রাজবাড়ির রহস্য

গভীর রাত। সুনসান পরিবেশ।কোথাও কেউ নেই। সাজু ও মধুমিতা যে হোটেলে ওঠেছে তার পিছনে বিশাল রাজবাড়ি। গত দু’দিন ধরে রাতে ভাল ঘুম হচ্ছে না। সাজু ও মধুমিতা বের হয়। দাঁড়োয়ান সামছু নিচু গলায় বলল, স্যার কই যান ?
সাজু বলল, একটু এদিক ওদিক হাঁটবো। তারপর হোটেলে ফিরে আসবো।
আচ্ছা যান। তবে রাতে ঘুরাঘুরি করা ঠিক না। ভূত বলে কিছু আছে এটা মানেন নিশ্চয়। এখানে বেড়াতে এসে অনেকে ভূতের কবলে পড়েছে। মারা গেছে এমন ঘটনা ও আছে।
দাঁড়োয়ানের কথা শুনে তারা উভয় ভয় পায়। মধুমিতার হাত পা কাঁপে। সে সাজুর হাত ধরে বলল, চল ফিরে যাই। শুধু শুধু রাতের বেলা ঘুরাঘুরি করে কি লাভ ? সত্যি যদি আমরা কোন বিপদে পড়ি তাহলে কি হবে। কে আমাদের উদ্ধার করবে?
আরে ভূত বলে কিছু নেই। চল ।তারা সামনে এগুতে থাকে। নিয়ন বাতির আলো। ফুরফুরে বাতাস। কি চমৎকার পরিবেশ। হাঁটতে হাঁটতে এক সময় রাজবাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। আশে পাশে কোথাও শিয়াল ডাকে। তারা খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পিছন ফিরে হাঁটতে যাবে এমন কে যেন বলল, কি চলে যাচ্ছেন?
তারা চমকে ওঠে পিছনে ঘুরে। হারিকেন হাতে এক বৃদ্ধ মহিলা রাজবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। একটা কলো মত লোক তিনটে চেয়ার দিয়ে চলে যায়। বৃদ্ধ মহিলা বলল, বসো তোমারা। ঘুম আসছিল না। তোমাদের দেখে ভাললাগছে। তা কোন হোটেলে ওঠেছো?
হোটেল সর্ষে ফুল। সাজু ঢোক গিলে বলল।মধুমিতা সাজুর হাত চেপে ধরে। তার সারা শরীর কাঁপছে। বৃদ্ধ মহিলা বলল, ভয় পেয়ো না।
তারা বসে। বৃদ্ধ মহিলা বলল, এটা হিংসুটে রাজার বাড়ি। আজ থেকে সত্তর বছর আগে আমরা যে জায়গাটাতে বসে আছি ঠিক সে জায়গাটায় খুন হয় তার ছেলে আর আমি’। মধুমিতা চমকে ওঠে দাঁড়ায়। সাজু তাকে হাত ধরে বসিয়ে দেয়। সাজু বলল, উনাকে খুন করা হল কেন?
কারণ উনি আমার মত এক গরীব ঘরের মেয়েকে ভালবেসে বিয়ে করেছিল বলে।
ও। তা সেই থেকে আপনি এখানে পড়ে আছেন ?
হুঁ। স্বামীর ভিঠে ছেড়ে আর কোথাও যাবো ? তোমরা কি একজন আর একজনকে ছেড়ে থাকতে পারবে?
প্রশ্নই আসে না। তা উনাকে কোথায় কবর দেওয়া হয়েছে?
কবর দেওয়া হয়নি। কেঁটে টুকরো টুকরো করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। স্রোতের সাথে কোথায় ভেসে চলে গেছে কেউ বলতে পারে না। তো আমার একটা বিশ্বাস একদিন সে ফিরে আসবে। আমরা সংসার করবো। আমাদের কোল আলো করে সন্তান আসবে। এ বিশাল রাজবাড়ি তাদের কোলাহল আর চিৎকার চেঁচামেচিতে মুখরিত হবে।
কিন্তু আপনার যা বয়স দেখছি উনি ফিরে আসলে ও আপনি আর মা হতে পারবেন না।
সাজুর কথা শুনে বৃদ্ধ মহিলা ওঠে দাঁড়ায়। রাগে গজ গজ করতে থাকে। চিৎকার করে বলল, এই কে আছিস এ দুটোকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দে।
সেই কালো মত লোকটা ছুটে আসে এবং তাদের দু’জনকে সত্যি সত্যি ঘাড় ধাক্কা দিয়ে রাজবাড়ি থেকে বের করে দেয়। মূল সড়কে এসে হোটেলের দিকে দৌঁড়াতে থাকে তারা। এ সময় ধমকা বাতাসের সাথে ঝড় ওঠে। ঝড়ের কবলে পড়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে দু’জন।
জ্ঞান ফেরার পর দেখে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। হোটেলের সেই দাঁড়োয়ান সামচু নিচু গলায় বলল, ঘটনা কি কনতো?
সাজু সব খুলে বলে। সব শুনে দাঁড়োয়ান বলল, সর্বনাশ! আর একটু হলেতো মারা পড়তেন। আসলে স্যার ঐ রাজবাড়িতে কেউ থাকে না। হিংসুটে রাজার ছেলে আর তার সে বউয়ের আত্মা সব সময় ঘুরে বেড়ায়। ভাগ্য ভালো তাই বাইচছা গেছেন। আচ্ছা আমি যাই। ডাক্তার সাহেবরে ডাইকা নিয়ে আসি।
দুই দিন পর সুস্থ হয়ে হোটেলে ফিরে সব বিল চুকিয়ে দিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হয় তারা। বাস চলতে শুরু করে। তাদের চোখে ঘুম। হঠাৎ বাস থামে। এক বৃদ্ধ মহিলা ওঠে। বৃদ্ধ মহিলাকে দেখে তারা চমকে ওঠে। বৃদ্ধ মহিলাটি দেখতে হুবহু রাজবাড়িতে দেখা সেই বৃদ্ধ মহিলার মত।

ওসমান ও জয়ার গল্প

এ কয়েক ঘন্টা আপনার সাথে থেকে অনেক অভিজ্ঞতা হল। মানুষ হিসেবে আপনি খারাপ না। কিন্তু…
‘কিন্তু কি?’ ওসমানের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে । সে অবাক হয়ে বলল।
‘না থাক। আজ যাই।কিছু টাকা দেন। সময় মত আপনার টাকা পরিশোধ করে দিবো। এ কয়েক ঘন্টায় নিশ্চয়ই বুঝেছেন আমি ও মানুষ খারাপ না।
জয়া তার মালপত্র ভ্যানে তুলে। তারপর চলে যায়। সে সিঁড়ির উপর চুপচাপ বসে থাকে। কয়েক ঘন্টা আগের কথা-হাসপাতালের ডিউটি শেষে বাড়ি ফিরছিল সে। গভীর রাত। সুনসান পরিবেশ। বাসায় ঢুকতে যাবে এমন সময় দেখে গেটের সামনে কিছু মালপত্র নিয়ে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে নিচু গলায় বলল, কে আপনি?
‘আমি জয়া। একটা প্রাইভেট কলেজ এ পড়ি। ছয় মাসের বাড়ি ভাড়া বাকি পড়েছে। তাই বাড়িওয়ালা বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। এখন কি করবো কিছু ভেবে পাচ্ছি না। রাতটা এখানে কাঁটিয়ে সকাল বেলা চলে যাবো।
‘ও। তা সাথে টাকা পয়সা কিছু আছে? ‘
‘টাকা পয়সা সাথে থাকলে কি আর এ রাতের বেলা এখানে পড়ে আছি।’
‘গ্যারেজে এসে বসুন। আমি দাঁড়ড়োয়ানকে বলে দিচ্ছি।’
‘ঠিক আছে ।’
সারা রাত দু’জন নানা গল্প করে কাঁটিয়ে দেয়। সকাল বেলা বাড়িওয়ালী এসে বলল, রাতে বউ এসেছে আমাদের ডাকেন নি কেন? আপনিতো আচ্ছা মানুষ ভাই। যান বউ নিয়ে ঘরে যান। আমি নাস্তা পাঠিয়ে দিচ্ছি।’
জয়া কে নিয়ে ঘরে তুলে সে। সবাই জানে জয়া তার বউ। এভাবে সারা দিন কেঁটে যায়। বেশ আনন্দে কাঁটছিল কয়েক ঘন্টা। গত দু’দিন আগে জয়া একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি পেয়েছে। জয়ার চাকরি পেয়েছে শুনে আর সবার মতো সে খুশি হতে পারেনি। সারা দিন পর বিকেল বেলা জয়া মোবাইলে তার বেশ কিছু বন্ধুদের সাথে কথা বলার পর মুচকি হেসে বলল, একটা ছোট বাসা পেয়েছি। আপাতত ঐখানে ওঠবো। আপনি কিছু বলুন?
‘আপনি যা ভাল বোঝেন।’ সে থেকে তার মন খারাপ হঠাৎ বাড়িওয়ালী নিচে নামতে গিয়ে তাকে এভাবে বসে থাকতে দেখে বলল, বউ রাগ করে চলে গেছে ?’
‘বউ’! সে অবাক হয়ে বলল।
যান ঘরে যান।মাথা ঠান্ডা রাখুন। রাগ কমে গেলে আবার ফিরে আসবে। ‘বাড়িওয়ালী চলে যায়। সে ওঠতে যাবে এমন সময় মোবাইল বাজে। সে মোবাইল রিসিভ করে, মা।’
‘তুই পারলে কালই গ্রামে আয়। একটা ভাল মেয়ের খোঁজ পেয়েছি। ‘লাইন কেঁটে যায়। সে ব্যাস্ত সমস্ত হয়ে পায়চারি করে।
পরদিন সকালে সব গুছিয়ে গ্রামের যাওয়ার জন্য তৈরি হয়। এমন সময় জয়া আসে। জয়া বলল, কি কোথাও যাচেছন নাকি?’
একটু গ্রামে যাবো।
কেন?
মা একটা মেয়ে পছন্দ করছেন।
‘ও! তাহলে আমি ?’বাড়িওয়ালী আসে। সব শুনে শূন্যে লাফিয়ে ওঠে। রাতে তার মা আসে এবং সে রাতেই তাদের বিয়ে হয়।

করোনা ও অদিতের জীবন

মাঝ রাত। সুনসান পরিবেশ। অদিত উঠোনে পায়চারি করে। বিশ বছর পর বিদেশ থেকে এসে এমন একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে ভাবতে পারেনি সে। স্ত্রী ছেলে মেয়ের তাকে ছেড়ে চলে গেছে। সবাই তাকে ভয় পাচ্ছে। শুধু তারা না।পুরো গ্রামের লোক ভয় পাচ্ছে তাকে।
যুদ্ধের সময় ও এমন পরিস্থিতি দেখেনি সে। সে মনে মনে ভাবে আল্লাহ কি না করতে পারে। মসজিদে জায়গা পাওয়া যায় না। কথায় কথায় সবাই আল্লাহর নাম নেয়। শেষ পর্যন্ত কি হবে কে জানে?
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ডাল ভাত খেয়ে নেয়। এ সময় স্ত্রী’র ফোন আসে, ‘কি ভাত খেয়েছো? ‘
খেয়েছি। তোমাদের কত করে বলেছি আমার করোনা হয়নি। তারপর ও…
সাবধানের মার নেই। এ মুহূর্তে আর কিছু বলার নেই। তুমি নিশ্চয় চাও না তোমার জন্য পুরো পরিবার বিপদে পড়ুক।
না না তা চাই না।
তাহলে একটু কষ্ট করে থাকো।
ঠিক আছে। তোমাদের জন্য সারা জীবন করেই গেলাম। আমার ছেলে মেয়েরা ভালো আছেতো?
আছে। পরিস্থিতি ভাল হলে আমরা ফিরে আসবো। আল্লাহকে ডাকো। একমাত্র আল্লাহ আমাদের এ বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।
আমিন।
‘আমিন।ভাল থেকো। ‘এ সময় বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে এক দল লোক ঝিকির করতে করতে যায়। কেউ একজন চিৎকার করে বলে সাবধান বাড়ি থেকে বের হবেন না।
সে ব্যাস্ত সমস্ত হয়ে পায়চারি করে। বিড়বিড় করে কথা বলে। দুপুরে খেয়ে লম্বা একটা ঘুম দিয়ে উঠে দেখে ঘরের আলসেতে খাবার ভর্তি টিফিন বক্স। নিজের মনে হাসে। গান গায়। পুকুরের পানিতে ঢিল ছুঁড়ে মারে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে জীবন কেমন বদলে গেছে। সত্যি কি এ রকম একটা পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল? ধনী দেশ আর গরীব দেশ যে একই সমস্যায় পড়তে পারে তা ২০২০ সালে এসে কেউ ভাবতেই পারেনি। লক্ষ লক্ষ কোটি ডলার খরচ করে পারমাণবিক বোমা বানিয়ে রেখেছে কার জন্য? অদিত ভাবে তার মতো একজন লোক এ সব ভেবে কি লাভ? মসজিদের মাইক থেকে ভেসে আসে, ‘আপনারা ইচ্ছে করলে ঘরেই নামাজ পড়তে পারেন।’
আযান হয়। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এ অবস্থা আর ভাল্লাগে না তার। এ থেকে বিদেশে ভালো ছিল সে। অসুস্থ হলে চিকিৎসাতো পাওয়া যে। এখানে কি হয় কে জানে। এ সময় চেয়ারম্যান রতন চেঁচিয়ে বললেন, আমি জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচিছ। অদিত তুমি বাড়ি থেকে বের হবে না।
সে ও চেঁচিয়ে বলল, আচ্ছা। এ অবস্থা আর কত দিন চলবে?
তা আমি কি জানি ? আল্লাহকে ডাকো। আল্লাহ ভাল জানে। একমাত্র আল্লাহ আমাদের এ বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।
আমিন।
আমিন।

বড় ভাল লোক

গভীর রাত। পিনপতন নিরবতা। জহির সাহেব একটা ব্যাগ হাতে নিয়ে ধীর পায়ে হাঁটছেন। তার সারা শরীর কাঁপছে। উত্তরা খাল পাড় থেকে হেঁটে শাহবাগ বাস স্ট্যান্ড এসে থামেন। তার বুক হাফরের মতো ওঠানামা করে। গত দশ দিন ধরে অনেক ভেবে চিন্তে ভালো একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশের এই পরিস্থিতিতে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকলে হবে না। কিছু একটা করতে হবে। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার ও হাঁটতে শুরু করেন।সূর্য ওঠার আগ মুহূর্তে চক বাজার এসে পৌঁছেন। বড় করে একটা শ্বাস নেন।
একটা একটা করে দোকান খুলতে শুরু করে। তিনি কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে জিনিসপত্রের দরদাম করেন। তারপর তিনশ বস্তা চাল কিনেন। পাঁচ কেজি ওজনের তেলের বোতল কিনেন তিনশটা। পনেরশ কেজি ডাল কিনেন। এভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে বেশ কয়েকটি পিকআপ ভরে উত্তরা খাল পাড়ে আসেন।
খাল পাড় থেকে খানিক দূরে আরাফ বস্তি। যেখানে বাস করে তিনশ গরীব পরিবার। বস্তির মুখে এসে যখন পিকআপ গুলো থামে তখন বস্তির কেউ বুঝতে পারে না ব্যাপারটা কী ঘটতে যাচ্ছে। জহির সাহেব পিকআপ থেকে নেমে সবাইকে ডাকেন। মুহূর্তে সবাই এসে হাজির হয়। জহির সাহেব বললেন, তোমরা কেমন আছো?
একজন বৃদ্ধ মহিলা বলল, আমারা ভালো নেই স্যার। এ অবস্থায় কেউ ভালো থাকে? বস্তির এক একটা ঘরে ছয় সাত জন করে লোক থাকে। ঘর ভাড়া, পোলাপানের খাওন দাওন কোত্থেকে দিমু কিছু বুঝতে পারতেছি না। খুব পেরেশানির মধ্যে আছি স্যার।
কিছু সাহায্য পাইছি স্যার। সপ্তাহ খানেক যাইবো। তারপর… একজন যুবক বলল।
আমি কোন সাহায্য পাই নাই। লজ্জা লাগে। একজন মাঝ বয়সী লোক বলল।
ঠিক আছে। আমি কি বলি মন দিয়ে শুন।আজ থেকে এক মাস তোমরা কেউ এ বস্তি ছেড়ে বাইরে বের হতে পারবে না। আবার বাইরে থেকে কেউ তোমাদের বস্তিতে ঢুকতে পারবে না। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবা। এ এক মাস তোমাদের খাদ্যের যোগান দিবো আমি। অসুখ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো।
জহির সাহেবের কথা শুনে এ ওর মুখের দিকে তাকায়। সবার চোখে মুখে বিস্ময়! কি বলে লোকটা? কিছুক্ষণ পরস্পর পরস্পরের সাথে আলোচনা করে নেয়। তারপর এক বৃদ্ধ লোক বলল, ঠিক আছে স্যার আমরা রাজি।
জহির সাহেব তিনশ পরিবারকে এক মাসের খাওয়া বুঝিয়ে দেন। এ সময় তার ছোট ছেলে সুনান দৌঁড়ে আসে ।সুনান বলল, এসব কি শুনছি আব্বা ? আপনি কি হাতেম তায়ি হয়ে গেলেন। এখন আমাদের কি হবে?
কেন তোমাদের ব্যবস্থাতো আগেই করে রেখেছি। এটা আমার টাকা।
জহির সাহেব সামনে এগুতে থাকেন।সুনান অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। জহির সাহেবের শরীর বড্ড ক্লান্ত। তবে মনে খুব আনন্দ। গুনগুন করে গান ও গান -আমার কোন কূলে আজ ভিড়লো তরি এ কি সোনার গাঁ।