কোভিড-১৯ কে কেন্দ্র করে সারা বিশ্বে যে যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তার প্রেক্ষিতে অতি গুরুত্বপূর্ণ সুত্র হচ্ছেঃ নিজে আতঙ্কিত হবেন না এবং আতঙ্ক ছড়াবেন না। আপনার চালচলনও যেন অন্যের আতঙ্কের কারণ না হয়।
যুদ্ধের একটি বড় শর্ত হচ্ছে, প্যানিকড না হওয়া এবং প্যানিক না ছড়ানো।
প্যানিকড বা আতঙ্কিত হলে কি হয়?
আতঙ্কিত ব্যক্তি অস্থিরচিত্ত হয়, সুস্থির হতে পারে না। সুস্থির না হলে ঠাণ্ডা মাথায় নিষ্কৃতির পথ খুঁজে বের করা যায় না! যদি কোন অবস্থা থেকে পালাতেও হয় তাহলে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করতে হবে এবং সাহসের সাথে তা কার্যকর করতে হবে। কেউ অস্থির হলে ভুল পদক্ষেপ নেয়, নীরবতা ভঙ্গ করে এবং ধরা পড়ে যায়।
এবার বলি, করোনার হাতে ধরা পড়লে কি হবে? নিশ্চিন্ত থাকুন, খুব খারাপ কিছু হবে না।
কেন এভাবে বলছি? তাহলে পুরো পৃথিবীর সবাই ভয় পাচ্ছে কেন?
কারণ, অতিরিক্ত কথাবার্তা হচ্ছে মিডিয়াতে! বিশ্বযুদ্ধগুলোতেও এতো ব্যাপকভাবে তাজা খবর, নানা তথ্য-উপাত্ত, বিশ্লেষণ এবং ছবি সহ ঘটনার বিবরণ প্রচারিত হয়নি। এখন, মিনিটে মিনিটে মৃত্যু ও সংক্রমনের খবর আসছে। পেনিক ছড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াও। সব খবর আপনার জানার দরকার নেই। সুস্থির থাকার জন্য বরং এ থেকে দূরে থাকুন।
ধরুন আপনার করোনাভাইরাস ধরা পড়ে গেল, আপনি আক্রান্ত হলেন, বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলো। আপনার কি মৃত্যু অনিবার্য?
না। একথা কেউ বলছে না যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যু অনিবার্য। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র শতকরা ২ ভাগ। সুতরাং আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, এজন্য যে পৃথিবীতে আরো অনেক রোগ আছে যাতে মৃত্যুর হার, এমনকি দৈনন্দিন ট্রাফিক অ্যাকসিডেন্টের হারও, এর চেয়ে বেশি।
আতঙ্কের আরেকটি কারণ এই যে, এই রোগটি নতুন এবং এর কোনো প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। এর কোন চিকিৎসা আমাদের চিকিৎসকদের কাছে জানা নেই। তাই নানা জন নানা রকম চিকিৎসার সুপারিশ করছে, এমনকি স্বপ্নে-পাওয়া চিকিৎসার কথাও মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। কিন্তু ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে যে, ব্যাপক কোন চিকিৎসা নয় শুধুমাত্র বিশ্রাম, গরম পানি বা গরম চা পান এবং সতর্ক হয়ে চলার মাধ্যমে এই রোগ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই এভাবে মারাত্মক কোনো চিকিৎসা ছাড়াই বাড়িতে বসেই সুস্থ হয়ে গেছেন।
আশা করি, এখন আপনার আতঙ্কের কারণটা অনেক হালকা হয়ে গেছে।
এবার আসুন কিছু বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলি। সারা পৃথিবীতে করোনা ভাইরাস নিয়ে এত হৈ হৈ রৈ রৈ কান্ড হচ্ছে কেন?
কারণ, এই রোগ অপরিচিত এবং সবচেয়ে ভয়ের কারণ হচ্ছে এটা অতি দ্রুত মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ এটাকে বহন করে এবং সংক্রমিত মানুষ নিজের অজান্তেই অন্যকে সংক্রমণ করে, অন্যদের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়। মাত্র বিগত দুই মাসে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর দুই শতাধিক দেশে। যারা এই ভাইরাস ছড়ায় তারা নিজেরাও জানেনা যে তারা ভাইরাস বহন করছে! শুধুমাত্র এই ব্যাপারটাকে নিস্তেজ করার জন্য অর্থাৎ এর সংক্রমণ প্রক্রিয়াকে ধীরগতি করার জন্য লকডাউন এর ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলোঃ আপনি কি শতকরা দুইজন যারা মৃত্যুবরণ করে তাদের একজন হতে চান?
অথবা, আপনি কি চান আপনার জন্য আপনার পরিবারে যারা বয়স্ক ব্যক্তি আছেন, আমাদের পরম শ্রদ্ধার মানুষগুলো, তাদের মৃত্যু হোক?
কারণ, আপনার অজান্তে আপনি যদি বাইরে থেকে এই ভাইরাস বহন করে ঘরে নিয়ে আসেন তাহলে আপনার প্রিয়জনরা সবাই এতে আক্রান্ত হবে এবং সবচেয়ে আশঙ্কা দেখা দিবে আপনার পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের জীবন নিয়ে!
তাই, প্রয়োজন হলো কমপক্ষে ১৪ দিন নিজেকে সবার থেকে আলাদা রেখে পরীক্ষা করে দেখা যে আপনার শরীরে এই ভাইরাস আছে কি-না? যদি না থাকে আপনি ঘরের ভেতর সবার সাথে চলাফেরা করুন, কিন্তু যেখানে জনসমাগম হয় অপরিচিত ও ইচ্ছেমত ঘুরে বেড়ানো লোকদের সেই সব স্থান যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।
কিছুদিনের মধ্যেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। কিন্তু আপনি যদি এখন সেই নিয়ম ভঙ্গ করেন তাহলে আপনার চলাফেরায় অন্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়বে! সেটা থেকে আপনি নিজেকে মুক্ত রাখুন। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, আল্লাহ আমাদের সবাইকে রহম করুন।

মিরপুর, ঢাকা; ৩১.৩.২০২০