যমুনার কৃশাঙ্গী তনয়াদ্বয় প্রকৃতির বিধানে যে স্থানে মিলিত হইয়া মায়ের কোলে গা ঢালিয়া দিয়াছে, সেই সঙ্গমস্থলের দক্ষিণতীরে রতনদিয়া গ্রাম। নীচজাতীয় কয়েক ঘর হিন্দু ব্যতীত গ্রামের অধিবাসী সবই মুসলমান। মুসলমানদিগের মধ্যে আমির-উল এস্লাম নামে একজন বিশিষ্ট ভদ্রলোকের বাস। তিনি গ্রাম হইতে এক মাইল দূরে নীলকুঠিতে দেওয়ানী করিতেন। তিনি প্রথমে ময়মনসিংহ জেলার হাজী সফিউদ্দীন নামক জনৈক পরম ধার্ম্মিক মহাত্মার কন্যাকে বিবাহ করেন। এই শুভ পরিণয়ের প্রথম ফলস্বরূপ আমির-উল এস্লাম সাহেব একটি পুত্রসন্তান লাভ করেন। পিতা নিজ নামের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া পুত্রের নাম রাখিয়াছিলেন-নুরুল এস্লাম। নীলকুঠিতে দেওয়ানী করিতেন বলিয়া আমির-উল এস্লাম সাহেবের বংশ দেশের সর্ব্বত্র দেওয়ান আখ্যায় পরিচিত।
সাধারণতঃ নীলকুঠির প্রভু ও ভৃত্যগণের মধ্যে যেরূপ উৎকোচ- প্রিয়তার পরিচয় পাওয়া যায়, তাহাতে দেওয়ান আমির-উল এস্লাম সাহেবের আর্থিক অবস্থা খুব উন্নত হওয়া উচিত ছিল; কিন্তু তিনি ধর্ম্মশীলা পত্নীর সংসর্গে ধর্ম্ম-সাধনে যেরূপ উন্নত হইয়াছিলেন, আর্থিক উন্নতিবিষয়ে সেরূপ কৃতকার্য্যতা লাভ করিতে পারেন নাই। তবে তিনি ন্যায়-পথে থাকিয়া যাহা উপার্জ্জন করিতেন, তাহাতে মিতব্যয়শীলা পত্নীর গুণে সংসারের অভাব পূর্ণ হইয়া কিছু কিছু উদ্বৃত্ত থাকিত। শেষে তিনি তদ্বারা বার্ষিক পাঁচ শত টাকা আয়ের একটি ক্ষুদ্র তালুক খরিদ করেন।
নুরুল এস্লামের বিদ্যাশিক্ষার জন্য তাঁহার পিতা সমধিক মনোযোগী ছিলেন। দ্বাদশ বৎসর বয়ঃক্রমকালে নুরুল এস্লাম স্থানীয় নবপ্রতিষ্ঠত মাইনর স্কুল হইতে বৃত্তি লাভ করেন; কিন্ত দুঃখের বিষয় এই বৎসরই তাঁহার জননী তাঁহাকে ও তাঁহার দুইটি শিশু-ভগিনীকে পরিত্যাগ করিয়া পরলোক গমন করেন। আমির-উল এস্লাম সাহেব পতœী বিয়োগে সংসার অন্ধকার দেখিতে লাগিলেন বটে, তথাপি পুত্রের বিদ্যাশিক্ষায় ঔদাসীন্য প্রকাশ করিলেন না। সময়মত তিনি পুত্রকে তাঁহার মাতুলালয়ে রাখিয়া ময়মনসিংহ জেলা স্কুলে পড়ার বন্দোবস্ত করিয়া দিলেন।
এদিকে সংসার অচল হইলেও গুণবতী প্রিয়তমা পত্নীর কথা স্মরণ করিয়া, দেওয়ান সাহেব দুই বৎসর যাবৎ বিবাহ করিলেন না। শেষে দেশস্থ নানা লোকের প্ররোচনা ও পরামর্শে নিজ গ্রামে দক্ষিণ গোপীনপুর গ্রামে মহোচ্চ বংশে আলতাফ হোসেন নামক এক ব্যক্তির বয়স্থা রূপবতী কনিষ্ঠা ভগিনীকে তালুকের অর্দ্ধেক কাবিন দিয়া বিবাহ করিলেন। কালক্রমে এই পক্ষে দেওয়ান সাহেবের একটি কন্যা জন্মগ্রহণ করিল। এই কন্যা জন্মগ্রহণের পর নুরুল এস্লামের অপ্রাপ্তবয়স্কা ভগিনীদ্বয়ের আর এ সংসারে তিষ্ঠান দায় হইল। পতœীর বিদ্বেষ-ব্যবহারে ব্যথিত হইয়া দেওয়ান সাহেব কন্যাদ্বয়কেও তাহাদের স্নেহময়ী মাতামহের নিকট ময়মনসিংহে পাঠাইয়া দিলেন। নুরুল এস্লাম ছুটির সময় মাতুলালয় হইতে বাড়ীতে আসিতেন; কিন্তু বিমাতার ব্যবহারে শান্তিলাভ করিতে না পারিয়া স্কুল খুলিবার পূর্ব্বেই ময়মনসিংহে চলিয়া যাইতেন। স্নেহশীল পিতা পুত্রের মানসিক কষ্ট অনুভব করিয়া নীরবে নির্জ্জনে অশ্রুমোচন করিতেন এবং নানাবিধ প্রবোধবাক্যে পুত্রের চিত্তবিনোদন করিতে প্রয়াস পাইতেন।
নুরুল এস্লাম চারি বৎসরে বৃত্তিসহ এন্ট্রান্স পাস করিয়া কলিকাতায় পড়িতে গেলেন। তাঁহার পিতা তাঁহাকে মাসে মাসে বৃত্তির উপর ২০/২৫ টাকা করিয়া খরচ পাঠাইতে লাগিলেন। খোদার ফজলে নুরুল এস্লাম দুই বৎসরেই প্রশংসার সহিত এফ্-এ পাশ করিয়া বি-এ পড়িতে আরম্ভ করিলেন; কিন্তু বৎসরের শেষে অকস্মাৎ নিদারুণ সান্নিপাতিক জ্বরে তাঁহার পিতার মৃত্যু ঘটায়, নুরুল এস্লাম পরমারাধ্য পিতার অভাবে সংসার অন্ধকার দেখিতে লাগিলেন। বিমাতার চক্রান্তে ভূসম্পতি ও গৃহস্থালী বিনষ্ট হইবে ভাবিয়া, অগত্যা সে-সকলের ভার নিজ হাতে লইলেন। সুতরাং বি-এ পাশ করা আর তাঁহার ভাগ্যে ঘটিল না।
প্রতিভাবলে পঠিত বিদ্যায় নুরুল এস্লাম যেরূপ কৃত্যকার্য্যতা লাভ করিয়াছিলেন, তৎসঙ্গে ভূয়োদর্শন-জনিত জ্ঞানও কম লাভ করিয়াছিলেন না। তিনি দেখিয়াছিলেন, চাকরীজীবীর শারীরিক ও মানসিক সমুদয় ইন্দ্রিয় সর্ব্বক্ষণ প্রভুর মনোরঞ্জন সম্পাদনের জন্য নিয়োজিত রাখিতে হয়, স্বাধীনভাবে মানব-জীবনের মহদুতুদ্দেশ্য সাধনের সুযোগ তাহার ভাগ্যে বড় ঘটিয়া উঠে না; এ নিমিত্ত চাকরীকে তিনি অন্তরের সহিত ঘৃণা করিতেন। বি-এ পাশ করিয়া স্বাধীন ব্যবসায়ের দ্বারা জীবিকা নির্ব্বাহ করিবেন, ইহাই তাঁহার জীবনের স্থির সঙ্কল্প ছিল।
কিন্তু পিতার মৃত্যুতে হঠাৎ তাঁহার ভাগ্যবিপর্য্যয় ঘঠিল। তথাপি তিনি অভীপ্সিত সংকল্পের প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া আপাততঃ বাড়ী হইতে ছয় মাইল পূর্ব্বে বেলগাঁও বন্দরে জুট-কোম্পানির আফিসে মাসিক ৩৫ টাকা বেতনে চাকরী গ্রহণ করিলেন। সপ্তাহে ২/১ বার আসিয়া বাড়ী ঘরের তত্ত্বাবধান লইতে লাগিলেন।
পাঠ্যাবস্থায় অনেক ভাল ভাল ঘর হইতে তাঁহার বিবাহের সম্বন্ধ আসিয়াছিল; কিন্তু তিনি বি-এ পাশ করিয়া উপার্জ্জনক্ষম না হইলে বিবাহ করিবেন না প্রকাশ করায়, তাঁহার পিতা সমস্ত সম্বন্ধ প্রত্যাখ্যান করিয়াছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর সমস্ত সংসারের ভার তাঁহাকে নিজ স্কন্ধে লইতে হইল, তিনি উপার্জ্জনে নিযুক্ত হইলেন। এই সময়ে তাঁহার বিমাতা তাঁহাকে এক দুরাশার ফাঁদে ফেলিবার চেষ্টা করিলেন। বিমাতার বিবাহযোগ্যা এক পরমাসুন্দরী ভ্রাতুষ্পুত্রী ছিল। তিনি ভাবিলেন, পতি অর্দ্ধেক সম্পত্তি কাবিন স্বত্বে তাঁহার প্রাপ্য হইয়াছে; এক্ষণে ভ্রাতুষ্পুত্রীকে নুরুল এস্লামের সহিত বিবাহ করাইয়া অপরার্দ্ধ সম্পত্তি সেই কন্যার নামে লিখাইয়া লইবেন, তাহা হইলে প্রকারান্তরে সমস্ত সম্পত্তি তাঁহারই আয়ত্তে আসিবে, তিনি সংসারের কর্ত্রী হইয়া সুখে কাল কাটাইবেন। এইরূপ দুরাশায় প্রলুব্ধ হইয়া তিনি অগৌণে নুরুল এস্লামের সহিত স্বীয় ভ্রাতুষ্পুত্রীর বিবাহসম্বন্ধ উত্থাপন করিলেন। নুরুল এস্লাম এ প্রস্তাব শুনিয়া জনৈক প্রবীণ আত্মীয় দ্বারা বিনয়সহকারে মাতাকে জানাইলেন,Ñ“আমি আপাততঃ বিবাহ করিব না, আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রীকে অন্যত্র সৎপাত্রে বিবাহ দিউন।” পিতা যে বংশে কাবিন দিয়া নগদ অজস্র অর্থাদি ব্যয় করিয়া বিবাহ করিয়াছেন, মুরব্বী-হীন নুরুল এস্লাম সেই উচ্চকুলোদ্ভবা সুরূপা পাত্রীকে বিবাহ করিতে অসংকোচে অম্নান বদনে অস্বীকার করিলেন। ব্যাপার সহজ নহে, কিন্তু আমাদিগের অনুমান হইতেছে, এই প্রত্যাখ্যানজন্য নুরুল এস্লামকে মর্ম্মঘাতী ক্লেশ ভোগ করিতে হইবে, অশান্তির দাবানলে হয়ত তাঁহার জীবনের প্রথমভাগ দগ্ধীভূত হইবে। যাহা হউক, তজ্জন্য আমরা নুরুল এস্লামকে এক্ষণে দোষী সাব্যস্ত করিতে পারি না। কারণ ভবিষ্যতের গর্ভে কি আছে, কে বলিতে পারে? ভবিষ্যৎ বড়ই দুর্গম! মানুষ, মানুষের পেটের কথা টানিয়া বাহির করে, বিজ্ঞানবলে তড়িৎ ধরে, আকাশে উড়ে, সাগরে ভাসে, পাতালে প্রবেশ করে, আবার মরা মানুষ জীবিত করিতে চায়; কিন্তু প্রত্যক্ষের অন্তরালে যে যবনিকা আছে, তাহা ভেদ করিবার কথা ধারণায় আনিতেও অক্ষম। নুরুল এস্লাম ত নগণ্য যুবক।
নুরুল এস্লাম বুঝিয়াছিলেন, সংসার জীবনের সুখের মূল, ধর্ম্ম অর্থ কাম মোক্ষের সহায়। পারিবারিক ধর্ম্মভাব ও প্রীতি-পবিত্রতা অশিক্ষিতা স্ত্রীলোক-সংসর্গে পাইবার আশা, মরুভূমিতে নন্দনকাননের সুখসৌন্দর্য্য ভোগের আশার ন্যায় দুরাশা মাত্র। আমরা বাহিরের অবস্থায় যত লোককে ধনী, মানী, গুণী, জ্ঞানী জানিয়া সুখী মনে করিয়া থাকি, ভিতরের অবস্থায় তাঁহাদের অধিকাংশ লোক প্রকৃতপক্ষে সুখী নয়, বরং নিরয়নিবাসী; পরন্ত তাঁহাদের অর্দ্ধাঙ্গিনীÑঅশিক্ষিতা সহধর্ম্মিণীগণই যে এই নিরয়-রাজ্যের প্রতিষ্ঠাত্রী তাহাও সুনিশ্চিত। এ নিমিত্ত অশিক্ষিতা রমণীর প্রতি তাঁহার বিজাতীয় ঘৃণা ছিল। তিনি আরও দেখিয়াছিলেন, এ দেশে যাঁহারা উচ্চকুলোদ্ভব বলিয়া অভিমান করেন, তাঁহাদের মধ্যে অনেকেই প্রাচীন আরবী-পারসী বিদ্যাশিক্ষায় একরূপ উদাসীন, অথচ আধুনিক পাশ্চাত্য-শিক্ষালাভেও সবিশেষ মনোযোগী নহেন; পরন্তু কেবল কুলের দোহাই দিয়া ধরাকে সরা জ্ঞান করেন। পারিবারিক স্বর্গীয় প্রীতি-পবিত্রতা ইঁহাদের মধ্যে বড় দেখা যায় না। ইঁহাদের ২/৪ জন আবার একাধিক বিবাহ করিয়া, সেই সুখ-শান্তির মূলে কুঠারাঘাত করিয়া থাকেন এবং নিজে সেই আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হইয়া জীবন্মৃতভাবে কাল কর্ত্তন করেন। এইরূপ দেখিয়া ঐ সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাবান্ ছিলেন না। তিনি নিজ পরিবারেই সংসারধর্ম্মের দ্বিবিধ অবস্থা সন্দর্শন করেন। প্রথমে দেখিয়াছিলেন, তাঁহার জননী জীবিতকাল পর্য্যন্ত অতি প্রত্যুষে উঠিয়া সর্ব্বাগ্রে তাঁহার পিতার প্রাতঃকৃত্যের আয়োজন করিয়া দিতেন, পরে তিনি নিজে ওজু করিয়া ফজরের নামাজ পড়িতেন, শেষে এক ঘণ্টা কোরাণশরিফ পাঠ করিয়া গৃহস্থালীর কার্য্যে মনোযোগিনী হইতেন এবং তাহা পরিপাটীরূপে সম্পন্ন করিয়া পিতার স্নানাহারের আয়োজন করত পথপানে চাহিয়া থাকিতেন। তিনি নীলকুঠি হইতে পরিশ্রান্ত-দেহে ঘরে ফিরিলে, মা তাঁহাকে বসিতে আসন দিয়া পাশে দাঁড়াইয়া বাতাস করিতেন। অনন্তর স্বহস্তে তাহাকে স্নানাহার করাইয়া শেষে চাকর-চাকরাণীদিগের আহারের তত্ত্ব লইতেন, পরে নিজে আহারে যাইতেন। পিতার স্নানাহারের পূর্ব্বে দিন কাটিয়া গেলেও মা আহার করিতেন না।
পিতার পীড়ার সময় মায়ের অবস্থায় দেখা যাইত, পীড়া যেন তাঁহারই হইয়াছে। জননীর জীবিতকালপর্য্যন্ত নুরুল এস্লাম সংসারের অভাব-অশান্তি কখন প্রত্যক্ষ করেন নাই। আবার তাঁহার জননীর মৃত্যুর পর বিমাতা যখন গৃহস্থালীর কর্ত্রী হইলেন, তখন তিনি দেখিতে লাগিলেন পিতার সেবাশুশ্রƒষার জন্য ডাক পড়িলে, কেবল চাকর-চাকরাণীরাই তাঁহার সন্নিহিত হইত; বিমাতা কেবল সময় সময় অভাব অভিযোগের কথা লইয়া পিতার নিকট উপস্থিত হইতেন। তাঁহার গর্ভজাত কন্যা ও নিজের সুখ-সুবিধা ছাড়া তিনি আর অন্য কোন দিকে নজর করিবার বড় অবসর পাইতেন না। মূল্যবান্ বস্ত্রালঙ্কার ও সুগন্ধি তৈলাদির জন্য তিনি পিতাকে অহরহঃ ত্যক্ত বিরক্ত করিতেন। তাঁহার গতি-বিধিতে, তাঁহার প্রত্যেক কথায়, তাঁহার প্রতিবিশ্বাসে কেবল আভিজাত্যের অভিমানই প্রকাশ পাইত। এই খেয়ালের বশে তিনি পিতাকে আন্তরিক ভক্তি করিতে পারিতেন না। প্রবীণ পিতা বিমাতার এই ভাব সবই বুঝিতেন এবং বুঝিয়া অনুতাপে দগ্ধ হইতেন; কিন্তু মুখফুটিয়া কিছু বলিতেন না। পিতা ১৪ দিনের জ্বরে প্রাণত্যাগ করেন; এই ১৪ দিন নুরুল এস্লাম ও তাঁহার ফুফু-আম্মা দিনরাত খাটিয়া তাঁহার সেবাশুশ্রƒষা করেন। এই সময় বিমাতা যে তাঁহার পরিচর্য্যা করেন নাই, তাহা নহে; কিন্তু তাঁহার পরিচর্য্যায় আন্তরিক অনুরাগ ছিল না। মৃত্যুর পূর্ব্বে পিতার যখন শ্বাসকষ্ট উপস্থিত হইল, ফুফু-আম্মা ফুকারিয়া কাঁদিয়া উঠিলেন, বিমাতাও পতি-শোকে শোকাকুলিত হইলেন বটে; কিন্তু তৎসঙ্গে লোহার সিন্ধুকের চাবিটীও হস্তগত করিতে ভুলিলেন না। বিমাতার ব্যবহারে নুরুল এস্লামের করুণ হৃদয়ে দারুণ আঘাত লাগিল।
এই সমস্ত কারণে বিমাতা স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া বিবাহের সম্বন্ধ উত্থাপন করিলে, নুরুল এস্লাম ভাবিলেন, ‘যে ঘরের এহেন বিমাতা, সেই ঘরে বিবাহের সম্বন্ধ, বিশেষতঃ পাত্রী সুন্দরী হইলেও অশিক্ষিতা।’ তাই তিনি অসংকোচে বিমাতার প্রস্তাব অস্বীকার করিলেন। তিনি আরও ভাবিলেন, বিবাহ যাবজ্জীবনের সম্বন্ধ! মানবজীবনের সুখ-দুঃখ অধিকাংশকাল এই সম্বন্ধের উপর নির্ভর করে; সুতরাং বিশেষ বিবেচনা করিয়া মনের মত শিক্ষিতা পাত্রী পাইলে বিবাহ করিবেন, নচেৎ করিবেন না;Ñএইরূপ সংকল্প করিয়া তিনি এ পর্য্যন্ত বিবাহ করেন নাই।