তোমার হাসি

তোমার হাসি, তোমার প্রেমে, পড়ে যাবার কারণ।
তোমার হাসি, আবার একি, অপার সুখের কারণ।
তুমি হাসো, বলেই আমি, তোমায় ভালোবাসি
তুমি হাসো, বলেই আমি, তোমার সাথে হাসি

তোমার হাসিতে যে মুক্তো ঝরে
রাজা হবো আমি, তোমার সেই হাসির মুক্তোতে
তোমার হাসিতেই, খচিত হবে আমার রাজমুকুট
হয়ে যাবো তোমার মন-সাম্রাজ্যের, একচ্ছত্র অধিপতি।

তোমার হাসিতে, আমি জীবন ফিরে পাই
তোমার হাসিতে, নিজেকে নিজেই হারাই
তোমার হাসিতে, গড়বো ছোট এক প্রবালদ্বীপ
বিশাল সমুদ্র মাঝে,
যেখানে
তোমার হাসিতে, বানাবো প্রেমের তাজমহল
তোমার হাসিতে, ভাসবে সুখে আমার অন্দরমহল

তাই তুমি হাসো, প্রিয়তমা, হাসতে থাকো, হও আমার জীবনজল।
…………………………………………..

প্রকৃতি কন্যা জাফলং

রূপে অপরূপ তুমি কেড়েছ শত ভ্রমন পিপাসুর মন,
সাদা পাথরের সাথে মিঠা জলের কি অদ্ভুত মিলন।
জলকেলি সারাদিন কতোজন আসে কতোজন যায়,
মধুর আলিঙ্গনে কেমন মিশে সব জলস্রোত ধারায়।

উঁচুনিচু সীমানার পাহাড় যেনো ঢাকা সবুজের বুকে,
পাহাড়ের ঝর্ণাধারা যেনো সুর তুলে নিরালায় সুখে।
স্বচ্ছ জলের সাথে মিলেমিশে জলকেলি করি খেলা,
মিষ্টি হাসি দুষ্টু খেলায় কেমন দ্রুত চলে যায় বেলা।

পাহাড়ের ফ্রেমে ছবি তুমি বিধাতার নিজহাতে আঁকা
মনকাড়া রূপ যেনো তোমার সবুজের রঙ মাখা।
ঝর্ণার জলে গা ভিজিয়ে দেখি এক সুন্দরি রমণী,
তোমার রূপে হারাতে চাইছে যেনো চঞ্চলা হরিণী।

অনেকে দেখি নৌকায় চড়ে ঘুরে তোমার স্নিগ্ধ জলে
এমন প্রেমের বাধনে জড়ালে তোমার আচল তলে।
রূপসী কন্যা গো তুমি ধারণ করেছ বহুরূপের খনি,
মনোহারিণী তুমি বঙ্গ ললনা পিরিতের বংশীধ্বনি।
…………………………………………..

স্মৃতি

দিনগুলি লিখা আজও স্মৃতির খাতায়,
বারবার উকি দেয় মন অতীতে,
যেন বসে আছি ঘাসময় পতিতে,
একে একে কড়া নাড়ে প্রতিটা পাতায়।
যখন এসেছিলো প্রেমের প্রভাত,
আকাশও হেসেছিলো খুসিতে,
হৃদয় দুলিত তার মুচকি হাসিতে,
তবুও সয়েছে জীবন অনেক আঘাত।
স্মৃতি তাই আজও জেগে হৃদয় মাঝে,
অপেক্ষা আগামির নতুন দিনের,
আওয়াজ আসিবে কানে সুখের বীণের,
সাজিবে জীবন সুখের স্বর্ণ সাজে।
…………………………………………..

মরণের পর

জানি কোন একদিন বন্ধ হবে শ্বাস
তখন পরিচয় হবে আমি এক লাশ।
প্রিয়জন কাঁদবে কাঁদবে বংশধর,
তাড়াতাড়ি খোঁড়া হবে আমার কবর।

ছেলে মেয়ে বউ কেউ সাথি হবেনা
বিত্ত বৈভব কোন কাজে লাগবেনা।
যদি কাজে আসে কিছু তা নেক আমল,
মরণের পরে হবে এটিই আসল।

ছেড়ে যেতে হবে সব জীবনের অর্জন,
ঘর হবে তোমার আমার কবর নির্জন।
কতো হাসিখুসি আর কতো বন্ধুবর,

কতোজনে মনে রাখে মরণের পর।
…………………………………………..

মন খারাপের সময় আমি দেখবো তোমার মুখ

ওগো আমার প্রিয়তমা,
তুমি আমার সুখ।
মন খারাপের সময় আমি,
দেখবো তোমার মুখ।
জীবন আমার তোমার লাগি,
প্রতিদিন যে আশায় জাগি,
দেখলে তোমায় ভুলি আমি,
জীবনের সব শোক।
মন খারাপের সময় আমি,
দেখবো তোমার মুখ।

তুমি আমার শুধুই আমার,
স্বপ্ন সুখের আশা।
কল্পনাতে সাজাই মোদের,
রঙিন ভালোবাসা।
কাছে তুমি আসবে যখন
দুটি আঁখির হবে মিলন।
তুমি আমার জীবন সাথী,
আশায় বাধি বুক,
মন খারাপের সময় ওগো,
দেখবো তোমার মুখ।

তোমার খোঁপায় দেবো বেধে,
রক্তজবা ফুল।
কানে তোমার পরিয়ে দেবো,
সোনার একখান দুল।
রাখবে আমার হাতে হাত,
আসবে তখন সুখের প্রভাত।
দুজন মিলে ঘর বাধিব
ভুলে সকল দু:খ,
মন খারাপের সময় আমি,
দেখবো তোমার মুখ।
…………………………………………..

ভালো লাগা

ভালো লাগে নীল আকাশ,
চাঁদ ভালো লাগে ।
ভালো লাগে তারা আর
উষা সব আগে।

ভালো লাগে ভ্রমর আর,
ভালো লাগে ফুল।
ভালো লাগে নদী আর,
ভাঙ্গা দুটি কূল।

ভালো লাগে মাঠভরা,
সোনা রং ধান।
ভালো লাগে বাউলের,
মন কাড়া গান।

ভালো লাগে রাখালের,
মধু সুর বাঁশি।
ভালো লাগে প্রিয়জন,
মিষ্টি মুখ হাসি।
…………………………………………..

চিঠি

আজও মনে পড়ে তোমার দেয়া প্রথম চিঠির হৃদয় কাপিয়ে দেয়া সংলাপ, আমি তোমায় ভালোবাসি।
বিশ্বাস করো সেদিন তেপথির মুখে তোমার চিঠি পাঠের পর যে হারিয়েছিলো মন তোমার প্রেমে,
সেই থেকে আজ অনেক বছর হলো
নিজেকে নিজের মাঝে খুজে পাইনা,
কি করে পাব বলো আমিতো তখনই
হারিয়েছি তোমার মাঝে সেই প্রথম চিঠির পর।
না ছিলো ফোন না ছিলো ইন্টারনেট
হোয়াটসআপ, ফেসবুক ছাড়াও
কেমন সুখময় ছিলো প্রেম,
ছিলো অদ্ভুত ভালোবাসার সমিকরণ।
জান প্রিয়তমা সেই চিঠিগুলিতে না
লাল লিপস্টিকে আঁকা তোমার
ঠোঁটের চাপ লাগানো অনুভুতিটা আজকালকার
ফেইসবুক হোয়াটসআপের কিস ইমোজিতে পাইনা।
কি বলো তুমি আমাদের চিঠিই ভালো ছিলো তাই না?
যে চিঠিগুলির সাক্ষী ছিলো শত পাখির কলকাকলি,
আর তেপথির সব সবুজ গাছগাছালি।
হ্যা তাইতো চিঠিই ভালো ছিলো না!
…………………………………………..

আমাকে চলে আসতে হলো

কোন এক তপ্ত দুপুরে পা রেখেছিলাম আরামবাগের স্মৃতিবিজড়িত পাঁচতলা ভবনে।
জানালার বাইরে দক্ষিণের উচু টিলা যেনো
আপন সুরে অভ্যর্থনা জানালো।
জবাবে পরদিনই টিলার উচু বুকে চড়ে
প্রত্যক্ষ করলাম সিলেট শহর।
টিলা থেকে পশ্চিমে শাহী ঈদগাহের মিনার
উচু মাথায় দাড়িয়ে,আর তার পূর্বে দাড়িয়ে
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুউচ্চ পানির ট্যাংক,
যেনো দুই দিগন্তে দুই বন্ধু শতাব্দীর সাক্ষী।
সকালে উঠে কলেজে যাওয়ার তাড়া বন্ধুদের ফোন,
সবকিছু রুটিনবাঁধা যেনো গতানুগতিক।
শীতের ভোরে আরামবাগ গলি থেকে শুরু
পঞ্চপাণ্ডবের ম্যারাথন দৌড়,
শূন্য রাস্তায় গায়ে মাখা ভোরের হালকা হাওয়া।
বিকেলের আড্ডা ছিলো ইকো পার্কের গরম পিঁয়াজু আর বেগুনির সাথে সজীবের হট টমেটো সস,
আড্ডায়, হাসি তামাশায়,ফোনের ক্যামেরায় একের পর এক সেল্ফি ক্লিক।
তারপর…
তারপর সেই দিনগুলি রেখে আমি চলে আসলাম,
আমাকে আসতে হলো।
…………………………………………..

উদ্যম

ব্যর্থতাকে ব্যঙ্গ করে জীবন নৌকোর পাল
টাঙাতে হবে,ভয় নয় হবে জয় দুরাশার মেঘ
একদিন কাটবেই।
আশায় জীবন হতাশা নয় হাল ধরা চাই
কঠোর হস্তে সুফল আসবেই।
দুর্বার গতিতে দিতে হবে পাড়ি কঠিন পথ
বুকে হাত রেখে আজ করে নাও শপথ ।
ব্যঘ্র বলে যদি হয় বলিয়ান হৃদয়,
ডিঙ্গি নৌকায় সমুদ্র পাড়ি দেওয়াও
অসম্ভব কিছুনয়।
নব উদ্যমে সাজিয়ে নিতে হবে নিজের জীবন,
দূর্গম পথে চলতে হবে যতক্ষণ না আসে

সফলতার সূর্যকিরণ।
…………………………………………..

অপেক্ষা

অপেক্ষায় আছি তোমার,
ওহে অনাগত রেল।
কবে নিতে আসিবে আমায়,
বাজাইয়া পিরিতের বেল।