তুমি আর আমি

তুমি থাকো আলিশান বাড়ীতে,
আর বুলেটপ্রুফ কালো গাড়ীতে।
মগ্ন তুমি সাউন্ড সিস্টেমে।
রেইন সার্কুলেশন শুনতে তুমি পাওনা !

ডেকোরেটেড বাসায় চ্যানেল দেখছো,
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে আন্দোলিত ফরেস্ট,পশুপাখি ।
আর স্টার-তারায় ড্যান্স, চোখ জুড়ানো সব দৃশ্য !
কার, ম্যানশন আর আর্টিফিসিয়ালে ভুলে গেছো ন্যাচারালকে।

আমার কৃ্ষকেরা শোনে জারি, মাঝিরা গায় ভাটিয়ালী,
শ্রমিকেরা গায় সারি।
শোনে শ্রাবণের অফুরাণ বৃষ্টির ধারাপাত।
কী অপুর্ব!
দেখে চড়ুই, শালিক আর শোনে ঘুঘুর ডাক ।

আমি শিখি রাখালের কাছে, কৃ্ষকের থেকে।
…………………………………………..

তাই কি হয়

শুধুই তুমি গোলাপ নেবে ?
এমনি এমনি সৌন্দর্য নেবে ?
একটু কাঁটার ছাপ নেবে না !
তাই কি হয়!
তাই কি হয়!

শুধুই তুমি মৃদু বাতাস নেবে ?
এমনি এমনি সুবাস নেবে ?
একুটু ঝড় নেবে না !
তাই কি হয় !
তাই কি হয় !

তুমি কি শুধুই প্রেম নেবে ?
এমনি এমনি বন্ধু নেবে?
একটু তিরস্কার, একটু জ্বালা নেবে না?
তাই কি হয় !
তাই কি হয় !
…………………………………………..

শিশিরদানা

শিশির পড়ে
রাতের বেলায়,
গড়িয়ে জমে
শস্য দানায়।

শিশির পড়ে
দূর্বা-ঘাসে,
মনে হয়
মুক্তা হাসে!

বাতাসে নড়ে
ধানের শীষ,
দুলতে থাকে
মুক্তা সদৃশ!

ঘাসের ডগায়
মুক্তার ফুল,
দুলছে যেন
কানের দুল!
…………………………………………..

শীত সকালে

জমে শিশির
ভোরের বেলায়,
হাঁটতে গেলে
পায়ে জড়ায়!

পাখি সবে
পড়লেও উঠে,
দেরি করে
ফোঁটে বোল!

দিকে দিকে
ঠান্ডা বাতাস,
শিশু খোঁজে
মায়ের কোল!

মাসি আর পিসি
রান্না করে,
কই-মাগুরের
পাতলা ঝোলে!

ছোট্ট শিশু
পড়তে বসে,
রোদ নিয়ে
উল্টো দিকে!
…………………………………………..

নবান্ন যে গেলো এসে

চারিদিকে ম-ম
খেজুরের রসে,
পাপা পাকা ধান
ঝুপ ঝুপ উঠোনে।
নবান্ন যে গেলো এসে।

কৃষকেরা করে কাজ
সারারাত জুড়ে,
কিষাণিরা ভাপে ধান
সারা উঠোন পুরে!
নবান্ন যে গেলো এসে।

মাসি পিসিরা ব্যস্ত
ঢেঁকিছাটা চালে,
দাদি-নানি ক্লান্ত
পিঠা পায়েস পুলিতে!
নবান্ন যে গেলো এসে।
…………………………………………..

উপহার দেব তোমাকে

খেতে খেঁকশিয়ালে মাটি খোড়ে
খেতে কৃষকেরা ধান বোনে।

ভোরে খুকুমণি জেগে ওঠে
ভোরে পাখিদের গান ফোঁটে।

স্কুলে খোকামণি মন দেয় পাঠে
স্কুলে পতপত করে পতাকা ওড়ে।

ভাষা বুক থেকে মুখে ওড়ে
ভাষা প্রাণ ফিরিয়ে আনে
প্রতি প্রাণে!

বন্ধু ভালবেসো দেশপ্টাকে
বন্ধু উপহার দেবো তোমাকে
অতি ভালবেসে!
…………………………………………..

শরৎ

বন্ধু, আকাশ পানে
তাকাও দেখি!
হাজার তারা উঠলো কি!

শরতকালের শুভ্রনীলে
মনটাকে হাকাও বেশি!
হারিয়ে দাও মনটাকে
নীল আকাশ আর স্নিগ্ধ বায়ে,
মাটি ছোঁয়া কাশবনে,
সবুজ কচি ঘাস বনে!
…………………………………………..

শরৎ

শরতের রোদ
ঝলমল,
বৃষ্টির পানি
টলমল!

শরতের নীল আকাশ
চকচক,
মেঘের লুকোচুরি
ছলছল।

শরতের কাশফুল
তুলতুল,
ছোট্ট নদী বয়
কুলকুল!
…………………………………………..

ঋতুরানী

ভাদরের রোদে
করে কিটকিট,
পাঁকায় তাল!

ভাদরের বৃষ্টি
করে অনাসৃষ্টি,
ফোঁটায় টগর মল্লিকা!

ভাদরের ঘোলা স্রোত
অপরূপ সৃষ্টি!
বাড়ায় ঈলশে গুঁড়ি!

শরতের রাতে
খোকা স্বপ্ন দ্যাখে,
শিউলি ঝরে
আপন মনে!

শরতের নদী
চলে আঁকাবাঁকা,
মাঝি চালায় নৌকা
পাল তুলে!
…………………………………………..

বিজয় এলো

বিজয় মানে
মিশে আছে
আমার বাবার
রক্ত!

বিজয় মানে
জড়িয়ে আছে
আমার ভায়ের
তিক্ত!

বিজয় মানে
বিলিয়ে দেওয়া
আমার বোনের
ক্লান্ত!

বিজয় মানে
শুধু শুধু
আমার মায়ের
কষ্ট!

রক্ত
কষ্ট
নষ্ট!
এরপর বিজয়
এলো সত্য!