সাহিত্য একটি বাহণ যা দিয়ে ব্যক্তিগত, সামষ্টিক, পারিবারিক, সামাজিক বা জাতিগত ন্যায়-অন্যায়, ভাল-মন্দ, আশা-আকাক্সক্ষা, কেন্দ্রীয়-প্রান্তিক, রাজা-প্রজা, দাতা-গ্রহিতার সম্পর্ককে তুলে ধরা যায়। সাহিত্য এমন একটি মাধ্যম যা মানুষের মাঝে লুকিয়ে থাকা জীর্ণতা ও দীনতাকে চিহ্নিত করে সুন্দরের জয়গানকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুর ইসলাম এর প্রকৃত ও উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আবদুল মানান সৈয়দও সে পথের এক দৃঢ় ও দীপ্ত লড়াকু সৈনিক।
কোন সাহিত্যিকের পক্ষেই সমকালীন সমাজ বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। নজরুল যেমন জন্ম গ্রহনের পর দেখলেন তাঁর নিজস্ব কোন জাতীয়তাবাদী পরিচয় নেই। কেননা তিনি বৃটিশ দখলদারীদের ষড়যন্ত্র আমার সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক-ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী পরিচয়কে ধ্বংস করে দাসত্বে শিকলে আমাদের বন্দী করে দিয়েছিল। তাই সমকালীন দৈনতাকে তিনি উপেক্ষা করে সাহসী ও বিদ্রোহী মনোভাব নিয়ে সমাজে হাজির হলেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সারা পৃথিবীতে নানা মাত্রিক চেতনার তৈরি হয়েছিল। বৃটিশ উপনিবেশবাদের অবসানের পর ’৪৭ পরবর্তী পাকিস্তানি দখলদারীদের চরিত্র আরো আগ্রাসী হওয়ায় এদেশীয় জনগণ বেশ সজাগ হয়ে উঠেছিল এবং শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। আর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর নানামুখী চেতনাকে এদেশীয় অনেক সাহিত্যিক এবং বুদ্ধিজীবী ধারন ও লালন করেছিলেন। আবদুল মান্নান সৈয়দও তাঁদের একজন।
আধুনিকতাকে ধারনের নামে যখন কেউ কেউ নিজস্বতাকে বিশৃঙ্খলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছিল সে সময়ে আবদুল মান্নান সৈয়দ আধুনিকতা বিশুদ্ধভাবে চর্চা করেছেন। তাঁর আধুনিকতায় ছিল “স্বজ্ঞানতা, কোলাজধর্মিতা, ফ্রয়েডিয় মুগ্ধদা, নগ্নবাস্তবতা, অস্পষ্টতা, অনিশ্চয়তা, শিল্পপ্রমূর্তির প্রসারতা”। এতকিছুর পরও তিনি ‘কলাকৈবল্যবাদী’ লেখক হিসেবে পরিচিত। বিশুদ্ধ সাহিত্য চর্চা করা তার ব্রত। এতকিছুর পরও তাঁর আরেকটি পরিচয় হচ্ছে একজন খাঁটি সাহিত্য সমালোচক।
তিনি আধুনিকতাবাদ ও উত্তর-আধুনিকতাবাদকে নিয়ে কবিতায় খেলা করেছেন, আন্দোলিত করেছেন মানুষের হৃদয়কে নিয়ে। তাঁর এ প্রবণতা ‘জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ’ থেকে ‘আমার সনেট’ পর্যন্ত দেখা যায়। আধুনিকতাবাদ ও উত্তর-আধুনিকতাবাদের বাহিরে পরাবাস্তবতবাদও তাঁর কাব্যের আরেকটি উপাদান যা বাংলা সাহিত্যকে নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে। এই পরাবাস্তবতার পরীক্ষণের সময় তাঁর কাব্যে দুর্বেধ্যতার প্রবণতাও ফুটে উটেছে। ফলে পাঠক ও লেখকের মধ্যে ভাষাগত এবং বিষয়বস্তুতে এক ধরনের দুরত্ব তৈরি হয়েছে।
তবে সাহিত্যের যে আঙ্গিক নিয়ে তিনি পরীক্ষা করেন না কেন তাঁর সমকালীন প্রেক্ষাপটকে তিনি কবিতার মুল অনুষঙ্গ বা বিষয়বস্তু হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সমকালীন প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরতে গিয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দু’ই উঠে এসেছে। তবে এ প্রবন্ধে সমাকালীন প্রেক্ষাপট নিয়ে আবদুল মান্নান সৈয়দের রুঢ় বাস্তবতা আলোচনার প্রয়াস চালাবো।
মান্নান সৈয়দের “লুন্ঠন” কবিতার শুরুতে বক্তা বলেন, “সূর্যাস্ত ফেলেছে নিঃশব্দে ফেরেশেতাদের রঙচঙে কাপড়-চোপড়।” লাইনটি দুর্বোধ্য কেননা প্রতিটি শব্দ এক একটি রূপকাশ্রিত। ভিন্নভাবে খেয়াল করলে দেখা যায় “সূর্যাস্ত” সব সময় অন্ধকার বা মৃত্যুর প্রতীক হিসাবে সাহিত্যে ব্যবহার হয়। অর্থাৎ স্পষ্ট বিপদ ও হতাশাচ্ছন্ন এক আবহ তৈরি করাই এর মূল লক্ষ্য।
এ হতাশাচ্ছন্ন আবহটি আরো স্পষ্ট করে বক্তা আবার বলে উঠেন এভাবে, “জুতোর ফিতের প্রজাপতি উড়িয়ে লোকেরা যাচ্ছে লেকে-পার্কে-সিনেমায়/ সূর্যাদেবতর মতো রাঙা বেশ্যা/ নীল জানালার পাটাতনে ব’সে আয়না ধরেছে,/ যেন মুখের সম্মুখে থাবা ধ’রে আছে নিবিড় বাঘিনী;”। শব্দ প্রয়োগে বেশ সাংঘর্ষিক অস্থান এখানে লক্ষ্য করা যায়। যেমন “জুতোর ফিতের প্রজাপতি উড়িয়ে লোকেরা যাচ্ছে” বললে বেশ আনন্দঘন পরিবেশ বুঝায়, কিন্তু “রাঙা বেশ্যা” ভিন্ন কিছু ইঙ্গিত করে। এখানে মান্নান সৈয়দ “পতিতা” ব্যবহার না করে “বেশ্যা” ব্যবহার করেছেন কেন! পতিতা অর্থনৈতিক বা অন্যকোন কারনে নিরুপায় হয়ে হতে হয়, কিন্তু স্বজ্ঞানচিত্তে মানুষ বেশ্যা হয়। পতিতা সাধারনত নারী হয় আর বেশ্যা নারী বা পুরুষ যে কেউ হতে পারে। অর্থাৎ এ “বেশ্যা” শব্দের মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয়কে চিত্রায়িত করেছেন।
এই রঙের ব্যবহার বেশ লক্ষণীয়। “নীল” রঙ ব্যবহার করেছেন। সাহিত্যে নীল রঙ বেদনার প্রতীক বা হতাচ্ছন্ন পরিস্থিতিকে ইঙ্গিত করে। এ রঙ কখনো কখনো ক্ষয়িষ্ণুতাকে বা মৃত্যু পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপটকে ইঙ্গিত করে। এ ধরনের ইঙ্গিত এখানে রয়েছে যখন বক্তা বলেন, “যেন মুখের সম্মুখে থাবা ধ’রে আছে নিবিড় বাঘিনী;”। এখানেও লক্ষণীয় বাঘিনী বড় কথা নয়। মূল বিষয় হচ্ছে “নিবিড়” শব্দটি, কারণ এ শব্দটি স্পষ্ট করছে পরিকল্পিত আক্রমনের রূপ রেখাকে।
শব্দ ব্যবহারের যে বৈপরিত্যতা তা আরো সুন্দর হয়ে ধরা পরে এ কবিতার আরেকটু পরে যখন বক্তা বলেন, “আদর্শ, নগ্ন রূপসী, তার নাভিমূলে টুংটাং ঘন্টা বেঁধে/ কুক্কুরী মতো চারি পায়ে ঘোরার চত্বরে জুড়ে/ শতকের রাঙা অভিশাপ;/ চায়ের কাপের মতো লঘু হাত ফশকে প’ড়ে গিয়ে/ চুরমার প্রত্যেকের ভিতরের বিশ্বাস।” প্রথম বৈপরিত্যতা হচ্ছে একজন নারী একই সাথে “আদর্শ” ও “নগ্ন” বলছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে একজন আদর্শ নারী কখনো নগ্ন হতে পারে না। এর অর্থ হলো সমাজে তথাকথিত আদর্শবান মানুষের ভিতরের যে রূপ বা অন্ধকার জগৎ রয়েছে তার বাস্তব দৃশ্য এটি।
এর পর বক্তা আরো রুঢ় হয়েছেন সমকালীন প্রেক্ষপট অঙ্কনে। তিনি নাভিমূলের গহনাকে তুলনা করেছেন কুক্করীর গলার ঘন্টার সাথে। অর্থাৎ এসব মুখোশধারীদের ধিক্কার জানিয়ে কুকুরের পর্যায়ে নামিয়ে এনেছেন। আর এ মুখোশ পড়া তথাকতিত আদর্শবানদের তিনি “শতকের রাঙা অভিশাপ” হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। এদের হেন আচরণে মানুষে মানুষে যে অবিশ্বাস তাও ফুটে উঠেছে। তাই তিনি দৃঢ় চিত্তে ঘোষণা দিয়ে বলেন, “চুরমার প্রত্যেকের ভিতরের বিশ্বাস”। এ বিশ্বাস ভাঙ্গার সংস্কৃতি আধুনিকতার প্রতিধ্বনি। আধুনিক কালে অন্যকে বিশ্বাস করার আগ্রহ মানুষের মাঝে আর দেখা যায় না।
সমকালীন প্রেক্ষাপটকে আরো নগ্নভাবে তুলে ধরেছেন আবদুল মান্নান সৈয়দ ‘লুন্ঠন’ কবিতার পরবর্তী লাইনগুলিতে। বক্তা অবিশ্বাসের এ দোলা চালে বলে উঠেন, “বৃহৎ জগৎ থেকে মার খেয়ে ফিরে এসে, দেখি আমি;/ কমলালেবুর একখানি কোয়া, নড়ছে তারার চাকা, আর পারা/ থার্মোমিটারের, বালিশের অড়,/ আংটির মতো ঠোট-গোল-করা এতটুকু মেয়ে,/ কুকি রমণীর নৃত্যে খুলে-দেয় কিরণ দরোজা,/ কাঁচা আমের মাংস, নিসর্গ, আব্বার হাত, আলস্যের ঢালপালা:/ কিন্তু এইসব পাখি-চোখ গণনায়/ কী করে চিহ্নিত করি এই শতাব্দীর ভুল-ক’রে-আসা আমি-টিকে?/ বলা যায়: পরেছে কাচের জুতো ঝড়।”
এ লাইনগুলোতে পরাবাস্তবতার পাশাপাশি অতিবাস্তবতার আধিক্যতাও রক্ষণীয়। এছাড়াও রয়েছে হতাশা তথা দীর্ঘশ্বাস। তিনি বৃহৎ জগৎ বলতে পুঁজিতান্ত্রিক ধনীক সমাজ ব্যবস্থাকে যে বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট। এখানে সাধারণ মানুষ কেবলই দাসত্বের শিকলে বন্দী। তাই তাদের উপর যে আদেশ বর্তায় বিনা বাক্যে পালন করাই তাদের কর্তব্য। “ঠোট-গোল-করা এতটুকু মেয়ে”-কে নিয়ে পরাক্রমশালী পুঁজিবাদীরা যখন “কাঁচা আমের মাংস” বানিয়ে নিজেদের মনোরঞ্জন করে, তখন আম-জনতা “আলস্যের ঢালপালা”-য় দিনানিপাত করে। তাই বক্তা দোদুল্যমান অবস্থায় পড়ে নিজের অস্থিত্বের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এবং নিজেকে জিজ্ঞেস করে “ভুল-ক’রে আসা আমি-টিকে?” এখানে অস্থিত্ববাদী দর্শনের প্রভাব স্পষ্ট।
প্রান্তিক ও কেন্দ্রীয় এই শ্রেণি বিভাজন এখানে ফুটে উঠেছে। ফলে প্রান্তিক মানুষ হিসাবে বক্তার নিজস্ব পরিচয় নেই, কেননা কেন্দ্র তাকে যা করতে বলে তাই তাকে করতে হয়। অর্থাৎ একটি পুতুলের মত জড়ো বস্তুতে পরিণত হয়েছে। গায়ত্রি চক্রবর্তী স্ফিভাকের সেই “দলিত কি কথা বলতে পারে?”-কে স্মরণ করিয়ে দেয়। এখানে প্রান্তিক তথা দলিত শ্রেণির নিজস্ব কোন মতামত খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে বক্তাকে বলতে শুনি “পরেছে কাচের জুতো ঝড়”। অর্থাৎ নিজেদের মধ্যে গড়ে উঠা সম্পর্ক কাঁচের মত ঠুনকো। এ অংশেও আধুনিকতার নির্মমতাই উঠে এসেছে।
প্রান্তিক-কেন্দ্রীয় তথা শাষিত-শোষিত জনগণের সম্পর্ক কেমন এবং এর মধ্য দিয়ে আধুনিক তথাকথিত সভ্য সমাজের যে নির্মমতা তা পরবর্তী লাইনগুলিতে উঠে এসেছে দিবালোকের মত সত্য হয়ে। বক্তা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন: “-ফিরোজার অত্যাচারে পোড়ে মধ্যরাত-/ তুলে ধরি বান্দার রেকাব,/ কবিতা: হা কবিতা আমার,/ তুলে ধরি স্ফিংসের মতন দুর্বোধ্য কবিতা আমার।” সমকালীন অত্যাচারি শাসকের কথা যেমন উঠে এসেছে তেমনি দলিত শ্রেণি তথা শোষিত জনতার ভাগ্যের কথাও এসেছে। শোষিত জনগণকে “স্ফিংস”-এর সাথে তুলনা করেছেন। গ্রিক পৌরণিক থেকে নেয়া এ চরিত্রটি আজীবন চেষ্টা চালিয়েও অত্যাচারি গডদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
“লুন্ঠন” কবিতার পাশাপাশি যদি আবদুল মান্নান সৈয়দের “চল্, উদ্বাস্তুরা! চল্!” পড়া যায় সমকালীন প্রেক্ষাপটের দৃশ্যকল্প শব্দের ক্যানভাস ছাড়িয়ে বাস্তবতাকে আরো বাস্তব করে ধরা দিবে। ১৭৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমাদের স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে নিয়ে দাসত্বের শিকলে বন্দী করেছে। এরপর আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতি-ধর্ম বিশ্বাসকে আঘাত করেছে। আমাদের জাতীয়তাবোধকেও আঘাত করে শিকড়বিহীন এক জাতিতে পরিণত করেছে। ফলে, আমরা এক আত্মমর্যাদাহীন জাতিতে পরিণত হয়ে পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ি। সেখান থেকে নানা সময়ে নানমুখী আন্দোলন ও বিদ্রোহ ক্রমেই পুরো অবিভক্ত ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবোধের জন্ম দিয়েছে। রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি সাহিত্যিকদের ভূমিকাও অনস্বীকার্য। উল্লেখ্য কাজী নজরুল ইসলামের ভূমিকা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। অবশেষে ১৯৪৭ সালে আক্ষরিক অর্থে বৃটিশ শাসনের অবসান হলেও তাদের হেন শোষণ আমাদের স্বাধীনতা পেতে দেয়নি পাকিস্তানি শাসকরা।
ফলশ্রুতিতে আমরা আগের তুলনায় আরো ভয়াভহ দূর্ভাগ্যের মধ্যে পতিত হই। ভাষা আন্দোলন-চুয়ান্নের যুক্তফ্রন্টের বিজয়-বাষট্রির শিক্ষা আন্দোলন-আগরতলার য়ড়যন্ত্র মামলা-চেষট্রির ছয় দফা আন্দোলন-উনসত্তরের গণ অর্ভুত্থান-সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীন স্বত্তার রূপ এনে দেয়। উদ্দেশ্য বৈষম্যহীন ও পারষ্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগীতামূলক এক রাষ্ট্রের মধ্যে সবাইকে নিয়ে আসা। কিন্তু কিছু দূর্বিস্বন্ধির মানুষের জন্য নানা সময়ে তা বাধা গ্রস্থ হয়ে যায়। আমাদের স্বপ্ন পুরন হয়নি। বৈষম্য বেড়েছে, বেড়েছে অবিশ্বাস। এমন প্রেক্ষাপটকে চিত্রায়িত করার জন্যই আবদুল মান্নান সৈয়দের “চল্, উদ্বাস্তুরা! চল্!”
এ কবিতার শুরুতেই তিনি তুলে ধরেন সমকালীন পাকিস্তানকে এভাবে: “ঝরছে বাংলাদেশ : রূপসীর আননের ছাঁচে/ কাঠ-ফাটা তৃষ্ণা, রোগ, ক্ষুধা, জরা, বালিরেখা-/মন্দিরে, আত্মার ঘন্টা, কুয়াশার মধ্যে খ’সে পড়ে:/ আঁধারে, সবুজ পাতা! একা নাচে দীর্ণ মসজিদে/ বেলোয়ারি দিন, রাত্রি; চ’লে গছে নামাজীর দল,/ প্রশান্ত ইমাম; টুংটাং ঝাড়বাতি নড়ে; ধূসরতা/ আর পা-ু মুখ-চাওয়াচাওয়ি ক’রে ব’সে থাকে/ শূন্য পুরোনো বাড়িতে; মসজিদে, মৃদু, শান্ত জলে/ কৃষ্ণ-দিন রক্ত-রাত ব্যেপে খেলে লাল-নীল মাছ।”
এ কবিতার আবেদন আজও একই রয়ে গেছে। তার আবেদন যদি আমাদের মধ্যে জাগরণ তৈরি করে এবং আলোড়িত করে আমাদের অধিকারকে, তবেই আমরা কেবল স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবো। পাশাপাশি তথাকথিত সভ্যতার বাহিরে আমরা সত্যিকারের মানবীয় গুনাবলী সম্পন্ন এক আত্ম মর্যাদাশীল জাতিতে পরিনত হতে পারবো। আর সমকালীন দৈন দশাকে বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে।