ফররুখ আহমদের সঙ্গে প্রথম পরিচয়য়ের সূত্র তাঁর ‘সাত সাগরের মাঝি’ নামক কবিতাটি। সে ১৯৫০ সালের কথা। সবে বি.এ পরীক্ষা দিয়ে বসে আছি। সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিনগুলো। ডাক এলো মুনশীগঞ্জ হাইস্কুল থেকে শিক্ষকতা গ্রহণের। উপরের ক্লাসগুলোতে বাংলা পড়াতে হবে। বলা বাহুল্য, সামান্য ষাট টাকা মাইনের ঐ চাকুরিটি পেয়ে যেন হাতে আকাশ পেলাম। প্রথম দিনই একেবার তাদের সমস্যার কথা জানতে চাইতেই তারা দুটো কবিতার কথা বিশেষভাবে আমার কাছে উল্লেখ করল, এক, ফররুখ আহমদের ‘সাত সগারের মাঝি, দুই, মোহিতলাল মজুমদারের ‘কালাপাহাড়’। এ দুটি কবিতা ইতিপূর্বে একজন শিক্ষকের কাছে পড়লেও এদের মানে তাদের কাছে পরিষ্কার হয়নি। তাই নতুন করে কবিতা দুটোর ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব নিতে হল। আর ঐখানে শুরু হল কবি ফররুখ আহমদের সঙ্গে আমার পরিচয়-পর্ব। কবিতাটি পড়াতে গিয়ে কবির শক্তিমত্তার পরিচয় পেলাম, তাঁর কবি-সত্তার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে পরিচিত হলাম। বাংলা কাব্যে ফররুখ আহমদ যে কেন একটি বিশিষ্ট কবিকণ্ঠ বলে স্বীকৃত তার আভাস আমি পেলাম ঐ কবিতা পঠন-পাঠনের ফলে।
ফররুখ আহমদ সম্পর্কে আমার প্রাথমিক আগ্রহ ঐখানেই স্থির হলে থেকেছিল বেশ কিছুকাল। আমার তখনকার জীবন যাত্রার বেড়া বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ঐ বিষয়ে আর বেশিদূর এগোবার। সে যাই হোক, ঐ সময় থেকেই বাংলাদেশের মুসলমান সমাজের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে আমার ভাবনার সূত্রপাত হয়। স্বাধীনতার সঞ্জীবনী মন্ত্রে তখন সবাই কিছুটা উজ্জীবিত, সকলেরই জীবনাগ্রহ কিছুটা বেড়ে গিয়েছে। ঐ পরিবেশে আমি মুসলমান সমাজ, কৃষ্টি, ধর্ম ইত্যাদি বিষয়ে যেমন কৌতুহলী হয়ে উঠি, তেমনি বাঙালি মুসলমানের সাহিত্য সাধনা সম্পর্কেও খোঁজ-খবর নিতে থাকি। সে যাই হোক, ১৯৫৫ সলে বাংলায় এম.এ পড়তে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই, তার আগ পর্যন্ত নিতান্তই ছিল আমার সে-সব বিষয়ে ভাসা ভাসা জ্ঞানের ফল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাংলাদেশের সাহিত্য সম্পর্কে বিশেষভাবে কৌতুহলী কবি মোহাম্মদ মাহ্ফুজউল্লাহকে আমি সহপাঠী হিসেবে পাই। ওঁরই সঙ্গে মাঝে মাঝে দীর্ঘ আলোচনা হত এ নিয়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমি থাকতাম শ্রোতা, তিনি বক্তা। কথা-প্রসঙ্গে একদিন কবি ফররুখ আহমদের প্রসঙ্গ আমি তুলে ধরতেই, মাহফুজউল্লাহ খুব উৎসাহিত হয়ে ওঠেন। ফররুখ সম্পর্কে আমার ধারণা শুনে, মাহফুজউল্লাহ শুধু খুশিই হলেন না, আমাকে তাঁর সম্পর্কে কিছু লিখতে অনুরোধ জানালেন, প্রয়োজনে বই-পত্র দিয়ে আমাকে সাহায্য করতেও তিনি প্রতিশ্রুত হলেন। তখন ফররুখ আহমদের ‘সাত সাগরের মাঝি’ ও ‘সিরাজাম মুনীরা’ এ দু’টি বই সম্ভবত প্রকাশিত হয়েছে। তার বাইরে লেখা অজস্র কবিতা পত্র-পত্রিকায় ছড়িয়ে রয়েছে।
তবু ফররুখ আহমদ সম্পর্কে সে যাত্রায়ও আমি বেশিদূর অগ্রসর হতে পারি না। মাহফুজউল্লাহর সঙ্গে আলোচনার পর কবির সম্পর্কে কিছু লিখবার ইচ্ছা জাগলেও তা তখনকার মত মনেই চেপে সহজ ছিল না। পাঠ্য কেতাবের বাইরে বিচরণে বাস্তব কারণেই যথেষ্ট অনীহা ছিল। তার পরে বেশ কিছু দিন গিয়েছে। ১৯৫৮ সালে রাজশাহী কলেজে লেকচারার পদের চাকুরি পেয়ে আমি রাজশাহী চলে যাই। সেখান থেকেই পূর্বসংকল্প অনুযায়ী মাহফুজউল্লাহর তাগিদে ফররুখ আহমদ সম্পর্কে দীর্ঘ একটি প্রবন্ধ ফাঁদি। বাংলা কাব্যে ফররুখ আহমদ নামে সেই সুদীর্ঘ প্রবন্ধে আমি ফররুখ আহমদের কবি প্রতিভার বৈশিষ্ট্য ও প্রকাশিত কবিকর্মের এক বিস্তৃত পরিচয় দানের প্রয়াস পাই। মাহফুজউল্লাহের প্রচেষ্টায় প্রবন্ধটি তিন পর্যায়ে যথাক্রমে মাসিক ‘মোহাম্মদী’, ‘মাসিক সওাগত’ ও ‘বিবর্তন’ নামের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বলা বাহুল্য, সাহিত্যিক মহলে প্রবন্ধটি বেশ সাড়া জাগায়। অনেকে আমাকে সাধুবাদ দেন। কেউ কেউ কবি ফররুখ আহমদ সম্পর্কে অত বড় প্রবন্ধ প্রয়োজন ছিল কিনা, সন্দেহ প্রকাশ করেন। সে যাই হোক, ঐ সময়েই কেউ কেউ আমাকে ‘ফররুখ আহমদ’ সম্পর্কে একটি বই লিখতে অনুরোধ করেন। লেখার ভাবনাটা তখন আমার মাথায় ছিল না। কারণ কবি ফররুখ আহমদের প্রকাশিত রচনার অনেকটাই তখনও বইয়ের আকারে পাঠকদের হাতে পৌঁছে নি। আমার বিবেচনায় কবির শিল্পীসত্তার পরিণতির জন্য আরও কিছুকাল অপেক্ষা করা অপরিহার্য ছিল। তাই ঐ প্রবন্ধ প্রকাশের পর দীর্ঘদিন আমি ফররুখ আহমদ সম্পর্কে নীরব থেকেছি।
ইতিমধ্যে নানা বিষয়ে প্রবন্ধ লেকার ফাঁকে ফাঁকে কবি জসীম উদ্দীনের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কেও ভাবতে শুরু করি। ১৯৬৩-৬৪ সালে চট্টগ্রাম কলেজে প্রফেসর হিসেবে চাকুরী করার কারণে সহকর্মীদের উৎসাহ ও প্রেরণায় জসীম উদ্দীন সম্পর্কে গ্রন্থ রচনায় হাত দেই। ঐ গ্রন্থ ১৯৬৭ সলে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং আমি ঐ বইয়ের বদৌলতে সাহিত্যিক মহলে কিছুটা পরিচিতি লাভ করি। এরপরই আমার কাছে আবার তাগিদ আসে ফররুখ আহমদ সম্পর্কে বই লিখবার। ইতিমধ্যে তাঁর বেশ কয়েকটি বই বেরিয়ে গেছে। আমারও মনে হল, ফররুখ আহমদ ইতিমধ্যেই তাঁর পরিণত প্রতিভার ফসল আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাই এখন একটি বই লেখা যেতে পারে। বই তো লেখা হবেঃ কিন্তু প্রকাশক জুটবে তো? কারণ ফররুখ আহমদ তখনও আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে পাঠ্য কবি হয়ে উঠেন নি। কিন্তু সে বাধাও দূর হল। কবি মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ জানালেন, নওরোজ কিতাবিস্তানের অন্যতম পরিচালক মোহাম্মদ নাসির আলী বইটি প্রকাশের দায়িত্ব নিতে স্বীকৃত হয়েছেন। অগত্যা সমস্ত মানসিক বাধা কাটিয়ে বই লেখার কাজে লেগে গেলাম। বক্তব্য প্রকাশে আমি বাস্তব কারণেই পুরোপুরি স্বনির্ভর রইলাম আর তখন ফররুখ আহমদ সম্পর্কে বাইরে ছিঁটে-ফোঁটা যা লেখা হয়েছিল, তার প্রায় সবটাই ছিল আয়ত্তের বইরে। স্বনির্ভর হওয়া ছাড়া উপায়ও ছিল না। কবির সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের সুযোগ তখন হয়নি।
ইতিমধ্যে কর্মক্ষেত্র বদল হয়েছে। ১৯৬৪ সালের মাঝামাঝি আমি সরকারি চাকুরী ছেড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে ছিলাম। ঐখানে থেকেই জসীম উদ্দীন বইয়ের পান্ডুলিপি বড় অংশটা তৈরি করে ঢাকার প্রকাশককে পাঠিয়ে ছিলাম। জসমি উদ্দীন গ্রন্থ প্রকাশের পরে পরেই ফররুখ আহমদ সম্পর্কিত গ্রন্থটি রচনায় হাত দেই। ১৯৬৮ সালের জুন মাসে দাউদ পুরস্কার বিতরণী সভায় যোগ দিতে লাহোরে যাবার আগেই কবি ফররুখ আহমদ-এর পান্ডুলিপি প্রকাশকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়। এই ঘটনার মাস কয়েক আগে, আমর মনে নেই, ঠিক কখন, পাঠ্য পুস্তক সংক্রান্ত কাজে আমি একবার ঢাকার এসেছিলাম আমার প্রকাশক ইস্টবেঙ্গল পাবলিশার্সের কাছে। তখন হঠাৎ করেই একরকম ঢাকা বেতার কেন্দ্রে এলান-এর তৎকালীন সম্পাদক হেমায়েত হোসেনের সৌজন্যে ঢাকা বেতার কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক বন্ধুবর আলিমুজ্জামান চৌধুরীর কক্ষে কবি ফররুখ আহমদের সঙ্গে সাক্ষাত হয়ে যায়। আকস্মিক এ সাক্ষাতকার আমার জন্যে ছিল এক দুর্লভ অভিজ্ঞতা।
কবিকে ঐ প্রথম আমি স্বচক্ষে দেখি এবং ঐ শেষবারের মত। কারণ দ্বিতীয় সাক্ষাতকারের সুযোগ আর ঘটেনি। ১৯৬৯ সালে ‘কবি ফররুখ আহমদ’ গ্রন্থ প্রকাশনা উৎসবেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। সে যাই হোক, প্রথম সাক্ষাতের সময় আমাকে ধুতি চাদর পরিহিত ভদ্রলোক হিসেবে দেখবার সুযোগটি হয় নি বলে কৃত্রিম হতাশা প্রকাশ করে, অত্যন্ত আন্তরিকভাবেই আহ্বান জানালেন তাঁর গরীবের ডেরায় আতিথ্য গ্রহণ করতে। কথায় কথায় কখন তিনি অফিস থেকে কেটে পড়লেন মনে নেই। দুপুরের দিকে হেমায়েত হোসেন ও সাংবাদিক আখতার উল আলমকে সঙ্গে করে ইস্কাটনে কবির বাসায় গেলাম। কবি তৈরিই ছিলেন। হাসি মুখে হাত বাড়িয়ে সবাইকে গ্রহণ করলেন। কবির আতিথেয়তার কোন ত্র“টি ছিল না। খাওয়া-দাওয়ার পর নানা কথা আলাপ হলঃ কিন্তু তাঁর সম্পর্কে আমার লিখিত প্রবন্ধ এবং প্রায় সদস্য প্রস্তুত বইয়ের পান্ডুলিপি নিয়ে কোন কথা হল না। তিনিও কোন কৌতুহল প্রকাশ করলেন না। আর আমিও সঙ্কোচ বোধ করে ঐ প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলতে বিরত রইলাম। বন্ধুদের ইঙ্গিত সত্ত্বেও ফররুখ আহমদকে তাঁর শিল্পকর্ম সম্পর্কে বিশেষ কিছু প্রশ্ন করলাম না। শুধু মানুষটিকে গভীরভাবে লক্ষ্য করলাম। তিনি নিজেই একসময় কথা প্রসঙ্গে পুঁথি সাহিত্যের কথা তুললেন। কথা বলতে বলতে এক সময় উঠে গিয়ে বিরাট কয়েক খন্ড বাঁধানো পুঁথি নিয়ে এলেন। তার মধ্যে মোহাম্মদ খাতেরের শাহনামার পুঁথিও ছিল। তিনি অত্যন্ত আবেগভরে এই পুঁথিগুলোর বিষয়-বৈভব ও লোকায়ত ভাষা-সম্পদের ব্যবহার সম্পর্কে বলছিলেন। এই পুঁথি সম্পর্কে তিনি বাঙালি মুসলমানের সাহিত্যিক ঐতিহ্যের একটা মুল্যবান অংশ বলে মনে করতেন। হাতেম ও নৌফেল, কাব্যটান্য, হাতেম তা’য়ী নামক সাহিত্যিক মহাকাব্যে বা কাব্যকাহিনী তিনি এ পুঁথির আশ্রয়েই রচনা করেছিলেন। তাছাড়া তাঁর কাব্যের মনোযোগী পাঠক মাত্রই লক্ষ্য করলেন। তিনি কিভাবে পুঁথিতে ব্যবহৃত বহু অপরিচিত শব্দকে অবলীলায় তাঁর কাব্যদেহে প্রয়োগ করেছেন।
মোট কথা, তাঁর সঙ্গে আলোচনায় আমার এ ধারণা হয়েছিল যে, তাঁর স্বপ্নের জগতের অনেকটাই পুঁথির ভুবন থেকে মাল-মশলা দিয়ে তৈরি। তবু পুঁথির জগতেই তিনি নিবদ্ধ ছিলেন না। আধুনিক মুসলমানের বিশ্বব্যাপী জাগরণ কামনার তিনি এক উৎসাহী দ্বার ছিলেন। তিনি ইসলামী মানবতাবদী জীবনবিধানকে যাবতীয় সমস্যা সমাধানে সমর্থ একটি মজবুত আদর্শ বলে মনে করতেন।
সময় হাতে বেশি ছিল না। আলোচনা তাই দীর্ঘায়িত হল না। তবু এরই ফাঁকে দু’একটি প্রশ্ন করে কবির সাহিত্যিক মানসিকতার মূলগত চেহারাটি চিনে নেবার চেষ্টা করলাম। কবিকর্মে বিশেষ আদর্শের পরিপোষক কর্তব্যের প্রতি ঝেঁকে দিতে গিয়ে তিনি কি গন্ডীবদ্ধ হয়ে পড়ছেন না? তিনি কি সমসাময়িক জীবনের তোড় থেকে দূরে সরে গিয়ে নিজের প্রতিভাকে সংকুচিত করছেন না? তাঁর সাহিত্যকর্মের সমসাময়িক জীবন-চেতনাপুষ্ট ধারার প্রতি তাঁর সাম্প্রতিক অনাগ্রাহের কারণ কি? তিনি কি নিজেকে আর একটু ব্যাপ্ত করে দিতে পারেন না? সমসাময়িক তথাকথিত সাহিত্যিক বিতর্ক তাঁর নাম ও ভাবে জড়িত হওয়া ঠিক হয়েছে কি? এসব প্রশ্নের জবাব আমিও চাই নি, তিনিও দেন নি। কিন্তু এর যে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া তাঁর মধ্যে লক্ষ্য করেছি, তাই আমার জন্যে যথেষ্ট ছিল। সাহিত্যের ক্ষেত্রে যে পথে তিনি প্রথম যাত্রা শুরু করেছিলেন, সে পথকে তিনি শেষ পর্যন্ত নিজের বলে আঁকড়ে ধরতে পারেন নি। চারদিকের পৃথিবীতে আদর্শহীন মতবাদের কলহে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে উঠে, ধর্মীয় মূল্যবোধ-আশ্রিত এক মানবিক জীবনাদর্শকে বেছে নিয়েছিলেন তাঁর সকল চিন্তা ও কর্মে। এ পথ থেকে সরে আসা তাঁর বৈশিষ্ট্যসহ। অন্যভাবে নয়। সমসাময়িক কিছু সাহিত্যিক বিতর্কে অনিচ্ছাসত্ত্বেও তিনি জড়িয়ে পড়েছিলেন। অনেক ক্ষেত্রেই বন্ধু বান্ধবদের চাপে পড়ে, স্বেচ্ছায় নয়।
আর কি কথা হয়েছিল মনে নেই। যথাসময়ে তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আস্তানায় ফিরেছিলাম। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। ফিরতে ফিরতে বারবার যেটা মনে হচ্ছিল, কবি ফররুখ আহমদ তাঁর কবি-কর্মকে নেহাত শিল্পকর্ম বলে ভাবেন নি বা তাকে জীবনসংগ্রামের একটা বড় হাতিয়ার করে তুলতে চান নি। তিনি বিশ্বপথিক মানুষের চলার পথের সামনে একটি আদর্শের দীপ বর্তিকা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। সে কাজে তিনি কতটা সার্থক বা ব্যর্থ হয়েছিলেন, তাঁর বিচার করবে মহাকাল। এই মুহূর্তে আমরা তাঁকে শত বিতর্কের মধ্যে মাথা তুলে শুধু বলে যাচ্ছেনঃ আমার অনুভব একান্ত আমারইঃ যদি কারও সঙ্গে এর মিল খুঁজে না পাওয়া যায়, আমার কিছু করার নেই। আমি বিশ্বাস করি, আমার এ বিশ্বাস এ প্রত্যয়ই শেষ পর্যন্ত আমার কবি-কর্মের প্রতিষ্ঠাকে সম্ভব করে তুলবে।
কবি এ বিশ্বাস নিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। আগেই বলেছি, কবির সঙ্গে ঐ আমার প্রথম ও শেষ দেখা। দ্বিতীয বার সাক্ষাতের সুযোগ আর আসে নি। তাই স্মৃতিচর্যা করতে গিয়ে কবি-সম্পর্কে আমি আর কতটুকু বা বলতে পারি।