জাতির মৃত্যু

দু’চোখ খুলতে না খুলতে
মৃত কঙ্কালের কান্না আর ভাল লাগেনা
কোথায় জীবনের হাসি কান্না হীরা পান্না।

দু’কান!রাখতে না রাখতে
বাতাসে জীবন্ত লাশের শুধু বাঁচার আর্তনাদ
কিন্তু নেই কোনো সাহায্যের জন্য বাড়ানো হাত।

আজ পৃথিবী মানে শকুনে’র বিছানো হিংস্র ফাঁদ
আজ পৃথিবী মানে উলঙ্গ নারী’র রণ নৃত্যতা
আজ পৃথিবী মানে কুকুরে’র ঘেউ ঘেউ আর্তনাদ
আজ পৃথিবী মানে রক্তে’র লাল কালো দাগ ।।

আজ জাতির পতাকা মানে ধর্ষিতা এক নারী
আজ জাতির সভ্য সূর্য পশ্চিমে অস্তাচলগামী
তবু আজ বেড়েই চলে কালো বাজারে’র ভন্ডামী
তবু আজ কালো মুখোশে’র রক্ত মাখা শাসন কমেনি।

আজ শুধু বেঁচে
জাতির লাল রক্ত মাংস মাখা উলঙ্গ দোলা
আজ শুধু বেঁচে
মৃত লাশের উপর যৌবনের অতৃপ্ত কাম চিন্তা।

কোথায় আজ কাজী,রবি, বিবেকের বাণী
তবে কি কবি রুদ্রের কথায় সত্যি হল?
জাতির সূর্য আজ অস্তাচলগামী।।
…………………………………………..

কবি মানে মিথ্যাবাদী

এসো এসো এগিয়ে এসো যুদ্ধ থামাই
লিখি নতুন ইতিহাস পাতায় পাতায়
যে ইতিহাসে থাকবেনা কোন জাতি ধর্মের বড়াই
যে ইতিহাসে থাকবেনা কোন রক্তের যুদ্ধ লড়াই
যে ইতিহাসে বলবে শুধু মনুষ্যত্ব ধর্মের কথা
যে ইতিহাসে থাকবেনা কোনো নগ্ন নৃত্যতা
কিন্তু কবির সব ভাবনাতো মিথ্যা আর মিথ্যা
কেননা কবিরা সবাই মিথ্যাবাদী ।।

কিন্তু কেন!কেউ কি জানো ?
যেখানে তাজা রক্ত
সেখানে কবির কলম
যেখানে নগ্ন মৃতলাশ
সেখানে কবির কলম
যেখানে জাতির পতাকার অস্তাচলগামী
সেখানে কবির কলম
যেখানে নারীর ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি
সেখানে কবির কলম
যেখানে শ্মশানের পড়ে থাকা কালো ছাই
সেখানে কবির কলম ।।

তাই সমস্ত কবি মানে মিথ্যাবাদী
তবে কি জগৎ সত্যবাদী
তবে কেন আজ
যারা দিন আনে দিন খাই
তাদের হাঁড়িতে চোখের জল ফোটে
তবে কেন আজ
তোমার মা বোনের ইজ্জত বাজারে নিলামে উঠে..
মানুষ আজও কেন কামড় দেয় শিশু নারীর ঠোঁটে
তবে কেন আজ
জাতির পতাকা রক্তে ভাসে
মানুষের হাতে গড়া সভ্য এ দেশে ।।

হ্যাঁ কবিরাতো সব মিথ্যাবাদী
কেননা তার মিথ্যা স্বপ্ন দেখে দু চোখে
কলমের কালি নিংড়ে দেয় সমাজের বুকে
আজ মিথ্যারা ফুল হয়ে ফোটে
সত্যরা কাঠগড়ায় মাথা ঠোকে
তবু বলি এসো এসো এগিয়ে এসো যুদ্ধ থামাই
লিখি দিই নতুন ইতিহাস বইয়ের পাতায় পাতায়।।
…………………………………………..

জাতির সূর্য অস্তাচলগামী

রাজনীতির কুটনৈতিক আর ছলনাই কতবার দেখতে হবে জাতির মৃত্যু,
কতবার জ্বলতে হবে চিতার আগুনে লেবানন,ইরাক
ইরান,মায়ানমার
কীসের জন্য মানুষ হিংস্র কুকুরের মতো রক্তের পিপাসায় মগ্ন
এভাবে কি মানুষ শান্তি পায় না স্বস্তি পায় আবার তো শুরু হয় স্বার্থের যুদ্ধ লড়াই
আজ মনু্ষ্যজাতির একটা বাঁচার একটা ঠিকানা চাই কিন্তু কোথাও স্বাধীনতা মেলেনা ভাই
কেননা আজ নিজ রক্তে জন্মায় বিসমার্ক হিটলার তবে কি করে কয় ধর্ষিতা দেশ মায়ের বেদনা ।।

ইরাক ইরান মায়ানমারের রক্তে কেঁদেছে সারা বিশ্ব
আজ লেবানন বিস্ফোরণ নতুন কিছু না
কিন্তু এভাবে আর কতদিন কুকুরের মুখের খাবার ছিঁড়ে খাওয়া আর রক্তের সাথে যুদ্ধ করা
আর সয়তে পারছিনা ঘাত প্রতিঘাত,চাই প্রতিবাদ, চাই স্বস্তি,চাই শান্তি,চাই সততা, চাই স্বাধীনতা
হে মনুষ্যজাতি তুমি একবার বিবেকের দিকে চেয়ে দেখ যাদের রক্তে তুমি স্নান করেছো,তারা তোমার ছেলে মেয়ে বাবা মা ভাই বোন
কত আর চলবে কলমের খোঁচায় মিথ্যা মিথ্যা রক্ত- মাখা রাজনীতি,
নিশ্চয় একদিন লেগে যাবে নিষ্পাপ মৃত্যু কঙ্কালের অভিশাপ।।

হে মনুষ্যজাতি তোমার যে জাতির পতাকার জন্যে গর্ব করো সেই পতাকায় রক্তের লাল কালো দাগ জমে,
যে মায়ের জন্যে তুমি জগৎ আলোর অধিকারী সে মা আজ তোমার জন্যে সমাজের কাছে ধর্ষিতা এক নারী।।

এই তো তুমি মহান এই তো দেখ কালো ছাইয়ের মধ্যে থেকে মৃত কঙ্কাল গাইছে তোমার জয়গান।।
আজ সত্যই মনে হচ্ছে কবি রুদ্রের কথাই সত্যি হল জাতির সূর্য আজ অস্তাচলগামী।।
…………………………………………..

বিদেশিনী

ওহে বিদেশিনী আমি আজও বুঝিনি
হৃদয়ের মাঝে শুধু তুমি
লিখেছি তোমার নামে শত শত ছন্দ কবিতা
আজ তুমি ছাড়া জীবন বৃথা
ওহে বিদেশিনী ভাবেনি ক্ষণিকের মেলামেশা’ই
বাঁধবে হৃদয়ে’র মাঝে প্রেমের বাসা।।

ওহে বিদেশিনী তুমি থাকো সপ্ত সিন্ধু পারে
তবু কেন শিহরণ জাগে হৃদয় জুড়ে
তোমার মিষ্টি ঠোঁটের ছোট্ট ছোট্ট দুষ্ট কথা
আজও আমায় স্মৃতির পাতায় তাড়া করে
ওহে বিদেশিনী তোমার নিষ্পাপ চোখের চাহনি
আজ আমি কিছুতেই বুঝে উঠেনি।।

ওহে বিদেশীনি তোমার কোমল ঠোঁটের স্পর্শে
আমি গেছি অবুঝ প্রেম সাগরে ভেসে
তোমার সুগন্ধ ভরা ভিজে চুলের অজস্র ঝাপটা
লিখতে শেখাই ব্যর্থ কবির কবিতা
ওহে বিদেশিনী তোমার চোখের কালো কাজল
আমাকে করে তোলে মস্ত উন্মাদ।।

ওহে বিদেশিনী তোমার ঝুমুরে’র ঝুম ঝুম শব্দে
বাঁচতে শিখেছি নিজের জীবন যুদ্ধে
তুমি আজ সুখের সংসার করো সপ্ত সিন্ধু পারে
তবু বেঁচে তুমি ব্যর্থ কবির কবিতা জুড়ে
শত শত বার চাই তোমার প্রেমী হয়ে বাঁচতে
মৃত্যুর আগে একবার এসো দেখতে।।
…………………………………………..

বিধবার জীবন

যুবতির স্বামী যেদিন মরে
সেদিন যৌবনের যৌনতাপ উতলে পড়ে,
সে সভ্যতার সভ্য মানুষের কাছে হয় ধর্ষণ
কালো সাপ বারবার করে দংশন
একটা মস্ত পাহাড় স্তনের ওপর আঁচরে পড়ে
তবু সে মুখে মুখোশ পড়ে থাকে চুপ করে।।

বিধবা যুবতির ছেঁড়া আঁচলে তাজা মাংস লেগে
তাই ছুটে আসে হিংস্র কুকুরের দল হেঁকে হেঁকে
পেটের জ্বালাই হতে হয় পড়ার ঝি চাকর
দেখতে হয়, শুনতে হয়, কত হাসি,কত কটু কথা
বার বার এ সমাজ করে ধর্ষন আর নির্যাতন
বিধবা নারী মানেই’তো বেশ্যা মাখা জীবন ।।

হে নারী তুমি আর থেকো না চুপ করে
খুলে দাও সভ্য মানুষের মুখোশটারে
বুঝিয়ে দাও আজও পৃথিবী থমকে দঁড়িয়ে
সভ্যতার সেই আদি লগ্নে।।
…………………………………………..

অভিশপ্ত স্বাধীনতা

নর পিশাচের রক্ত মাখা দেশে
সমাজ ঢেকে কালো মুখোশে
শান্তির জীবন গড়ার যুদ্ধে
কত নাম শহিদের খাতাতে
তবু কজন রঙিন মুখোশ খুলে
নিজেকে সাচ্চা দেশবাসী বলে
রক্তের রং দু’দিন ভাসে বৃষ্টিতে
তারপর আবার পরিণত খরাতে।।

নর পিশাচের রক্ত মাখা দেশে
সমাজ ঢেকে কালো মুখোশে
কত লাদাখ লাল রক্তে রঞ্জিত
কত মায়ের আঁচল কম্পিত
তবু মানুষ আজীবন মৃত কঙ্কাল
কখনো আসেনি নতুন সে সকাল
১৫ই আগস্ট মানে অভিশপ্ত স্বাধীনতা
সত্য অনেক ভালো পলাশীর পরাধীনতা।।

কত লাদাখের মাটি লাল রক্তে রঞ্জিত
কত মায়ের হৃদয় লাশের গন্ধে কম্পিত
তবু সভ্যতার সভ্য মানুষ তুলে ফানুস
১৫ই আগস্ট মানে অভিশপ্ত স্বাধীনতা
পলাশীর রক্ত মানে অভিশাপ না
পলাশীর রক্ত মানে পরধীনতা না
সেতো সভ্যতার সভ্য করার বীর জাগরণ
সেতো সন্তান গড়ার দেশ মায়ের নতুন চরণ।।
…………………………………………..

সত্য আজ কাফন পড়ে

আজ মিথ্যারা ফুল হয়ে ফোটে
সত্যরা ভিক্ষার থালা হাতে ছোটে

বেঁচে নেই কোনো কাজী
বেঁচে নেই কোনো রবি
সব মানুষের কাজ সাজী
আজতো সারা পৃথিবী হাজী

তবে কেনো বিশ্ব জুড়ে শুকনো রুটির লড়াই
তবে কেনো শ্রমিকের মা ছেলের লাশ কুড়াই
তবে কেনো চাষির বৌ হাঁড়িতে চােখের জল ফোটাই
তবে কেনো পৃথিবী লুকিয়ে কালো মুখোশের তলাই

আজ কিন্তু জবাব চাই
জানি কোনো উওর নাই
আসলে সব কর্মের ফল
মানুষ আজ পশুর দল

কেনোই বা স্বাধীন ভারতে পরাধীনতার ছায়া
কেনোই বা সমাজে শুধুই কুসংস্কারের মায়া
কেনোই বা সারাদিন বাতাসে ধর্ষনের আর্তনাদ
কেনোই বা পৃথিবীটা শকুনের বিছানো ফাঁদ

আজ কিন্তু জবাব চাই
জানি কোনো উওর নাই
আসলে সব স্বার্থের লড়াই
কেও কারোর আপন নয়।

আজ পৃথিবী জুড়ে সাদা কাফন উড়ে
মৃত কঙ্কাল বুক ফাটা চিৎকার করে
কিন্তু মানুষ লিপ্ত ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতায়
মানুষের মনুষত্বে কিছু আর বেঁচে নাই।

আজ কিন্তু জবাব চাই
জানি উওর একটাই
কিন্তু ব্যর্থ কবির কথা কে মানবে ভাই
কবির জয় ধ্বনি শুধু ধূলো-বাললি মাখা পাতাই।

ব্যর্থ কবি মুচকে হেসে কবিতার শেষে
একটা কথা কই,মানুষ তোমাদের হক জয়
কিন্তু কালো মুখোশ পড়া প্রতিযোগিতা নয়
মানুষ তোমাদের হক জয় কিন্তু মিথ্যা নিয়ে নয়।।
…………………………………………..

কি দোষ ছিল ?

যে স্টেশনে আজ প্রেমিক প্রেমিকা ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে,চোখে চোখ রেখে আনন্দে মগ্ন,
সেই স্টেশনে দুই দিন আগে রক্তাক্ত প্রেমিকার
উলঙ্গ লাশ কুকুরে খাচ্ছিলো ছিঁড়ে।।

কেউ আসেনি মনবতার খাতিরে একটা কাপড় শরীরের উপরে একটু মুড়ে দিতে।।

যে নারীটাকে অত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিল কালো মুখোশ পরা অন্ধ এ সমাজ,
আসলে সে নারীটা আজীবন পরুষ জাতির অতৃপ্ত কাম চিন্তার পুতুল।।

ট্রেনে কাটা পড়া বিচ্ছিরি লাশটা দেখিয়ে দিল সভ্য মানুষের হাতে গড়া অসভ্য দেশটা।।

কত কুটুক্তি,কত হাসি, কত যৌবনের কাম চিন্তা,
মৃত লাশ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনে
কিন্তু কেউ আসেনি বিবেক বিবেচনাকে একটু ভালোবেসে, মৃত উলঙ্গ লাশের পাশে।।

আজ আমার দেশে প্রেম না, শুধু ছলনা, আর সুযোগ পেলে ধর্ষনের কল্পনা।।

কেউ আর শুনতে পাইনা জীবন্ত লাশের বাঁচার আর্তনাদ ,শুধু পাতে নিত্য নতুন ফাঁদ।।
মৃত নারীটির কি দোষ ছিল সে অবুঝ প্রেমি না পুরুষ জাতির করেছিল গোলামী।।
…………………………………………..

একতরফা প্রেম

এ চোখ বার বার তোকে দেখতে চাই,তাই আমি ছুটে যাই ,কিন্তু ভালোবাসার জন্য না,
হৃদয়ের শুকনো কাঠের চিতায় আগুন জ্বলাবার জন্য,সত্য বলছি আমি তোকে ভালোবাসিনা,….
ঘৃণা করি,ঘৃণা করি,
তবু আমি তোর শকুন রাঙা চোখ দুটি’তে মরি।।

এ মন চাইনা আবার ফিরে পেতে মিথ্যা তোর অহংকারী মায়াবী শরীর,কেননা তোর রক্তে বিষ,
তোর চোখের চাহনিতে আগুন, তোর মিষ্টি কথায়
শুধু রাজনীতি,তোর গোলাপ মাখা ঠোঁটে মৃত্যুর ফাঁদ,আমি আজ বরবাদ,তবু কেন এ মন আজও
তোর জন্য’ই উন্মাদ ।।

তুই অহংকারী পূর্ণিমার চাঁদ,আমি না হয় অমাবস্যার অভিশপ্ত রাত,তবু হৃদয় থেকে চেয়েছি সব সময় দেবো তোর সাথ,কিন্তু কোথায় আমার যোগ্যতা,
তুই চাঁদ,আমি বামন,তবু তোকে আজও একতরফা ভালোবাসিরে,তাই আজও নীরবে খুঁজি তোরে।।

হৃদয়ে মাঝে অহংকারী গোলাপের পাপড়ি গুলো কবে ঝরে ঝরে হৃদয়টাকে দিয়েছে ডাস্টবিন করে,
তবু আজও মনে পড়ে মিষ্টি সুরে তোকে ডাকা সে নাম
তোর শ্যাম্পু করা চুলের সুগন্ধতা, ভুরু কুঁচকানো মুচকি হাসি,স্কুলের ড্রেসে মিশে থাকা তোর নিষ্পাপ বাল্যবেলা,কিন্তু কি করা যায় তুই কি আর আগের মতো আছিস।।

আমি তোকে ভালোবাসিনা কিন্তু তোর জন্য আজও যোগ্যতা খুঁজে বেড়ায়,তাই লিখি দু পাতা কবিতা,
যখন হৃদয়ের জ্বলা আগুনে ধোঁয়াশায় ভরে,তখন আমি আসি তোকে দেখতে,আমি একতরফা আজও ভালোবাসি তোকে,সব সময় আমি আছি তোর সুখ দুখে কিন্তু আমি তোকে ঘৃণা করি,তুই অহংকারী, তুই স্বার্থপর,তবু আমি তোকে একতরফা ভালোবাসিরে।।

ফুলের পাপড়ির সাথে তোর মিষ্টি নাম পাপি ভেসে গেছে,কিন্তু তোর অহংকারী কথা গুলো আজও আমাকে কুকুরের মতো ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে।।