জলকেলি

শব্দের ভিতর শব্দ ঢুকে যায়
বুকের ভিতর নীল চোখ,
ঘুমন্ত আকাশে হাঁটি শুধু হাঁটি
মায়াবী রৌদ্রের পথে ধুলোজল বৃষ্টিতে।
মুখোমুখি চড়ুইয়ের পিঠে শামুক চুম্বন
কুর্নিশে হাঁটে ঠোঁট
পিচ্ছিল পথে নেশাখোর কুহকের পায়চারী
নিত্যদিনের অসুখ।
চাঁদের ঝরণায় জিহ্বার হাঁটাহাঁটি,
জলকেলিতে নূপুর;
নদীর নিকট পাথরের গলন্ত
শরীরের হাজার দুপুর।
পাপিনীর পেচানিতে উড়ন্ত
ফুল পাখির দোল,
শিকড়ের ডুবন্ত খোঁজে
বাজে তাকডুমা ডুম ঢোল।
……………………………………………

খেলা

এখন মানুষের মৃত্যু হয়
দিনে-রাতে-দুপুরে, ঘণ্টায় ঘণ্টায়;
নৃত্যকলার পোষাকের মত
মৃত্যু মানুষের খেলা, রাষ্ট্রে-সমাজে, ঘরে-ঘরে।
রুদ্ধ, পথ-পাঠশালা বিজয় মিছিল,
দৈত্যের কিলবিলানী গ্রাম-গঞ্জেও;
পৌষের আঁধার হিমঘরে গণতন্ত্র,
জীর্ণ মানুষের সমুদ্র কাঁপন।
চলো, জীবনটাকে ডিলিট করে
লাশের সাথে আকাশে উড়ি,
নীলাকাশে মরণাস্ত্র হয়ে সবুজ ভূমিতে হুমড়ি পড়ি।
……………………………………………

স্বপ্নহীন

শীতময় রাতে মেঘের ঘোলা আগমন,
পৌষচিন্তা থামেনি যৌবনবতী শরীরে;
অসুস্থ জোছনা উঁকি দেয় বিছানায়,
স্নিগ্ধ-স্বর্গ স্যাঁতস্যাঁতে নদীতে জেগে ওঠে।
সোনা রোদে হেঁটে হেঁটে সেলফি চাঁদ,
মেঘে মেঘে আজ দাহচ্ছল অবসাদ।
ঘোলা জলে আজ বিজয়ের মিছিল,
খোলা আকাশে আজ প্রেমবিরহ শিথিল;
উষ্ণ আঁধারে ব্যস্ত মখমলের স্বাধীনতা,
জীর্ণ কুঠিরে স্নানেও জেগে ওঠে পরাধীনতা।
……………………………………………

ছায়াময় পতাকা

কখন কিভাবে তোমাকে দেখেছি
তা তো আর মনে নেই,
তবে বিষণ্ন মুখ আর মায়াবী চাহনি
আমাকে সব সময় তাড়া করে।
চাঁদনী রাতও মেঘলা আকাশ হয়ে
বহু বছর ধরে বয়ে যায় হৃদয়ে।
এখানে ঘুঙুরের শব্দ নেই, নেই ঝলমলে জোছনা;
আছে জলজোছনা শান্ত পুকুরে;
নীরবে নিভৃতে আজও হেঁটে চলে হৃদয় জুড়ে
মুগ্ধতা রেখে যায় বিরহ সুরে।
খুব কাছাকাছিই, কখনও মনে হয় না দূরে,
শূন্যতায় মনে হয়, রক্তের ছোপ ছোপ আমেজ
রেখে গেছো সবুজে অথবা পথে পথে।
জীবনের ছোঁয়াতে কী যেন মসৃণ অথচ মলিন
এবং মায়াবী এক গল্প হয়ে উড়াল দেয় ভিতরে ভিতরে,
সমর্পণ করি স্মৃতির পরিধি দেখে,
নীল যমুনায় অথবা আকাশের সীমানায়
হাঁটি শুধু হাঁটি
চাঁদময় গহীন জঙ্গলে জঙ্গলে…
……………………………………………

হীমঘরে

কষ্টগুলো ফ্রীজেই থাকুক,
থাকুক বিন্দু ঠোঁটের রেখে যাওয়া মুগ্ধতা।
হাসিভরা গোলাপ
পাপড়ি চোখের ঘুমানো অনুভূতিগুলো
হীমঘরেই থাকুক;
রেখে যাওয়া ছোট্ট জীবনটা
কাছে থাকার মুহূর্তগুলো।
অঙ্গীকার গুলোর বাস্তবায়ন চাই,
চাই প্রথম স্রোতধারার তরতাজা অভিমানটুকু;
তাই পবিত্র কষ্টগুলো পুষে রাখি
অন্তত জীবনে প্রবেশ করে
জীবন তো চাই শুধু তোমাকেই।
……………………………………………

সাঁতার

স্বপ্নগুলো প্রত্যাশা হয়ে স্পন্দনে ঘুরপাক খায়,
ব্লাকহোল থেকে বেরিয়ে উঁকি দেয় শৈলপ্রবাহে।
আঁধারের স্ফুলিঙ্গ ছুঁয়ে ব্যাঙাচি সাঁতার কাটে সূর্যের কোলে খেলতে খেলতে;
অমানিশার ঘোরে উচ্চস্বরে ডানা ভাঙে নীলস্বপ্ন পাড়ি দিতে
নিদ্রাহীন নিস্তদ্ধ লড়াইয়ের মাঠে, জেগে থাকে কষ্টের বিস্ময়।

গদবাঁধা ফ্রেম ভেঙে, শ্রাবণচেতনা টপকাতে চায় জলপ্রপাত;
আষাঢ়ে স্মৃতির মুখে আগুন জ্বেলে, চাঁদমুখের চাহনিতে খেলতে সাঁতার।
পলিদ্বীপে গাঙশালিকের আনাগোনা দেখতে
আকাশের বুকে সাতরঙা ছবি আঁকতে
জোছনালোয় অবাধ সাঁতার কাটতে
প্রশান্ত স্বপ্নে বল্গাহীন তরী বাইতে
এ পথচলা
এ লড়াই করা।
……………………………………………

প্রহর

নিঃসঙ্গতার রাত, ভোর হতে অনেক দেরি;
তাই অপেক্ষার চাঁদ হেটে চলে বায়বীয় আবহে;
হীমশীতল নীরবতা, নীল আকাশের শূন্যবুক;
খসে খসে পড়ে উত্তরীয় নগ্নতার ব্রা।
চঞ্চল উরুতে জোছনা ঝরে গণতন্ত্রের শরীরে,
রাজধানীর বুকে তারকার আত্মহুতি অবিরত।
বাতাসের গা ঘেঁষে হারায় অসংখ্য তারকা,
খুঁজে পায় না মার্কসবাদী বাহিনী।
জীবনের গতি যে ভোগবাদীতায় ভরা,
তাই বিলীন হয় সাধের পানিতত্ব,
ক্যানেলে বয়ে যায় স্রোতধারা, নামে কোথায় জানে না স্রষ্ট্রা।
শব্দগুলো হারায় সমুদ্র ঠিকানায়,
বর্জগুলো ভোগ করে বিচ্যুত নীলের বাসিন্দারা;
গুম হয় মুক্তনদী, উন্মুক্ত বাতাস;
মৃত্যসবুজের মিছিল অপেক্ষার প্রহরে।