আমি ‘সাময়িকী’ নামে একটি অনলাইন ম্যাগাজিন সম্পাদনা করতাম। সেই সময় আমার ম্যাগাজিনে প্রতি মাসেই একটি বিশেষ সংখ্যা করতাম। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে আমি একটি সুন্দরবন সংখ্যা করি। অতন্ত দুঃখের বিষয় আমার সাময়িকী ম্যাগাজিনটি অর্থাভাবে চালাতে পারিনি। বর্তমানে আমি ‘মোলাকাত’ নামে সাময়িকী চিন্তারই একটি ম্যাগাজিন সম্পাদনা করছি। এবারও বিভিন্ন সংখ্যার সাথে সুন্দরবন সংখ্যাটি আবারও করছি। কারণ আগের লেখাগুলো আমার কাছে এখন জমা পড়ে আছে। সেইগুলো এবং বর্তমানে অনেকের লেখা নিয়ে সংখ্যাটি চলবে। আশা করি সর্বাধিক তথ্য সমৃদ্ধ ও ইতিহাস নির্ভর একটি সংখ্যা হবে আপনাদের লেখাগুলো নিয়ে। এটা আমাদের আশা। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আজ প্রকাশ হলো আমাদের সুন্দরবন : পর্ব-১
আফসার নিজাম, সম্পাদক

সূ চী প ত্র
সুন্দরবন :: ফারুক মাহমুদ
সুন্দরবনকে একা থাকতে দাও :: গোলাম কিবরিয়া পিনু
আমরা বলি সর্বজন :: আনু মুহাম্মদ
সুন্দরবন :: পলিয়ার ওয়াহিদ
সুন্দরবনটাকে বাঁচাতেই হবে যে :: আলি মেসবাহ
প্রতিবাদে-রক্ষা করি সুন্দরবন :: কাজী ফাতেমা ছবি
সুন্দরবন :: জহিরুল ইসলাম নাদিম
আমার গর্ব সুন্দরবন :: অনুপ মণ্ডল
বেঁচে থাকুক সুন্দরবন :: মানস রঞ্জন
রুখে দাও ষড়যন্ত্র :: তাসলিমা রুবি
সুন্দরবন লংমার্চ :: আরিফ রহমান
সুন্দরবন :: ফকির আব্দুল্লাহ আল ইসলাম
নিত্য দিনের খেলা :: মাসুমা রুমা
রামপালে কেন :: ইউসুফ রেজা
নারী তুমি :: সৈযদ মাশহুদুল হক
কোথায় যাবে ওরা :: সোলায়মান সিদ্দিক
সুন্দরবন :: এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান
সুন্দরবনে :: আহমেদ কায়েস
সুন্দরবন :: জাহিদ মাহমুদ
সাধের সুন্দরবন :: ইরফানা তুষি

সুন্দরবন
ফারুক মাহমুদ

সর্বোচ্চ সাহস নিয়ে বুক পেতে দিই
যত আসে বিষের ছোবল
হাসিমুখে সব মেনে নিই
ধ্বংস হতে হতে
যথেষ্ট সমর্থ পায়ে দাঁড়িয় দাঁড়াই
আমার ডাক্তার আমি, সেবিকার হাত
ঘরের ওষুধ-পথ্য দিয়ে
নিজে নিজে অসুখ সারাই
আবারও নতুন প্রান্ত- কণ্ঠে রাখি সবুজের গান
আমার সকল অঙ্গ পশু-পাখি, পতঙ্গ-কীটের
অন্ন-বস্ত্র, মুগ্ধ বাসস্থান
…………………………………………..

সুন্দরবনকে একা থাকতে দাও
গোলাম কিবরিয়া পিনু

সুন্দরবনকে একা থাকতে দাও
ওর নিঝুমতা নিয়ে একা থাকতে দাও
ওর পাখির কিচিরমিচির নিয়ে
ওর ডেঁয়োপিঁপড়ে নিয়ে
ওর ঝুলনপূর্ণিমা নিয়ে
ওর নদীর জলশব্দ নিয়ে একা থাকতে দাও!
ওর গরান-হেতাল
ওর গোলপাতা
ওর বাঘ-হরিণ নিয়ে একা থাকতে দাও!
ওর বাওয়ালী-মৌয়ালী নিয়ে
রৌদ্রতাপে একা থাকতে দাও!
ওর কচিপাতা
পঞ্চমুখী জবা
স্বর্ণলতা নিয়ে একা থাকতে দাও!
ও তো কারো অনিষ্ট ডেকে আনেনি
মরণকালও না!
তবে কেন তার শবাধার তৈরি করা হচ্ছে!
ওর নাভিশ্বাস উঠলে
তোমারও হবে ওষ্ঠাগত প্রাণ!
ওকে যমে টানলে
তোমাকেও যেতে হবে লাশকাটা ঘরে!
…………………………………………..

আমরা বলি সর্বজন
আনু মুহাম্মদ

দেহ মনে আঘাত তবু উঠে দাঁড়াই সুরে
গাছে গাছে প্রাণে প্রাণে লড়াই আসে ঘুরে
আমরা বলি সর্বজন
তোমরা বলো উন্নয়ন
আমরা বলি সুন্দরবন
তোমাদের চোখে পেটে রাক্ষসেরই ক্ষুধা
বুড়িগঙ্গা তুরাগ বালু বন পাহাড় লুটা
বন মারো নদী মারো সাথে মারো মানুষ
ওড়ে তোমার সাথে সাথে উন্নয়নের ফানুস
ওয়ার অন টেরর কিংবা সন্ত্রাসেরই দমন
মুখের কথা কাজে তোমার সন্ত্রাসেতেই গমন
তোমার লেজে বিশ্বজোড়া কায়দা তালেবান
দখল করো ধ্বংস করো লক্ষ কোটি প্রাণ
কাঁটা তারে ঘিরে রাখে বন্ধু ভারত মোদী
একে একে মানুষ হত সাথে হত নদী
চীন আনো রুশ আনো ভারত বা মারকিন
দখলদারের বিভীষিকা তাড়ায় সে রাতদিন
আমরা বলি সর্বজন
তোমরা বলো উন্নয়ন
আমরা বলি সুন্দরবন
দেহ মনে আঘাত তবু উঠে দাঁড়াই সুরে
গাছে গাছে প্রাণে প্রাণে লড়াই আসে ঘুরে
…………………………………………..

সুন্দরবন
পলিয়ার ওয়াহিদ

এই কবিতা ছড়া হলেও আমি তো ভাই কবি
ঘুম আসে না চোখে আমার সুন্দরবনের ছবি।

সে আমাকে ঘুমের ঘোরে ডেকে বলে শোন্!
আমার ভেতর বাঘের বাসা কয়টা আছে গোন্!

গোলপাতারই শরীর আমার সুন্দরীটা মাথা
তোদের কাছে হয়ে আছি মস্ত একটা ছাতা।

পেটে আমার মাছের বাসা চোখে ঝরায় মধু
বাংলাদেশের কাছে আমি সবুজ একটা বধূ।
…………………………………………..

সুন্দরবনটাকে বাঁচাতেই হবে যে
আলি মেসবাহ

খুব বেশি বকছিস দু’দিনের ছোকরা
দেখিস না চুপ করে আছে সব লোকরা
বলবি তো ভালো কথা, বল কিছু কম বা-
জানিস তো, আমাদের হাত কতো লম্বা…
:কার হাত কতো বড় অতশত ভাবি না
আমাদের দাবি তো অযৌক্তিক দাবি না
মুখ খুললেই তাতে বেধে যাবে যুদ্ধ
অথবা হবেই সব শুদ্ধ অশুদ্ধ?
বরঞ্চ তোমাদেরই নেই কোনো যুক্তি
এক্ষুনি ছুঁড়ে ফেলো রামপাল চুক্তি।
ধ্বংসের এ আয়োজন বলো কার জন্যে ?
বলতে কি পারো তুমি, ও মানস কন্যে ?
এই নদী, এই বন, এই মা ও মাটি এই
ছল-চাতুরির নানা কৌশল খাটিয়েই
বিকাবে; তা কখখোনো না না মেনে নেবো না
সুন্দরবনটাকে ছাই হতে দেবো না।
ও মানুষ, থেকো না’ক আর হীন শয্যায়-
প্রতিবাদ বয়ে যাক অস্থি ও মজ্জায়
শ্বাপদের ভিত নড়ে উঠবেই তবে যে
সুন্দরবনটাকে বাঁচাতেই হবে যে।
…………………………………………..

প্রতিবাদে-রক্ষা করি সুন্দরবন
কাজী ফাতেমা ছবি

শাহবাগিরা গেলি কইরে
হালুম হুলুম নাই-যে গর্জন
সুন্দরবনের ক্রান্তিকালে
আন্দোলন কি করলি বর্জন?

ধ্বংস হতে যাচ্ছে মোদের
ঐতিহ্যে ভরা সুন্দরবন
প্রতিবাদের উঠছে না ঝড়
বাড়ছে বুকে ব্যথার টনটন।

দূষিত করে ফেলবে জল
শত হাজার বর্জ্য কয়লায়
ভরবে নদী মরবে নদী
পঁচা জঞ্জাল হাজার ময়লায়।

সুন্দরবনের নদীর জলে
কয়লা উঠলে নামলে পরে
পানি দূষন বায়ূ দূষণ
হতে থাকবে থরে থরে।

ঢেউয়ে ঢেউয়ে ক্ষয়ে যাবে
তীরের ভূমি ধীরে ধীরে
পরিকল্পনা কি আছে জানি
জাতীয় এই বনকে ঘিরে!

কয়লা নেয়ার জাহাজ হতে
ব্যাপক শব্দ হতে থাকবে
শব্দ দূষণ আর কে ঠেকায়
কে-বা কষ্ট গায়ে মাখবে!

নিশাচর সেই প্রাণীগুলোর
রাতে আঁধার চলৎ স্বভাব
পশুপাখির চলাচলে
প্রকট হবে ক্ষতির প্রভাব।

রাতের আলোয় বিঘ্ন ঘটবে
পশু-পাখির জীবনচক্রে
বিদ্যুত কিন্তু আমরাও চাই
পেতে চাই না তয় পথ বক্রে!

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য;
আছে অনেক পথ বিকল্প
ধ্বংস হলে সুন্দর বনটি
ইতিহাসে হবে গল্প।

আমরা ভাই-রে নই বিরোধী
বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিমার্ন কল্পে
সুন্দর নিয়ে সুন্দর জীবন
মুগ্ধ হয়ে খুশি অল্পে।

আলো সংকট অযুহাতে
জল জমি আর জঙ্গল নাশে
মানব না কো এ প্রকল্প
তাই চাই একে অন্যের পাশে।

শাহবাগিরা গর্জে উঠো
রক্ষা করতে সুন্দরবন ঐ
ঘরের ভিতর মুখ লুকিয়ে
আছো নাকি -রে তোমরা কই?
…………………………………………..

সুন্দরবন
জহিরুল ইসলাম নাদিম

হঠাৎ সেদিন সুন্দরবন
পায়ে পায়ে পথচলা
দৃষ্টিতে ছিল মুগ্ধতা দেখে
প্রকৃতির ছলাকলা।

পরতে পরতে লুকনো রয়েছে
ভয়ানক সুন্দর
দেখতে এসেছি ফেলে দিয়ে সব
নাগরিক ভয়-ডর।

জোয়ারেতে যদি এক রূপ হয়
ভাটাতে অন্য রূপ
কখনো সে বুনোকোলাহলে মাতে
কখনো সে নিঃশ্চুপ।

পাখ-পাখালির কলগুঞ্জনে
ঘুম যেই ভাঙলো
বিষ্ময়ে দেখি চিত্রার্পিত
হয়ে আছে বাংলো।

দাঁড়িয়ে রয়েছে সুন্দরী গাছ
লাখো লাখো শ্বাসমূল
বিরহী বধূর কান্না জড়ানো
নাকে যেন নাক ফুল।

শুনতে পেয়েছি গোলপাতা বনে
বাতাসের ঝিরি ঝির
লোনা জলে কান উঁচিয়ে ঝিমায়
সতর্ক কুম্ভীর।

প্রকৃতির লনে দল বেঁধে ফেরে
হরিণের দল অই
শিকার দেখছি চোখের সামনে
শিকারীর খোঁজ কই?
…………………………………………..

আমার গর্ব সুন্দরবন
অনুপ মণ্ডল

গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীর মহনাতে জায়গা আছে এমন
নামটি হোল তার “সুন্দরবন”
জলে জলে ভরা চারিধার
তারই মাঝে জঙ্গল বিপুল অপার
সবুজে সবুজে ভরা সারাটি অঙ্গ
ঋতুতে ঋতুতে তার কতই না রঙ্গ
কতো লোকে বলে কিবা হবে এই জঙ্গল
চুপিসাড়ে নীরবেতে করে সারা মনবেরই মঙ্গল
প্রাণবায়ু দেয় সে , দেয় মাছ কাঁকড়া-মধু
সাগরের জলছ্বাস কে আটকে দেয় এমনই তার যাদু
দেশ বিদেশের লোকেরা একে দেখতে আসে তাই
এমন রূপের মহিমা আর কোথাও নেই
চোখ জুড়ানো রূপ আর প্রাণ জুড়ানো বায়ু
আসলে পরে মনে হবে
আর কটা দিন বাড়লো বুঝি আয়ু
আরো আছে আরো আছে ,কতো অজানা
কুমির হরিণ ছাড়াও আছে রয়েলবেঙ্গল মামা
এদের কে দেখলে পরে হবে ভীষন খুশ
বাঘ মামার দর্শনে হারাতে পারে তোমার মনের হুঁশ
একটু খানি দেখো ভেবে এ নয় পরিত্যাজ্য
সুন্দরবন আজ সারা বিশ্বের ঐতিহ্য
এতো কিছু বলার পরে আছে একটু কষ্ট
দিনে দিনে সুন্দরবন হচ্ছে যে বিনষ্ট
যে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে যোগায় মুখে অন্ন
কালের বশে, লোভের গ্রামে সে হচ্ছে বিপন্ন
লোভ লালসার বশে, ধরে চোরা ডাকাতের বেশ।হরিণ-কুমির -বাঘ মেরে করছে তারা শেষ
রাতের আঁধারে ঢোকে এরা জঙ্গলের মধ্যে
এদের কে কি ধরা খুবই কঠিন ,নেই কারো সাধ্যে
যদি চলে এমব ভাবে থাকবে না সৌরভ
সুন্দরবন হারাবে ঐতিহ্য , হারাবে তার গৌরব
শুভ বুদ্ধির চেতনা ঘটিয়ে এই পিশাচদের রুখতে হবে ভাই
এ ছাড়া অন্য উপায় যে আর নেই
হাতে হাত-কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই করি পন
সব কিছু উজাড় করে রক্ষা করবো আমাদের “সুন্দরবন”।
…………………………………………..

বেঁচে থাকুক সুন্দরবন
মানস রঞ্জন

নদীর পর নদী, খাল বিল খাড়ি
বিদ্যাধারি পিয়ালি গোসাবা রায়মঙ্গল
স্থলে সুন্দরী গরান কেওড়ার ঘন বন জঙ্গল
এখানেই বসবাস করে পশুরাজ বাঘ, জলে কুমির
দূরে দূরে দু একটা ঘর, পরপর
আবার জরুরী সতর্কতা, সাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপ
ধেয়ে আসছে ঝড়, তরতর
চেনা পরিবেশ অচেনা হতে সময় লাগে না
কোথা থেকে ধূসর মেঘ ঘিরে ধরে
মাতাল হাওয়া বহে ফরফর
খয়রা চটক মৌটুসী মাছরাঙাদের ডানার ঝাপটা
হঠাৎ ভেঙে পড়ে খড় কুটো দিয়ে গড়া নীড়
জল কাঁদায় গড়াগড়ি সদ্যোজাত পক্ষী শাবক
কেঁপে ওঠে মাতৃত্ব, অসহায় দেহ মন ও শরীর
বৃষ্টি তৈরিই ছিল, ভাসিয়ে দিলো
লন্ডভন্ড উদ্দাম নৃত্যে মত্ত নীড় ভাঙ্গা ঝড়
ভেঙে পড়ে গাছ, উড়ে যায় চালা পরপর
জন মানুষ তটস্থ, আগলে রাখে সহায় সম্বল
এমনি করে বিপর্যস্ত হয় বনভূমি, বছরের পর বছর
বাঁচিয়ে রাখে বাকি গঙ্গা পদ্মার বিস্তৃন্ন অঞ্চল
অবুঝ নগর সভ্যতা ক্ষিদে তার প্রচুর,
নির্মাণ গড়ে ভীর করে পর্যটন
বিপন্ন সুন্দরবন
প্রত্যক্ষ হয় অশনিসংকেত, বাংলার
এখনও যে টুকু আছে বেঁচে থাকুক, রাখতে চাই
মঙ্গল হোক আমার তোমার সবার।
…………………………………………..

রুখে দাও ষড়যন্ত্র
তাসলিমা রুবি

বেনিয়ার নজর যখন পড়ে আমার যুবতী বক্ষে
কামুক দৃষ্টি খুবলে খেতে চায় নরম তুলোর শরীর
কায়েমী দোসরের মগজে লাসভেগাসের নর্তকীশালা
কামনা জেঁকে বসা রংচঙা ড্যান্সার আলো-আঁধারীর নিদারুণ খেলা!
আমার নিঃশ্বাসে মাটিপোড়া কার্বনের ঘনত্ব, আমার বিশ্বাসে
মীরজাফরের হিংস্র নখর, প্রস্তুত পলাশীর প্রান্তর
উপস্থিত বাংলার পরাজয় দেখতে জনগন আপামর
ঘসেটি বেগম মসজিদ -মন্দির ঘুরে করে জাল বিস্তার
সিরাজদৌলার কোমল হৃদয় কেঁদে জারেজার!
হুশিয়ার! সাবধান! ছিড়বো ষড়যন্ত্রের নীলাভ জাল
হায় বেনিয়া! আড়াইশো বছর পর, আজ আবার তুলেছিস ফনা!
সীমার বক্ষে উদ্যত ছুরি হাতে, তারপরও জাগবি না? হে বাঙালী!
জাগো বাঙালী! জাগো আজ!
বাজাও ডঙ্কা,কাঁপুক লঙ্কা!
তোমার বুকের শীতল স্রোতে কারা বইয়ে দিতে চায় হেমলক বিষ!
ওই শোনে হুইসেল, এনাকোন্ডার হিষ! হিষ!
জ্বালাও আগুন প্রতি প্রাণে, বজ্রের হুংকার তোলো কলমে
রুখে দাও ওই লোভাতুর লেলিহান জিহবা!
ষড়যন্ত্রের খলবুকে বসাও কামড়
আমার চাইনা ঝলমলে আলো
আমার মায়ের আঁধার বুকই ভালো
তিস্তার কান্না শুনতে আর চাইনা, ওআমার ভাই
ফারাক্কার দুঃখে জল নেই চোখে, ও আমার পিতার তৃষ্ণার্ত বুক
জীবন থাকতে সইবো না তোমার অপমান
আমি তোমারই সন্তান!
নুর হোসেনের মতো বুকে পিটে লিখে দেব মুক্তির গান
আমার মায়ের হরিৎ আঁচলে আমি জড়াবো না নগরের ঘ্রান
সোঁদা গন্ধে মাতাল হবো,ধীমে পিদিমের
বজরায় ভাসাবো প্রেমের ভেলা
আমার চাইনা, আলো চাইনা!
আমার শান্তবুকে খেলো না অশান্ত কোন খেলা
ঝলসাবে যবে রেহাই তুমিও পাবেনা
পোড়াবো তোমার পিচ্ছিল ঘৃর্ণ্য চামড়া।
…………………………………………..

সুন্দরবন লংমার্চ
আরিফ রহমান

লংমার্চ চলছে
প্রচণ্ড শ্লোগানে বাতাস প্রকম্পিত
ঢাকা থেকে সুন্দরবনের পথে অবিরত মানুষের ঢল
বিদ্রোহী শ্লোগানে মুখরিত চারপাশ

বিশ্বাস করবে
ঠিক এই মুহূর্তেও তোমার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে বারবার।

মেয়ে
আজকের লংমার্চ তোমার জন্য নয়
তোমার অনাগত সন্তানের জন্য আমার উপহার।

সে যেন বেঁচে থাকে সবুজে
বুক ভরে অক্সিজেন শুষে নেয়
প্রবল প্রকৃতি যেন তাকে আকর্ষণ করে
যেন সে সাঁতার কাটতে পারে পশুর নদীতে
তার জন্যই সবাই আজ রাজপথে।

একটা ফুলের জন্য
একটা মায়াকাড়া চিত্রা হরিণের জন্য
একটা রয়েল বেঙ্গলের জ্বলজ্বলে চোখের জন্য
একটা দমকা হাওয়ার জন্য।

হয়ত আমার ক্রমসোম থাকবে না
তবু ভালবাসা টুকু থাক…
…………………………………………..

সুন্দরবন
ফকির আব্দুল্লাহ আল ইসলাম

তোমার কাছে যাবো ছুটে বসে নাকো মন
পশু-পাখি ফুল-ফলেতে ভরা সুন্দরবন
পাখিগুলো হৃদয় কাড়া করে কলরব
তোমার কাছে যা-ই আছে সুন্দর লাগে সব
হরিণীরা মুক্ত ঘাসে লাগিয়ে আছে মুখ
বাঘ মামার হুঙ্কারে কেঁপে ওঠে বুক
বানর-বানরী সর্বক্ষণই করে চেঁচামেচি
ঝাঁকে-ঝাঁকে ওড়ে আহা দারুণ মৌমাছি
বনের মাঝে লুকিয়ে আছে কত রকম খেলা
ইচ্ছা করে ভাসিয়ে দেই জীবন তরীর ভেলা।
…………………………………………..

নিত্য দিনের খেলা
মাসুমা রুমা

পশু হত্যা পাখি হত্যা
নিত্য দিনের খেলা
বিবেক হত্যা অনেক আগেই
অনিয়মের মেলা।

ভাল-মন্দ বুজবো কবে
দিন ফুরিয়ে যায়
দেশটা গেলো রসাতলে
হবে কি উপায়?

পথে পথে মানববন্ধন
বাঁচাও সুন্দরবন
এসব কথায় স্বার্থবাদীর
গলবে কি আর মন?

প্রতিরোধের উপায়টা কি
আম-জনতা ভাবে
অধিকারের স্বীকৃতিটা
কোন দলিলে পাবে?
…………………………………………..

রামপালে কেন
ইউসুফ রেজা

উপকুলে নদীর তীরে
কিংবা কোনও চরে
বিরান খালি ভূমির অভাব
জায়গা কি কম ধরে?
রামপালে কেন ঢুকতে হবে
পশুর নদীর পাড়ে
এই জন্যই তোদের উপর
সন্দেহটা বাড়ে।
…………………………………………..

নারী তুমি
সৈযদ মাশহুদুল হক

তোমায় আমি প্রিয়া বলি
তুমি বলো ইয়ে
তবু তুমি খেলছ খেলা
সদা আমায় নিয়ে।

শুধুই বলো আর কটাদিন
সবুর করো প্রিয়
যেদিন তোমার আপন হবো
কাছে টেনে নিও।

মাস পেরিয়ে এমনিভাবে
বছর গেল আট
তুমি এখন ভিন পুরুষের
নিচ্ছো প্রেমের পাঠ।

নারী তুমি এমনিভাবেই
খেলো প্রেমের খেলা
আপন করে দূরে ঠেলো
করো অবহেলা।

তোমার মোহে কত মানুষ
বোধ হারিয়ে শেষে
বন-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়
লেংটা পাগল বেশে।

তোমার প্রেমে শুধুই দেখি
দাঁড়ি-কমা-যদি
তুমি হলে বাঁধ না মানা
বহমান এক নদী।
…………………………………………..

কোথায় যাবে ওরা
সোলায়মান সিদ্দিক

আমি এথায় অনেক ধনী
অনেক টাকার মালিক
বন বনানী বিলিন হলে
উড়বো নাহয় শালিক!

পাড়ি দেব সেকেন্ড হোমে
নয়তো মঙ্গল, চাঁদে
অবুঝ পশু কোথায় যাবে?
ভাবনা নিয়েই কাঁদে!

মানব সুখের তরে তারা
ছুটছে দিবা রাতি
পাচ্ছে ফেরত মানব থেকে
নিভূ জীবন বাতি!

আলো জ্বেলে রঙ্গিন করবে
মানুষ বসত ঘর
আগুন তাপে মলিন হবে
বন পষুদের স্বর!

মরন ব্যাধি কেন্সার হবে
মাছের দেহ জুড়ে
কৃষির খামার ধ্বংস হবে
সবুজ মায়ার নীড়ে!

আলোর তরে জীবন কেন
জীবন তরে নয়?
সুখের তরে দুখের পরশ
আপন নিয়ম হয়?

সুন্দর বনের সতেজ মুখ
মলিন চায়না জাতি
আপন রুপেই অটল থাকুক
মানব জাতীর সাথি
…………………………………………..

সুন্দরবন
এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান

সুন্দর বন তো দেখায় সুন্দর
বৃক্ষরাজির গুণে
বিশ্ববাসী বাঘের হুঙ্কার
তার-ই মাঝে শুনে।

নদীর ধারে উঁচু বনে
গাছগাছালির ছায়া
সুন্দর বনের সৌন্দর্যে তাই
লাগে ভীষণ মায়া।

পশু পাখির কিচিরমিচির
সুন্দর এক পরিবেশ
বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কাড়ে
সোনার এ বাংলাদেশ।
…………………………………………..

সুন্দরবনে
আহমেদ কায়েস

আমার অরণ্যে
তোমার বিদ্যুৎ খুঁটি
গড়ে তুলবে
তোমার বাণিজ্য ঘাঁটি।

যুগ যুগ চলে
তোমার শর্ত পূরণ
তোমার সীমানায়
আমার রক্তক্ষরণ।

আধিপত্যের
ব্যাঘ্র থাবা কাড়ে
আর কত লাশ
ঝুলবে তোমার তারে।

তুমি ফিরে যাও
তোমার অস্ত্র নিয়ে
মেশিন পত্র নক্সা
সব গুটিয়ে।

আমার অরণ্য
আমার কাছেই থাকুক
যাক কিছু দিন
আঁধার কষ্টে কাটুক।

সুন্দরবনে নেই প্রয়োজন
তোমার তৈরী আলো
সুন্দরবনের সৌন্দর্যটাই
আমার জন্য ভালো।
…………………………………………..

সুন্দরবন
জাহিদ মাহমুদ

কি অপরূপ,রুপ যে তাহার
সবুজ আভায় ঘেরা
সুন্দরবন দেখতে সুন্দর
বাংলাদেশের সেরা।

দেখলে রুপ তার চোখ জুড়ে যায়
যায় ছুঁয়ে এই মোন
সোনার দেশে সবুজ অরেণ্যে
আমার সুন্দরবন।

সবুজ শ্যামল মায়ায় বাঁধা
আমার সোনার দেশ
আহা কি যে সুন্দর সে রুপ
দেখতে লাগে বেশ।

সবুজ বনের প্রান্ত ছুঁয়ে
সারি সারি গাছ
সবুজ আভায় মন মাতানো
উদাস করে বাতাস।

চোখ জুড়ে যায় বৃক্ষ লতায়
সবুজ সমারোহে
হরেক ফুলের মিলন বেলায়
সূঘ্রাণ আনে বয়ে।

সুন্দর বনের সুন্দরী গাছ আর
কত পখ পাখালি
উড়ে উড়েই খেলছে খেলা
খেলছে বনমালী।

গজারি গেওয়া শাল সেগুন আর
কতই প্রভৃতি গাছ
আকাশ ছুঁই ছুঁই বৃক্ষরাজির
কি অপরূপ সাজ

সুন্দর বনের প্রকৃতি যেন
কতই রুপে সাজে
পশু পাখিরই কিচিরমিচির
কতই ভালো লাগে।

শেয়াল বানর খরগোস হাতি
আছেন বুনো বাঘ
সবাই যেন করছে বনেই
মিলেমিশেই বাস।
…………………………………………..

সাধের সুন্দরবন
ইরফানা তুষি

মংলা থেকে পশুর বেয়ে
যাব সুন্দরবন
সুন্দরী গাছের ছায়ায় বসে
করব আলিঙ্গন।

দেখব হরিণ শুনব কুজন/গুঞ্জন
বাঘের সাথে করব ভোজন
গোলপাতারি ছাউনীতলায়
মৌমাছির গুঞ্জন মেলায়
ধন্য হবে এইনা ভ্রমণ

হিরণ পয়েন্ট টাইগার পয়েন্ট
হাতছানি দিয়ে ডাকবে তখন
বলবে কথা চুপিসারে
মিঠা পানির লোনা জলে
সাত নদীর মুখ দেখে যারে।

মনোমুগ্ধকর স্থান দেখে
সার্থক হবে জীবন
তোমায় ছেড়ে ফিরবনা
সাধের সুন্দরবন।