ভাবে ঠাট্টা বিদ্রুপ করিল, তা বলা যায় না। মেয়েটা শুনিয়া তখনি কোর্ত্তা বৌএর ঘরে ফিরাইয়া দিয়া আসিল। ইহাতে খোরশেদ টুঁশব্দটি করিল না। কয়েক দিন পরে জানা গেল, কোর্ত্তা জামতাড়ায় আজিমুল্লার মেয়ে তছিরণের গায়ে উঠিয়াছে। মা, আমি দু’কথা বুঝাইয়া বলিলে, খোরশেদ তাহা শুনিয়াও শুনে না। বৌ যা বলে অপরাধী লোকের ন্যায় সে তাহাই করে। আমার সোনার চাঁদ খোরশেদ নেকাহ্ করিয়া যে এমন বৌ-বশ হইবে, তা আমি মনেও করি নাই। আমার মালুম হয়, বৌ ছেলেকে যাদু করিয়াছে। এই সময় আনোয়ারা চীৎকার করিয়া উঠিল- “দাদি মাথা গেল,- পানি-ইনিই কি তিনি?” হামিদার মা পানি দিলেন।
হামিদার মা কহিলেন,- “আমিও আনোয়ারার বাপের মতি-গতি দেখিয়া বাড়ীতে বলিয়াছিলাম, ‘বাদসার মা ভূঞাসাহেবকে যাদু করিয়াছে।’ হামিদার বাপ একথা শুনিয়া কহিলেন, ‘ও সব কিছু না; রূপজমোহে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হইলে মানুষের মতি-গতি এই রূপই হয়। এখন বাদসার মা ভূঞাসাহেবেকে দুপোর রাত্রে পচা পুকুরে ডুব দিতে বলিলে সে আপত্তি করিবে না। কিন্তু এর শেষ ফল বড়ই ভয়ানক; তখন চৈতন্য হইলেও নিস্তার নাই’।” এই সময় আনোয়ারা পুনরায় চীৎকার করিয়া পাশ ফিরিয়া শয়ন করিল এবং অস্ফুটে কহিল,- “আমার ওস্তাদের কথা।” দাদিমা মেয়েকে জড়াইয়া ধরিয়া কহিলেন,- “বুবুরে কি বকিতেছিস?” আনোয়ারা পুনরায়-“দাদি-মাথা- তিনি-উঃ – ফাটিয়া গেল।” একটু পরে আবার- “মোনাজাত- কোরাণ- কি সুন্দর ইনি- তিনি।” হামিদার মা কহিলেন,-“মেয়ে জ্বরের প্রকোপে পুস্তকের কথা আওড়াইতেছে; আপনারা সত্বর ডাক্তার দেখান।”এই বলিয়া তিনি উঠিয়া বাড়ীতে আসিলেন। যাহা জানিতে বা বলিতে গিয়াছিলেন, আনোয়ারার অবস্থা দেখিয়া তাহার কিছুই বলিতে পারিলেন না।
এদিকে হামিদা তাহার পাঠাগারের দ্বারে উদ্বিগ্ন-চিত্তে ভাবিতেছিল,তাঁর আসার সংবাদ মার নিকট বলিতে ভোলার মাকে নিষেধ করিয়া ভাল করি নাই। তিনি আসিলে পায়ে পড়িয়া ক্ষমা চাহিতাম।’ আবার ভাবিল, ‘আর কিছুক্ষণ দেখি,যদি তিনি স্বেচ্ছায় না আসেন, তবে তখন বিবেচনা করিয়া যাহা হয় করিব।’ এই সময় তাহার মা আসিয়া তথায় দাঁড়াইলেন, কিন্ত আনোয়ারার জ্বরবিকারের কথা মেয়েকে জানাইলেন না স্নানাহারের জন্য তাহাকে রান্নাঘরের আঙ্গিনার দিকে লইয়া গেলেন।