রক্তে মাটি ভাসছে

এই দেশেতে বর্গীরা যে
আবার ফিরে আসছে
খোকারা সব ঘুমিয়ে আছে
রক্তে মাটি ভাসছে।

বুলবুলিরা ধান না খেয়ে
ধানের মাঠ’ই খাচ্ছে
বর্গীরা আজ খাজনাতো নয়
দেশটা আমার চাচ্ছে।

হঠাৎ কেনো এ দেশ জুড়ে
চিল-শকুন ঐ নামছে
লাল-সবুজের এই পতাকা
ধরলো কারা খাঁমচে।

ভাঙছে দেখ ঘুম খোকাদের
বীর বাঙালি জাগছে
বর্গীরা সব অস্ত্র ফেলে এদেশ
ছেড়ে ভাগছে।

শকুনরা সব যাও উড়ে যাও
সরাও দাদা মুখটা
বীর খোকারা ছিড়বে না হয়
তোমার পাষাণ বুকটা।।
……………………………………………

নবীন পশুর দল

জাতের কসম কুচ বলিনি
দেখছি শুধু খক্ কেশে
রাস্তা ঘাটে দেখছি মানুষ
হায়না শেয়াল সাপ বেশে।

হায়না শকুন হিংস্র দানব
ভাগছে জানো দেশ ছেড়ে
আমার দেশের মানুষ নকি
তার উপাধী নেয় কেড়ে।

সাপ যেখানে লজ্জা পেয়ে
নিজের বিষে খোদ মরে
আমি সেথা চুনোপুঁটি
থাকবো না কেন নিজ ঘরে!

নর পশুর অট্টহাসি
ধর্ষকের ওই আস্ফালন
এসব দেখে শুকররাও
বন্ধ করে দেয় মিলন।

বিশ্বজিতের মৃত্যু দেখে
শক্তি হারায় হায়না দল
ফেলানীদের লাশ না খেয়ে
শকুন কাঁদে অনর্গল।

শেয়াল মামার পাঠশালা অফ
জিন্দা কুমির ছানা
পরিমলের পাঠরীতি! আর
লাগবে না তার জানা।

গলায় গলায় সই পেতেছে
বাঘ-হরিণের জাত
দেখবে না আর ভাইয়ে-ভাইয়ের
মরণ প্রতিঘাত।

মানব যেথা মানব খুনী
ভাই’ই ভাইয়ের যম
এসব দেখে হারিয়ে গেছে
হিংস্র পশুর দম।

আমরা সেথা শান্ত পথিক
ক্ষয়ে কি লাভ বল
ছন্দ ছুড়েই দেই স্বাগতম
নবীন পশুর দল।।
……………………………………………

বিদ্রোহী দিল’সে

জিঞ্জিরে বাধা আজ স্বাধীনতা-মুক্তি
রোষানলে হারিয়েছে মানবতা যুক্তি।
সত্যরা ভয়ে ভয়ে জাদুঘরও ছাড়ছে
মিথ্যার জয়োগান সেখানেও বাড়ছে।

একটিও বিদ্রোহী নেই আর ধরাতে
যাও ছিল সব শেষ জাদুঘর ছাড়াতে।
যত বুদ্ধির বিক্রেতা ভুলে নিজ উক্তি
জ্ঞানপাপী শোষকের সাথে করে চুক্তি।

ইতিহাস ও সভ্যতা বিকৃত করছে
ঐ আইনের দন্ডেও জং মরচে।
জন-গনতন্ত্রেও রাজা-রাণী হচ্ছে
জনগন রাজাদের তাবেদারী সচ্ছে।

পুলিশেরা জনতার শত্রু না বন্ধু
এই নিয়ে ভেবে মরে মিঃ চান্দু।
সব শেষে ফলাফল একটাই আসছে
জনগন জালিমের গ্যাঁড়াকলে ফাসছে।

তবু দুরে আলোদের হাতছানি মিলছে
আমলোক জাগবেই বিদ্রোহী দিল’সে।।
……………………………………………

নেতাজী

সমাবেশ মাহফিলে
নেতাজী জোরসে বলে
লাগলে বুকের দেব রক্ত
জনতারা তালি মারে
বিরোধীরে গালী মারে
হয়ে যায় নেতাজীর ভক্ত।

এ খবর ঘরে এলো
হায় হায় গেলো গেলো
বউ ঘরে কাঁদে চেপে মুখ
বুকের রক্ত দিলে
উড়ে যাবে প্রাণ-পিলে
এই ভেবে চাপড়ায় বুক।

নেতাজী ঘরেতে এসে
হা হা হা হাসিতে হেসে
চুপিচুপি কানে কানে বলে
রক্ত বুকের তবে
সেইটা কাদের হবে
একথা কি খুলে বলা চলে??
……………………………………………

ফুল পাখিরা অবুঝ ছিল

একটা সময় এই শহরও সবুজ ছিল
ফুল-পাখিরা এইখানেও অবুঝ ছিল
ফুল ছড়াতো গন্ধ-সুবাস বাতাস জুড়ে
গাইতো পাখি উড়তো গহীন আকাশ দূরে।

এই শহরেও তখন ছিল ঝিল ও নদী
বুক জুড়ে তার বইতো স্রোতও নিরবধি
যন্ত্র ছাড়াও এই শহরে মানুষ ছিল
জোনাকিদের মন মাতানো ফানুশ ছিল।

দূষণ ছাড়াই চলত পথে গরুর গাড়ি
খাবার স্বাদও করতো দ্বিগুণ মাটির হাড়ি
এই শহরেও খড় ও ছনের কুড়ে ছিল
সাধক, কবি নানান ভবঘুরে ছিল।

এখন শুধু যন্ত্র থাকে এই শহরে
রোজ কোলাহল বাঁচার লড়াই রাত্রি-ভোরে
যন্ত্র আমি, যন্ত্র তুমি, যন্ত্র সবে
তবুও এতো বাঁচার লড়াই, বাঁচতে হবে।।
……………………………………………

আকাশটাও খাঁচা

কোথায় খোঁজো মুক্তি সখা আকাশটাও খাঁচা
বন্দী যতো স্বেচ্ছাজীবী বন্দী যতো বাঁচা
বন্দী বাঁধে নদীর স্রোতও বন্দী ফ্রেমে সময়
বন্দী দ্যাখো তৃপ্ত মরণ হাসপাতালের কোমায়।

বন্দী বায়ু দূষণ গ্রাসে বন্দী চাঁদের আলো
সভ্য সমাজ বন্দী আজো খুঁজতে সাদা-কালো
বন্দী শতো অমূল্য ফুল বন্য লতা পাতায়
সহস্র কাল বন্দী দ্যাখো ইতিহাসের খাতায়।

মুক্ত যাকে দেখছো তুমি সেও তো দিনের শেষে
বাঁধন হারার বেদনা চায় ভুলতে কয়েদ বেশে
আমরা বড় বাঁধন প্রিয় মুক্তি খুঁজি তবু
আজন্ম দাস মন-গোলামীর মুক্তি মেলে কভূ?

বন্দী যতো সত্যপুরুষ প্রেম জিঁজিরের বাঁধা
বন্দী যতো মায়ার বাঁধন ছায়ার বোনা ধাঁধা
বন্দী দ্যাখো নন্দিনীরা ভোগ লোভীদের ফাঁদে
জাত শিকারীর মুক্তজালে খোদ নিজেকেই বাঁধে!

বন্দী স্বাধীন মুখের ভাষা বন্দী মনের ভাব
বন্দী এখন নতুন কিছু করতে চাওয়ার খাব
বন্দী যতো সত্যবাদী বন্দী ন্যায়ের চোখ
বন্দী দ্যাখো স্বাধীন দেশেও ইচ্ছেজীবী লোক।

মুক্ত কেবল অরুদ্ধ মন বন্দীশালা কারায়
চারদেয়ালের বন্দী হয়েও তেপান্তরে হারায়।।
……………………………………………

কুমিরের কান্না

তনু মরে রুনি মরে, পুলিশেও খুনী ধরে
দেখিনাতো বিচারের শেষটা
চাপাতির কোপ পরে, রক্তোও খুব ঝরে
সেই খুনে ভেসে যায় দেশটা।

মাঠের গরম রূপ, সাপোর্ট চরম খুব
নেতারাও বদলায় ফেসটা
বলে ফোর্স আইজি, এ’আমারি ভাইজি
দ্রুতবেগে চলিতেছে কেসটা।

সান্তনা স্রোত বয়, সকলেই চুপ হয়
আইনের চোখ মারে ঘাপটি
রানা প্লাজা-সাত খুনী, এইসব মহাগুণী!
চুপি চুপি পেয়ে যায় মাপ’টি।

দাদা আমি ‘আমলোক’, নেই কোন দল যোগ
বিশ্বজিৎএর ওই ক্রন্দন
আমি ‘গোল্ডবয়’ নেতা, আমায় ফেরাও এথা!
মানতে হবেই এই বন্ধন।

যেন তার অধিকার, রেপে সেঞ্চুরি আর
অস্ত্রের বাহদুরি করবে
শিক্ষা আলয়ে বসে, দল ও ক্ষমতা জোশে
শিক্ষা গুরুর সাথে লড়বে।

সব মুখে এক গান, খুনের বিচার চান
খুনিদের বিচারটা চান না
সবখানে রাজনীতি, দল ও স্বজনপ্রীতি
সব চোখে কুমিরের কান্না।

তাই দেখে কবি হাসে, সংশয় জালে ভাসে
পাপাচার মোচনের দ্বন্দে
সত্যের দায়ভার, কিছুটা আছেও তার
মনের দুঃখ লেখে ছন্দে।।
……………………………………………

পাক আর ভারতী

তুর্কির থেকে নয়া বিপ্লব শিখছি
মৃত্যুর ভয় ছেড়ে ফের তাই লিখছি।
হামিদুর সালামেরা বৃথা মরে হাসে না
খুন নযরানা ছাড়া স্বাধীনতা আস না।

জনতারা প্রাণ ভয় এই বুঝি মরছে
ঘরে গলাকাটা লাশ রোডে বোমা পড়ছে।
দেশ যায় জলে ডুব নেই তবু ঐক্য
ইতর নেতারা বৃথা করে মতানৈক্য।

সতটা বললেই বল বাপু চুপ যা
দেশ গেলে যাক জলে তুই ঘুমে ডুব যা।
উঃ আমার নজরুল, দেশপ্রেমী হাম্বা
খাবে নাকি বাশ আর আধ কলা খাম্বা!

ঘরে খেয়ে কেনো বৃথা ছোটা মোষ পিছে
দেশ নিয়ে ভাববার কতো লোক আছে!
যাও চাঁদু ঘরে ফিরে দিল করে শান্ত
নাকি জাদুা প্রাণ দিয়ে তবে হবে ক্ষ্যান্ত?

সতটা তেতো তাই সকলেরই লাগছে
প্রমোশন ক্রমশই আমারে যে ডাকছে।
গাদ্দার রাজাকার পাক আর ভারতী
সব উপাধিতে হবে এই বার আরতি।

মান কিবা জান যাক লিখে যাব অবিরাম
ঘুচবেই এক দিন এদেশের বিধি বাম।
এক দিন জনতার ঠিকই ঘুম ভাঙবে
দেশ মাতা সই দিন স্বাধীনতা মাঙবে।

রাজাদের রাজনীতি দূরে ফেলে ছুড়ে
জনতার রাজ হবে এই দেশ জুড়ে।।
……………………………………………

দুরন্ত ছেলেবেলা

আমারদের সেই গাঁয়ের জীবন
দুরন্ত ছেলেবেলা,
মিলে একদল ডানপিটে ছেলে
আনন্দ আর খেলা।

কোথায় আছে সবুজ ঠাসা
মস্ত খেলার মাঠ,
কোথায় আছে মস্ত পুকুর
বাঁধাই করা ঘাট।

কোন বাগানে আম হয়েছে
কোথায় পাকা ফল
কার কাছে কি খবর আছে
জলদি সবাই বল।

কোন বাগানে হবে চুরি
কে কে দেবে হানা
এসব নিয়েই সারাটা দিন
হতো যে কল্পনা।

কেটেছে এমন দুরন্ত দিন
শৈশব ছেলে বেলা
বুঝছি তখন জীবন হলো
আনন্দ আর খেলা।

আজ খুব মন, জীবনের এই
কঠিন সময় এসে
পূর্বের সেই, দিন ফিরে চায়
আবার শিশু বেশে।

সেই কানামাছি, দাড়িয়াবান্ধা
আরো কত শত খেলা
বারবার ফিরে পেতে চায় সেই
দুরন্ত ছেলেবেলা।।
……………………………………………

রহিমের রূপবান

চারিদিকে হই হই রই রই
রহিমের রূপবান মিলে কই
লোক মুখে যল্পনা কত্তো
মিলবে কি রূপবান সত্য?

বহু দেশ থেকে এলো কন্যা
আমুদের বয়ে গেলো বণ্যা
কতো সাজ কতো হল সজ্জা
পরীরাও দেখে পেল লজ্জা।

সজ্জার চেয়ে কারো রূপটি
জুড়লো না হৃদয়ের ঝুপ’টি
সব তাই করে দিয়ে পণ্ড
ঘোষনা করলো কতো দন্ড।

ময়ূরপুচ্ছী কাক আনলেই
জান যাবে ধরে কাক জানলেই
রূপবান মিলে গেলে সত্যি
পাবে বহু হীরা মনি মত্তি।

চারিদিকে হলো কতো খোজ যে
কাঠ হলো অস্থি ও মজ্জে
সবখানে আটা মেখে রূপ ভান
মিললো না রহিমের রূপবান!

সবশেষে সমাপ্তি টানতে
রহিম নিজেই গেলো রূপবান আনতে
প্রার্থনা করে সবে মহিমের
মিলে যেন রূপবান রহিমের।

অবশেষে মিলে গেল কণ্যা
সজ্জার ধারে না সে ধর্ণ্যা
চারিদিকে যতো সাজ-সজ্জা
তার রূপ দেখে পায় লজ্জা।

রহিম পেয়েছে তার রূপবান
ভাই সব সকলেই চুপ যান
নটে গাছ এভাবেই মুরোলো
আমাদের কথাটিও ফুরোলো।।