ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত দক্ষিণপাড়া

গাইবান্ধার সেই শহরতলী তেকাণী, বোর্ডঘর
আজকের যাত্রা পূর্ব গোবিন্দপুর দক্ষিণপাড়া
এক দারিদ্র মুক্ত এলাকার নাম দক্ষিণ পাড়া
সব কিছু সব পেতে বিস্তৃত এক মুক্তমন
অবহলা অঙ্কুরিত সমাজপ্রগতি হাতছানি দেয়
আলো নেই, শিক্ষা নেই, অবহেলা আর বঞ্চনা
নিরংশ নিভৃত পল্লিবাসী গাঁয়ের বঁধু মেঠোপথ
একজোট একজাতীয় চিন্তা প্রতিশ্রুতির দৃষ্টি
একমন একমুঠ সাফল্য নিয়ে একাগ্র প্রচেষ্টা
প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতি, পরিকল্পনা, নতুন চিন্তা
বাস্তবায়নে আত্মপ্রত্যয়ী কজন ছুটছে কাজে
দিনরাত এঘর ওঘর ছুটতে নেই মানা বিনয়ে
হেরিকেন আলো জ্বালিয়ে বয়স্কশিক্ষা, যুব,
নারী শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, বয়স্ক কেউ বসে নেই
সুসংগঠিত, সংগঠন, বন্ধন, বেলাভুমি দক্ষিণে
সূর্যরথ নামিয়ে সূচক মাপকাঠি চিত্রকরে
বাড়ি বাড়ি সারিসারি নার্সারি আর নার্সারি
গাছেগাছে সবুজবাগ রংধনু ফুটে উঠেছে
নার্সারি ভিলেজে নামে সবার কাছে পরিচিত
চারিদিকে কত বৈঠক,বৈকুন্ঠ আলোচনায়
কতমানুষ, কতপ্রকার, কতশত, কথামালায়
আংগিনায় সবজী বাগান প্রতিবাড়ির প্রান্তরে
পুকুরপাড় আর ফেলনা নয়,বাগানশোভিত
মাছেরা খেলা করে আনন্দমঠ পুকুরগুলো
পয়নিষ্কাশন, বিশুদ্ধ পানিয়জল সব বাড়িতে
ঘরেঘরে গরু, ছাগল, হাসঁমুরগী, কবুতর পর্ব
আংগুড়, ঔষধী, এ গ্রামোদ্যোগ ইতিহাসকাব্য
কি সুনিবিড় বন্ধনে বাধাঁ, দিনপঞ্জি দিবাগত
একসময় মানুষ গুলো ইতিহাস হয়ে গেলো
স্বেচ্ছায়কৃত সমাজসেবা সবসময় সৃজনশীল
গতানুগতিক সমাজপতি চারপাশে ঘুরেফেরে
এ যেনো টেকসই উন্নয়নে দলবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন
দক্ষিণপাড়াকে করেছে মলাটে আটা ফ্রেম
পত্রপত্রিকা, মিডিয়ার পরতে পরতে তথ্য
যে আগুন এখনো জ্বলছে, চিরদিন জ্বলবে।
…………………………………………..

এ কোন ঠিকানায়

একোন ঠিকানায় আছি আমরা সবাই
বিছানা পাতা মাটি, সারিসারি ঘাসফুল
কিলবিল পোকামাকড় দানব সৎ অসৎ।

এ কোন ঠিকানায় আছি আমরা সবাই
রূপে মানুষ মনে হলেও তা তো আসল নয়ই
নিষ্ঠুর, বিভৎস, স্বার্থপরতা, পরনিন্দায় কাতর।

এ কোন ঠিকানায় আছি আমরা সবাই
চারিদিকে অযোগ্য লোকজনের ছুটোছুটি
আর তাদের দাপটে ক্লান্ত সাধারন জনতা।

এ কোন ঠিকানায় আছি আমরা সবাই
মানুষ সব পারে, নেভাতে বা জ্বালাতেও
সামান্য কিছুকে হাতিয়ারে করতে পারে ভস্মিভুত।
এ কোন ঠিকানায় আছি আমরা মানুষ!!
…………………………………………..

প্রজ্জ্বলন
(নাসরিন নাজের বই “প্রজ্জ্বলন” পড়ে)

আলো আর কিরনের গল্পটা আজ
নিস্তব্ধ, নির্জন, রাত্রির বেলার প্রচ্ছদ
ভালবাসা তরীর, ক টা বছর, নদী পেরিয়ে সাগরে
হাতছানি আর দিগন্তরেখা উন্নতির ছুই ছুই
ভালো লাগা, ভালবাসা, প্রান্তরেখার হাতছানি
ভুমিষ্ঠ সন্তান এখনো খুজে ফিরে বাবার মুখচ্ছবি।
আলোর কোলে আলোময় হয়ে এলো পুত্রবর
কিরনের উন্নতি দেখবার মতো, বাহাবা সবার
আনন্দঘন একরাতে ঘুমিয়ে গেছে কিরন
শেয়াল ,প্যাঁচা, ইদূর, বেড়ালের শব্দে আলো জাগে
কিরণকে, আলো ডেকেও আর জাগাতে পারেনি
বলতে পারেনি,পারেনি ফেরাতে সেই স্বপ্নময় গল্প
হারিয়ে ফেলেছে আলো,নিভুনিভু বাতিঘর আঙ্গিনা
হতাশ আলো, প্রত্যাশার আলোর মশাল জ্বালায়
শত কষ্টে, শশুড়ালয়ের লান্ছনা, গন্জনা,তীব্র সয়ে
শিক্ষারআলো থেকে, কনার মানে খুজেফেরে নিয়তি!
প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতি, আর পরিকল্পনায় উজ্জীবিত
আলো পথ দেখে, পথ দেখায়, কিরনের স্বপ্নকে
মা, ভাই, আর বন্ধুদের সহযোগীতায় সে আত্মনির্ভর।
অবহেলিত সময়ের পথ গড়িয়ে এখন সে সফল
শিক্ষায়, দিক্ষায়, সমাজ কর্ম, নাম ডাক চারিদিক
যেমন ছিলো কিরনের স্বপ্ন আর, বোধ, হয় শক্তি
প্রতিষ্ঠিত আলো নিজের নিড়ে, ডানা মেলে চলে
সংগ্রামী আলো, ভরিয়ে দেয় প্রজ্জ্বলিত আলোক ছটা
জীবনের গল্পটা জানান দেয়, করুনা নয়!
দারিয়ে যাও, চলো নিজের পায়ে, নারী নও তুমিও মানুষ।।