২০ মার্চ সোমবার
পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী ঋতু-পরিক্রম ঘটে না। তবু আমেরিকার পঞ্জিকায় বিশ মার্চকে বসন্তের প্রথম দিন মনে করা হয়। তাই এ দিনের অপেক্ষায় থাকে সকলেই। অবশ্য বাংলাদেশের মত এখানে ঋতু-বন্দনা হয় না। বসন্ত-উৎসব বা এ জাতীয় কোন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয় না। এদিনে কোন ছুটিও নেই। অবশ্য আমেরিকা বা উন্নত দেশসমূহে যখন তখন যেকোন উপলক্ষ্যে ছুটি দেয়া হয় না। সেখানে স্বাধীনতা দিবস, জাতীয় দিবস ও বড়দিন বা ক্রিসমাস ইত্যাদি বড় কোন উপলক্ষ্যেই কেবল ছুটি দেয়া হয়। আমেরিকার কোন জাতীয় নেতা বা মহান ব্যক্তির নামেও কোন ছুটি ঘোষণা করা হয় না। সেসব ব্যক্তিদের মহান কীর্তিরাজি নিয়ে তারা বই-পুস্তক লেখেন, গবেষণা করেন এবং এভাবেই তাঁদের স্বীকৃতি বা শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। অনুরূপভাবে এখানকার কবিতায়, গানে ও সাহিত্যে বসন্তের মনোমুগ্ধকর বর্ণনা রয়েছে।

বসন্তের প্রথম দিন
পঞ্জিকার হিসাব মতে মার্চের বিশ তারিখ এখানে নব বসন্তের প্রথম দিন। বাংলাদেশে নব বসন্তের প্রথম দিন অর্থ্যাৎ পহেলা ফাল্গুন শুরু হয় ফেব্র“য়ারির মাঝামাঝি। বাংলাদেশের আবহাওয়া, প্রকৃতি ও তাপমাত্রার সাথে এখানকার কোন কিছুরই তেমন মিল খুঁজে পাওয়া দুস্কর। তবু আজ বসন্তÑএ কথা শুনে অজান্তেই মনের ভিতরে এক আনন্দের অদ্ভুত শিহরণ খেলে গেল। ঋতু পরিবর্তনের সাথে অনেক কিছুই বদলায়। প্রকৃতির রঙ বদলায়, আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। এ পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে মানুষের মনে ও জীবনেও। প্রকৃতির মধ্যেই তো আমাদের জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং জীবনের নানা কাজে প্রকৃতির সংলগ্নতা একান্ত নিবিড়। যদিও মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে, সমাজ ও সভ্যতার প্রসারে প্রকৃতির রূপে অনেকটা পরিবর্তন ঘটিয়েছে, তবু মানুষ তার জীবনে প্রকৃতির প্রভাবকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করতে পারেনি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রকৃতি আমাদের উপর নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে আছে।
আমি বিগত ১৯ ফেব্রুয়ারি সস্ত্রীক এখানে আসা অবধি অধিকাংশ সময় সিডার র্যা পিডস- এ আমার বড় মেয়ে ও জামাইর বাড়িতে আছি। এক বছর আগে মেয়ে ও জামাই এখানে একবিঘা জায়গা কিনে তার উপর এ বাড়িটা তৈরি করেছে। বেজ্মেন্ট এবং তার উপর দুইতলা বাড়ি। বেশ বড়-সড়ই বলতে হবে। বাড়ির চারদিকেই খানিকটা করে খোলা জায়গা। সেখানে ঘন সবুজ দুর্বাঘাস। বাড়ির সামনে একটি প্রশস্ত পাকা রাস্তা, রাস্তার পরে সারি সারি বাড়ি, পশ্চিম পাশেও বাড়ি। উত্তর আর পূর্ব পাশটা ঘন অরণ্যানিতে পরিবৃত। সেখানে অসংখ্য হরিণ আর বনমোরগের বাস। মাঝে মাঝে তারা দল বেঁধে বন থেকে বেরিয়ে আসে। কেউ তাদের ধরে না, বিরক্ত করে না। নিরুপদ্রবে স্বাধীনভাবে মনের আনন্দে তারা বিচরণ করে। সারা আমেরিকা জুড়েই এরূপ ঘন অরণ্য চোখে পড়ে- মাঝে মাঝে ফসলের মাঠ, বাড়ি-ঘর, শহর-বন্দর জনপদ। এ সুবিশাল দেশ প্রাকৃতিক রূপ-সৌন্দর্য আর সম্পদে ভরা। যে বাড়িটার কথা বলছিলাম, তার বেজমেন্টের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। প্রথম তলায় সুপ্রশস্ত লিভিং রুম, ড্রয়িং রুম, সানরুম, ডাইনিং ও স্টাডি রুম। দোতলায় চারটি বেড রুম। উত্তর-পূর্ব কোণের রুমটাতে আমাদের থাকার ব্যবস্থা। পুরো বাড়িটাই এয়ারটাইট, তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। কাচের জানালা দিয়ে বাইরের খোলা আকাশ, অরণ্যানি, বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট জনপদ সবই দেখা যায়। শীতের সময় এখানে সবকিছু বরফে আবৃত থাকে। ১৯ ফেব্রুয়ারি আমরা প্রথম আমেরিকায় পর্দাপণ করি, তখনও মাঝে মধ্যে বরফ পড়তে দেখেছি। কিন্তু তারপর ধীরে ধীরে প্রকৃতির মধ্যে পরিবর্তন ঘটেছে। শীতের আবহ কেটে গেছে, এখন বরফ পড়াও বন্ধ হয়েছে। গাছে-গাছে সবুজ পাতার সমারোহ। প্রকৃতির মধ্যে প্রাণের ছোঁয়া লেগেছে। শীতের সময় পাখিরা যেন কোথায় চলে গিয়েছিলো, শীতের শেষে তারা আবার ফিরে এসেছে। এখন সর্বত্র পাখির কুজনে মুখরিত। আনন্দময় বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে সর্বত্র।
বাংলাদেশে যেমন আযানের সুমিষ্ট আওয়াজ শুনে ঘুম ভাঙে, এখানে সে সুযোগ নেই। তবে আমাদের অভ্যস্থ জীবনে ঘুম ভাঙে যথাসময়েই। বাংলাদেশের মত এখানে যত্রতত্র মসজিদ নেই, তাই অধিকাংশ সময় ঘরের নিরিবিলি প্রকোষ্ঠেই ফযরের নামায আদায় করি। কিছুক্ষণ পরেই আমার বেডরুমের বিশাল জানালার কাচে নব-বসন্তের সোনালী সূর্য্যের আলো ঠিক্রে পড়বে। মেঘমুক্ত দিনে দু’’চোখ ভরে তা দেখে মন জুড়িয়ে যাবে। মেঘলা দিনে কখনো বৃষ্টির ফোটা এসে জানালার কাচে লাগে আবার কখনো পেজা পেজা তুলার মত বরফের শুভ্র কণাগুলো জানালায় অবিরাম আঘাত হানে। প্রকৃতির বিচিত্র রূপ ও বর্ণিল দৃশ্য দেখতে বেশ ভালই লাগে। গতকাল আর আজকের দিনের মধ্যে দৃশ্যত কোন পার্থক্য নেই। কিন্তু আজ নব বসন্তের প্রথম দিন, একথা ভাবতেই মনে এক মধুর শিহরণ খেলে গেলো।
শীতকালে এখানে যখন বরফ পড়ে, তখন বাড়ি-ঘর-রাস্তা-ঘাট-প্রান্তর সবই ঘন বরফের আস্তরণে ঢাকা পড়ে যায়। বরফ পড়া শেষ হলে সঙ্গে সঙ্গে বরফ-সরানো গাড়ি দিয়ে রাস্তা-ঘাট পরিস্কার করে ফেলা হয়। বাড়ি-ঘরের বরফ সরানোর দায়িত্ব ব্যক্তিগতভাবে সবারই। তাই বরফ পড়লে যার যার বাড়ি-ঘরের সামনের বরফ সরানোর কাজে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অবশ্য রাস্তা-ঘাটের বরফ সরানোর দায়িত্ব সড়ক বিভাগের। বরফ সরানোর জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতি ও যান আছে। তাই মুহূর্তের মধ্যেই রাস্তার বরফ তারা সরিয়ে পেলে। এখানে অবশ্য শুধু শীতকালে মাঝে মধ্যে বরফ পড়ে। কেবল শীত কালেই এসব ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। শীত ফুরালে আর কোন ঝামেলা নেই। বসন্ত আর গ্রীষ্মে অফুরন্ত সূর্যের আলোয় চারদিক জীবন্ত ও প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। প্রকৃতি তার সমস্ত সৌন্দর্য-শোভা মেলে ধরে। গাছে গাছে সবুজ পাতার সমারোহ, বিচিত্র বর্ণের অসংখ্য ফুল ফোটে। বিস্তীর্ণ মাঠ সবুজ ফসলে ভরে ওঠে। পাখির গান আর বাতাসের ঐকতানে মন আনন্দে নেচে ওঠে।
আজ নব বসন্তের প্রথম দিনের প্রসন্ন প্রত্যূষে এক অজানা বিস্ময় ও আনন্দ পুলকের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম। পূর্বাকাশে ঘন অরণ্যানির আবছা অন্ধকার ভেদ করে প্রভাত সূর্যের আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়লো সর্বত্র। জানালার পাশে অসংখ্য চড়ুই পাখি কিচির মিচির শব্দ করে উড়তে লাগলো। সারাক্ষণই ওরা কেবল ছোটাছুটি করে। ওদের কাজের যেন এক মুহূর্ত বিরাম নেই। ওরা আত্মমগ্ন, সর্বদা কর্মব্যস্ত। শীতকালে ওরা সব কোথায় থাকে, জানি না।
আজ বসন্তের প্রথম দিনে আমি জানালার পাশের গাছগুলোর দিকে নিবিড়ভাবে তাকালাম। এতদিন পত্র-পল্লবহীন ঐ গাছগুলোকে মরা গাছের মতই মনে হয়েছে। আজ অপার বিস্ময়-পুলকে লক্ষ্য করলাম গাছগুলো মৃত নয়, সজীব। এর প্রতিটি ডালের অগ্রভাগে কচি পাতার ঈষৎ আভা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নীচে এলাম সানরুমে। সানরুমের তিন দিকটাই স্বচ্ছ কাচ দিয়ে ঘেরা। প্রভাত সূর্যের ঝলমলে আলো এসে পুরা ঘরটাকেই আলোময় করে তুলেছে। পাশের ঘন দূর্বাঘাসের দিকে তাকাতেই মনে আনন্দের মৃদু শিহরণ খেলে গেল। ঘন দূর্বাদলের অন্তরাল থেকে নব কিশলয়ের উদ্গম ঘটছে। সবুজের আভা ঈষৎ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ধীরে ধীরে ঈষৎ সবুজাভা ঘন হয়ে সমস্ত প্রান্তর ছেয়ে ফেলবে। নব বসন্তের এ প্রথম প্রভাতে প্রকৃতির সর্বত্র যেন সেই বিজ্ঞপ্তিই আজ সাড়ম্বরে প্রচারিত হচ্ছে। তবে এত আয়োজন যে একদিনেই সম্পন্ন হয়েছে, তা নয়। গোপনে, সকলের অজান্তে ধীরে ধীরে এ আয়োজন অনেকদিন হলোই হয়ত চলছিলো। আজ নব বসন্তের এ প্রথম প্রভাতে ব্যাকুল মনের সাগ্রহ দৃষ্টিতে তা আনন্দ-সুন্দরভাবে প্রতিভাত হয়েছে।
প্রকৃতির মধ্যে এ পরিবর্তন, প্রকৃতির এ সৌন্দর্যময় নবজাগরণ আমি যখন পুলকানন্দে অনুভব করছি তখনই আমার জন্য এক বিস্ময় নিয়ে হাজির হলো একদল বুনো মোরগ। বিশালাকারের ১০/১২টি মোরগ দল বেঁধে রাজসিক ভঙ্গীতে বন থেকে বেরিয়ে এলো। এগুলোর আরেক নাম টার্কি। সানরুমের পাশে মৃদুলয়ে হেলে দুলে তারা একসময় এসে খোলা প্রাঙ্গণে কক কক আওয়াজ তুলে ঘুরে বেড়াতে লাগলো। বড় সুন্দর সে দৃশ্য! খোলা প্রকৃতির মাঝে জীবন্ত প্রাণিরা যখন মুক্ত জীবনানন্দে নির্ভয়ে ঘুরে বেড়ায় তখন সে দৃশ্য যে কত মনোমুগ্ধকর তা কেবলই উপলব্ধির বিষয়, বর্ণনা করে তা বুঝানো কঠিন।

নববসন্তের আর এক বিস্ময়
বসন্তের প্রথম দিনে আমাদের জন্য একটি আনন্দ ও বিস্ময় অপেক্ষা করছিলো। কয়েকদিন আগে আমার নাতি আইয়ানের জন্ম হয়েছে। জন্মসূত্রে সে আমেরিকান নাগরিক। এখানকার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি আমেরিকান নাগরিকের জন্ম উপলক্ষ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রী তাকে স্বাগত জানিয়ে চিঠি পাঠায়। আমার বড় নাতনি জারার জন্ম উপলক্ষ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে তাকে স্বাগত জানিয়ে চিঠি এসেছিল। আইয়ানের জন্যও যথারীতি সে চিঠি এলো। আমরা যুগপৎ বিস্ময় ও আনন্দ অনুভব করলাম। আমাদের দেশে এ রকমটি আশা করা কেবলই কল্পনা-বিলাস মাত্র। এটা একটি নিয়ম মাফিক চিঠি। প্রেসিডেন্টের দপ্তরে এ ধরনের কাজ করার জন্য একটি আলাদা বিভাগ রয়েছে। সে বিভাগ থেকেই প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এ কাজের আঞ্জাম দেয়া হয়ে থাকে। নিয়ম রক্ষার জন্য হলেও এরদ্বারা আমেরিকান সমাজের পরিচয় সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। তারা নিজেদের নাগরিকদের খোঁজ-খবর রাখে, তাদের ভালো-মন্দ, দুঃখ-আনন্দে শরিক হওয়ার গরজ বোধ করে। চিঠিটির বক্তব্য আমি এখানে তুলে ধরছি ঃ
“The White House
Washington
Welcome! We are delighted to join your family in celebrating your arrival. You have already brought much happiness to those around you, and you’ve just gotten started!
We are glad you are now part of the wonderful American story. Our Nation holds great opportunities for you. May you make the most of your unique gifts and may happiness and love surround you always.
Sincerely

George Bush Laura Bush.’’

বিশ মার্চ আইয়ানের জন্মের চৌদ্দতম দিনে চিঠিটি আমাদের হাতে পৌঁছে।
অনুরূপভাবে আইওয়া স্টেটের মাননীয় গভর্নর ও লে. গভর্নর আইয়ানকে অভ্যর্থনা জানিয়ে চিঠি লেখেন। এক সপ্তাহ আগে চিঠিটি এসে পৌঁছে। উক্ত চিঠিতে আইওয়া স্টেট প্রদত্ত বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য-সেবামূলক কার্যক্রম বর্ণনা করা হয় এবং তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়, যাতে নবজাতক একটি সুখী ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী সম্ভাবনাপূর্ণ নাগরিক হিসাবে গড়ে উঠতে পারে। চিঠির সাথে একটি স্বাস্থ্য-সেবা নির্দেশিকাও প্রদান করা হয়। নির্দেশিকাটিতে কোথায়, কী ধরনের সেবা, কী ভাবে পাওয়া যাবে, তার সুস্পষ্ট বর্ণনা আছে।
এ থেকে সহজেই উপলব্ধি করা যায় যে, আমেরিকান সমাজ তাদের নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ব পালনে কতটা সচেতন ও যত্নবান। এটা একটি উন্নত সমাজের পরিচয় বহন করে।

২২ মার্চ বুধবার
আজ নিউইয়র্ক থেকে আশরাফ-উয-যামান খান টেলিফোন করে জানালেন যে, তার পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠানসমূহ যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। তাই আমাকে সে অনুযায়ী নিউইয়র্ক যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বললেন। কিন্তু আমি তাকে অনুরোধ করলাম সেমিনারের দিন তারিখটা একটু এগিয়ে আনার জন্য, যাতে আমি বাংলাদেশে যাওয়ার কিছুদিন আগেই নিউইয়র্ক সফর শেষে সিডার র্যা পিডস চলে আসতে পারি। তিনি সম্মত হলেন এবং এ সম্পর্কে পরে জানাবেন বলে আমাকে বললেন। কিছুক্ষণ পর আমি কাজী শামসুল হককে টেলিফোন করে মনসুর আলীর শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, সফল অপারেশনের পর সে ভালো আছে এবং কিছুদিনের মধ্যেই সে সুস্থ্য হয়ে ঘরে ফিরে আসবে। রাত্রিতে আমি নিউইয়র্কে বন্ধু নুরুল আলম রইসীকে টেলিফোন করে নিউইয়র্কে আমার কর্মসূচী সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত জানালাম।