ছায়া ও অশ্বথ বিষয়ক খ-কবিতা

এক/ক.
সূর্য ডুবে গেলে
কবরের ঘুমে যায় অশ্বথ ছায়া
একচিলতে রোদের আশায়
পরবাসী স্বামীর মতো
অপেক্ষার প্রহর কাটায় প্রাচীন অশ্বথ।

এক/খ.
সব রাত্রী ঘরে ফেরে
তিনমাথা মানুষের মতো
একচিলতে রোদে
ছায়া হয়ে শুয়ে থাকে প্রাচীন অশ্বথ।

দুই/ক.
চৈত্র দুপুরে আমার ছায়াটি অদৃশ্য হয়ে গেলে
দীর্ঘ পদযাত্রায় ক্লান্ত পথিকের মতো
ছায়া খুঁজতে অশ্বথের নিচে দাঁড়ালে
কোথা থেকে লোকটি এসে জিজ্ঞেস করেÑ

কি খুঁজছেন হুজুর?
ছায়া। আপনি?
আমিও।

দুই/খ.
অশ্বথের নিচে দাঁড়িয়ে লোকটিকে বলতে শুনেছি
সব পথিকের ছায়া কেড়েছে প্রাচীন অশ্বথ
আমি তার মূল খুড়ে ছায়া নিয়ে যাবো
এই দেখুন খন্তা কুড়াল…
বলেই লোকটি খুড়তে থাকে অশ্বথের শেকড়

আজও সে খুড়ে যাচ্ছে
কান সজাগ থাকলে আপনিও শুনতে পাবেন।

তিন/ক.
গতকাল সূর্যের আলোয় যে সুরমা রঙের ছায়াটি
আমার উঠোন পর্যন্ত এসেছিলো
আজ রাতেও চাঁদের আলোয়
সে আমার প্রাঙ্গণে আছড়ে পড়েছে
তাকে পাঁজাকোলা করে ঘরে প্রবেশ করি
সে মিশে যায় আমার ভেতর

এখন আমার কোনো ছায়া নেই।

তিন/খ.
ল্যাম্পপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে
যে উচ্চারণ করে
আমার কোনো ছায়া নেই-

প্রভু সে তোমার প্রতিদ্বন্দ্বি হতে চায়।
…………………………………………..

অলৌকিক জংসন

দীর্ঘ প্রতিক্ষায় জংসনে ফিরে আসেনি ট্রেন
রাত গভীর হতেই নিয়ন আলো ফিকে হয়ে গেছে
সবাই ফিরে গেছে নিজের ডেরায়
আমার ফিরবার কোনো স্থান নিয়ে
নিয়ন অন্ধকারে- প্লাটফর্মে বসে প্রার্থনায় উড়েছি হৃদয়
আমি তখন প্রভু দর্শন পেয়েছি
দেখেছি অলৌকিক আলো জ্বেলে দ্যুতি ছড়াচ্ছে।

প্রভু দর্শনে দেখিছি তার অলৌকিক রূপের স্ফুরণ
সে রূপ স্পর্শ করা যায় না
আকারে আঁকা যায় না অস্থিত্ব
নূরের আলোয় ভেসে যায় আকার- নিরাকরে।

মানব চোক্ষুদৃশ্যে হয় না প্রভু দর্শন
সে থাকে মানব অস্থিত্বে
তার রঙে রঙিন হলেই
তাকে পাওয়া যায়
তাকে দেখা যায়
যেভাবে আমি দেখেছি অনেকবার
মূলত: প্রভুর ভেতরে প্রবেশ করলে
অলৌকিক জংসনে পৌঁছে যায় মানব অস্থিত্ব।
…………………………………………..

ফিরে আসবো বলেই

ফিরে আসবো বলেই
আমি তোমাকে বিদায় বলিনি
যাবার সময় বলে যাইনি
রেহনুবা
আমাদের হয়তো আর দেখা হবে না পূর্ণিমার রাতে
কিংবা অমাবশ্যার অন্ধাকারে হাতে হাত রেখে
বসে থাকবো না তুরাগ নদীর তীরে

ফিরে আসবো বলেই
শরতের শিশির ভেজা ভোরে শিউলি কুড়িয়ে
মালা বানিয়ে খোঁপা করতে বলেছিলাম
তোমার সেই প্রিয় লাল শাড়িটি পরে
সেজে বসে থাকবে পুবের পথ চেয়ে
ফিরে আসবো বলেই তো বলেছিলাম
প্রিয়তমা আমাদের কন্যার জন্য
সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে
খুঁজে আনবো রাজপুত্র

ফিরে আসবো বলেই
আমি তোমাকে বিদায় বলিনি
যাবার সময় বলে যাইনি
রেহনুবা
অপেক্ষায় থেকো ।
…………………………………………..

ক্ষমা চাইতে সাহস লাগে

‘ক্ষমা চাইতে সাহস লাগে’
আমার এখন অনেক সাহস
ভুলের কথা মনে করে চাচ্ছি ক্ষমা
ক্ষমা চাইলে হার নাকি হয়
হেরে গেলে মন্দ কি আর
এখন আমার ভালোই লাগে চাইতে ক্ষমা

খেলার মাঠে লেঙ মেরেছি চাচ্ছি ক্ষমা
দাবার চালে চুরি করে চেক মেরেছি চাচ্ছি ক্ষমা
ক্রিকেট খেলায় নো বলকে বল বলেছি চাচ্ছি ক্ষমা
ছোট ছোট ভুলগুলোও ভুল ছিলো তাই চাচ্ছি ক্ষমা

সাহসে বুক উঠলে ফুলে যে আনন্দ নিশান তোলে
ক্ষমা চাওয়ার মাঝে দেখি সে আনন্দ হৃদয় দোলে
ক্ষমা তুমি এতো মহান আমি আগে কেন জানিনি
গাফেল হয়ে গোমরা ছিলাম তোমার কথা তাই মানিনি
এবার আমি চাচ্ছি ক্ষমা সব অহংকার ছিন্ন করে
কেউ আছে কি আমার কাছে পাওনা আছো
কেউ আছে কি আমার দেয়া দুঃখগুলো
দুঃখ করে রাখছো জমা
এসব আমার ভুল ছিলো তাই চাচ্ছি ক্ষমা।

‘ক্ষমা চাইতে সাহস লাগে’
আমার এখন অনেক সাহস
সেই সাহসে ভর করে আজ চাচ্ছি ক্ষমা।
…………………………………………..

বৃক্ষের আত্মকথা

আমি তো মামুলি তক্তা
আমার পিঠ রেদায় ঘষে ঘষে মসৃণ করো
আমার বুক হাতুড়ি বাটালে ক্ষতবিক্ষত করে
ফুটিয়ে তোলো বাহারী নকশা
নিষ্ঠুর পেরেক ঠুকে তৈরি করো আসবাব
তারপর ভুলে যাও আমার অতীত
আমি একদিন বৃক্ষ ছিলাম
এই পৃথিবীর আলো বাতাসে স্ফিত হয়েছে আমার হৃদয়
একদিন আমি শিশু ছিলাম
একদিন আমি কিশোর ছিলাম
একদিন আমার যৌবন মোকাবেলা করেছে ঝড় তুফান জলোচ্ছ্বাস
আমার বার্ধক্য স্বাক্ষি হয়েছে ইতিহাস

আমার ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিয়েছ বখতিয়ার
আমার বাগান থেকেই যুদ্ধ করেছে সিরাজ
আমার পাশে তিতুমির গড়েছে বাঁশেরকল্লা
আমার গুড়িতে বসে কবিতা লিখেছ নজরুল
নেতাজী সুবাস বসু দিয়ছে বক্তৃতা
স্বদেশী আন্দোলন করেছে গান্ধিজী
স্বাধীনতার ডাক দিয়েছে জিন্না
তারপরেও আমার প্রসংসা করার পরিবর্তে আমার বুকে
নকশাকারীর সৌন্দর্য বোধের প্রসংসায় তোমাদের মুখ স্ফিত হয়েছে।

তোমরা তো অস্বীকার করতে পারবে না
আমার দেখা সময়
যা আজ ইতিজাস হয়ে গেছে
আমি তো দেখেছি সালাম রফিক বরকতের আত্মত্যাগ
ভাষার জন্য বাঙালীর রক্তদান
আমি তো দেখেছি ঊনসত্তরের গণআন্দোলন
সাতই মার্চের অগ্নিঝরা ভাষণ
পচিশে মার্চের কালো রাত
তারপর লাশ লাশ আর লাশ
কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রে স্বাধীনতা ঘোষণা
মুক্তিযুদ্ধ
অস্ত্র হাতে কেটে যাওয়া নয়টি মাস
তারপর একটি নতুন পতাকা
একটি নতুন দেশ
সাত কোটি উজ্জ্বল মুখ
এরপর কেবলী সামনে যাওয়া

এসব দৃশ্য দেখতে দেখতে আমি বৃক্ষ তক্তা হয়ে গেছি
আজ তোমরা আমার বুকে নকশা দেখে বিস্মিত হও
আমার বুকে লুকিয়ে রাখা ইতিহাস দেখো না

হে অনাগত প্রজন্ম
আমি তোমাদের নকশা করা আসবাব নই
আমি তোমাদের ইতিহাসের প্রবক্তা হতে চাই
আমি যুগ যুগ ধরে তোমাদের ইতিহাস বর্ণনা করে যাবো।
…………………………………………..

আমার কোনো মার্কা নেই

না!
আমার কোনো মার্কা নেই
মার্কা ছাড়াই আমাকে ভোট দেবেন
মার্কার ঘরে কালো কালি দেয়া থাকবে
শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচরে আমার মার্কা কালো হয়ে গেছে
অতএব আমার কোনো মার্কা নেই।

একদা আমার মার্কা লাঙ্গল ছিলো
লাঙ্গল দিয়ে আমি কোনো চাষাবাদ করিনি
দীর্ঘ অপব্যাবহারে লাঙ্গলের ফলায় ঝং ধরেছে
তাই অযোগ্য হয়ে গেছে লাঙ্গল
অতএব আমার কোনো মার্কা নেই
মার্কা ছাড়াই আমাকে ভোট দেবেন।

একদা আমার মার্কা ধানের শীষ ছিলো
দক্ষিণা বাতাসে দোল খেতো সোনালি শীষ
বাম্পার ফলনে ভরে যেতো কৃষকের গোলা
অযতœ, অবহেলা আর পরিচর্যাহীনতায়
সোনালি ধান আজ চিটায় পর্যবসিত
কৃষকের গোলা আজ বাজা নারীর বুকের মতো শূন্য
তাই ধানহীন শীষ আমার আর প্রয়োজন নেই
অতএব আমাকে মার্কা ছাড়াই ভোট দেবেন।

একদা আমার মার্কা নৌকা ছিলো
কৃষকের হৃদয় নিঙরানো ভালোবাসা আর
লাঙ্গলের ফলায় চাষাবাদ হতো যে সোনালি ধান
তা নৌকা বোঝাই করে ঘরে তোলতো কৃষক
আজ নৌকার তলা ফুটো হয়ে গেছে
ধান বোঝাই নৌকা তলিয়ে যাচ্ছে বঙ্গপো সাগরে
তাই কৃষকের ঘরে ঘরে দুবিক্ষের আহাজারি হতাশার অতলগহবরে সোনার বাংলা
অতএব আমার কোনো মার্কা নেই
মার্কা ছাড়াই আমাকে ভোট দেবেন।

একদা আমার মার্কা ছিলো দাড়িপাল্লা
কৃষকের ধানের সঠিক মাপ দিতে
আলিফের মতো দন্ডায়মান ছিলো মানদন্ড
আজ সঠিক মাপ দিতে খুঁজে পাওয়া যায় না
মিনারের মতো মানদন্ড
অতএব আমাকে মার্কা ছাড়াই ভোট দেবেন।

আপনার একটি মূল্যবান ভোটেই প্রতিষ্ঠিত করতে পারে
ন্যায় বিচার, সু-শাসন ও সামাজিক সমতা
অতএব একজন সৎ যোগ্য প্রার্থী হিসেবে
আমাকে আপনারা নির্বাচিত করুন
আমার কোনো মার্কা নেই
মার্কা ছাড়াই আপনারা আমাকে ভোট দেবেন।
…………………………………………..

প্রত্যাবর্তন
(আল মাহমুদকে নিবেদিত)

ঝিমধরা লাটিমের মতো একই ঘুর্ণাবর্তে ঘুরে চলছে সময়
থেকে যাচ্ছে, থেমে যাবে এইভাবে ঘুরেই চলছে অবরিত
হুজুর স্যারের মতো সে ক্রমাগত পাঠ দিয়ে যাচ্ছে
ঘন্টা পরার শব্দে তার বন্ধ হয় না মুখের বয়ান
পার হয়ে যাওয়া হুন্ডার মতো সময় এখন
দু’চাক্কায় ভরসা নেই অথচ মাইলের পর মাইল চলে যাচ্ছে বাতাসের বেগে
আমাকে নিয়ে যাবার কথা ছিলো তার
অথচ আল মাহমুদের মতো আমি ট্রেন ফেল করে বসে আছি
আমার আর যাওয়া হয়নি পাহাড়ের চূড়োয়
যাওয়া হয়নি শাহনাজের জন্য ইরানী বোরখা কিনতে
সোহরাওয়াদী উদ্যানে বসে গল্প করতে
যাওয়া হয়নি আরো অনেক অনেক জায়গায়
বাবা-মায়ের কবর জেয়ারতে
হাইফা, মিখালের খেলনা আনতে

আমি কি ঝিম ধরা লাটিম গেছি
ট্রেন ফেল করে প্রত্যাবর্তনের লজ্জায় লাল হয় মাহমুদ
অথচ আমি সময় হারিয়ে লজ্জানবত হতে পারি না
সেজদায় লুটিয়ে পরে ক্ষমা চাইতে পারি না
মোনাজাতে চোখে বর্ষা বইয়ে দিতে পারি না

প্রভু সময় হারানোর অপরাধে
মাহমুদের মতো আমাকে প্রত্যাবর্তনের লজ্জাল লাল করে দাও।
…………………………………………..

অতএব কোনো কথা বলা যাবে না

আসুন বসুন আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে ফয়সালা হবে
আর কোনো কথা হবে না
টেবিলে থাপ্পর মেরে উঁচু গলায় কথা বলা যাবে না
নিরিহ কুকুরের মতো কুঁই কুঁই করে লেজ গুটিয়ে থাকবেন
আমাদের আলোচনা ইতিহাস হয়ে যাবে
কয়েকটি ধর্ষণ হলেই চিৎকার করে উঠবেন না
ধর্ষক কোনো দলের হতে পারে না
সে আমার দল করলেও আজ সে বিতারিত অপরাধি
আমি কোনো অপরাধিকে আমার দলে স্থান দেই না
শুধুই লালন পালন করে তাদের যোগ্য করে তুলি
আমিও তাদের বিচার চাই
অযোগ্য, ধরা পরা পিচাসের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই
অতএব আসুন, বসুন আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান হবে
আর কোনো কথা হবে না
আমার ফসালাই চূড়ান্ত ফয়সালা
না কোনো বিচার হবে না,
ক্রসফায়ারে মুছে দেবো অপরাধির নিশানা
শুধু অপরাধ বেঁচে বর্তে থাকবে কাল থেকে কালাবধি
বিচারকের কাঠগড়ায় সময় নষ্ট করার কোনো সময় নেই আমার হাতে
অপরাধি, নন-অপরাধি, অ-অপরাধি, না অপরাধি আমার কাছে সবাই সমান
অতএব কোনো বিচার হবে না
ক্রসফায়ারই সমাধান, অপরাধির কোনো ক্ষমা নেই
এবং আমার চির শত্রু-পক্ষেরও কোনো ক্ষমা নেই
আর কোনো কথা হবে না
আসুন বসুন আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে ফয়সালা হবে

তিনি আমার কথা রাখেননি…
এসব কথা আর বলা যাবে না
আমি আমার কথা রেখেছি
দুর্নিতিকে কোনো প্রশ্রয় দেইনি
কোনো দুর্নিতিবাজকে আমি ক্রসফায়ার দেইনি
তাদের বিচার করার জন্য বাঁচিয়ে রেখেছি অনন্তকাল
অতএব কোনো কথা বলা যাবে না
আসুন বসুন আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে ফয়সালা হবে।
…………………………………………..

তোমার কলমকে সংযোত করো

কবি
তোমার কলমকে সংযোত করো
তোমার লেখনিতে জ্বলে ওঠে আগুন
এ আগুন আমাদের সহ্য হয় না, অসহ্য হয়ে উঠলে আমরা পশু হয়ে যাবো।

কবি
দুর্নিতির বিরুদ্ধে তোমার কলম দুর্নিতি দমন কমিশন হয়ে যায়
এ কমিশন আমরা মানি না, আমাদের বিচারালয়ে দুর্নিতির কোনো স্থান নেই
শুধু দুর্নিতাবাজরাই পায়ের উপর পা তুলে দুর্নিতির বিরুদ্ধে বক্তৃতা করবে।

কবি
তোমার কলমকে উদ্ধত হতে দিও না, তাকে নত হতে দাও
গোলামের বাচ্চা গোলামের মতো, নত হতে দাও, নত হতে দাও
অথচ তোমার কলম ক্রমাগত লিখেই চলছে
অন্যায় অত্যাচার আর নিপিড়নের কাহিনী
এ কাহিনী বন্ধ করো- না হয় নজরুলের মতোই
তোমাকে চৌদ্দ শিকের কাহিনী লিখতে হবে।
…………………………………………..

সুন্দর মৃত্যুর জন্য

লাশ নয় চলুন মৃত্যুকে কবর দেই
মৃত্যুকে সুন্দর করে তুলি
প্রিয় সন্তানের মতো মৃত্যু এসে বিনয়ী হয়ে উঠুক
ভালোবাসায়, শ্রদ্ধায় মৃত্যু এসে বসে থাকুক পায়ের কাছে
আপেলের মতো ঝুলে থাকুক মৃত্যু
লাল গোলাপের মতো ফুটে থাকুক মৃত্যু
কবিতার মতো রোমান্টিক হয়ে উঠুক মৃত্যু
মৃত্যু আমাদের বিছানার চাদর হয়ে যাক
মৃত্যু বর্ষার বৃষ্টি হয়ে যাক
মুত্যু শীতের কোমল ওম হয়ে যাক

প্রিয় বন্ধু
ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া করে কি লাভ বলুন
কি লাভ শত্রু শত্রু খেলা করে
কি লাভ যুদ্ধ করে
কি লাভ হত্যা করে
হত্যা মানেই অসুন্দর মৃত্যু
যুদ্ধ মানেই বিভৎস মৃত্যু
অসুন্দর মৃত্যু থেকে আমরা নাজাত চাই
বিভৎস মৃত্যু থেকে আমরা নাজাত চাই

প্রিয় বন্ধু
আমরা সুন্দর মৃত্যু চাই
কোলম, শান্ত, পেলব মৃত্যুর কোলে ঘুমিয়ে যেতে চাই
যেভাবে অবুঝ শিশু নির্ভয়ে মায়ের কোলে ঘুমিয়ে যায়।
…………………………………………..

তিনপুরুষ এবঙ পুত্রপ্রজন্ম

প্রথম পুরুষ

আমার এ উপদেশ পুত্র এবঙ পুত্রের পুত্র
এবঙ অনাগত পুত্রপ্রজন্মের জন্য।

উপদেশগুলো তাদের কল্যাণে
কারণ আমার চোখের চলচ্চিত্র
তাদের থেকে অধিক ধারণ করেছে
এই পৃথিবীর উত্থান-পতন
হিটলারের বিশ্ব-শাসনের খায়েশ
মিত্রবাহিনীর সভ্যতা ধ্বংসী এটম আঘাত
হিরোসিমা নাগাসাকির বীভৎস চিত্র
আর দেখেছি লাল পতাকার ফোবিয়া।

দ্বিতীয় পুরুষ

আমার উপদেশ
আমার পুত্রের জন্য অভিজ্ঞতার জাদুঘর
কারণ আমি অর্জন করেছি
পুরুষ পরমপরায় আদম থেকে নিরাকার পর্যন্ত
যেহেতু আমার অভিজ্ঞতায় আছে
বাঁশেরকেল্লার দ্রোহ
স্বাধীনতার জন্য
ফাঁসির রশি আর জীবনদানের প্রেরণা
এবঙ নবান্নের উৎসবের মতো
নতুন দেশ পাবার আনন্দ
এরপরও আছে ভাষা নিয়ে আন্দোলন
আর ভেঙে যাওয়া দেশ।

তৃতীয় পুরুষ

পূর্বপুরুষের অভিজ্ঞতার চোখ ছুঁয়ে দেখেছি
ইতিহাসের পাণ্ডুলিপি

যেমন দেখেছি একাত্তরে নেতার কতুব মিনার হয়ে যাওয়া
তারপর ক্ষুধার্ত মানুষ-কুকুর এবঙ কালো কাকটিও
এরপর ক্ষুধার্ত জাতির কুতুব মিনারটি
ললাট থেকে লুটিয়ে পড়লো মর্তলোকে
আর দেখেছি ভেঙে পড়া লাল পতাকার তাসের ঘর
সাম্রাজ্যবাদিদের নাঙা তালোয়ার
লাদেন-সাদ্দাম
চাপিয়ে দেয়া গণতন্ত্র
সারি সারি বোমারু বিমান
আফগান-ইরাক-আবুগারিব কারাগার।

আমি আরও দেখেছি
আরো-আরো-আরো অনেক
আর এতোসব অভিজ্ঞতার ভেতরে
আমি ছুঁয়েছি বাংলাদেশ

পুত্রপ্রজন্ম

আমার পরবর্তী পুত্রপ্রজন্মেরা
তোমরা এখান থেকে লেখা শুরু করবে
………………………………………
………………………………………
………………………………………