৬ মার্চ সোমবার
আমেরিকায় শ্রমের মূল্য অত্যধিক। আমাদের দেশে জনসংখ্যা অধিক, বেকারের সংখ্যাও বেশি। তাই সহজে ও সুলভে শ্রম পাওয়া যায়। কিন্তু আমেরিকার অবস্থা ভিন্ন। সেখানে জনসংখ্যা কম, প্রয়োজনে তারা বিদেশীদের শ্রম ব্যবহার করে। তাই দেখা যায়, যেকোন শ্রমসাধ্য কাজের জন্য প্রচুর পয়সা খরচ করতে হয়। আমার জামাইর গাড়িতে কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়। সেটা ঠিক করার জন্য সে প্রথমে একটি দোকানে নিয়ে গেল, সেখানে সামান্য কাজের জন্য তারা পনের’শ ডলার দাবী করলো। অন্য আরেকটি দোকানে চাইলো চৌদ্দ’শ ডলার। পরবর্তী দু’টি দোকান বলল, অন্য সময় গাড়ি নিয়ে আসতে। কারণ তারা তখন খুব ব্যস্ত। এভাবে দেখলাম, রিপেয়ারিং শপগুলো খুবই ব্যস্ত ও ব্যয়বহুল। এ কারণে সাধারণত এখানে লোকেরা পুরোনো জিনিসপত্র মেরামত না করে নতুন জিনিস কেনার পক্ষপাতী। সাধারণত মেরামত কাজের জন্য তারা ঘন্টায় আশি থেকে এক’শ ডলার চার্জ করে থাকে। আমেরিকার রিপেয়ারিং শপগুলো আমাদের দেশের মত রাস্তা-ঘাটে যত্রতত্র গড়ে ওঠেনি। সেগুলো অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে যাবতীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সমন্বয়ে সুসজ্জিত চমৎকার দোকান। মেশিনে চেক-আপ, অধিকাংশ কাজ মেশিনেই করা হয়। তবে যেটা মেশিনে করা সম্ভব নয়, কেবল সেটাই হাতে করা হয়। তাই তারা শুধু কাজের দামই নেয় না, আধুনিক যন্ত্রপাতি সুসজ্জিত দোকানের খরচও তার সাথে তুলে নেয়।
এখানে গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থাও খুব উন্নত। সেখানে একটি কুঠরির মধ্যে গাড়ি ঢুকিয়ে মেশিনে টাকা পাঞ্চ করা মাত্রই অটোমেটিক মেশিনে পুরো গাড়ি আগাগোরা মুহূর্তের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়। এখানেও কোন লোক নেই। শুধু মেশিনেই টাকা নেয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন হয়।

৭ মার্চ মঙ্গলবার
সকালে আমরা সুমাইয়াকে নিয়ে গেলাম সিডার ব্যাপিডস-এর সেন্ট লুক্স হসপিটালে। সেখানে তাকে ভর্তি করা হলো। একটি বড় রুম। রুমটি দু’টি বেড, একটি টয়লেট, সোফাসেট, টিভি, কম্পিউটার, ফোন ইত্যাদিতে সুসজ্জিত। ভর্তির পর সকাল সাড়ে দশটায় সুমাইয়াকে একটি ইনজেকশন দেয়া হলো। এর একঘন্টা পর অর্থ্যাৎ সাড়ে এগারটায় সে তার সন্তান প্রসব করলো। এটি তার দ্বিতীয় ও প্রথম পুত্র সন্তান। আমরা সবাই খুশী হলাম ও আল্লাহ্তাআলার শোকরগোজর করলাম। ঘন্টা খানেক পরই আমাদেরকে ভিতরে ডাকা হলো। এরমধ্যেই নবজাতককে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে, বেড ও বিছানার কাপড়-চোপড় সব কিছু চেঞ্জ করা হয়েছে এবং পুরো রুমটাই একেবারে নতুনভাবে গুছিয়ে ফেলা হয়েছে। ডেলিভারির কোন চিহ্নই সেখানে অবশিষ্ট নেই। ঘরে ঢুকে আমি নবাগতের কানে আযান ও আকামত উচ্চারণ করলাম। ডাক্তার একজন চাইনীজ মহিলা। অত্যন্ত ভদ্র ও আন্তরিক। নার্সদেরও দেখলাম খুবই দক্ষ ও কর্তব্যপরায়ণ। হসপিটালে আমরা দীর্ঘ সাত ঘন্টা অপেক্ষা করলাম। এ সময় ডাক্তার ও নার্সকে দেখলাম অত্যন্ত তৎপরতার সাথে সকলে তাদের কর্তব্য পালন করে যাচ্ছে। কেউ এক মুহূর্তের জন্যও বসে নেই। সকলেই অত্যন্ত ব্যস্ত ও যার যার দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করছে। কিন্তু এত ব্যস্ততার মধ্যেও সর্বক্ষণ তাদের মুখে হাসি লেগে আছে। কেউ কখনও কারো কোন প্রশ্নে এতটুকু বিরক্তির ভাব প্রকাশ করলো না। আমি, আমার স্ত্রী, ছেলে, জামাই ও নাতনি সবাই একসঙ্গে বসে সুমাইয়ার সাথে গল্প-গুজব, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি সম্পন্ন করলাম। হসপিটালের ক্যান্টিনে বিভিন্ন ধরনের খাবার ও পানীয় দ্রব্য সাজানো আছে। সেখান থেকে যে যার ইচ্ছা মত নিজ হাতে খাবার নিয়ে খেতে পারে। এজন্য কোন পয়সা দিতে হয় না।

৮ মার্চ বুধবার
সকাল বেলা আমি একা ঘরে বসে বিশ্রাম নিলাম। এখানে-ওখানে দু’একটি টেলিফোন করে বন্ধু-বান্ধবদের খোঁজখবর নিলাম। আমার স্ত্রী, জামাই, ছেলে ও নাতনিরা গেছে হসপিটালে। আমিও বিকাল তিনটায় হসপিটালে গেলাম। মেয়ে ও নবজাতক সুস্থ্য আছে। সেখানে গিয়ে আমি আরো মুগ্ধ হলাম। নার্সরা প্রতি মুহূর্তে এসে খবর নিচ্ছে, নবজাতককে খাওয়াচ্ছে, কোলে-পিঠে করে আদর করছে, প্রয়োজনে তাকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে দিচ্ছে। আমাদের দেশের ডাক্তার ও নার্সদের মত শুধু দূর থেকে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেই চলে যাচ্ছে না। মনে হলো, বেবিটা যেন তাদেরই। মা ও মেয়ের যাবতীয় যত্ন-আত্তি, দেখাশোনা, সেবা-যত্ন ইত্যাদি সবকিছুই তারা নিজেদের দায়িত্ব মনে করে অত্যন্ত আন্তরিকার সাথে করে যাচ্ছে। শুধু চিকিৎসা ও ওষুধপত্র দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করছে না, বরং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তরিকতা- যা একজন রোগীকে সহজেই সুস্থ্য ও স্বাভাবিক করে তুলতে পারে, সেটা প্রদানে এরা অতিশয় যত্নবান। অনেক সময় আপন লোকেরাও অতটা করতে পারে না। জানতে পারলাম, আমেরিকায় নার্সদেরকে এভাবেই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
হসপিটাল বেডটিকেও সাধারণ একটি বেড মনে হলো না। মনে হলো, সেটা যেন আমাদের একটি নিজস্ব ঘর। সে ঘরে রোগী বা রোগিনী ছাড়াও তার নিকটাত্মীয়দেরও থাকা-খাওয়া, শোওয়া-ঘুমানো, আরাম-আয়েশ ইত্যাদি সবকিছুরই ব্যবস্থা আছে। সুমাইয়া যে ক’দিন হসপিটালে ছিল, সে ক’দিন আমরা সবাই তার সঙ্গে তার রুমে অবস্থান করেছি। বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত জন যারা দেখতে গেছে, তারাও খুব স্বচ্ছন্দে সেখানে কিছুক্ষণ থেকেছে, হসপিটালের ফ্রি ক্যান্টিন থেকে তাদেরকেও যথারীতি আপ্যায়ন করা হয়েছে। হসপিটালে রোগীর সঙ্গে যেকোন সময় সাক্ষাৎ করা যায়। এখানে কোন নির্দিষ্ট ভিজিটিং আওয়ার নেই।

৯ মার্চ বৃহস্পতিবার
ফযরের সময় উঠে নামায পড়ে আমি আবার বিছানায় শুয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙলো সকাল সাড়ে আটটায়। বাইরে জানালা দিয়ে তাকিয়ে আমি বিস্মিত হলাম। হঠাৎ যেন এখানকার প্রকৃতি অনেকটা বদলে গেছে। শীতের সময় এখানে গাছপালা, তৃণলতা সবই বরফে আচ্ছন্ন থাকে। প্রকৃতি হয়ে ওঠে ধূসর, বর্ণহীন ও প্রাণহীন। আজ অকস্মাৎ চোখে পড়লো, প্রকৃতি যেন জেগে উঠেছে, তার বুকে কচি তৃণলতার স্নিগ্ধ হাসি ফুটে উঠেছে। পত্র-পল্লবহীন কঙ্কালসার গাছে গাছে কোমল সবুজ পাতার মৃদু আভাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সর্বত্র যেন প্রাণের ছোঁয়া লেগেছে। বসন্তের মৃদু গুঞ্জরণ আকাশে-বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। বসন্তের বাতাস লেগে শুষ্ক, রুক্ষ্ম, হরিদ্রাভ নীরস প্রকৃতি আজ যেন প্রাণের উৎসবে অকারণ মেতে উঠেছে। আমি শীতের শেষে এখানে এসেছি। তীব্র শীত যেমন অনুভব করতে পারিনি, বসন্ত -গ্রীষ্মের রূপও তেমনি অবলোকন করা হয়নি। কিন্তু আজ প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে আমার ধারণা হলো- শীতকাল শেষ হয়েছে, বসন্তের আগমন অত্যাসন্ন।
পৃথিবীর সর্বত্রই বসন্তকে বলা হয় ঋতুরাজ। বসন্তের রূপ সব দেশেই সুন্দর ও মনোরম। পৃথিবীর সব মানুষই বসন্তকাল পছন্দ করে। বসন্তে প্রকৃতি যেমন অপরূপ সৌন্দর্যময় রূপ পরিগ্রহ করে, পশু-পাখি ও প্রাণিকূলও তাতে নতুন উজ্জীবন লাভ করে। পাখিরা কল-কন্ঠে গেয়ে ওঠে, জীব-জন্তু স্বাভাবিক জীবনের আনন্দ অনুভব করে এবং মানুষও নানাভাবে সে আনন্দের অংশীদার হয়। রুক্ষ্মতার বদলে প্রকৃতি হয়ে ওঠে সজীব-সুন্দর ও আনন্দচ্ছল। তাই পশুপাখি, জীবজন্তু, মানুষ সকলেই স্বাভাবিক জীবনের আনন্দে উৎফুল্ল বোধ করে। প্রকৃতির মধ্যে এ অকস্মাৎ পরিবর্তন লক্ষ্য করে আমার মনের অনিন্দেও আনন্দের সঞ্চার হলো। ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’-এর মতো যেন আমিও অকস্মাৎ জেগে উঠলাম। মনের অজান্তেই আমি গুনগুন করে গান গেয়ে মনের আনন্দ প্রকাশ করলাম। গানের শব্দে আমার স্ত্রীর ঘুম ভেঙে গেলো। সে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকলো আমার দিকে।
আজ বিকাল তিনটায় সুমাইয়াকে রিলিজ দেয়া হলো। আমরা তাকে ঘরে নিয়ে এলাম। ডাক্তার ও নার্সরা এমনভাবে আমাদেরকে বিদায় জানালো যে, তারা বুঝি আমাদের অনেকদিনের পরিচিত ও একান্ত স্বজন। সুমাইয়ার হেলথ ইন্সুরেন্স থাকার বদলৌতে মাত্র অল্প কিছু টাকা (সম্ভবত তিন হাজার ডলার) হসপিটালের ফি দিতে হলো। সেটাও ঠিক তখনই নয়। ঘরে ফিরে আসার মাসখানেক পর হসপিটাল থেকে বিল পাঠানোর পর সে টাকা পরিশোধ করা হয়। অথচ আমাদের দেশে হসপিটালে ভর্তি হওয়ার আগেই মোটা অঙ্কের টাকা ডিপোজিট রাখতে হয় এবং রিলিজের সময় যাবতীয় চার্জ পরিশোধ করতে হয়। যাদের টাকা নেই, তাদের পক্ষে হসপিটালে ভর্তি হওয়া অসম্ভব।
আজ আমরা আর কেউই ঘরের বাইরে গেলাম না। নবজাতককে নিয়ে আমরা সকলে ঘরেই ব্যস্ত সময় কাটালাম।

১০ মার্চ জু’মা বার
সকালে হসপিটাল থেকে একজন নার্স বাসায় এলো আইয়ানকে দেখতে। সে ভালোভাবে তার সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলো, বাচ্চাকে কিছুক্ষণ আদর করলো, নানা রকম উপদেশ-পরামর্শ দিয়ে তারপর বিদায় হলো। আমি জেনে অবাক হলাম যে, এখানে হসপিটালে বাচ্চা হওয়ার পর কয়েকদিন পর্যন্ত হসপিটাল থেকে নার্স এসে বাচ্চাকে বাসায় দেখে যায় এবং বাচ্চার নার্সিং-এর ব্যাপারে নানারকম পরামর্শ দেয়। প্রয়োজন হলে হসপিটালে ভর্তি করার কথা বলে। আমাদের দেশে এ ধরনের সেবা-যত্ন পাওয়ার আশা অলীক কল্পনা মাত্র। কিন্তু এটা এখানকার সাধারণ নিয়ম। নার্স আসার সময় নবজাতকের জন্য হসপিটালের পক্ষ থেকে কিছু নতুন কাপড়-চোপড় নিয়ে এসেছে। জানলাম, এখানকার বিভিন্ন কোম্পানী হসপিটালকে নানাবিধ কাপড়-চোপড় ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী গিফট করে থাকে, নবজাতকদের জন্য। হসপিটাল কর্তৃপক্ষ নার্সদের মাধ্যমে সেগুলো বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসে।
দুপুরে জু’মার নামাযের জন্য প্রস্তুত হয়ে আমরা মসজিদে গেলাম। ইমাম সাহেব যথারীতি মসজিদের গেটে দাঁড়িয়ে মুসল্লিদের স্বাগত জানাচ্ছেন এবং কুশল বিনিময় করছেন। আমার জামাই খুব আনন্দের সাথে তাকে নবজাতকের আনন্দ সংবাদ পরিবেশন করলেন। ইমাম সাহেব খুব খুশি হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, নবজাতকের নাম কী? বলা হলো, আইয়ান। তিনি এ নাম অনুমোদন করলেন এবং তার নোটবইতে লিখে নিলেন। খুৎবার মধ্যে তিনি এ সুসংবাদটি মুসল্লিদেরকে জানালেন। উপস্থিত সকলেই খবরটি শুনে বললেন, আল্হামদুল্লিাহ্ । আমার কাছে খুব ভালো লাগলো। বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা মসজিদে নামায পড়তে সমবেত হয়েছেন। সকলে মিলে যেন এক অখন্ড নিবিড় ঘনিষ্ঠ সমাজ। সকলেই সকলের আনন্দ ও দুঃখে সমান অংশীদার।
ইমাম সাহেব যথারীতি তার খুৎবায় অত্যন্ত শিক্ষামূলক ও অনুপ্রেরণাদায়ক বক্তব্য রাখলেন। কোরআন ও হাদীস থেকে বিভিন্ন উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি শিক্ষামূলক বিষয় আলোচনা করলেন এবং সমসাময়িক অবস্থায় মুসলমানদের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সকলকে যথোপযুক্ত উপদেশ ও পরামর্শ দিয়ে তিনি তার খুৎবা শেষ করলেন। নামাযের পর আমরা সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে জামাইর পরিচিত লোকজনদের সাথে কথাবার্তা বললাম। তারা জামাইকে সকলেই মোবারকবাদ জানালেন এবং নবজাতকের জন্য দোয়া করলেন। এদের মধ্যে একজন হলেন লেবানীজ মুসলিম। তার পূর্বপুরুষেরা আমেরিকায় এসে এখানে বসতি স্থাপন করেছেন। বংশানুক্রমে তারা হালাল গোশতের ব্যবসা করে থাকেন। আমেরিকার বিভিন্ন শহরে তার ব্যবসা আছে। তিনি একজন বিরাট বিত্তশালী ব্যক্তি। তিনি ব্যবসা উপলক্ষ্যে একবার বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। আমার পরিচয় পেয়ে তিনি বললেন, ঢাকায় প্রচন্ড যানজট ও মানুষের ভীড়। অসংখ্য গাড়ি, রিক্সা, মানুষ ইত্যাদিতে পূর্ণ এক বিশৃংখল শহর। এ রকম শহর তিনি নাকি আর পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি কোথাও দেখেননি। আমি তার অভিজ্ঞতার কথা শুনে অখুশী হলেও তার সাথে একমত হলাম। তবে এ সত্ত্বেও তিনি বাংলাদেশকে ভালোবাসেন, কারণ সেটা একটি মুসলিম দেশ। তিনি বাংলাদেশের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করলেন এবং প্রয়োজনে সে দেশের উন্নয়নে তিনি সর্বতোভাবে সাহায্য করতেও প্রস্তুত বলে জানালেন। আমি খুশী হলাম এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম।
বিকালে আমি নিউইয়র্ক থেকে আমার পুরনো ছাত্র আশরাফ-উয-যামান খানের টেলিফোন পেলাম। আশরাফ-উয-যামান খান ১৯৬২ সনে সিদ্বেশ্বরী নাইট কলেজে আমার ছাত্র ছিলেন। তিনি এখন সপরিবারে আমেরিকান নাগরিক। থাকেন নিউইয়র্কে। সেখানে একই সাথে একটি কলেজের অধ্যাপক ও মসজিদের ইমাম। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাথেও জড়িত। নিউইয়র্কে তিনি ২৯ এপ্রিল তারিখে কবি ফররুখ আহমদের উপর একটি সেমিনারের আয়োজন করেছেন। সেখানে আমাকে প্রধান অতিথি করা হয়েছে। ৩০ তারিখে একটি সীরাত মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানেও আমাকেও বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। আমি আনন্দের সাথে তার দুটি দাওয়াতই কবুল করলাম।
সন্ধ্যায় সুমাইয়ার এক বাংলাদেশী প্রতিবেশি এলো বেড়াতে। নাম লিপি। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই এখানে নিজেদের বাসায় থাকে। কাজ করে এনামের অফিসে। এনামই তার অফিসে ওর চাকরির ব্যবস্থা করেছে। তারা অনেকক্ষণ গল্প-গুজব করে, খাওয়া-দাওয়া করে বিদায় নিল।