আবছায়া

সারাক্ষণ আমার চারপাশ
অলৌকিক কুয়াশার মতো আবছায়া
আমার দৃষ্টির সীমানাকে ধূসর করে রাখে!
সব মানুষের অবয়ব একই রকম
ধোঁয়াশা এবং রহস্যময় মনে হয়!
তাই এখন তোমাকে আর আমি
ঠিকঠাক চিনতে পারিনা!
আমার সামনে দিয়ে স্থিরচিত্রের মত
মানুষেরা হেঁটে যায়!
তাদের প্রত্যেকেরই আলাদা নাম ঠিকানা আছে!
কিন্তু তাদেরকে কেন যে শুধু মানুষমাত্র মনে হয়
তা ঠিক বুঝতে পারিনা!
ছায়া দেখে নারী ও পুরুষের আলাদা বৈশিষ্ট্য আন্দাজ করি!
এই ঘোর লাগা বিভ্রমের কারণে
কাউকে নাম ধরে ডাকতে পারিনা!
তোমাকে মনে মনে চিত্রকল্প দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি!
এখন আমি চেহারার বৈশিষ্ট্য বাদ দিয়ে
মানুষকে মানুষ হিসাবে চেনার চেষ্টায় রত আছি!
…………………………………………..

অমরত্ত্বের খোয়াব

প্রিয় নারীদের স্বার্থপর উপেক্ষা আমি এখন পার হয়ে এসেছি!
তবুও দু-একটা উজ্জ্বল মুখ নিবিড় রাত্রিতে চাঁদ হয়ে জোছনা ছড়ায়!
এসব নস্টালজিক পিছুটান আমাকে সুস্থির হতে দেয় না!
এক রৌদ্রকরোজ্জ্বল সকালে আমার জীবন যাত্রার সূচনা হয়েছিল!
আমার বন্ধুরা পরিকল্পনামাফিক নিজেদের গন্তব্যে এগিয়ে চলেছে!
মানুষের করুণ কান্না,নারীদের অসহায় আর্তচিৎকার পিছনে ফেলে
এই এগিয়ে যাওয়ার ইঁদুর দৌড় দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক
অমরত্ব প্রাপ্তি যেন তাদের প্রায় করায়ত্ত হওয়ার মুখে!
মরজগতের মানুষের মৃত্যুই সুন্দর, অমরত্ব ধূসর খোয়াব!
ঘনিষ্ঠ মানুষদের দ্বিচারিতায় আমি ক্রমশ পিছু হটেই চলেছি!
নিজস্ব বিচরনের পরিসরে দিনে দিনে দীর্ঘ হচ্ছে অনৈতিকতার প্রাচীর!
এই পৃথিবী স্থায়ী বসবাসের যোগ্য কোন জায়গা নয়,ক্ষনিকের অবসর
কালের ইতিহাসে আমরা কেবল মহাশূন্যে বিলীয়মান সামান্য বিন্দু, নশ্বর!
…………………………………………..

এক মায়াময় আলোর প্রতীক্ষা

আমার প্রিয়জনদের অশ্রুপাত
এখন আর আমাকে বিগলিত করেনা
এক অদ্ভূত স্তব্ধতার বোধের ভেতর
আমি এখন বাস করি
আর চারপাশের নিবিড় অন্ধকারের ভেতর
নিজেকে খুঁজে বেড়াই
আমার জন্য আর অপেক্ষা করে কি লাভ
আমি ভবিষ্যতের ডাক শুনতে পাচ্ছি
যে ভবিষ্যৎ কালো অন্ধকারে ঢাকা
আমার চারপাশে অন্ধকার জগতের জীবরা
সারাক্ষণ সতর্ক নজরদারি চালাচ্ছে
আর অনুভব করছি সরীসৃপদের হিসহিস স্বর
আমি বিস্ময়ে অবাক হয়ে দেখছি
তারা কিন্তু আমাকে ছোবল মারছে না
হয়তো জেনেছে এইসব জৈব-বিষ
আমি হজম করতে শিখেছি গিয়েছি
আমার প্রিয় নারীদের স্বার্থপর অবহেলা
আমার মধ্যে তৈরি করেছে এই ইমিউনিটি
তবুও আমি সারাক্ষণ এক মায়াময় আলোর
প্রতীক্ষায় থাকি
যা আমাকে গভীর অন্ধকার ভেদ করে
সত্যকে অবলোকন করাবে!
…………………………………………..

জোড়াতালি প্রেম

চারপাশে এখন ঝড়ের আবহ
নড়বড়ে বিশ্বাসের খুঁটি ধরে আছো
তার পরেও কি করে যে তুমি হাসো!
শীতের মাস অথচ কোথাও কোন
শীতলতা নেই
চারপাশে জ্বলে উঠছে ক্ষোভের আগুন
মায়ার বন্ধন দিয়ে গড়া হে প্রিয়
ভালোবাসার বেড়া
এখন যেন জোড়াতালি প্রেম,আর সন্দেহের
ঘুণপোকায় মোড়া!
কালবৈশাখীর অবিশ্বাসী ঝড় লাফাচ্ছে
সাপের জিহবার মত
বিশুদ্ধ হাসিও ছড়ায় এখন বিজুলী ছটার
গভীর ক্ষত!
খড় বিচালির মত উড়ে যেতে বসেছে
অতীতের সব বিনিময়
তোমার হাসির ছটায় ও লেগে রয়েছে
বিপন্ন বিস্ময়!
হৃদয়ের গভীর প্রকোষ্ঠ জুড়ে এখন কেবল
সব হারানোর ভয়!
…………………………………………..

ক্ষমার আচ্ছাদন

বিপর্যস্ত ইন্দ্রিয় গুলির উপর আমার নিয়ন্ত্রণ কমে আসছে
তাই এখন আমি সকালের সূর্যাস্ত দেখতে ভয় পাই!
পশ্চিমের অন্ধকার যাতে ঘরের ভেতরে ঢুকতে না পারে
সেজন্য জানালা বন্ধ রেখে অন্ধকার ঘরে শুয়ে থাকি!
এখন শরৎকাল অথচ প্রকৃতিতে কী তীব্র দহন!
মানুষেরা ঘর্মাক্ত কলেবরে উৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা!
আমাদের মস্তিষ্ক কুরে খাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার উইপোকা!
হোয়াটসঅ্যাপে কাশফুল দেখে উল্লসিত হই!
হে আমার প্রভু, তুমি আমার জন্য খুলে দাও পৃথিবীর শেষ দরজা! ভিতরে আসতে দাও শরতের মন কেমন করা শীতল বাতাস!
প্রিয়তমার হাত ধরে নিবিড় নির্জনে আরও কিছুটা সময়
বিশুদ্ধ শ্বাস নিতে দাও!
তোমার ক্ষমায় আচ্ছাদিত হোক মানবজাতির বসবাসের এলাকা!
…………………………………………..

মায়াবী উপগ্রহ

আমি কি এখন গাছ হয়ে উঠছি
বিচরণের কথা ভাবলে কেন যে
এত ক্লান্ত লাগে
আমার দেহের ব্যবহৃত অঙ্গ পতঙ্গের মধ্যে
সারাক্ষণ লেগে থাকে ঘুমের ঘোর,
কতদিন দেখিনি পূব দিগন্তে ক্লান্তি জোড়ানো
মায়াবী ভোর!
গাছেদের মত অনন্ত সহিষ্ণুতার স্বভাব
আমার নয়
অন্তর্হিত হওয়ার কথা ভাবনাতে এলেই
জেগে ওঠে প্রবল ভয়!
চারপাশের শূন্যতার মাঝে
হে আমার মায়াবী উপগ্রহ
অনি:শেষ হওয়ার আগে তোমার কাছে
চাইছি নিরাপদ আশ্রয়!
…………………………………………..

নিঃশেষ হতে চাই প্রকাশ্যে

প্রিয় মুখগুলি বড়ই ব্যস্ত
তাহাদের কোন ক্লান্তি নাই
কোন এক আশার কুহকে
তারা কেবল সারাক্ষণ ঘোরে
আমার ক্লান্ত হৃদয় তখন
প্রেম থেকে অপ্রেমে ফেরে
তাহাদের এই সর্বনেশে খেলা
আমাকে নষ্ট করে হিম সন্ধেবেলা
রিতু তোমার শিল্পময় শরীর
আমার কিবা প্রয়োজন?
এই পৃথিবীর উপবনে তোমার
বুকের গন্ধ ছাড়া সব ব্যর্থ আয়োজন!

তোমার শরীরী রেখাচিত্রের ভাষ্যে
আমি নিঃশেষ হতে চাই প্রকাশ্যে!
…………………………………………..

ও আধখানা চাঁদ

সাগরদিঘী ছেড়ে এখন মহানগরে তোর বাস
এখনও কি তুই রাতের ইডেনে
টি-টোয়েন্টি দেখতে যাস?
এখনও তোকে খুঁজে বেড়াই
রাতের মধ্যযামে
ও আধখানা চাঁদ লেপ্টে আছিস
বুকেরই অ্যালবামে!

মাথা ছিল ঝুঁকে, আলিঙ্গন স্পন্দিত বুকে
আবেগঘন অনেক কথাই বলেছিলি অস্ফুটে
সেসব কথা আজও অমীমাংসিত,
রহস্যের ঘেরাটোপে!

রমণীয় সেই যে রূপের ছটা দেখেছিলাম আমি
শব্দমালায় সাজিয়ে সেসব করে তুলেছি দামি!
…………………………………………..

সংকেতময় পাথরের স্তব্ধতা

আমি তোমার ভেতর আত্মস্থ হলে
তুমি গাছ হয়ে যাও-
আমি তখন সেই গাছের নিচে বসি
বুদ্ধের মতো একাত্ম ধ্যানমগ্নতায়
আদিম নির্জনতায় আমি গাছের ভাষায় কথা বলি
অথচ তুমি নীরব থাকো সংকেতময় পাথরের স্তব্ধতায়!
তবুও অনেক সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত পেরিয়ে
তোমার সঙ্গে মিলনের সদিচ্ছায় আমার অহরহ রাত্রি জাগরন-
কাল রাতে বৃষ্টি পতনের শব্দে যেন তোমার কান্না শুনলাম!
অথচ জানি জলের মতো তরল স্বভাব তোমার নয়!
পাথরের স্তব্ধতা ঝুলে থাকে তোমার চাহনিতে
তবুও বৃষ্টিপতনের শব্দকে কাল রাতে
কেন যেন আমার কান্নার মত মনে হলো!
…………………………………………..

অলৌকিক মায়া

তুমি যখন নত হও সন্ধ্যার প্রার্থনায়
গোধূলির আলো মায়াময় রহস্য ছড়িয়ে
দূরে দিগন্ত রেখায় সূর্য ডুবে যায়!

তোমার সিজদায় নতজানু হওয়া দেখে
আমার বুকের ভিতরে শান্তির
পাখিরা ওড়াওড়ি করে
ভালোবাসার প্রশান্তির বাতাস
বয়ে যায় হৃদয়ের অন্দরে!

তখনই আমাদের ভালোবাসা বিশুদ্ধ মনে হয়
চারপাশ ঘিরে রাখে মহাবিশ্বের অলৌকিক মায়া
আণবিক মেঘের কুণ্ডলী থেকে
তখনই মেলে সুশীতল ছায়া!