প্রতিহিংসার সিল

ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া
কিনতে কাঁপে দীল,
সেই ইলিশটা দিলেম দাদা
মজা করে গিল।

খাবার শেষে আমার দিকে
মারবি নাতো ঢিল?
পিরিতিটা চলবে জনম
থাকবে মনের মিল?

যদিওবা আমরা না পাই
তিল পরিমাণ তিল,
তোর দুয়ারে আমার বেলায়
থাকছে যতো খিল।

তোর প্রেমেতো মজছি দাদা
মজে মজে নীল,
আমার গায়ে কেমনে মারিছ
প্রতিহিংসা সিল?
……………………………………………

জুটি

ইলিশ রাঁধতে পেঁয়াজ লাগে
তাইতো সাপ্লাই বন্ধ,
ইলিশ পেঁয়াজ দু’য়ে খাবো
নে তোরা নে গন্ধ।

যাক না কয়দিন পেঁয়াজ বিনে
খাস না নুনে ঝালে,
নে বুঝে নে আটকাই তোদের
পাতানো সব জালে।

তোরটা নেবো ষোলো আনা
ছলে এবং বলে,
দেখ না তোদের দিই ডুবিয়ে
পাহাড়ীয় ঢলে।

চোখ বুজে সব নে মেনে নে
দাবার চালের গুটি,
বলবি মুখে এই আমাদের
কী না দারুণ জুটি!
……………………………………………

সর্বভুখা নবাব

কে খুলেছে লুটের দরজা
কে তুলেছে মাথায়?
লুটেরাদের ঠাঁয় দিয়েছে
রাজ ক্ষমতার ছাতায়?

কে খেয়েছে ডেসটেনিটা
কার যে এতো খিদে?
শেয়ার বাজার নষ্ট হলো
কোন অসুরের জিদে?

কে খেয়েছে হলমার্কটাও
ব্যাংক রিজার্ভের টাকা?
কোন হনুমান করছে অচল
অর্থনীতির চাকা?

কে খেয়েছে পদ্মা সেতুর
প্রাক প্রাথমিক পুঁজি?
কোন খাদকে গিলে খাচ্ছে
আমজনতার রুজি?

কারবা কাছে চাইবে জাতি
এই সওয়ালের জবাব,
জাতির ঘাড়ে বসছে চেপে
সর্বভুখা নবাব।

এই নবাবের জুলুম ফাঁদে
যায় কেঁদে যায় সবে,
ওগো মহান আল্লাহ তুমি
মুক্তি দিবে কবে?
……………………………………………

জুট পিরিতি

ওই ইন্ডিয়া শোনে রেখো
ফেনী নদী আমার,
কেন যে তুই ভাগ বসালি
বিশ্ব ইতর চামার।

দিলি না তুই তিস্তা নদীর
একটা ফোঁটা পানি,
তোরা যে এক শোষক জাতি
আমরা তাহা জানি।

নেবার বেলায় ষোলো আনা
দেস না কানাকড়ি,
উলটো তোরা ঠিক-ই পাঠাছ
লাল ইয়াবা বড়ি।

লুটে পুটে খাওয়া তোদের
ঘোষিত এক নীতি,
বীরবাঙালী ভাঙবে ঠিকই
নোংরামো এই রীতি।

সেবাদাসে ভর করে যে
নিচ্ছিস দেশটা লুটে,
খোদার গজব পড়বে ঠিকই
জুট পিরিতির জুটে।
……………………………………………

তোমার মুখে লাগাম ছিলো

রাজনীতিবীদ ঘুমাও তুমি
মরুক দেশের ছেলে,
প্রতিবাদী আটকে থাকুক
চার দেয়ালের জেলে।

দুধ কলা আর ঘিয়ে ভাতে
ভরুক তোমার থালা,
লোভাতুর ওই মুখে ঝুলুক
চাবিবিহীন তালা।

ঘুমাও তুমি খুব আরামে
ঘুমের দাওয়াই খেয়ে,
দেশটা শুদ্ধ বেচে দিলে
থেকো কেবল চেয়ে।

ঠিকাদারীর ভাগটা নিও
গোপন আঁধার রাতে,
দেশের মাটি লিজে থাকুক
স্বৈরাচারীর হাতে।

কাঁদলে তরুণ দেশজনতা
কী আসে যায় তাতে?
মাসোয়ারার ভাগটা পাচ্ছ
দালালির সব খাতে।

স্বৈরাচারের লাল ছড়ি’টায়
দেখবে নিজের পালা,
বলবে সবাই হাত তালিতে
নে মজা নে শালা।

তোমার ডাকে আসবে না কেউ
থাকবে না আর পাশে,
তোমার মুখে লাগাম ছিলো
দেশের সর্বনাশে।
……………………………………………

আগে বাঁচুক দেশ

গদি তোমার রাখতে ধরে
দেশ দিওনা বেচে,
পাকহানাদার তাড়িয়েছি
রক্তনদী সেচে।

এক জালিমে খাইছে লুটে
দেশের যতো মাল,
নব্য জালিম বিছিয়ে রাখে
নবফাঁদের জাল।

নবফাঁদের জাল বিছিয়ে
আঁটছো যতো ফন্দি,
কোন কারণে এত পিরিত
করছো এতো সন্ধি?

করছো যতো চুক্তি ততো
পেলাম আদৌ কিছু?
বোকার মতো ঘুরছি ততো
মরিচিকার পিছু।

রক্তে কেনা দেশটা আমার
পড়ে চুক্তি ফাঁদে,
ষোলো আনা দাদায় দিয়ে
নিরবে তাই কাঁদে।

শাসন ভার আর দাপট বলে
দেশ করো না শেষ,
লাভের সুচক লাগবে না’যে
আগে বাঁচুক দেশ।
……………………………………………

সেবাদাসের পরিণতি

দেশ মসনদে থাকে যদি
সেবাদাসের কেউ,
সেই জমিনে উঠবে কেবল
দীর্ঘশ্বাসের ঢেউ।

ঘরের চেয়ে পরের দরদ
বাড়বে দিনে দিনে,
অসম সব করবে চুক্তি
কোনো ফায়দা বিনে।

দেশের বারো বাজুক তবে
কী আসে যায় তাতে?
দাসেরাতো থাকছে বেঁচে
দুধকলা আর ভাতে।

অনায়াশে কাঁদবে জাতি
নিরব চোখের জলে,
মরবে সেথায় ধুঁকে ধুঁকে
সেবাদাসের ছলে।

বাড়বে কেবল জনমনে
দুখ যাতনার রেখা,
সব পলকে মিলবে সেথায়
মির্জাফরের দেখা।

ঘষেটিরা হাসবে দেদার
নোংরা ঘোমটা খোলে,
আলেমরাও তাল বাজাবে
সেবাদাসের ঢোলে।

বলবে কথা জালিম সুরে
থাকবে জুলুম ভয়ে,
গোঁজামিলে ছাড়বে বয়ান
নয়ে এবং ছয়ে।

দেশজনতা আটকে যাবে
কুটিল যতো ফাঁদে,
উঠবে কেঁপে রবের আরশ
করুণ আর্তনাদে।

জুলুম যখন ষোলো আনায়
ভরবে গোটা দেশে,
ত্রাণ কর্তা কেউ ঠায় দাঁড়াবে
তিতুমীরের বেশে।

ভেঙে দিবে সেবাদাসের
বিষেল দাঁতের চুমি,
দোসর কবল মুক্ত হবে
প্রিয় জন্মভুমি।