বৃষ্টি ও খোকা

রোজ সকালেই বৃষ্টি ঝরে
ঝম ঝমাঝম ঝম।
তাইতো খোকা থমকে গেছে
থম থমাথম থম।

সারাদিনই হোক বা নাহোক
সকালবেলা হয়।
দুষ্টু বৃষ্টি খোকাকে কি
দেখাবে শুধু ভয়?

স্কুল যাবার সময় হলে
বৃষ্টি ঝেঁপে আসে।
যদিও খোকা বৃষ্টি টাকে
খুবই ভালোবাসে।

এক দু’দিন স্কুল কামাই
হয়ত ভালো লাগে।
বৃষ্টি ভায়া এমন দুষ্টু
ছিল নাতো আগে।

রাতের বেলা সবাই যখন
ঘুমের দেশে থাকে।
বৃষ্টি তোমার আসার পথটা
কে আটকিয়ে রাখে?
……………………………………………

খোকার রোজা

ছোট্ট খোকা থাকবে রোজা
ধরেছে যে বায়না।
সে নাকি এখন বড় হয়েছে
তাইতো খাবার খায়না।

মায়ের অনেক চিন্তা হচ্ছে
চেষ্টা করতে ছাড়েনি।
বাবাও তার ব্যর্থ হয়েছে
খাওয়াতে তো পারেনি।

তোমরা সবাই রোজা থাক
আমি থাকায় দোষ কিসের?
দেখিনা মা একটু চেষ্টা করে
রোজা নয়তো ঘন্টা বিশের?

কত শিশুই উপোস থাকে
খাবার তাদের জোটেনা।
আমার খুব কষ্ট হবে তাই
তোমার হাসি ফোটেনা।
……………………………………………

ঈদের খুশি সবার খুশি

ঈদ আসছে খুশি নিয়ে
আবার বছর ঘুরে।
ঈদের আমেজ ছড়িয়েছে
পুরো বাড়ি জুড়ে।

ঈদ উৎসব করতে সফল
চলছে কেনাকাটা।
হরেকরকম জামা-জুতো
এপেক্স না হয় বাটা।

মা-বাবা দিল চাচুও দিল
দিল খালা ও মামা।
সব মিলিয়ে তোমার এখন
দশ বারোটা জামা।

বাসার পাশেই তানিয়া থাকে
পায়নি একটি জামাও।
ঈদ নিয়ে তোমার বাড়াবাড়ি
একটু হলেও থামাও।

তোমার থেকে একটি জামা
তানিয়াকে দিয়ে দাও।
ঈদের খুশি যে সবার খুশি
সবাই ভাগ করে নাও।
……………………………………………

ঈদ হল শেষ

ঈদ এসেছিল খুশি নিয়ে
আবার চলে গেল।
ঈদের খুশি সবার জন্যই
সবাই কি তা পেল?

কেউ কিনল দশটি জামা
জুতাও দশ জোড়া।
অভাগীরা কিনবে কি করে
তাদের কপাল পোড়া।

মোরগ পোলাও কাচ্চি রোস্ট
কতরকম খাবার।
কেউবা শুধু ঘ্রাণেই পাবে
কেউবা করে সাবাড়।

ধনী গরীব সবাই যে সমান
রোজা দিল শিক্ষা।
ঈদের পরেই সব ভুলে যাই
নিলাম নাতো দীক্ষা।

যাকাত দিল ঢোল পিটিয়ে
মরল মানুষ কিছু।
যশ খ্যাতি চাই, নামও চাই
চামচা নিল পিছু।

ঈদের নামাজ এক কাতারেই
ধনী ও গরীব পড়ে।
নামাজ শেষে লোক দেখানো
কোলাকুলি ও করে।

একটু পরেই হয় ব্যবধান
উচ্চ ও নিম্ন বিত্তের।
সব ভেদাভেদ ভুলে কি সবে
খেয়াল রাখে চিত্তের?
……………………………………………

কিশোরবেলা

আমি যখন কিশোর ছিলাম
ছিল সাহস কত।
বয়স বাড়ল বড়ও হলাম
ভয়েই মাথা নত।

লুডো খেলা ঘুড়ি ওড়ানো
ফেললাম হারিয়ে।
কিশোর বেলার কত স্বপ্ন
বেড়ায় তাড়িয়ে।

ডাংগুলিতে ছিলাম সেরা
দুষ্টুমিতেও সেরা।
দিন কাটত বনে বাঁদাড়ে
সবুজছায়া ঘেরা।

বর্ষা কালে নদীর জলে
চলত লাফালাফি।
রক্তিম চোখে বাড়ি ফিরতে
ভয়ে কাঁপাকাঁপি।

গাছে উঠে কাঁঠাল খাওয়ার
কিযে দারুণ নেশা।
পুকুরপাড়ে কাঁঠালগাছ
থাকার ঘর ঘেঁষা।

ভরদুপুরে উঠতাম গাছে
হত কাঁঠাল সাবাড়।
ইচ্ছেজাগে সেইদিন গুলো
ফিরে পেতে আবার।

মোবাইল ট্যাবে ব্যস্ত এখন
সকল শিশু কিশোর।
ক্রিকেট ব্যাট হাতে ওঠে
আরাফ কিংবা নিশোর।

কিশোর বেলার কত খেলা
জিততাম আর হারতাম।
এখনও আমি স্বপ্ন দেখি
যদি খেলতে পারতাম?

সেদিন গুলি হারিয়ে গেছে
ফিরবে নাতো আর।
গ্রাম গুলো আর গ্রাম নেই
হয়েছে একাকার।
……………………………………………

বিদ্রোহী নজরুল

বাংলার কবি বাংলার রবি
বাংলার বুলবুল।
বাংলা ভাষারই শ্রেষ্ঠ কবি
বিদ্রোহী নজরুল।

দ্রোহের কবি সাম্যের কবি
কবি মানবতার।
ধর্মের কবি শান্তির কবি
সৃষ্টি জানব তাঁর।

দুখী কবি এতিম কবি
দুঃখ অনেক মনে।
সুখের দেখা পায়নি কবি
জানে তা ক’জনে?

সাতাত্তর বছরের জীবন তাঁর
বিয়াল্লিশ ছিল সক্রিয়।
বাকীটা জীবন নির্বাক নিশ্চল
মাথাটাই ছিল নিষ্ক্রিয়।

তবুও কবির সৃষ্টি গুলো সব
অমর হয়ে আছে এখনো।
বাংলা সাহিত্যে সেরা তাঁর লেখা
ভুলবে কি কেউ কখনো?
……………………………………………

হাতি এখন শহরে

হঠাৎ দেখি সেদিন ব্যস্ত রাস্তায়
মস্ত বড় এক হাতি।
পিঠে তার বসে আছে মাহুত
মাথায় দিয়ে ছাতি।

ব্যস্ত শহরে গাড়ীঘোড়ার ভিড়ে
চলছে হাতি ভদ্র অতি।
দেখেশুনে চলে ভয়ভীতি নেই
করছে না কারো ক্ষতি।

মণ্ডা মিঠাই জিলাপি ও কলা
কোন কিছুতে নেই নেশা।
দোকানে দোকানে টাকা তোলা
যেন এই হাতিটার পেশা।

বনের হাতি থাকার কথা বনে
নয়তো চিড়িয়াখানায়।
সেই হাতিটাই ঢুঁ মারে এখন
অফিস ও কারখানায়।

শিশুর ইচ্ছে

শীতের সকাল বড্ড আরাম
লেপের তলায় থাকতে।
কে চায় বল এই সকালে
শীত কুয়াশা মাখতে?

মা করে রোজ ডাকাডাকি
সকালের ঘুম ভাঙ্গাতে।
সুর্য্যি মামারও ঘুম ভাঙ্গেনা
সকালটাকে রাঙ্গাতে।

তাড়াতাড়ি তৈরি হওয়া
স্কুল যাওয়ার জন্য।
পড়ালেখা স্কুল কোচিং
কাজ কি নেই আর অন্য?

দুপুরবেলা খেতেই হবে
রংবেরং এর থালাতে।
ইচ্ছে করে পু ঝিকঝিক
ট্রেনে চড়ে পালাতে।

রোজ বিকেলে টিচার আসে
একগাদা বই পড়াতে।
বাবা- মায়ের বারণ ও শুনি
খেলনা গাড়ি চড়াতে।

বিকেল সন্ধ্যে খেলার সময়
পাইনা সুযোগ সেই খেলার।
শিশুবেলা এত বই, এত পড়া
এই কি জীবন ছোটবেলার?

দিনে দিনে চাপ যে বাড়ে
আগেও কি ছিল তাই?
ছোটবেলার মজার জীবন
গল্পে শুধু শুনতে পাই।

ছবি আঁকে বাবু

ছোট্ট বাবুর ছোট্ট হাতে
আঁকছে কত ছবি।
অবাক হয়ে দাদু বলে
তুই কি শিল্পী হবি?

গাড়ি আঁকে বাড়ি আঁকে
আঁকে ফুল পাতা।
রং বেরংয়ের ছবি দিয়ে
ভরে ফেলে খাতা।

স্পাইডার ম্যান সুপার ম্যান
বাদ যায়না কিচ্ছু।
হাতি আঁকে ঘোড়া আঁকে
আঁকে সাপ বিচ্ছু।

আঁকার নেশায় ফুলও আঁকে
গোলাপ জবা শাপলা।
মাছ এঁকেছে ইলিশ রুই
বোয়াল আর কাতলা।

গাজর আঁকে মুলার সাথে
আঁকে বেগুন পেঁপে।
দেশের পতাকা আঁকতে গিয়ে
নিচ্ছে খানিক মেপে।

দেখতে দেখতে বাবুর খাতা
দাদু অবাক হয়।
ছোট্ট বাবুটি বড় শিল্পী
হবে তো নিশ্চয়।
……………………………………………

শিশুর সুযোগ

গোঁ ধরেছে গো ছানাটি
থাকবে না আর ঘরে।
কেমন করে ঘুরছে সবাই
দারুণ মজা করে।

মানুষগুলো ঘুরছে কেমন
শহর বন্দর গ্রামে।
বাচ্চাগুলো উঠছে মেতে
ঘুড়ি, লুডো, কেরামে।

তারা কত মজা করে
দেখো সবাই মিলে।
আমি কেন ঘরেই থাকি
দরজা আটকা খিলে।

মায়ের সাথে বাচ্চারা সব
খাচ্ছে হেসে খেলে।
আমি কেন দড়ি বাঁধা
আমার ক্ষিধে পেলে।

আমি শিশু, তারা শিশু
তফাৎ কেন তবে?
সব শিশুদের সমান সুযোগ
আদৌ কি আর হবে?