মেঘ

ওরে উত্তরী মেঘ
কতবার ঝড় হয়ে
বিদীর্ণ করে দিবি
এই বিশাল পৃথিবী বক্ষ।

কত ঝড়ের তান্ডব নৃত্যে ভাসাবি
তার ছোট্ট ঘরের ছাউনি
সে যে ডুবে যাবে
তোর অথৈ জলের তরঙ্গে।

তুমি এখন অন্ধকারের
নরম মাটির দেহের স্বপ্ন ভাঙো,
মিশে যাও মহাপ্লাবনের দুরন্তপনায়,
ঢেউয়ে ঢেউ হয়ে উড়ে যাও
বাতাসের চুম্বনের আঘাতে,
আর আমি হই ঐশ্বর্যের প্রেমিক সত্ত্বা।

আমার বহতা রক্তে এখনো খেলে যায়
নায়াগ্রা জলপ্রপাতের
বুকচেরা উষ্ণ কবিতার শব্দের আঘাত,
অশান্ত বাতাসের বুকে আমি দেখি
পৃথিবীর কষ্টের আঘাতের চিহ্ন।

এই বুনো জীবনটা বিদ্যুতের মত ছুটে চলে
মহাবিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে
কোথাও কিনারা নেই জীবনের
কখন জাগিবে নক্ষত্রের প্রদীপ
পুড়িয়ে দেবে এ দেহের ভাস্কর্য
জীবন ছিঁড়ে গেছে অরণ্যের দাবদাহে
পুষ্প তার নিজস্বতা হারিয়ে ফেলেছো
ঝরে গেছে সবুজ রঙের আবরণ।

প্রকৃতি এখন নিঃশব্দের ব্যথায় আড়ষ্ট
মুহ্যমান একটি প্রিয় সময়ের অপেক্ষায়
নিরাশার দীর্ঘশ্বাসে,
হলুদ পাতা ঝরার বিমনা বিরহী বাতাস গায়ে মেখে সময় ভেসে যাবে
সত্য বাক্যের মুখোমুখী দাঁড়ায় সে
জীবন যেন প্রার্থনার আবেশে ফুটে উঠে
সত্যকে আলিঙ্গনের অস্থিরতায়।

আয়ুর সময় আর ফেরাতে চাই না প্রার্থনায়, বিদায়ের প্রয়োজনে
মিলনের সময় তোমাকেই চাই,
যে সত্যের সাক্ষী করেছ
মুঠোবদ্ধ কষ্টের ধমনীর ধ্রবতারায়
স্থিরতার প্রয়াসী এ আমার আত্মার সুখ
পৃথিবী প্রেমিকের মত শেষ আশ্রয়
গভীরে চেতনার
নিঃসূর্য এক মিলনের আশ্রম।
…………………………………………..

দগ্ধ প্রেম

হতে পারি গল্প,
যদি তুমি অঝোর ধারায়
বিশ্বস্ত বৃষ্টির দহন দাও।
কারো চোখের নীল যমুনায় ভাসতে পারি।
আকাশের ঐ অজানা ঠিকানায়
ভেসে যেতে পারি মৃত্যুর হাতের ছোঁয়ায়
যদি তুমি বিশ্বাস দাও।

আকাশ কি জানে,
মেঘের গর্জন
কতটা তীব্রতা ছড়াতে পারে তার জীবনে,
শ্রাবণ এলেই এতটা অস্থিরতা কেন
তা কি কেউ জানে,জানে না তো
জানবেও না, কেননা
মেঘ যে নীল ছাউনি পৃথিবীর বুকের মাঝে
কখনই বাসা বাঁধে না রাত্রির গভীরে,
উড়ে যায় কোন দূরে বর্ষণের আঘাত দিয়ে।

কে জানে গভীর রাত্রির নীরব বেদনার উষ্ণতায়
কতটুকু ক্ষরণ ঝরে,
ইচ্ছে হলে বারান্দার গ্রীলের হাতে হাত রেখে
ঘুরে আসতে পারো রাতের গভীরতা ভেদ করে
বেদনার মত যত দূরে ছড়াতে পারো জলে ভেজা
দৃষ্টির সীমানায়।

কত রাত এভাবে আকাশের নীরব সখ্যে
ভেসে বেড়িয়েছি নিঃসঙ্গ সময়ের হাতে হাত রেখে
সে বেদনার কথা জানে ঐ শুকতারা
কি মধুরতায় মাঝে মাঝে ভেসে গেছি
হৃদয় প্রপাতে, কেউ জানে না,
আমি জানি আর সে জানে।

মেঘলা বাসনা ছুঁড়ে দিয়ে উড়ে গেছে
কত আনন্দ, কত সখ
তারাদের আড়াল করে
টপটপ শিশিরের বেদনার শুভ্র তুষারে
ঢাকা পড়েছে
আদরের একমাত্র উপায়,
তারাদের মাঝে নিজেকে ভেবে ভেবে
গড়িয়ে গেছে কত আহ্লাদী সময়।

নীল আকাশের দেহের মাঝে পড়ে থাকে মন
একাকিত্বের কি মায়া,
তা জানে কেবল উড়ে চলা শুভ্র মেঘ
তার দাঁড়াবার সময় নেই
বড় ক্লান্ত, কান্নার মানে বয়ে বেড়ায়
আবার ছুটে চলা সঙ্গীহীন একা।
…………………………………………..

চুপ

সেদিন–
ঝরা পাতাও আমায় দেখে চুপ হয়ে গেছে,
তুমি ঘুমিয়ে গেছো
আমি আর জাগাতে পারিনি।
ভোরের বেলায় শুকনো দুঃখ
পানিশুন্যতার মত মনে হয়েছিল
ঝরা পাতার খসখস শব্দের ভাঙনে
দুপুরের পাতা কুড়ানো মেয়েটির সাথে
তার কি কথা হয়েছে?

তা ছিলো বুকে জমা বৈশাখী ঝড়
যে বিশ্বাসের আশায় বাঁচে মানুষ
তার বিন্দু বিন্দু জমিয়ে রাখা
আশ্বাস আর বাস্তব হলো না।
মনের বহ্নি দীর্ঘশ্বাস নিংড়ে
ভিজিয়ে পাত্রে পাত্রে
অন্তত দহন জিইয়ে রাখি
নিঝুম রাত্রির নীল গায়ে।

মনের সাথে জীবনের এক অদ্ভুত সম্পর্ক
যা হিসেবের খাতায়
লাবণ্যের মত ধরে রাখে
ফাল্গুনের ভোর।
তুমি বলেছিলে
এই অরণ্যের পথে পথে
হেঁটে যাবে বহুদূর,
আজ আর কোন শব্দের চিহ্নই খুঁজে পেলাম না
শুধু বৈরী বাতাস আসা যাওয়া করে
পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে
অন্য প্রান্তে।

অরণ্যও বিলাপে গড়লো বহতা নদী
আর তুমি ছিলে আজন্ম চুপ।
…………………………………………..

কন্যা

এই প্রকৃতি এক
হৃদয়ের জলে ভেজা কন্যা,
সে অহরহ নীল জলের আঁচড়ে লিখে যায়,
কাজলের গভীর প্রলেপ
নদীর নিঃশ্বাস
প্রশ্নের পেরেক ঠুকে দেয়
মনের গহীনে।

মনের অপ্রকাশের ভার
নিঃশব্দে মোড়া এই পৃথিবীর শরীর
এখানেও জীবনের মৃৃদু ছন্দের মুর্ছনায়
ঢেউ তুলে কূলে ফেলে যায়
কিছু আশার বৈভব।
ঐ সমুদ্রপারে ডুবে যায়
পৃথিবীর প্রশস্ত কপালের লাল টিপ
দিনের আলো ভেঙে পড়ে
রাত্রির জোছনার মোহে,
এ যেন সোনালী চাদরে মোড়া
কুমারী কন্যার উদাম উজ্জ্বল বিস্ময়

বড় বড় ঢেউ তুলে
ফিরে আসে কিছু প্রণয়িনী শঙ্খচিল
মানুষের মনের শব্দগুলো
বিহঙ্গের রঙিন পাখায় ভাসে কাঁপা স্বরে
ইচ্ছের কিছু ভাসমান আনন্দে
স্বচ্ছ টলটলে জল যেন আমি
সেই কুমারী কন্যা।
এমন গভীর করে পেয়েছো কি ভালবাসার স্বাদ?
মুঠো ভরে তুলে নাও প্রেম,
পৃথিবীর রূপের ঐশ্বর্যের বাতি নিয়ে
ফিরে এসো,
অনাদিকালের গভীর রূপ স্নানে।
মানুষের মত

অরণ্যের দেহেও ক্ষরণ ঝরে,
কোন বর্ষা পীড়িত রাতে
তুমি ডুবে যাবে নীলিমায় শরীর ধুয়ে,
চিহ্ন থেকে যাবে নদী, সমুদ্র আর এই নীল শিখার
ঐ নক্ষত্রের আলোর পথে যেতে যেতে
মনে হবে
আমিও ছিলাম তোমাদের মত।

কতদিন সাক্ষাৎ নেই
রৌদ্র আর বাতাসের অদেখা ঘ্রাণের,
আকাশের তলে হেঁটেছি কতদিন
মাটি আর বাতাসের ঘরে বড় হয়েছি
ধুয়ে নিয়েছি আনন্দের জলে
কত কি!
আমি যেন এই
পৃথিবীর ফসলের সবুজ মেয়ে।
…………………………………………..

ফিরে এসো

আজ জোছনায় ভিজবো বলে
রাত্রির সব কৃত্রিম আলো
নিভিয়ে চলে এসো,
মাটির আবাস ছেড়ে।

হে প্রিয় অন্ধকার
এই নিয়ন আলো আঁধারির খেলায়
কাশফুলের যৌবন হয়ে যাক
তোমার বাতাসের নরম শরীর।

পৃথিবীর শরীরে যত্নে গড়ে ওঠা শুভ্র কলি
যেন হাওয়ায় ভাসে তোমার প্রেমাঞ্জলি
আমার হৃদয় অর্চনার মনভূমিতে
আমি ক্ষয়ে যাই তোমার শরীর ছুঁয়ে।

সীমানা হারা মেঘের কোল ঘেঁষে
উড়ে যায় দূর– বহু দূরে,
পিপাসু চোখ তার চৈত্রের দাবদাহে
পুরড়ে বিরান ভূমি,
এখন সে ভবঘুরে ঈশ্বরের
আদি ইতিহাস।

কতদিন ঐ কাশবনের ছায়ায়
আমরা মানুষেরা খেলার ছলে
হারিয়ে যেতাম,
সেই হারিয়ে যাওয়া আজও তেমনি আছে,
আর দেখা হলো না।

কতদিন চোখ বুজে ভেবেছি
আবার মাঝে মাঝে হেসে গেছি একা একা
রাতের গভীরে কষ্টের আনন্দে
কখন যে ঘুমিয়ে গেছি,
আজ আর তেমন মনে পড়ে না

আজ এই শ্রাবণের রাত্রির আকাশে প্রতিদিন
দেখা হয় নীল আকাশে
ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ,
উড়ে যায় কো থা য়
আর আমি একাই জেগে থাকি
রাতের গভীরে।
…………………………………………..

আমরা

আমরা এসেছিলাম
পাখায় পাখায় জোড়া বেঁধে
এই সেই ভালবাসার জলাশয়
প্রকৃতির সবুজ জঠরে।

তুমি মেঘ, আমি ছিলাম গাংচিল
তৃষ্ণার্ত অরণ্য ঘেরা জলাভূমিতে,
নিরাশার দীর্ঘশ্বাস নিয়ে কুয়াশায় হতাশ পথিক
পাতা ঝরার বিষন্নতায়
পৃথিবী পেয়েছে যেন এ দেহের
নতুন ফসলের ঘ্রাণ।

অন্তর ঘুমিয়ে গেছে
মৃত্যুর মত একা, বাতাস ফোঁপায়
কষ্টের আয়েসে,
আর ঐ ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ
গভীর রাত্রির বুকে ভাসে
কি এক নিঃসঙ্গ শব্দের ভাঙনে
কেউ আর ডাকবে না আমায়
এই পৃথিবীর জন্য
কিছুই শুন্য হবে না আমাকে ভেবে।

শালিকের পড়ে থাকা পুরনো বাসা ভেবে
হয়তো পায়ে মাড়িয়ে যাবে
তোমাদের অবহেলার মন,
অন্ধকারের নরম আলো ছুঁয়ে যাবে
আমার পৃথিবী,
আমাকে ভোরের কোল থেকে জাগিয়ে দেবে
দুরন্তপনার বাতাস
শ্রাবণের ধারার মত নতজানু হয়ে
দুহাত আঁচলে জড়িয়ে
করুণ শঙ্খধ্বনির মত ভেসে উঠবো
দূরের শব্দের মত।

এমনি এক নৈবেদ্য
নতজানু মেঘের দুরন্তপনায়,
ভিজে উঠি প্রেমের ঐশ্বর্যের কাছে।
যে ভাসাবে ঐ দূরের নীরব রাত্রির দেহের ছায়া ঢেউয়ের উন্মুক্ত বাতাসে
আমি যেন আকাশে পুরনো আত্মার ছায়া
ভেসে উঠি মেঘের শব্দ ভেঙে।

পৃথিবী আমায় আর পাবে না
আমি চলে যাব
কোন এক দূর দিগন্তের ছায়া মেঘ হয়ে
তুমিও হয়তো আর খুঁজবে না
নিরুদ্দেশ হলে
আর তুমি কীর্তনখোলার উচ্ছাস হয়ে
বৃষ্টির ফোঁটায় ঝরবে না।
…………………………………………..

আজ

আজ তোমার নীল চোখের তারায়,
চোখে চোখ রেখে
শব্দ ভেঙে ভেঙে
গড়ে দিয়েছি শ্রাবণের অঝোর সন্ধ্যার
শত বলাকার কাব্য।

শুধু তাকিয়েই থেকেছি
কিছু চাইতে গেলে
নিজেকে বড় বেশি পাপী মনে হয়,
যেমন সমুদ্রে ঝড়ের আগে
কেঁপে ওঠে হৃদয় মাস্তল।
কত শুভ্র বসনের মেঘের পরীরা
উড়ে গেল আমার মনের বৃষ্টি ঝরিয়ে
আমি মনের কাফন পরা শোকযাত্রীর মত
দাঁড়িয়েই থেকেছি।

আশাহত নিরাশার দীর্ঘশ্বাস
আমাকে তৃষ্ণার জলের ছিটায়
তিরষ্কার করে গেছে ঐ দূরে উড়ে উড়ে
বলেছে, তুমি হতাশার পথিক
পাতা ঝরার বিমলা বিরহী বাতাস
ঠাঁয় দাড়িয়েই থাক ।

কথার কীটের ক্ষরণের আঘাতে
ফুরিয়ে গেছে বেঁচে থাকার কতরকম বাসনা
উত্তরের মেঘের কোল ঘেঁষে,
আবেগে ছোট্ট ছোট্ট ঢেউ তুলে
কেঁদে গেছে প্রাণের নির্জন পথ।

এই পৃথিবীকে বিশ্বাসের আশ্রয় ভাবলে
প্রভাতের সাধনার মায়াস্রোতের আঘাতে,
ঈশ্বরের সাহসী রক্তাক্ত দেহের
মাসুল হল ভালোবাসার চিহ্ন।

আজ শুদ্ধ বাতাসে উড়ছে
নীল মেঘের কোল ঘেঁষে
শেষ বিকেলের কিছু শ্বেত বলাকার মন,
ধূসর, ছেঁড়া ছেঁড়া
তোমার শেষ দেখা মুখের মায়ার মতন
শব্দের আঘাতে তুলে ধরেছি মনের ঘরে।

তুমি চলেই গেলে অন্ধকারে দূর ঢেউয়ে
কি দুরন্তপনায় ছুটে গেলে,
আর আমি ঝরে পড়লাম শ্রাবণের কোলে
নতজানু হয়ে চুম্বনের আঘাতের মত
প্রেমের ঐশ্বর্য দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছ
নারী নামের ঈশ্বরীর মত।

কে তুমি–
এমন বেদনায়
সুখের পসরা দিয়ে ভোলাও!
কিন্ত ভুলিনি, ভোলা যায় কি?
…………………………………………..

তরঙ্গ

এসো তবে, মৃত্যুর মত সত্য হয়ে
পদ্মা মেঘনার ঢেউয়ে ঢেউয়ে
ভেসে উঠি
আবার নতুন সবুজ চরাভূমি হয়ে
পৃথিবীর মানচিত্রে।

যখন তুমি তীব্র বাতাসের ব্যগ্রতায়
অরণ্যের সবটুকু কম্পনে
নিজের বিধ্বস্ত চরাভূমি কর্ষণ করে
নতুন ফসলের আশায় ব্যস্ততায় মগ্ন,
দেখ– প্রকৃতি কিভাবে
তোমার হাতে তুলে দেবে সমস্ত অমিয় ধারার
তুমুল বৃষ্টির প্রাচুর্য।

গভীর মনযোগে কর্ষণ করো বীজ
যেন ফসলে ভরে ওঠে তাবৎ চরাভূমি
দেখবে কত আনন্দে ঢেউ পাড় ভেঙে
তোমাকে ইচ্ছের ফসলে ভাসাবে।
তখন তোমার অতৃপ্ত আত্মার খুশি
ঝরবে বীজ বপনের নিষ্ঠার স্বাদ।

এই প্রকৃতির উঠানের দেহে
কি এক নক্ষত্রের আশার আগমনী গান হবে
খই ফোটার স্বার্থকতার আনন্দে
বহতা নদীর মত কুলকুল সুর তুলে
ভরবে তোমার স্বার্থক বীজ বুননের আনন্দে।
স্রষ্টা হিসেবে তুমি হবে প্রথম পিতা
পৃথিবী হবে মাতা হাওয়া।
…………………………………………..

তুই

তোকে আমার
ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে
তুই নীল আর আমি লাল।

এবার বল,
কোন ক্ষরণের আঘাতে ভোলাবি আমায়,
আমিই সৃষ্টি করি আঘাত
পাওনাটার মধুরতা তোর
এবার নিবি, বল?

আমার আছে আধভাঙা চাঁদ
তোর ললাটের টিপ,
একদিন সূর্যটার কিছুটা কেটে
স্বর্ণালংকার বানিয়ে গলায় দেবো হার।

আমার আছে দীর্ঘশ্বাস– আগুনের ফুলকি
তোর হাতের বাজুবন্ধ হয়ে
জৌলুস ছড়াবো, দেখে নিস।

আর আছে শতশত অগ্নিদগ্ধ তারা
সে সব দেবো
তোর শাড়ির কারুকাজ করা বেনারসি
দেখিস তোর রূপের আয়নায়
ঝলসে উঠবে প্রকৃতি,কিন্ত পুড়তে দেবো না
দেবি আমি।

তার পর হবে যাত্রার পালা
সেই সৃষ্টির পুরনো খেলা
এবার বিদায়ের পালা,
পালকি তৈরি চারিদিকে
একলা আমি দাঁড়িয়ে থাকবো দুয়ারে
মুখে কথা নেই,
আছে মহাস্রোতের প্লাবন।

বেলা শেষ– সব কিছু নির্জন
চারিদিকে অন্ধকারের দীর্ঘশ্বাস ফেলে
রাত্রি বয়ে যায় নিজস্ব গন্তব্যে
পড়ে থাকে কল্পিত চেহারায় স্মৃতি।
…………………………………………..

বোধ

বুকের সমোচ্চারিত কোঠরের
অতি পুরনো ভাঙা,ধুলো জমা একটি তোরঙ্গ
আজ–
মৃত্তিকার কাছে জমা দিয়েছি এসেছি।

মানুষের বোধোদয় হঠাৎই চমকে যায়
স্তব্ধ অমানিশার কুহেলিকায়
শব্দেরা ঝরঝর করে বেয়ে নামে
গহীন সমুদ্রের তলদেশে।

তুমি কে? এমন উথলিয়ে পাড় ভাঙো
সৃষ্টি–প্রলয়ের দেবতা ,
তোমার ইচ্ছের ঐশ্বর্যের ক্ষমতা দাও
আমি বিলীন করে দেবো বেদনার ডালা
তোমার সৌন্দর্যের কি এত অহমিকা
যাতে প্রতিবাদ হবে না!

কে তুমি? যাকে দেখে এলাম
ঈশ্বরের রূপে ঘুমিয়ে আছে
অন্যরা বেদনায় ডুবডুব,
তাদের হৃদয় সমুদ্র ভেসে গেছে
সর্বোচ্চ দাহ্যমূল্য দিয়ে।

হা হা হা!
তুমি আবার বেদনা বোঝো
মাতৃত্বের দহন দিয়ে ফসল তুলি আমরা
আর তুমি করো অহমিকা
তা তোমারি দান
তবে কেন রাখোনি প্রশ্ন করার অধিকার।

কে মেটাবে অন্তঃক্ষরণ?
অন্ধকারের সৈকত থেকে তুলে
আশার প্রদীপ জ্বালাতে
কত শ্রমিকের দেহ ধুয়ে
নিয়ে এসেছে নতুন ফসল।

মাটির শরীর থেকে নির্যাস তুলে
নমুনা দিয়েছি মূর্তিমান এক চঞ্চলা শরীর
নরম বাতাসে ছোঁয়ার চিহ্ন লেপে
এঁকেছো আহাজারি
মানুষ নামের শিল্পের কারুকাজ

সময়–
তোমাকে আজ
বড় বেশি এলোমেলো মনে হয়
তুমি মুঠোবদ্ধ কষ্টের পেয়ালা
ইচ্ছে করে– মনের কাফনে মুড়ে
চিতার আগুনে পুড়ে ফেলি
কষ্টের সব অপূরণীয় সাধ।