২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৬
ফযরের নামায পড়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম। একটি শূন্য মাঠ, পাশে ঘন বন, তার মাঝখান দিয়ে একটি পায়ে চলার পথ। আমেরিকায় তখনও শীতকাল। বাইরের মাঠ-ঘাট-বনভূমি-গাছপালা সবই শ্বেত বরফে আচ্ছাদিত। গাছপালা ও অন্যকিছুই চোখে পড়ে না, জানালা দিয়ে যতদূর দৃষ্টি যায়, কেবলই সাদা বরফের শুভ্রতা চোখে পড়ে। আমি অবাক হলাম, কারণ এরূপ দৃশ্য জীবনে আর কখনও চোখে পড়ে নি। নিচে কিচেনের পাশে একটি রুম, যেটাকে বলা হয় সানরুম। কারণ পূর্ব দিক থেকে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সেখানে সূর্যের আলো এসে পড়ে। আলোর সাথে কিছুটা তাপও ঘরের শীতল পরিবেশকে অনেকটা সহনীয় করে তোলে। অবশ্য সারা বাড়িটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। পুরো বাড়িতেই সহনীয় তাপমাত্রা। তবু সানরুম শীতের দিনে আরো বেশি আরামদায়ক। সেখানে এসে সকলে মিলে নাস্তা করলাম। নাস্তার পর উজ্জ্বল সূর্যালোকে বসে সবাই মিলে অনেকক্ষণ গল্প-গুজব করে সময় কাটালাম।
আজ আমার ছোট ছেলে আবিদ ক্যানসাস শহর থেকে সিডার র্যা পিডস এসেছে। অনেকদিন পর তার সাথে দেখা। তাই প্রথম দেখাটা ছিল যেমন আবেগময় তেমনি আনন্দঘন। তাকে নিয়ে আমরা সবাই বাইরে বের হলাম। প্রথমে গেলাম একটি দোকানে। দোকানটির নাম জরহফধষব গধষষ. বিশাল দোকান, বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য মালপত্র স্তরে স্তরে সাজানো। সেখান থেকে আরো দু’একটি দোকানে গেলাম। ঘুরেফিরে নানারকম সওদা করা হলো। তারপর আমরা গেলাম সিডার র্যা পিডস ইসলামিক সেন্টারে সেখানে সবাই মিলে যোহরের নামায আদায় করলাম। তখন ইমাম সাহেব ছিলেন না, আমাকেই ইমামতি করতে হলো। সেন্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সেক্রেটারী- উভয়েই মিশরী। তারাও আমাদের সাথে নামায পড়লেন। নামাযের পর তাদের সাথে পরিচয় হলো এবং তারা আমাদেরকে নিয়ে মসজিদের চারপাশ ও মসজিদের নানা রকম কার্যক্রম ঘুরেফিরে দেখালেন। মসজিদের সাথে সংলগ্ন সেন্টারের অফিস, লাইব্রেরী, সানডে স্কুল, বিশাল হল রুম ও বেজমেন্টে শরীর চর্চার ব্যবস্থা। আমার নাতনি জারা এখানকার সানডে স্কুলে আরবি পড়ে। মসজিদের কর্মকর্তাগণ জানালেন, সিডার র্যা পিডস-এ প্রায় দু’হাজার মুসলমানের বসবাস। এখানে আধিবাসীদের মধ্যে কিছুসংখ্যক লেবানিজ বংশোদ্ভূত আরব মুলসমান রয়েছেন। এরা অধিকাংশই ব্যবসায়ী ও সম্পদশালী ব্যক্তি। পরবর্তীতে বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে অনেক মুসলিম অভিভাসী এসে এখানে বসতি স্থাপন করেছেন। মূলত তাদের চেষ্টাতেই সিডার র্যা পিডস ইসলামিক সেন্টার, মসজিদ ইত্যাদি নির্মিত হয়েছে। স্থানীয় অনেক খ্রীস্টান মুসলমান হয়েছে। মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিদের নিকট জানলাম, গত দু’মাসে চারজন খ্রীস্টান এখানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। এভাবে প্রায় প্রতি মাসেই কিছু কিছু খ্রীস্টান মুসলমান হয়ে থাকেন। আমেরিকার প্রত্যেক এলাকায়ই এরূপ অবস্থা বিদ্যমান।
ইসলামিক সেন্টার থেকে বের হয়ে আমরা গেলাম সিডার র্যা পিডস-এর উত্তর দিকে অবস্থিত মার্শল্যান্ড এলাকা দেখতে। বিশাল বিস্তৃত এলাকা। মাইলের পর মাইল জুড়ে অল্প পানিতে ঘন পল্লবরাজি চোখে পড়ল। মার্শল্যান্ডের মাঝ দিয়ে চলে গেছে হাইওয়ে। হাইওয়েতে আমরা সিডার র্যা পিডস রিভার অতিক্রম করলাম। মার্শল্যান্ড অতিক্রম করার পর রাস্তার দু’পাশ জুড়ে চোখে পড়ল বিস্তৃত শস্যক্ষেত। দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ মাঠ। এখানে সর্বত্রই দেখলাম ভুট্টার আবাদ। ভুট্টা এখানকার প্রধান ফসল। ভুট্টা দিয়ে নানারূপ খাদ্য-সামগ্রী তৈরি হয়। সেটা যেমন মানুষের কাজে লাগে, গৃহপালিত পশুদেরও তা অন্যতম প্রধান খাদ্য। ভুট্টা দিয়ে এখন জ্বালানি তেলও তৈরি করা হচ্ছে। তাই ভুট্টা এখানে অত্যন্ত মূল্যবান ফসল হিসাবে গণ্য। অবশ্য বিশাল আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলে আরও অনেক রকম কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। সব জায়গায় এক রকম ফসল হয় না। ফসলের মাঠে মাঝে মধ্যে দেখলাম দু’একটি বাড়িঘর। এগুলো মূলত ফার্ম হাউজ নামে পরিচিত। এখানে ফসল কাটার সময় মালিক তার লোকজন নিয়ে আসে। ফসল কাটা হলে তা মাড়াই করা হয়, গাড়িতে করে শহরে-বন্দরে বিভিন্ন স্থানে তা পৌঁছে দেয়া হয়। ফসল বোনা, ফসল কাটা, মাড়াই ও তা গাড়িতে তুলে যথাস্থানে পোঁছানোর কাজ আনজাম দেয়ার জন্য মালিক পক্ষের লোকেরা এসব বাড়িতে সাময়িকভাবে বসবাস করে। মূল শহর থেকে এসব বাড়ির দুরত্ব অনেক। কিন্তু প্রতিটি বাড়িতেই যথারীতি পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন ও যাতায়াতের রাস্তা আছে।
পথে আমরা একটি পেট্রোল পাম্পে থামলাম, পেট্রোল নেয়ার জন্য। সেখানে পেট্রোল দেয়ার জন্য বা পয়সা নেয়ার জন্য কোন লোক নেই। সবকিছু ঝবষভযবষভ ইধংরং. যথারীতি পেট্রোল নিয়ে মেশিনে ক্রেডিট কার্ড পুশ করে মূল্য পরিশোধ করতে হয়। এখানে কোন ফাঁকি দেয়ার উপায় নেই। ফাঁকি দিলে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় তা ধরা পড়ে। সেটা থেকে কারও নি®কৃতি পাওয়া সম্ভব নয়। এখানকার বড় বড় সুপার মার্কেট ও মলগুলোতেও একই ব্যবস্থা। দোকান থেকে মাল সংগ্রহ করে কাউন্টারে এসে ক্রেতা নিজেই মেশিনে বিভিন্ন দ্রব্য উপস্থাপন করে মূল্য চুকিয়ে চলে আসে। ক্রেতা ইচ্ছে করলে কোন দ্রব্য হয়ত মেশিনে নাও দিতে পারে। সেটা দোকানদার জানতে পারবে না। কিন্তু দোকানে ফিট করা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা তা সহজেই ধরে ফেলে এবং অটোমেটিক মেশিন ক্রেতার পথ আগলে ধরে। সাথে সাথে ঘন্টা বেজে ওঠে। তখন দোকানের কর্মচারীরা ছুটে আসে। ইচ্ছে করলে তারা ক্রেতাকে প্রতারণার দায়ে পুলিশে দিতে পারে। কিন্তু ক্রেতার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য সাধারণত ক্রেতার নিকট থেকে যথোপযুক্ত মূল্য আদায় করে তাকে ছেড়ে দেয়।

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৬ জু’মাবার
সকালে গোছল করে নাস্তা খেয়ে জামাকাপড় পরে কিছুটা আগেভাগেই আমরা চলে গেলাম ইসলামিক সেন্টারে জু’মার নামায আদায় করতে। বাসা থেকে মাত্র পনের মিনিটের রাস্তা। এলাকার মুসলমানদের জন্য এটা একটি মিলন-কেন্দ্র। প্রায় চার পাঁচশ মুসল্লি এখানে জু’মার নামায পড়তে আসেন। বিভিন্ন বর্ণ-ভাষা ও দেশের লোক তারা। মেয়ে ও পুরুষ উভয়ের জন্য এখানে নামায পড়ার আলাদা ব্যবস্থা আছে। মিশরী ইমাম সাহেব নামাযের আগে দরজায় দাঁড়িয়ে আগত মুসলমানদের স্বাগত জানালেন। কারো কারো সাথে আন্তরিকভাবে কথাবার্তা বললেন। নবাগতদেরকে বিশেষভাবে স্বাগত জানালেন এবং তাদের সাথে পরিচিত হলেন। আমি সেখানে নবাগত। আমার জামাই এ মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি। মসজিদের উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথেও সে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। সেই আমাকে পরিচয় করিয়ে দিল ইমাম সাহেবের সাথে। খুব আন্তরিকভাবে তিনি আমাকে স্বাগত জানালেন। ইমাম সাহেব এখানে আসার আগে মিশরে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। তিনি উচ্চ শিক্ষিত, জ্ঞানী ও উৎসাহী ব্যক্তি। আমিও একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জেনে তিনি আমাকে বিশেষভাবে অভ্যর্থনা জানালেন।
দুপুর সোয়া বারোটায় ইমাম সাহেব খুৎবা দিতে দাঁড়ালেন। খুৎবার শুরুতে তিনি আল্লাহতা’লার নামে হামদ ও রাস্ল্লুাহর (সঃ) নামে দরূদ পাঠ করলেন। তারপর কোরআন শরীফ থেকে কয়েকটি আয়াত তেলোয়াত করে সহজ ইংরাজিতে তার অনুবাদ পেশ করলেন। এরপর পাঠকৃত আয়াতের আলোকে তিনি ঈমান সম্পর্কে আলোচনা করলেন। ঈমান কাকে বলে, ঈমানের বিভিন্ন স্তর ও শর্তসমূহ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করলেন। আলোচনায় তিনি বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক হাদিসের উল্লেখ করলেন। তার আলোচনা আমার কাছে অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ, সমসাময়িক অবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ও হৃদয়গ্রাহী মনে হলো। খুৎবার শেষাংশে তিনি মুসলিম বিশ্বের বিশেষত আমেরিকায় বসবাসকারী মুসলমানদের বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধানের উপায় সম্পর্কে তার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য ও পরামর্শ তুলে ধরলেন। তিনি তাঁর ভাষণে যা বললেন, তার সংক্ষিপ্ত সারমর্ম হলো এই যে, অমুসলিমরা ইসলামের বিরুদ্ধে নানারূপ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিশেষত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ উগ্রবাদী খ্রীস্ট সম্প্রদায় ও ইহুদীদের চক্রান্তে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যত্নে লিপ্ত। খাঁটি মুসলমানদেরকে তারা মৌলবাদী আখ্যা দিয়ে অন্য মুসলমানদের থেকে তাদেরকে আলাদা করে ‘মৌলবাদী’, ‘উগ্রবাদী’ ইত্যাদি নামে আখ্যায়িত করে তাদেরকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। মূলত তাদের এ অপতৎপরতা ইসলামের বিরুদ্ধে। সাম্য-শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলামরে অগ্রগতি রোধ করার জন্যই তাদের এ ষড়যন্ত্র। অতএব, এ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে মুসলমানদেরকে সচেতন হতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে তার মুকাবেলা করতে হবে। ইমাম তার ভাষণে আধুনিক যুগে ইসলামি আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত সৈয়দ আবুল আ’লা মওদুদীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁর জীবন, কর্ম ও গ্রন্থাদি গভীর মনোযোগের সঙ্গে অধ্যয়ন করতে উপস্থিত মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানালেন। ইমামের খুৎবা ছিলো অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ ও অনুপ্রেরণাদায়ক।
নামাযের পর ইমামের রুমে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বললাম। সমবেত কয়েকজন মুসল্লির সাথেও আলাপ-পরিচয় হলো। মসজিদের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত ভ্রাতৃত্বপূর্ণ, সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতায় পূর্ণ।
মসজিদে ঢোকার পথে বামপাশে একটি রুম। সেখানে কয়েকটি চেয়ার পাতা এবং কিছু বই-পুস্তক সাজানো। জিজ্ঞাসা করে জানলাম, এখানে নামাযের সময় অনেক অমুসলিম এসে বসে। তারা মুসলমানদের নামায ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন, কেউ কেউ বই-পুস্তক পড়ে এবং আগ্রহীরা অনেকে মুসলমানদের সাথে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকে। এদের মধ্যে অবশ্য দু’শ্রেণীর লোক রয়েছে। কেউ আসে মুসলমানদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে সে সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের নিকট রির্পোট পেশ করার জন্য, আবার কেউ আছে ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে জানার আন্তরিক আগ্রহ নিয়ে । শেষোক্ত শ্রেণীর অনেকেই শেষ পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করে থাকে।
আমার বড় মেয়ে সুমাইয়া এখানকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করে। আমি ও আমার স্ত্রী মেয়ের সাথে তার স্কুলে গেলাম । সেখানে আমার নাতনি জারা পড়াশোনা করে। আমার মেয়ে সাধারণত পাঁচ বছর বয়স্ক ছেলেমেয়েদের পড়ায়। প্রতিটি ক্লাসে মোট ২০ জন ছাত্র-ছাত্রী। প্রতিটি ক্লাসে দু’জন করে শিক্ষয়িত্রী। ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর যত্ন নেয়া হয়। কে পড়ছে, কে পড়ছে না, কে মনযোগী, কে মনযোগী নয় ইত্যাদি সবকিছুই শিক্ষককে দেখতে হয়। পাঠ্য বই ছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে ছেলেমেয়েদেরকে শিক্ষা দান করা হয়। ছবি আঁকা, গান শেখানো, নানারূপ শিক্ষামূলক খেলাধূলা, শরীর চর্চা ইত্যাদি সবকিছুই স্কুলে করানো হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্কুল। এখানে খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, পেশাব-পায়খানা-গোছল ইত্যাদি সবকিছুরই ব্যবস্থা রয়েছে। অভিভাবকগণ নিশ্চিন্তে সকাল বেলা এখানে তাদের ছেলেমেয়েদের রেখে সারাদিন যার যার কাজে ব্যস্ত জীবন যাপন করেন। সন্ধ্যার সময় তারা তাদের ছেলেমেয়ে নিয়ে ঘরে ফিরে যান। ঘরে ফেরার পর আর কোন হোমওয়ার্ক নেই। পড়াশোনা যা কিছু সবই স্কুলে। বাড়িতে গিয়ে তারা বাবা-মায়ের সঙ্গে আলাদা আরেকটি জীবন পায়। স্কুলে পড়াশোনা, খেলাধূলা, বিনোদন সবই আছে। তাই স্কুলের প্রতি ছেলেমেয়েদের আকর্ষণ প্রবল।
এ ধরনের সার্বক্ষণিক ডে-কেয়ার জাতীয় স্কুল না থাকলে সেখানে অভিভাবকদের পক্ষে তাদের সন্তানদেরকে শিক্ষাদান করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। বাবা-মা উভয়ই সেখানে চাকরি-বাকরি ও নানারকম কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকে। ছেলেমেয়েদের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার সময় তাদের নেই বললেই চলে। উপরন্তু, যেসব বাবা-মায়ের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটেছে অথবা যেসব ছেলেমেয়ের বাবার পরিচয় নেই অর্থ্যাৎ সিঙ্গেল প্যারেন্ট, তাদের ক্ষেত্রে সন্তান প্রতিপালন অধিকতর কষ্টকর। এসব ক্ষেত্রে এ ধরনের স্কুল অত্যন্ত উপযোগী। অবশ্য স্কুলে ছেলেমেয়েরা যথারীতি খাওয়া-দাওয়া, আদর-যত্ন ও বিভিন্ন আনন্দ-বিনোদনের সুযোগ পায় ঠিকই, কিন্তু বাবা-মায়ের আন্তরিক স্নেহ-মমতা থেকে তারা বঞ্চিত থাকে। অনেকটা গৃহপালিত পশুদের মতই পরম যত্নে লালিত পালিত হয় ছেলেমেয়েরা। বাবা-মা, পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ইত্যাদির সাথেও তাদের সম্পর্ক হয় অনেকটাই ফরমাল, সেখানে আন্তরিকতার স্বচ্ছন্দ নিবিড় আত্মীয়তার বন্ধন তেমন একটা গড়ে ওঠে না।
আমেরিকা বিশেষত Mid-Amarica-র লোকেরা তুলনামূলকভাবে অধিক শিক্ষিত, ধর্মভীরু, সৎ ও ভদ্র। এসব ভালো গুণাবলি সত্ত্বেও তাদের মধ্যে যেসব বদ অভ্যাস পরিলক্ষিত হয় তা নিম্নরূপ: ১. মদ্যপান, ২. লটারী, ৩. নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, ৪. অবাধ যৌনাচার।
এছাড়া, পুঁজিবাদী সমাজ-ব্যবস্থার মূলভিত্তি হলো সুদ। এ সুদী ব্যবস্থা সেখানকার প্রতিটি মানুষকে এমনভাবে আষ্টে-পৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে যে, তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া প্রায় দুঃসাধ্য। এ সুদী ব্যবস্থার কারণে মেহনতি মানুষের শ্রমার্জিত অর্থ সুদখোর পুঁজিপতিদের পকেটে গিয়ে স্বচ্ছন্দ্যে জমা হয়। এ সুদী-ফাঁদ থেকে কেউ রেহাই পায় না। পুঁজিপতিরা এমনভাবে সুদের জাল সমাজে সর্বত্র বিস্তার করে রেখেছে যে, তাতে সকলেই আটকা পড়তে বাধ্য এবং সুদের টাকা পুঁজিপতিদের টাকশালে গিয়ে জমা হয়। এভাবে তারা শ্রমজীবীদের টাকায় বিনাশ্রমে সম্পদের পাহাড় গড়ে। অর্থনীতিতে এটাকে বলে Unearned money. Unearned money সাধারণত খরচ হয় বিলাসী কাজে, বেপরোয়া ও পর্যাপ্ত পরিমাণে। এরজন্য কোন জবাবদিহিতার প্রয়োজন হয় না।
উপরিউক্ত সামাজিক ত্র“টির কারণে সমাজে যেসব অনাচার সৃষ্টি হয় তা নিম্নরূপ- ১. বিবাহ-বিচ্ছেদ, ২. সিঙ্গেল প্যারেন্ট সিস্টেম, ৩.কমন ল’ওয়াইফ, ৪. সমকামিতা, ৫. নানারূপ যৌনব্যাধি, ৬. অশ্লীলতা, ৭. চরম বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গী, ও ৮. নানারূপ অনৈতিক প্রবণতা।
আমেরিকানদের দেখে আমার অনেক সময় বিষ্ময়ের উদ্রেক হয়। তাদের মধ্যে যেমন অনেক ভালো গুণ আছে, তেমনি আছে অনেক বদ অভ্যাস। একই সঙ্গে একজন মানুষের মধ্যে কীভাবে এতগুলো সৎগুণ ও বদ অভ্যাসের একত্র সমাবেশ ঘটতে পারে, তা ভাবতে অবাক লাগে। যখন তাদের ভালো গুণগুলো দেখি, তখন তাদেরকে শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছা হয়, মনে হয় যেন তারা খুবই ভালো মানুষ। কিন্তু আবার যখন তাদের বদ অভ্যাসগুলোর কথা স্বরণ করি, তখন তাদেরকে নিকৃষ্ট শ্রেণীর মানুষ বলেই মনে হয়। আমার ধারণা, কোন কোন ক্ষেত্রে তারা ইসলামের উপর ঈমান না এনেও ইসলামের নীতি ও অনুশাসন যথারীতি মেনে চলছে। যদি তারা ইসলামের উপর ঈমান এনে ইসলাম-নির্দেশিত খারাপ কাজগুলো পরিহার করতে পারতো, তাহলে সম্ভবত তারা এ যুগের শ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হতে পারতো। দুর্ভাগ্যবশত বর্তমানে মুসলিম হিসাবে যারা পরিচিত, তারা অনেক ক্ষেত্রে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা, নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যূত। তাই মুসলমানদের দেখে আজ ইসলামের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া কঠিন। মুসলমানরা যদি প্রকৃত ইসলামের শিক্ষায় উজ্জীবিত হতে পারে, তাহলে তারা নিঃসন্দেহে আধুনিক বিশ্বেও শ্রেষ্ঠ জাতি হিসাবে পরিগণিত হবে এবং সারা বিশ্বকে আবার সত্য-সুন্দর, শান্তি-কল্যাণ ও মানবতার সমুজ্জল পথ প্রদর্শন করতে সক্ষম হবে। মুসলমানদের এ সত্য উপলব্ধির এখন সময় এসেছে।

২৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার
সকাল সোয়া এগারটা আমরা ছোট ছেলে আবিদের গাড়িতে করে ক্যানসাসের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। সেখানে আমার ছোট ছেলে থাকে। এখান থেকে ক্যানসাস সাড়ে তিন’শ মাইল (৫৬০ কিলোমিটার) দূরে। দীর্ঘ পথ। সত্তর মাইল (১২০ কিলোমিটার) বেগে গাড়ি চালিয়ে সোয়া পাঁচ ঘন্টা পর আমরা ক্যানসাস সিটির ওভারল্যান্ড পার্ক এলাকায় অবস্থিত আমার ছেলের বাসায় পৌঁছলাম। হাইওয়েতে চলার আনন্দই আলাদা। পথে কোন স্পিড ব্রেকার নেই, ক্রসিং নেই, গাড়ি কখনও থামানোর প্রয়োজন পড়ে না। নিরুদ্বিগ্ন অবাধ গতি। হাইওয়েগুলো দ্বিমুখী। প্রতি দিকেই তিনটি করে লেন। প্রত্যেকটি যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট লেন রয়েছে। যেমন প্রাইভেট কারের জন্য একটি লেন, মালবাহী বড় গাড়ির জন্য একটি লেন এবং আরেকটি লেন রয়েছে স্পেয়ার, অর্থ্যাৎ কোন গাড়ি যদি কখনও বিকল হয়ে পড়ে অথবা দূর্ঘটনা কবলিত হয়, তখন সেগুলো তৃতীয় লেনে গিয়ে আশ্রয় নেয়। যাতে অন্য গাড়ির অগ্রগতি কোনভাবেই ব্যাহত না হয়। দ্রুতগতির গাড়িগুলোকে ওভারটেক করার সুযোগ দেয়ার জন্যও কম গতিসম্পন্ন গাড়িগুলোকে তৃতীয় লেনে কিছুক্ষণের জন্য অবস্থান নিতে হয়। ফলে যান চলাচল কখনও কোনভাবেই ব্যাহত বা বাধাগ্রস্ত হয় না। অবশ্য গাড়ির সর্বাধিক ও সর্বনিম্ন গতি নির্দিষ্ট আছে। তার ব্যতিক্রম হলে রাস্তার পাশে স্থাপিত রিমোর্ট কন্টোলে তা ধরা পড়ে এবং আইন-অমান্যকারীকে সেজন্য জরিমানা দিতে হয়।
হাইওয়ের দু’পাশে মাঝে মধ্যে রেস্ট এরিয়া আছে। সেখানে গাড়ি থামিয়ে কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম নেয়া যায়, খাওয়া-দাওয়া, পেশাব-পায়খানা করা যায় এবং প্রয়োজনে গাড়ির জন্য পেট্রোল সংগ্রহ করা যায়। হাইওয়েতে আমরা আইওয়া রাজ্য অতিক্রম করে মিজৌরী রাজ্যের মধ্য দিয়ে ক্যানসাস রাজ্যে এসে প্রবেশ করলাম এবং অবশেষে ক্যানসাস শহরে।

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৬, ওভারল্যান্ড পার্ক, ক্যানসাস
আজ রবিবার ছুটির দিন। তা সত্ত্বেও আবিদ সকালেই তার অফিসে চলে গেলো এবং ফিরে এলো বিকাল ছয়টায়। কারণ তার অফিসে অনেক কাজ জমে আছে, সেগুলো না করলেই নয়। আবিদ বাসায় আসার পর আমরা একসঙ্গে মাগরিবের নামায পড়ে শহরে ঘুরতে বের হলাম। প্রথমে আমরা গেলাম আবিদের অফিসে। ছুটির দিন, তাই সেখানে কেউ ছিল না। আবিদের কাছে যে সিকিউরিটি কী ছিল, তা দিয়ে দরজায় স্পর্শ করা মাত্র দরজা খুলে গেল। আমরা ভিতরে ঢুকলাম এবং ঘুরে-ফিরে সবকিছু দেখলাম। আমি কিছুটা বিস্মিত হলাম যে, এতবড় অফিস, এত বড় বিল্ডিং কিন্তু কোথাও কোন সিকিউরিটি গার্ড নেই। দরজায় তালা-চাবি লাগিয়ে সবাই নিশ্চিন্তে চলে গেছে। আবিদ আমাকে জানালো, গরফ-অসধৎরপধ-য় সাধারণত মানুষজন এরকমই নিরাপদ বোধ করে থাকে। এখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব ভালো।
এরপর আমরা গেলাম সিটি সেন্টারে। প্রথমেই ঢুকলাম একটি বইয়ের দোকানে। বিশাল দোকান। লক্ষ লক্ষ বই। দোকানের এক পাশে দেখি অনেক নারী-পুরুষ বসে গল্প করছে, চা-নাস্তা খাচ্ছে। আবিদ জানালো, লাইব্রেরীতে যারা পড়তে আসে, তাদের ক্ষুধা লাগলে বা কোন কিছু খেতে ইচ্ছা হলে, এখানে তার ব্যবস্থা আছে। লাইব্রেরীতে যেকোন ব্যক্তি যেকোন সময় এসে যতক্ষণ খুশি বসে পড়াশোনা করতে পারে অথবা ইচ্ছা করলে তার পছন্দ মত বই-পুস্তক ইস্যূ করে ঘরে নিয়ে যেতে পারে। আবিদ এখান থেকে কয়েকদিন আগে কয়েকটি বই নিয়ে গিয়েছিল। লাইব্রেরীতে ঢুকেই কাউন্টারে প্রথমে সে বইগুলো জমা দিল। আরো নতুন কিছু বই ইস্যূ করে নিল। আমাকে বলল, আপনি ইচ্ছা করলে যেকোন বই এখান থেকে নিতে পারেন। আমি একটি বিশেষ বাংলা বই আছে কিনা জানতে চাইলাম কাউন্টারে বসা মেয়েটির নিকট। মেয়েটি কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে তার রেকর্ডপত্র দেখে আমাকে জানাল, Sorry, that particular book is available with us at the moment. But you can put you name, telephone number and your mailing address. We shall try to get the book from aûwhere and send you to your address.
আমি অবাক বিস্ময়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকলাম। মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য এরা কতটা সচেষ্ট! আবিদ আমাকে বলল যে, আমেরিকানরা বই পড়ায় সকলকে উৎসাহিত করে থাকে। বই সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও আগ্রহী পাঠকের জন্য তা সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে এরা অত্যন্ত সচেষ্ট। আমি ভাবলাম, আমেরিকানদের বড় হওয়ার পেছনে সম্ভবত এটা একটি প্রধান কারণ। যে ব্যক্তি বা যত জাতি বই পড়ে, জ্ঞানানুশীলন করে প্রকৃতপক্ষে তারাই উন্নতি করে থাকে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলমানরাও এক সময় সারা পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম জাতিতে পরিণত হয়েছিল শুধুমাত্র জ্ঞানানুশীলনের মাধ্যমে। ঐশীগ্রন্থ আল-কুরআনের যথাযথ চর্চা, অনুশীলন ও অনুসরণের ফলেই তারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জাতিতে পরিণত হতে পেরেছিল।
বইয়ের দোকান থেকে বের হয়ে আমরা প্রথমে গেলাম সেখানকার একটি মসজিদে। কিন্তু ততক্ষণে এশার নামাযের পর মসজিদটি বন্ধ হয়ে গেছে। সেখান থেকে আমরা গেলাম আরেকটি দোকানে। সারি সারি দোকান, বিভিন্ন পণ্যে সাজানো। আমরা ঘুরে-ফিরে দেখলাম। অবশেষে আমেরিকার বিখ্যাত ওয়ালমার্ট দোকানে ঢুকলাম। সেখানে কিছু প্রয়োজনীয় সওদা করে বাসায় ফিরে এলাম।

২৭ ফেব্রুয়ারি, সোমবার
আবিদের অফিস সকাল নয়টা থেকে বিকাল ছয়টা পর্যন্ত। দুপুর বারোটা থেকে একটা পর্যন্ত লাঞ্চ ব্রেক। ঐ সময় সে বাসায় আসে খাওয়ার জন্য। আমার স্ত্রী রান্না-বান্না করে রেখেছে, আবিদ আসার সাথে সাথে আমরা একসাথে বসে খেয়ে নিলাম। খাওয়ার পর আবিদ জোহরের নামায পড়ে আবার তার অফিসে চলে গেল। বিকাল ছয়টায় আবিদ অফিস থেকে ফেরার পর চা-নাস্তা খেয়ে আমরা আবার বের হলাম শহর দেখতে। শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে, কিছু কেনা-কাটা করে অবশেষে ঢুকলাম এখানকার আরেকটি বড় লাইব্রেরীতে। আবিদ অন্য আরেকটি লাইব্রেরী থেকে কিছু বই নিয়েছিল পড়ার জন্য। সেগুলো এখানে ফেরত দিলো। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, অন্য লাইব্রেরীর বই এ লাইব্রেরীতে ফেরত দেয়া হলো কেন? আবিদ বললো, শহরের সব লাইব্রেরী এখানকার পৌর-কর্তৃপক্ষের। এখানকার যেকোন লাইব্রেরী থেকে বই নিয়ে অন্য লাইব্রেরীতে জমা দিতে কোন অসুবিধা নেই। বই ফেরত দেয়ার নিয়ম দেখেও আমি কিছুটা অবাক হলাম। বইগুলো কাউন্টারে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখলেই হলো। সেখানে কোন এন্ট্রি খাতা নেই, কোন নাম দস্তখত বা রেকর্ডপত্রের বালাই নেই। অটোমেটিক মেশিনে তা যথারীতি এন্ট্রি হয়ে যায়। লাইব্রেরীতে মেম্বার হতে, বই নিতে, এখানে বসে পড়াশোনা করতে কোনরূপ ফি দিতে হয় না। মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহী করার জন্য কর্তৃপক্ষ সব সময় উদগ্রিব থাকে।

২৮ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার
আজ ফেব্র“য়ারি শেষ দিন। আবিদ যথারীতি তার অফিসে গেছে। আমার স্ত্রী সারাক্ষণ বিভিন্ন ধরনের রান্না-বান্নায় ব্যস্ত আর আমি বই পড়ায় মগ্ন হয়ে সময় কাটালাম। আমার ছেলের ঘরে বইয়ের সংগ্রহ কম নয়। ইংরাজি, বাংলা মিলিয়ে শতাধিক গ্রন্থ। বাংলা ভাষার প্রখ্যাত কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিকের নামকরা বইগুলো প্রাায় সবই তার সংগ্রহে আছে। আমি সারাদিন বসে বসে সেগুলো নাড়াচাড়া করে দেখলাম এবং পছন্দমত বই নিয়ে পড়াশোনা করলাম। বাংলাদেশে নানা ব্যস্ততার কারণে এত নিরিবিলি লেখাপড়া করার তেমন একটা সুযোগ হয় না। এখানে অখন্ড সময়। ব্যস্ততা নেই, কাজের চাপও নেই। নিরিবিলি চমৎকার পরিবেশ। তাই গভীর মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করলাম।
আবিদ বিকালে অফিস থেকে এসে আমাদের নিয়ে বের হলো। শহরে নতুন নতুন জায়গা দেখে একটি নামকরা সুপার মার্কেট থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু দ্রব্যসামগ্রী কিনে বাসায় ফিরলাম। বাসায় এসে আমার স্ত্রী মাছ, ডাল ও সবজি রান্না করলো। সবাই মিলে তা দিয়ে পেট ভরে খেলাম। খাবার পর আমার ছেলে টেলিভিশনে সিডিতে একটি বাংলা নাটক দিলো। হুমায়ুন আহমদের লেখা ‘বহুব্রীহি’। সম্ভবত পরিচালনাও তারই। তিনজনে মিলে নাটকটি দেখলাম। তারপর গভীর রাত্রিতে ঘুমিয়ে পড়লাম।