আত্মহনন?

“আমার জীবন আমি নিয়েছি, কার কি বলার আছে?
আজ বয়ে যাক সুখ, সবার নদে, আমি ঝুললাম গাছে!

বলতে সবাই অকর্মা আমি, কাজের নয়তো কোনো,
নাও, ছেড়ে দিলাম কক্ষ আমার, সব্যসাচী আনো।

বিশ্বাস করে ঠকেছি আমি,জানি হয়না মূল্য ফেরত!
কাঁচা ব্যবসায়ী? হতে পারি, তবে “বিক্রিত” নয়,সৎ!

আপনজন বলি যাঁদের,সেদিন তারাও দিলো গাল!
তখন-ই তো গিয়েছিল ছিঁড়ে, আমার তরীর পাল!

ভেবে বসে বসে, হিসেব শত কষে,পেলাম না সমাধান,
তাই সর্বসুখের তরে, আমার জীবনেরে, করিতেছি বলিদান!”

-ভাই,খুব ব্যস্ত? একটু দাঁড়ান, আসুন হিসাবটা আবার কষি,
অংকে যদিও পীথাগোরাস নয়,তবে হিসেবটা ভালবাসি!

কি যেন বললেন,অকর্মা আপনি, কোন কাজের নয়,
কেন পঙ্গু আপনি?মেন্টালি ডিজ্যাবলড?অস্থিতে লেগেছে ক্ষয়?
বিশ্বাস নাকি বেঁচে দিয়েছেন, ঠকেছেন ও ব্যবসায়?
একটা ব্যাপারী খুঁজে দেখেনতো, কোনোদিন-ই ঠকেনাই!

-আচ্ছা, বুঝলাম, তবে কি দিয়ে দিবেন আশ্বাস?
আপনজন দিয়েছে গাল, রাখেনি এতটুকু বিশ্বাস!

-প্রিয়জন যারা, জানে তাহারা আপনার থেকে ভালো,
কতটা সামর্থ্য রাখেন আপনি, কতটা ছড়াবেন আলো!
তার থেকে কম দেখতে পেয়ে আশাহত ছিল তারা!
তাতিয়ে দিতে চেয়েছিল আপনার নিভু নিভু অঙ্গারা!

আপনার আপনার করেন আপনি কতটুকু আপনার?
ঋণশোধ সব হয়ে গেছে,খোদার,বাবা-মার?

নিজেকে মেরে কাকে সুখ দেন, ভেবে দেখেছেন কি?
শুধু নিজের জীবন, নিজের-ই সুখ, আপনার-ই মুক্তি!

ভাবেন,জীবনের কাছে হেরে যাচ্ছেন প্রতিদিন লক্ষ বার?
দেখেন না কেন মৃত্যু হারছে, প্রতিদিন কোটিবার!

জীবন টা কোন গল্প নয়, লিখে দিলেম সমাপ্ত!
অনেক লেখা বাকি আছে, চলুন গড়ি নতুন অব্দ!
…………………………………………..

ভুলবোনা পরিচয়

যদি ফ্রেমের মোড়কে কিছু হাসি বাঁধিয়ে রাখা যায়,
অথবা ডায়েরির পুরানো মলাটের মাঝে, বা ভাঁজ করা পৃষ্ঠায়।
আমি রেখে দিতাম সযত্নে কতক সন্ধ্যামালতি, শিউলি বা ক্যামেলিয়াই-
স্মৃতি বলোনা ওগুলোকে, সুবাস যে হারায়!

যদি বলো “মহাকাশ দেখেছো তুমি-
নক্ষত্রের দল? সবুজাভ ছাদ, যেন মনে হয় স্বপ্ন চরাই,”
উত্তর হবে- “না। কে খোঁজে বলো প্রশান্ত সাগর, যার দরজায় নীল নদ বয়ে যায়!”
আমিতো বিস্মিত হই প্রতিটা বৃষ্টি ফোটায়, কুয়াশার ধোঁয়ায়,
প্রতিদিন আসে, তবু নতুন কেন মনে হয়? রুপ কীরুপে বদলায়? সুরভি কেন ছুয়ে যায়?
অবাক করে কি দারুন নিষ্পাপতায়!
আমি শুধু দেখি এসবের মাঝে তোমার উচ্ছলতাই!

কাল সব চলে যাবে দিগন্তের সীমানায়, জানি আমি-
হারাবে চেনা দ্রাঘিমা অপরিচিত অক্ষাংশের মাত্রায়!
তবু তোমার ঠিকানা রয়ে যাবে, প্রতিটি নতুন ভোরের আভায়, হাসি-খুশি, বিষন্নতায়।
কার সাধ্যি বলো তা মুছে দেয়? অবাক করা সে হামিং পাখির সুরের মূর্ছনায়-
গেয়েছিলে প্রতিটা সাক্ষাতে, ইথারে বা সবুজের গালিচায়।
পার্থক্য নেই, তবু অপার্থিব কি যেন ছিলো প্রতিটা শব্দমালায়!

আমি ভুলবোনা পরিচয়, এ বন্ধুত্বের যত হিমালয়-মেঘ ছুয়ে যাবে অপার বিমুগ্ধতায়।
শত চেষ্টায়ওহবেনা সে এভারেস্ট বিজয়!
ভুলবোনা পরিচয়;যত স্বর্গভূমি চরিনা কেন, নতুন গ্রহে ভ্রমি না কেন,
ধুমকেতুটা দেখি না কেন-
তুমি রয়ে যাবে সে আঠারোর বারান্দায়। যেমনটা ছিলে প্রথম হাসিটায়!
ভুলবোনা পরিচয়;ভিনদেশে চলে যাই, বা স্মৃতির ক্যাসেট টা হারাই, বা চশমাটা খুঁজে না পাই-
তোমার নামটা খোদাই থাকবে পাথরের নকশায়!

তুমি ভুলে যেও;ব্যস্ততার গোলকধাঁধায়,
বা উত্তাল সমুদ্রে কম্পাস না থাকায়, অথবা তীব্র আলোয় যদি চোখ ধাঁধায়-
আপত্তি নেই।
জেনো, আমি ভুলবোনা এ বন্ধুত্বের কোনো ক্ষুদ্র পংক্তিও সামান্য অসংলগ্নতায়…
…………………………………………..

তোমার আমার ছেলেবেলা

তোমার সকাল বেলা আমার সকাল বেলা-
সূর্য তো উঠেছে একটাই,
তবু তোমার ঊষার আলো আমার চাইতে কালো
বলতে পারি আমি নির্দ্বিধায়।
পালটে গিয়েছে দিন, রাতটাও ভয়হীন
পালিশ করা লাগে সব!
চারিদিকে আলোবাতি, আঁধার তবুও সাথী
নির্মলতার এত অভাব!

আমি নব্বই দশকের ছেলে,তুমি ‘দু হাজারেতে এলে,
দেখ তোমার জন্যে আমি সাজিয়ে রেখেছি এক
পৃথিবী বড় গোলমেলে!

আমার শুক্রবারে, রাত থাকতেই ঘাড়ে-
ব্যাট-বল নিয়ে মাঠ দখল,
তোমার শুক্রবারে, বেলা দশটার পরে
হুশ ফেরাতে লাগে ঢোল!
আমার বিকেল বেলা, ভেঙে-চুরে শত তালা
মাঠেতে পৌঁছে গেছি ঠিক,
তোমার বিকেল বেলা, “হ্যাংআউট”,গেম খেলা-
ব্যাচ-কোচিং বা “ফিলিং সিক”!
আমার চার দেয়াল, অসহ্য কালো ভয়াল
বাহিরেই যেন স্বপ্নপুরী,
তোমার আকাশ দ্যাখো,দেয়ালেই সুখ আঁকো
ওড়াও ওয়াই-ফাইয়ে বাঁধা ঘুড়ি!
আমার গল্পগুলো, চোখে মুখে এলোমেলো
স্মৃতিতে বাঁধার নেই তাড়া,
তোমার আড্ডা বিলাস, মেসেঞ্জারে হাঁস-ফাস,
জমেই না সেলফি ছাড়া!
আমি নব্বই দশকের ছেলে,তুমি ‘দু হাজারেতে এলে,
দেখ তোমার জন্যে আমি সাজিয়ে রেখেছি এক
পৃথিবী বড় গোলমেলে!

আর করবোনা তুলনা, কোনটা ক’ আনা সোনা
নিক্তি দিয়ে চলে যাই,
হয়তো তোমার নীড়ে, এমন পাখি ওড়ে,
আমার দেশে আসে নাই!
তবে মাস যাবে দিন যাবে, ভালবাসা বেঁচে রবে
এটাই আমার কামনা,
তোমার পৃথিবী, আমার পৃথিবী-
একি পাখির-ই দুই ডানা…!

আমি নব্বই দশকের ছেলে,তুমি ‘দু হাজারেতে এলে,
দেখ তোমার জন্যে আমি সাজিয়ে রেখেছি এক
পৃথিবী বড় গোলমেলে!
…………………………………………..

অভিনয়

খুব জোরে জোরে ছুটে চলেছিল লেড লাইটের আলো,
হাইড্রোলিকের হর্নগুলো যেন তবলা বাজাচ্ছিলো।
নিকষ কালো আঁধারের রাত ছিলো সাজানো মঞ্চ কোনো,
সাথে হিমশীতল তীব্র বাতাস যেন রূপকথার কোনো দানো!

মহাসড়কের বাঁ দিক ধরে চলেছি হেঁটে আমি,
পাশ দিয়ে সব আসছে-যাচ্ছে চরিত্র শত বেনামী!
হাজারো স্বপ্ন চোখে তাদের, ব্যস্ত সবাই ভারী-
হঠাৎ করেই চোখ কেড়ে নেয় ফুটপাতের এক নারী!

গোলাপের মত মুখচ্ছবি নয়, নাই মোনালিসা হাসি,
তবু কেড়ে নেয় হৃদয় আমার বাজিয়ে ব্যঙ্গ বাঁশী!
হাঁটু যেয়ে তার থুতনি তে মেশে, নিচে বিছানো ছালা,
শুয়ে মাতৃগর্ভে শিশুর মত- জড়িয়ে নিজেই নিজের গলা!

গরম কাপড় লাগে না তার, “মানুষ” নয় তো সে-
শীতের কোনো “দেবী” হবে, শীতকেই ভালোবাসে!
চোখ ফিরিয়ে নিয়ে নিই দ্রুত, চোখাচোখি যদি হয়ে যায়-
“অমানুষ” “মানুষে” “ভালবাসা” হলে সমাজে থাকাই দায়!

চারিদিকে দেখি অভিনেতা সব কস্টিউমস দিয়ে গায়ে-
ফুটিয়ে তুলছে “চরিত্র” যার যার, অসামান্য দক্ষতায়!
আমার গায়েও কস্টিউম আছে, অভিনয়টাই শুধু বাকি,
পা বাড়ালাম দ্রুত;কত কাজ আছে, দাঁড়ালে চলবে কি?!
কি ভেবে জানি পরদিন ভোরে পেপারে বুলাই চোখ,
হঠাৎ করে যদি চোখে পড়ে যায়, পরিচিত কোন মুখ!
পরক্ষণে ভাবি, ধুর! কি ভাবছি যা তা! এ তো “মনুষ্য” সন্দেশ-
“অমানুষে”র খবর আসবে কিভাবে? তাদেরকিসেরক্লেশ?!
…………………………………………..

অপরিচিত

কালকের সন্ধ্যায় ও আমি ছিলেম কত পরিচিত!
হাসি-খুশি, কোলাহল, মুগ্ধতার পরশ,
অথচ আজ দ্যাখো সব কেমন ধুসরিত,
যেন হঠাৎ করেই ছেলেদের খেলার ঘরে নামা-
জোরে বাতাসের ধস!
আমি মানিয়ে নিয়েছি। জানি ওপারের গল্পগুলোএখন আর কেউ পড়ে না,ছোয় না-ভয় পায়!
তবু আমার গল্প লেখার সাধ!
ভয় পেয়ো না মহাশয়,
আমার লেখায় কমলাকান্ত ও নিরুত্তর, মেঘের জলেও নেমে আসে বাধ!

নতুন খুবি অসহায়, বুক ভরা ভয়, কপালে ভাঁজ,
যেন মরুর বুকে বাহন হারা কোনো আজমী,
সংশয়, দুরু দুরু বুকে পদক্ষেপ লয়, সম্মুখে মহালয়-
আমি অমন নই, আশ্রয় লইয়াই লইবো, কোনো বেদুইন নিলয়ে!
দেখাবো সাপের খেলা, নাইবা খেলাম আগের যত ছাইপাঁশ বা গৃহে বসবাস, নরম ঠান্ডা শ্বাস!
তবু আমি বদলে যাবো, ডাস্টবিনে খুঁজবোনা সুবাস!
আচ্ছা, সেই গোলাপের গাছে কি তবুও ফুল ফুটবে?
ফুটুক, কি আসে যায়! আমি তো ঘুমাবো স্নিগ্ধতায়!
নতুন মায়ায়, কি যেন নেশাময় বেদনায়, নিরালায়!

আজ সকালটা বেশ শান্ত,ব্যাস্ততার নেই কোনো রেশ!
ঘুম থেকে উঠে ভাবি, কোথা যাবো, কি বা হবে –
কি যেন ফুটিয়ে যায় অস্থিতে, যেমনটা খুব শীতে।
আমিতো দিয়েছি দুয়ারে তালা, বন্ধ করেছি যত সমাবেশ!!
তবু.. ব্যস্ততা আসে কোথা থেকে, চারিদিকে অস্থির কি আবেশ!
তবে কি আমি ধরা পড়ে আছি? নাকি খিড়কির ফুটো দিয়ে ওরা ঢুকে গেছে?
নাকি আমি ই চিনিনা আমায়, নিজেই অপরিচিত? সকলেই আমা হতে বাঁচে?…
…………………………………………..

একটি ফেব্রুয়ারির গল্প

একটি ফেব্রুয়ারির কবিতা লিখতে চেয়েছিলাম,
বিনম্র ভদ্রতায়, আবেগ ভরা কায়, পূর্ণ ভালবাসায়।
ঠিক বারোটায়-
পাঠ করবো শহীদ স্মরণীর দোরগোড়ায়।
খালি পায়, সাজাবো তাঁরে বহু রঙা পুষ্পের মালায়।

বোঝাবো কত ভালবাসি, তাঁদের গুণের বাঁশি-
বাজিয়ে বলবো “ভালোবাসি, এ ভাষার আমি মালিক আমি- ই দাসী,
শিক্ষক বা চাষী, মোরা বাংলায় কাঁদি- বাংলায়- ই হাসি, বাংলাতেই ভালোবাসি”-
এসব তোমাদের ই বাঁধা রশি, টেনে তুলেছিলে যে ডুবন্ত শশী! তোমরাই অবিনাশী!
মৃত বাজারে সওদা করেছিলে হাসি, বারুদ মুদ্রা বুকের মাঝারে ঠাসি!

বুক ভরা ভালোবাসা লয়ে গেলাম তাঁদের গাঁয়ে,
পেশ করলাম যত ফুল, কবিতা, গল্প- বিনম্র শ্রদ্ধায়।
হঠাৎ দেখি এগিয়ে আসছে সালাম-বরকত ভাই,
“ডন্ট ইউ থিংক ইটস অলরেডি লেট, হোয়াই?”
তাজ্জব বনে দাঁড়িয়ে গেলাম, কি দেখছি আমি এ?
ভুত হোক, তাও মানা যায়, কিন্তু কথা ইংরেজিতে?
হতভম্ব দেখে শুধায় ফের, চোখেতে বিরক্তি,
“কেয়া মেরা জবান তুমহে সামাঝমে নেহি আতি”?
কাঁপা কাঁপা গলায় শুধালাম আমি, “সালাম-বরকত ভাই?
এত গান, এত গল্প, এত সমাবেশ- আর আপনারাই কিনা শেষটায়”-
“কি? ইংরেজি বলি তাই? কেনো? ইংরেজি কি পড়িনাই?
তোমাদের চেয়ে ঢের ভালো ছিলেম মোরা ও বিদ্যায়।“

সে যাই হোক, তবু আপনার মুখে ও ভাষা, এ তো চরম ধৃষ্টতা,
আপনাদের লাগি রচি গান, লিখি কত কবিতা। সব-ই তো দেখছি বৃথা!
তবে বন্ধ হোক এ সব আসর, বইমেলা, ইতিহাস পাঠ,
কাদের জন্যে এসব? বালাইষাট! বালাইষাট!

“রক্ত দিলাম, ভাষা আনলাম, আপন করলাম পর,
তবু দুখানি ইংরেজি কথা করে দিলো বর্বর?
কি দিয়েছো তুমি? বল বাঙালী? কি বা তোমার মান?
২১ তারিখে কোন পরিচয়ে ফুল কর তুমি দান?”

“মেয়ে তোমার ইংলিশে পড়ে,ছেলে হিন্দিতে সুর ভাঁজে,
সারা বছর জিন্স-টপ-শার্ট, বাংলিশ “আরজে” খোঁজে।
ইন্টারভিউ ইংলিশে নাও, বাংলা বললে ক্ষ্যাত!
বাংলা নিয়ে পড়লে তার আর, থাকে না জাত-পাত!
বলতো, চায়নিজরা কি ইংরেজিটা সকাল সন্ধ্যা জঁপে?
রাশিয়ার কি কম আছে কিছু, দিয়েছে কি ভাষা সঁপে?

কি লাভ বলো মূর্তি-মিনার গড়ে, লক্ষ টাকা ঢেলে,
নিভৃতে কভু উঠেছে কি হাত দু ফোঁটা অশ্রু ফেলে?
অন্তরে যদি না ভালো পাও, তবে পুষ্পে মিনার ভরে-
শুধু একুশের পর একুশ আসবে, বায়ান্ন যাবে সরে।
রাত বারোটায় ফুল নিয়ে এসে কারে দাও সম্মান?
এ তো ইজ্জত নয়, যেন স্রেফ গরু মেরে জুতো দান।“

“নির্বাক আমি,বিষ্ফোড়িত, ধীরে ধীরে তাঁরা চলে যায়।
কি তে কি হল কে জানে, দুঃস্বপ্নই বোধহয়।
হাতে এখনো ফুলমালা আছে, রাতটাও ঢের বাকি,
“পথ দেখো, পথ দেখো”- যেন ডেকে যায় হাজারো জোনাকী!”
…………………………………………..

আমাবস্যার রূপ

দেখেছিলাম সেবার আমাবস্যার রূপ,
আঁধার নদীর তলদেশে যেন দিয়েছে ধরনী ডুব!
সকলে যেন ব্রত করেছে, শুনশান- নিশ্চুপ;
কবির কলম-ও স্তব্ধ; এ রাত বড়ই অরূপ!

ঝিঁ-ঝিঁ পোকা তবু গেয়ে যায়,
বাঁশ ঝাড়ে হাওয়া বয়ে যায়-
সন্তর্পণে পালিয়ে যাওয়ার ন্যায়,
ভীত-সন্ত্রস্ত ঝিরিঝিরি চালনায়।

দূর ঘরগুলো থেকে শোনা যায় কিছু ক্ষীণ কানাকানি;
বাঁদর ছেলেটা এখনো যে কেন পড়তে বসেনি,
ময়লা- হলদে আলোটা সেথা একক বীর-সেনানী।
নারাজ মানতে আমাবস্যার এ বিরাট আগমনী!

হঠাৎ হঠাৎ-ইকিছুসাইকেলযায়বাজার-সওদাকিনে,
হাতে টর্চ নিয়ে পার হয়ে যায় চেনা পথ চিনে চিনে,
মাঝে মাঝে কেউ শুধায় ফিরে-“তোমায় তো চিনছিনে”,
-দাদার বাড়ি, বাবাও ছিলেন, আমি আসি শুধু শুভদিনে”।

আমি বসে আছি রাস্তার পাশের ভাঙা ছাউনির ‘পরে,
বহুদূর যাবো এ পথ ধরে মটরগাড়ি করে।
হাতের টর্চটা নিভিয়ে দিয়ে রাখি কিছুটা দূরে,
ভেসে যেতে চাই এ আঁধারের অপরূপ মায়া-ক্রোড়ে!

কে বলেছে এ রাতের কোনো ভালোবাসা নাহি সয়,
কে বলেছে এ রাতের গায়ে অপবাদ লেগে রয়,
দেখেছে কি তারা জোনাকীর দল কতটা মোহময়!
আসমান সাজে চোখ ধাঁধানো হীরার টুকরা গায়!

অহংকারের লেশ নেই তার, নেই পূর্ণিমা হার গলে,
তবু চন্দ্রগণিয়েরা তকমা দিয়েছে অপয়া-কুলক্ষা বলে।
আজ লাখো কবিবর পূর্ণিমা লয়ে গেয়ে যায় শত দলে,
তাহাকে করেছে বিভীষণ-মাতা, অজানা কি রোষানলে!

কালো ছাড়া রূপে যত রঙ দাও, আসবেনা পরিশুদ্ধি,
চুল দ্যাখো কালো, মণি টাও কালো,কাজলেই মায়াবৃদ্ধি,
রাতের রঙে যত আলো দাও, সেতো দিনের-ই উপলব্ধি,
প্রকৃত রাতের সৌন্দর্য তো আমাবস্যাই করে বৃদ্ধি!
…………………………………………..

খোলোবদ্ধদুয়ার

ওহে দুর্বার, রুধি দিয়ে দ্বার, অপেক্ষা কর কিসে?
জ্বলে-পুড়ে সব ছাই গাদা হল, জাহান্নামি বিষে!
কবে খুলবে নেত্র মনি, কাশফের কপাটিকা,
দোর খুলে দেখো মর্তপৃষ্ঠে জ্বলছে হাবিয়া-শিখা!

পাঞ্জেরী সব ডুবে গেছে আজ, বিদ্রোহী বয়োবৃদ্ধ,
মরুসাহারার যাযাবরেরাও জীবন মায়ায় বদ্ধ!
আঠারোর সেই তপ্ত শিরাতে বহিছে শীতল লহু,
ওঠো ওঠো তুমি ছিড়েখুঁড়ে, ফের উর্ধ্বে তোলো বাহু।

তুমি শমশির, তুমি মহাবীর, এ যুগের তুমি কাল,
হাতে তুলে নাও আরেকবার, সে খায়বারজয়ী ঢাল।
রুখে দাও যত অশিব-আত্মা, লালসপূর্ণ আশয়,
বিলয় করো যত নরকের কীট, পাঠাও নরকালয়!

ভয় পেয়ো না হেরী এ জগৎ – পূর্ণ বিভীষিকায়,
দেখেনি তো তারা সত্যের রূপ, রুদ্র মহাপ্রলয়!
কিসের শঙ্কা, ভয়-ভীতি যদি শ্রেষ্ঠ সৃজন হয়ে থাকো,
বাঁচো একবার মানুষ হয়ে, ওঠো, দরজাটা খুলে দ্যাখো!