সন্তরণ

একরাশ বিরহ জমে আছে
ভেজা মেঘের মতন ভারী
তোমাকে দেখিনা বহদিন
দৃষ্টি এখন শিলায় নিয়েছে রূপ;
তুমি কোথা, আমার স্বপন।

অপেক্ষায় থাকি
কখন আবার কাব্য কলাকে স্পর্শ করবো
নিভৃতে হবে সন্তরণ আমার
আমার প্রিয় শব্দের সনে, তোমার সনে।
এক নিরব উষ্ণতার খোঁজে
ঘুরি, ঘুরি আর ভাবি, সমর্পণ করি সব
যা ছাড়া আমার প্রাণ হয় নিথর ।

এক মোহাচ্ছন্নতায় প্রতীক্ষা করি
কোথা তুমি, যেখানে তোমার অশরীরি স্পর্শ,
অনুরাগ সুর তোলে প্রেমরাগের অতলে।
বিরহের বেদনায় ঘুমানো দু’চোখে
স্বপ্ন এঁকে দেয়।

মায়াময় সে স্বপ্নে তুমি রাজপুত্র
সাত সমুদ্দুর পাড়ি দিয়ে আসো গোলাপ পাপড়ি বিছানো শয্যায় মায়াবতীর কাছে।
হাত জড়ানো হাতে এঁকে যাও ভালবাসার গহীন কাহিনী।
…………………………………………..

প্রত্যাশা

তোমার অপারগতায়
আমি পড়ে গেছি ভাবনায়,
ঐ সুদূর নীলিমায় তুমি নেবে না আমায়
গড়বেনা সাত মহলা বাড়ি,
মজনু, ফরহাদ, দেবদাস কিছুই হবেনা
তাহলে কী করবে তুমি?
কী করে আমার প্রহর কাটবে?
তুমি মরুভুমি অথবা বনবাসে বসে
কার জন্য ধ্যান করবে-
কোন পর্বত আরোহন করবে?
নাকি যাবে মঙ্গলগ্রহে মনুষ্য বসতির সন্ধানে-
অথবা মারিয়াস সুড়ঙ্গে অন্য কোন প্রিয়তমার খোঁজে
নাকি নামবে মারিয়ানা ট্রেঞ্চে নতুন কোন অভিযানে,
নাকি ভিসুভিয়াস ফুজিয়ামায় নিজেকে জ্বালিয়ে মেঘের লাভায় ফিরে আসতে চাও?
যদি যাও,অটল থেক দৃঢ়তায়
তা না হলে শোন, যেও তুমি এন্টার্কটিকায়
বরফের পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে দেখ
আমি আছি তোমার প্রত্যাশায়।
…………………………………………..

অকাল বৈশাখী
(সহপাঠী জাহিদের স্মরনে)

তোমার ওপারের ডাক এলো
সময় গড়ালো প্রয়ানের পথে,
এ যে অকাল বৈশাখী!
আমি অস্থির।
মানতে পারছিনা বিচ্ছেদ,
অনাবিস্কৃত ভ্রাতৃত্ববোধ প্রগাঢ় হলো।

তুমি যাবেই!
য়েওনা————
কিছু করি কিন্তু ব্যর্থ প্রচেষ্টা।
হায় নিয়তি!
বিচ্ছেদের অশ্রু করছে বিসর্জন
ব্যথাতুর বন্ধু ও স্বজন,স্বপ্নের প্রিয়জন
বিক্ষিপ্ত সবাই এলোমেলো,
তোমার মৃত্যু আমাকে নাড়িয়ে দিল।
প্রবল বেগে আত্ম প্রকাশের জন্য প্রস্তত হলাম।

আজ তুমি উন্মুক্ত নহে মৃত
স্মৃতিতে ভাস্মর,
মিলিত সবার সাথে
এক মোহনায়।
তোমার ওপারের ডাক এলো
সময় গড়ালো প্রয়ানের পথে,
এ যে অকাল বৈশাখী!
আমি অস্থির।
মানতে পারছিনা বিচ্ছেদ,
অনাবিস্কৃত ভ্রাতৃত্ববোধ প্রগাঢ় হলো।

তুমি যাবেই!
য়েওনা————
কিছু করি কিন্তু ব্যর্থ প্রচেষ্টা।
হায় নিয়তি!
বিচ্ছেদের অশ্রু করছে বিসর্জন
ব্যথাতুর বন্ধু ও স্বজন,স্বপ্নের প্রিয়জন
বিক্ষিপ্ত সবাই এলোমেলো,
তোমার মৃত্যু আমাকে নাড়িয়ে দিল।
প্রবল বেগে আত্ম প্রকাশের জন্য প্রস্তত হলাম।

আজ তুমি উন্মুক্ত নহে মৃত
স্মৃতিতে ভাস্মর,
মিলিত সবার সাথে
এক মোহনায়।
…………………………………………..

জন্মভূমি

মম প্রাণ কাঁদে তব তরে
যেতে নাহি চায় তব ছেড়ে
আবার আসবো আমি
এই বাংলার উর্বশী প্রান্তরে,
সুজলা সুফলা মায়ের কোলে
বিস্তীর্ন সবুজ মাঠে, দখিনা বাতাসে
আমার ধমনীতে আমার নিশ্বাসে
এই মায়াময় বাংলার বায়ু।

ঐ নীল আকাশ দেয় হাতছানি
ঐ পদ্মা মেঘনার সুরেলা কলধ্বনি
জোছনা রাতের মায়াবী চাঁদ
দেখতে জাগে বারেবারে সাধ
কখনও ভুলিনা তারে
থাকে স্বপনে জাগরণে।
আমার অস্তিত্ব রবে
এই বাংলাকে ঘিরে জনম জনম ধরে।
…………………………………………..

একাকী আমি

বহুমূখী চিন্তারা পাক খায়,
একাকী নিঃশব্দ রাতে নিয়ন বাতির আলোয় ওরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
কবিতা কেঁদে ফিরে যায়,তার শব্দেরা মিলছেনা বলে।
মিললেই কি কবিতা হত
যতক্ষন না ও প্রাণ পেত।
বিক্ষিপ্ত বাক্যগুলি কখনও রুদ্ধশ্বাসে ছোটে এদিক ওদিক
কখনও স্থির হতে চায়।
ক্রমান্বয়ে শহর ঘুমিয়ে পড়ছে
অতি কর্মঠ দু’একজন ছাড়া।
আমি নির্ঘুম
অনেক ব্যথা জমতে জমতে ভারী হয়েছে, এখন বুকটা পাথর মনে হয়
সেখানে কান্নাগুলো প্রতিধ্বনি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
…………………………………………..

কান্না

পৃথিবীতে কিছু কান্না আছে,
কেউ দেখেনা।
কিছু কথা আছে অব্যক্ত,
সব ভাব হয়না বিনিময়।
কিছু জটিলতা আছে,
যার সমাধান সময়ের হাতে নিরুপিত।

তুমি শুনতে পারো গুনগুন ধ্বনি,
কান্না অথবা হাসির
কিন্তু তা রবে উপলব্ধিহীন।
দেখতে পারো সুন্দর মুখ,
অথচ থাকতে পারে ভিতরে অলিক হাসি।
দেখতে পারো ভালবাসা,
যার অনেকটাই বাঁসি।
অথবা এমন কিছু ভালবাসা,
যা দেখা যায় না।
এমন কিছু ঘৃণা যা প্রকাশ পায়না,
কিছু ঘটনা নিয়ে যাবে মুহূর্তে তোমায়
সম্মুখ সাগরে,
নয়ত আসবে পিছে আকুল আবেগে।
হয়ত তুমি হবে তিরস্কৃত নীরবে অথবা সরবে
কখনো বঞ্চিত।
কখনো সরলতা দেবে তোমায় কষ্ট
আবার পেতেও পারো পুরষ্কার।

জীবনের অংকটা সবার মেলেনা,
কেউ চায় সরল সমাধান,
কেউ ঘূর্ণিবায়ুর নাচন।
কারো সোজা কথা পায় না সমর্থন।

কারো চাতুর্য অন্যকে বোকা বানায়।
যদিও শেষ পর্যন্ত থাকে অসফল,
কেউ বলে, নিঃসঙ্গতা ক্যান্সার সমতুল্য
কারো আকুতি আমায় একা থাকতে দাও।
কারো ভালবাসা সীমাবদ্ধ চার দেয়ালে
কারোটা দেয়াল ভেদে সীমাহীন।
…………………………………………..

চেতনায় তুমি
(বঙ্গবন্ধুর প্রয়াণ স্মরনে)

কাল থেকে কালান্তরে
তুমি হে ধ্রুবতারা করছ আলোর বিচ্ছুরণ,
অপ্রতিরোধ্য চেতনা জন্ম দিয়েছ গভীরে
মম স্বাধীনতা, মম জাগরণ।

ভালবাসা তব আকাশ সম
দৃঢ়তায় হিমালয়
জাতিকে দিতে সুখের প্রণয়
রক্ত করলে ক্ষয়।
বজ্র নিনাদে জাগরিত জাতি
তোমায় করছে নমঃ
চেতনালব্ধ বাঙ্গালি কাঁদে
বিষাদ সিন্ধু সম,
দেখ ঐ বসনে কালো টিপ,কালো চুড়ি
আর কালো শাড়ি,
প্লাকার্ড হাতে ছাত্র জনতা যতসব পথচারী
মিছিলে স্লোগানে আজ মুখরিত নগরী
ফুলে ফুলে শোভিত পিতা
তব (ম্যুরল)
মিউরাল আর প্রতিকৃতি
শিশুরা আজ ধরছে তুলি
আঁকবে তোমার স্মৃতি।
আজো বাঙ্গালি রোমাঞ্চিত
মননে জ্বেলেছ বাতি
পতাকা আজ অর্ধনমিত
বিরহের আকুতি।
তব পদতলে সঁপলাম কান্ডারী
যত অব্যক্ত কথা ওঠে মর্মরি।
লক্ষ শহীদের রক্তে রচিত বাংলাদেশ
শেখ মুজিব একটি নাম হবে না’ক নিঃশেষ।
…………………………………………..

আমার আমি

আমি বঙ্গোপসাগর থেকে আঁধারমানিক ছুঁয়ে
আগুন মুখো, কীর্তন খোলা হয়ে যাই মেঘনায়
আবার পদ্মা পাড়ি দিয়ে পায়রায় বাঁক নিয়ে
বিষখালিতে মিশে ছুটি তেতুলিয়ায়।
আমিগঙ্গা থেকে মিসৌরী হয়ে
ভলগা পেরিয়ে আমাজানে মিশি
ভারত মহাসাগর থেকে আটলান্টিক হয়ে
প্রশান্ত মহাসাগরে আসি।
আবার উন্মত্ত ঊর্মি ডিঙিয়ে মুক্তো কুড়িয়ে
পৃথিবীর দীঘল সৈকতে জলকেলি করে স্বপ্নের কুয়াকাটায় সূর্যালোকে উদ্ভাসি।
আমি এন্টার্কটিকা থেকে সোজা গ্রীনল্যান্ডে
যাই কোথাও থামিনা
আবার ইউরোপ হয়ে এশিয়ায় এসে
শ্যামল বদ্বীপ বাংলাদেশে বসি।
সম্প্রীতির বাতি জ্বালি চেতনায়
ভালবাসি সোনালী ধানের হাসি।
আমি কাজী নজরুলের বিদ্রোহী রণ হুংকারের
প্রলংকারী বাঁশী।
মননে এঁকেছি দেশপ্রেমিক খুদি রামের ফাঁসি।
সিপাহী বিদ্রোহের প্রচন্ড অগ্নি বুকে
মুক্তির বীজ বুনি।
আমি কেবলই শুনি বঙ্গবন্ধুর বজ্রবানীর ধ্বনি -প্রতিধ্বনি
একাত্তরে লাখো শহীদের রক্তের অঞ্জলি আর বীরাঙ্গনার ত্যাগে
স্বাধীনতা পাওয়া বাঙালী, আমি বাঙালী।
চিরকাল আমি আমার মত
নিপীড়নে করিনা মাথা নত।
…………………………………………..

বসে থাকা

কেন বসে থাক কথার আশায়?
দোল খাও সারাক্ষণ আশা নিরাশায়!
দেখ ঐ ভোরের সূর্যটারে
ধাবমান পথ পরিক্রমায়।
যদিও ওর আলো দোলে তব সম
ঝিলিমিলি আঁধারির ছাঁয় বনলতায়
কখনো কুহতানে মাতানো
বাতায়ন বিথিকায়।
ও ডাকে আমায় কি নিবিড় মমতায়।
প্রভাত প্রতিভাত হলেই কেন মন বাসনায়
ঐ আলো ছুঁয়ে পেতে চাও আমায়?
মরুতাপে উষ্ণীষ হয়ে শ্রান্তি
নাশিতে মম স্মরণের সুধায় কেন
বারেবারে নিজকে বিলাও?

দেবার ছলে কি চাও?
যদি নাহি পাও
দুরু মনে তাই নিজকে হারাও।
…………………………………………..

চন্দ্রদ্বীপে

শীতের শিশির ভেজা নিরব সকালে
পথ ছেয়ে যায় শিউলি ফুলে ফুলে,
বাংলা মায়ের সবুজ কোলে
হাজার পাখি সুরে দোলে,
মোহনীয় নদী নিবিড় বন্ধনে
তটে জড়ানো বালু সনে খেলে।

সকালের মিষ্টি রোদে জেগে ওঠে প্রাণের স্পন্দন
তরু পল্লব ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় সোনালী আভরণ।
এক দারুণ শীত বয় সারা গাঁয়
শালিকেরা বাঁধে রাখি হিজল ছায়
নদী ঢাকে অরূপ কুয়াশায়
হেরিনু এ রূপ সকলেই হল চুপ,
গগন ও হয়েছে ধূসর শীতে মেনেছে হার
আমি মানিনি কো হার তোমাকে দেখিবার।

প্রিয়তম জন্মভূমি, অধরে তোমার শত চুমি
বলি ওগো-
হৃদয়ের পদ্মরাগ, এত অনুরাগ বুকে ধরি
শাখে শাখে একি পত্র বিন্যাস- মরি মরি,
নয়ন গভীরে এঁকেছো অনন্য ছবি
তাই আমি আজ কবি।
এ রূপে মাতাল হলাম বুঝি
নিষ্পলক গেছি শুধু খুঁজি
হাওয়া এক ঝিরি ঝিরি
নিয়েছে এ মন কাড়ি।
গাছের পাতার সবুজ মেঘে
ফড়িং মেলেছে ডানা
পদ্ম পুকুরে পদ্মের হাসিতে
আমি আনমনা।

ওগো জন্মভূমি,
তোমায় দেখিবার তরে
কর্ণকাঠীর পাশে কীর্তন খোলায়
ছাতির মতন তরুর ছায়ায়
আমি বসে আছি নিরালায়
শান্ত নদীর নিবিড় মমতায়।