২৩ মার্চ বৃহস্পতিবার
আজ সারাদিন আমি ঘরে বসে টিভির নিউজ দেখলাম ও ইসলাম বিষয়ক একটি ভিডিও দেখলাম। রাত্রিতে বাংলাদেশ-কেনিয়া একদিনের ক্রিকেট খেলা দেখে সময় কাটালাম।

২৪ মার্চ জু’মাবার
জু’মার নামায পড়ার জন্য মসজিদে গেলাম। ইমাম সাহেব তার খুৎবায় মানুষের মন ও আন্তরিকতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন। আল-কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও কয়েকটি হাদীসের উল্লেখ করে তিনি বললেন যে, মানুষের মন পরিষ্কার থাকা এবং দ্বীনী কাজে খুলুসিয়াত বা খুশি-রাজি থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। মুসলমানের মনে কোন রাগ, হিংসা, অহংকার, বিদ্বেষ ও কলুষতা থাকা সমীচিন নয়। মন পরিস্কার না থাকলে ইবাদত কবুল হয় না। ইবাদতের জন্য শারীরিক পবিত্রতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি মনের পরিচ্ছন্নতাও অপরিহার্য। মনের পরিচ্ছন্নতা বাইরে থেকে দৃশ্যমান নয়। এটা অন্তরের বিষয়। একমাত্র আল্লাহই সে সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাই প্রকাশ্যে কেউ মনের পবিত্রতা দাবী করলেও, আল্লাহর নিকট তা গ্রহণযোগ্য কিনা, সেটাই আসল কথা। আল্লাহতাআলা আলিমুল গায়ীব। তাঁর কাছ থেকে কোন কিছু গোপন করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। মনের অবস্থার উপর ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভরশীল। এর ভিত্তিতেই মহান রাব্বুল-আলামীন আমাদেরকে যথাযোগ্য পুরস্কৃত করবেন বা শাস্তি প্রদান করবেন। অতএব, একমাত্র আল্লাহতাআলার রেজামন্দি হাসিলের উদ্দেশ্যে এবং তাঁর নিকট থেকে পুরস্কার লাভের আশায়ই আমাদের সকল কর্ম-তৎপরতা পরিচালিত হওয়া আবশ্যক।
ইবাদতের ক্ষেত্রে মনের পরিচ্ছন্নতা (ইখলাস) যেমন প্রয়োজন, তেমনি দুনিয়াদারীর ক্ষেত্রে, আমাদের কাজ-কর্ম, আচার-আচরণ ও ব্যবহারিক জীবনেও তেমনি খুলুসিয়াত একান্ত প্রয়োজন। আমাদের স্বজন, নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব বা সমাজের প্রতিটি মানুষই যেন আমাদের কথা-বার্তা, আচার-আচরণে মুগ্ধ হয়। একজন খাঁটি ও নেক মানুষ হিসাবে যেন সমাজে আমাদের পরিচিতি ঘটে। ইসলাম আমাদেরকে এটাই শিক্ষা দেয়। শুধুমাত্র অনুষ্ঠানসর্বস্ব কিছুসংখ্যক আচার-আচরণের নাম ইসলাম নয়, প্রকৃত মনুষত্ব অর্জন ও চিন্তা-কর্মে ভালো মানুষ হওয়াই মুসলিম-জীবনের লক্ষ্য। আমাদের দুনিয়ার জীবন যদি ভালো হয়, অন্য মানুষের নিকট যদি তা প্রসংশাযোগ্য বা শ্রদ্ধা অর্জনের উপযুক্ত হয়, তাহলে বুঝতে হবে দুনিয়ায় আমরা যেমন সফল, আখিরাতেও আমরা তেমনি সফলতা অর্জনে সক্ষম হবো। ইসলামের প্রথম যুগে নবী করিমের স. সাহচর্যে সাহাবায়ে কেরামের জীবন এ আদর্শেই গড়ে উঠেছিলো। এ কারণেই তাঁরা আরবের জাহেলী যুগের সর্বনিকৃষ্ট মানুষ থেকে সর্বোত্তম মানুষে পরিণত হয়েছিলেন এবং দুনিয়ায় শ্রেষ্ঠতম জাতির মর্যাদা অর্জন করেছিলেন। ইসলামের কারণেই তাদের মধ্যে এ বিস্ময়কর গুণগত পরিবর্তন সংঘটিত হয়। বর্তমানে পৃথিবীতে মুসলিম জাতি নানা দিক থেকে অধঃপতিত ও নানা দুর্বলতার শিকার। এর একমাত্র কারণ হলো যে আমরা ইসলামকে যথাযথরূপে অনুসরণ করছি না। আল কুরআন ও রাসূল স.-এর আদর্শ আমাদের সামনে রয়েছে। যদি এখনো আমরা তা যথাযথরূপে অনুসরণ করি তাহলে আমরা আবার সে পূর্ব গৌরব ফিরে পাব এবং মর্যাদাপূর্ণ শ্রেষ্ঠ জাতি হিসাবে নিজেদেরকে পরিগণিত করতে সক্ষম হব।
ইমাম সাহেবের খুৎবা অত্যন্ত বাস্তবধর্মী এবং অনুপ্রেরণাদায়ক। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা এটাই এবং আমাদের সমাজে ইমামদেরকে এভাবেই জু’মার নামাযে খুৎবা দেয়া উচিত বলে মনে করি।

২৫ মার্চ শনিবার
মাগরিব নামাযের পর আমরা এখানকার একটি বিখ্যাত সুপার মার্কেটে গেলাম কিছু কেনাকাটার জন্য। সুপার মার্কেটটির নাম ‘টার্গেট’। এটা যেমন বিশাল, তেমনি সারা আমেরিকা জুড়ে এর শাখা-প্রশাখা রয়েছে। প্রায় এক ঘন্টা পর আমরা বাসায় ফিরে এলাম। এরপর টেলিভিশনের সামনে বসে বিভিন্ন প্রোগ্রাম দেখতে লাগলাম। একটি মজার প্রোগ্রাম খুব মনোযোগ দিয়ে দেখলাম। আমেরিকানরা কুকুর-বিড়াল পুষতে খুব পছন্দ করে। এজন্য তারা প্রচুর পয়সাও খরচ করে। পোষা জন্তুর থাকা-খাওয়া, ওষুধ-চিকিৎসা, বিশেষ ধরনের পোষাকাদি ও বাসস্থান তৈরিতে পর্যাপ্ত খরচ হয়। অসুখ হলে সেগুলোকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়। নিয়মিত হাঁটানো, পায়খানা-পেশাব করানো, গোসল করানো এমনকি চিরুনী করে ও নানাভাবে কুকুর-বিড়ালের যত্ন নিয়ে তাদেরকে সুন্দর-সুশ্রী করে রাখার সমস্ত ঝামেলা এরা অত্যন্ত আনন্দ ও শখের বশে করে থাকে। টেলিভিশনে এমনি একজন কুকুর-ভক্ত আমেরিকান তরুণীর কাহিনী সাক্ষাৎকার আকারে প্রচার করা হচ্ছিল। কাহিনীটি সংক্ষেপে এই ঃ
তরুণীটি তার প্রিয় দু’টি পোষা কুকুরকে কোলে করে পরম আদরে চুমু খাচ্ছিল্ল। সাক্ষাৎকারে সে জানালো যে, সে অবিবাহিতা, এ কুকুর দু’টি তার সন্তানতূল্য। এছাড়া পৃথিবীতে আপনজন বলতে তার আর কেউ নেই। সে মন-প্রাণ দিয়ে এ কুকুর দু’টিকে ভালোবাসে। এরাই তার সবকিছু। প্রতিমাসে কুকুর দু’টির ভরণ-পোষণ ও সেবা-যত্নে সে পনের’শ ডলার খরচ করে।
একজন মানুষ কতটা কুকুর-ভক্ত হলে জীবনে সে বিয়ে না করে, সন্তানাদি গ্রহণের চিন্তা বাদ দিয়ে, অন্য সকল মানুষের সাথে সম্পর্ক ছেদ করে শুধুমাত্র কুকুর নিয়ে দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা কাটিয়ে দিতে পারে এবং জীবনের অন্য সমস্ত দায়-দায়িত্ব বাদ দিয়ে শুধুমাত্র কুকুরের ভরণ-পোষণ, সেবা-যত্নে জীবনের মূল্যবান সময় ব্যায় করতে পারে তা ভাবতেও অবাক লাগে। জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন উত্তম। কিন্তু সমাজে অন্য মানুষের সাথে সম্পর্ক ছেদ করে যখন কেউ শুধুমাত্র কোন জন্তুকে নিয়ে জীবন কাটায়, তখন তাকে কী স্বাভাবিক মানুষ মনে করা যেতে পারে? আমেরিকান সোসাইটিতে বর্তমানে এ ধরনের মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। এরাও কি তাহলে জন্তুবৎ হয়ে গেছে।
আমার মেয়ের বাসার সামনে জনৈক আমেরিকান দম্পতি বসবাস করেন। এটা তাদের নিজস্ব তিনতলা ভবন। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই একটি প্রাইভেট কোম্পানীর যথাক্রমে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পরিচালক। তাদের সন্তানাদি আছে। তা সত্ত্বেও তিনটি পোষা কুকুর নিয়ে তারা অবসর জীবন কাটায়। সূর্যোদয়ের পূর্বেই তারা ঘুম থেকে উঠে কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হয়। তাদের পেশাব-পায়খানা করায়, তাদের নিয়ে বাড়ির সামনের খোলা মাঠে খেলাধুলায় সময় কাটায়। ঘরে কুকুরদের জন্য আরামপ্রদ বাসস্থান, বিছানা, খাবার, ওষুধপত্র ইত্যাদি সবকিছুর ব্যবস্থাতো আছেই। ছুটির দিনে তারা দু’জনেই তাদের কুকুরদের নিয়ে সারাদিন ঘোড়াঘুড়ি করে। কুকরদের সাথে এভাবে তাদের জীবন অবিচ্ছিন্ন আনন্দ-ভালোবাসায় জড়িয়ে গেছে যে, তাদের ছাড়া এদের জীবন কল্পনা করা যায় না। এটাকে একধরনের ঙনংবংংরড়হ বলা যায়। কুকুরদের ভালো-মন্দ, আনন্দ-বেদনা, আশা-প্রত্যাশা সম্পর্কে তারা যেমন সচেতন, তেমনি কুকুররাও তাদের প্রভুর প্রতি নিজেদের কর্তব্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। আমরা এটাকে কখনো স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে পারিনা। ইসলামের শিক্ষা হলো- কুকুরের স্পর্শে ওযু নষ্ট হয়, কুকুর কোন পাত্রে মুখ লাগালে সে পাত্রটি একাদিক্রমে সাতবার ছাই দিয়ে পরিস্কার না করলে তা পবিত্র হয় না। কিন্তু এদেশে কুকুরকে এরা তাদের নিত্য-সঙ্গী, জীবন-সঙ্গী, কাজ-কাম-খেলাধুলা-আনন্দ-বিনোদন সবকিছুর সঙ্গী মনে করে। এমনকি খাওয়ার সময়ও তারা নিজেরা খায় এবং একই হাতে কুকুরকেও খাওয়ায়। কুকুরকে পাশে বসিয়ে টিভি দেখে, গল্প-গুজব করে, আদর করে, চুমু খায় ইত্যাদি নানাভাবে কুকুরকে তাদের জীবনের অপরিহার্য অংশীদার মনে করে। এটাকে একধরনের কুকুর-সংস্কৃতি বললে অত্যূক্তি হয় না।
এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমেরিকায় সাড়ে ছয় কোটি কুকুর আছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি পাঁচজন আমেরিকানের একটি কুকুর আছে। ৮৩ শতাংশ আমেরিকান বলেন, তারা তাদের কুকুরের প্রাণ রক্ষায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত, আর ২৭ শতাংশ আমেরিকান উইল করে বলে যান মৃত্যুর পরে তাদের পোষা কুকুরটির দেখাশোনা কীভাবে করতে হবে। আমেরিকানদের এ কুকুরপ্রীতি সাধারণ মানুষ থেকে প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত বিদ্যমান।

২৬ মার্চ রবিবার
আমি বিকালে কিছুক্ষণের জন্য হাঁটতে বের হলাম। কিন্তু বেশিক্ষণ বাইরে থাকা সম্ভব হলো না। হঠাৎ করে ঠান্ডা হাওয়া বইতে লাগলো। আমি শীত লাগার ভয়ে ঘরের দিকে হাঁটা শুরু করলাম। রাস্তায় পাচঁ/সাত বছর বয়স্ক তিন আমেরিকান মেয়ের সঙ্গে দেখা। তারা সম্ভবত কাছাকাছি কোথাও থাকে। আমাকে দেখে তারা হ্যালো বললো। আমিও তাদেরকে হ্যালো বলে জবাব দিলাম। তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করলো আমি কোথায় থাকি? আমি আঙ্গুলের ইশারায় বাড়ির ঠিকানা জানালাম। ওরা জানতে চাইলো, আমার নাতনি জারা বাসায় আছে কিনা? আমি বললাম হ্যাঁ। জারাকে খবর দিতেই সে দৌড়ে ছুটে এলো। তারপর মুহূর্তের মধ্যে সে আগন্তক তিনটি মেয়ের সাথে ছুটে গেলো খেলাধুলা করতে। মেয়ে তিনটিকে আমি এর আগে কখনো দেখিনি। ভাবলাম মাল্টিন্যাশনাল সোসাইটির এটাই নিয়ম। এখানে দেশ-জাতি-ধর্ম-বর্ণের তেমন বিভেদ থাকে না। শিশুকাল থেকে পরস্পর পরস্পরের মধ্যে জানা-শোনা ও ভাবের আদানা-প্রদান করে তারা পরস্পর আপনজনে পরিণত হয়। আমার নাতনিও তেমনি তার প্রতিবেশী অথবা সহপাঠি ছেলেমেয়েদের সাথে এমনি একত্র মেলামেশা করে একটি বিশেষ পরিবেশে বেড়ে উঠছে।

২৭ মার্চ সোমবার
আমি কয়েকদিন আগে আশরাফ-উয-যামান খানকে টেলিফোনে আমার নিউইয়র্ক সফরের সিডিউল পরিবর্তন করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। আমার অনুরোধে সেখানে আমার অনুষ্ঠানের তারিখ এক সপ্তাহ এগিয়ে আনা হয়েছে। বিকালে কাজী শামসুল হককে টেলিফোন করে আমার পরিবর্তিত অনুষ্ঠানসূচি তাকে জানালাম এবং সে অনুযায়ী তাকে সেখানে আমার অন্যান্য অনুষ্ঠানসূচি নির্ধারণ করার অনুরোধ জানালাম।

২৮ মার্চ মঙ্গলবার
আমার নাতি আইয়ানের আজ তিন সপ্তাহ পূর্ণ হলো। আমার মেয়ে তাকে নিয়ে আজ তার স্কুলে যাবে তার সহকর্মীদেরকে বাচ্চা দেখাতে। আমি ও আমার স্ত্রীও তার সঙ্গে গেলাম। আমেরিকার কোনো প্রাথমিক স্তরের স্কুল দেখার প্রথম অভিজ্ঞতা আমাদের । এই স্কুলে ছয় সপ্তাহ বয়স্ক থেকে ছয় বছর বয়স্ক ছেলেমেয়েদের ভর্তি করা হয়। ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা, সেবা-যত্ন, পরিচর্যা, খেলাধুলা, খাওয়া-দাওয়া ও পড়াশোনা ইত্যাদি সবকিছুর ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। সকাল ছয়টা থেকে বিকাল ছয়টা পর্যন্ত স্কুল টাইম। বয়স হিসাবে ছেলেমেয়েদের জন্য শ্রেণীকক্ষ নির্ধারণ করা হয়। প্রত্যেক শ্রেণীতে বয়স অনুপাতে ছেলেমেয়েদের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণের সুব্যবস্থা আছে। প্রত্যেক ক্লাসে দেখাশোনার জন্য দু’জন শিক্ষয়ত্রী একত্রে কাজ করে। রুটিন অনুযায়ী সকাল ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত আরাম করা বা ঘুমানোর ব্যবস্থা, নয়টা থেকে এগারটা পর্যন্ত পড়াশোনা, এগারটা থেকে বারটা পর্যন্ত খেলাধুলা, বারটা থেকে চারটা পর্যন্ত আবার ঘুম বা আরামের ব্যবস্থা। বিকাল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত স্কুলের মাঠে খেলাধুলা, পাঁচটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত গল্প বলা। এভাবে স্কুলের রুটিন তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষয়ত্রীদেরকে খুবই আন্তরিক, নিষ্ঠাবান ও সেবাপরায়ণ মনে হলো। ছেলেমেয়েদেরকে তারা মাতৃস্নেহে আদর-যতœ করেন। আমরা আধ ঘন্টা ধরে স্কুলের সবকিছু ঘুরে-ফিরে দেখলাম। তারপর বাসায় ফিরে এলাম।

৩১ মার্চ জু’মাবার
আজ সারাদিন বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়া চলছিলো। এরমধ্যেই জু’মার নামায পড়তে গেলাম। কিন্তু বিলম্ব হওয়াতে আমি খুৎবা শোনার সুযোগ পেলাম না। অবশ্য ইমাম সাহেবের কয়েকটি ঘোষণা শোনার সুযোগ হলো। ঘোষণাগুলো ছিল এরকম ঃ ১. জনৈক শিশুর জন্ম উপলক্ষে অত্র সেন্টারে ৯ এপ্রিল আকীকা অনুষ্ঠান। ২. মুহাম্মদ ইউসুফ নামে জনৈক নওমুসলিম, যিনি ইসলাম গ্রহণের পূর্বে খ্রীস্টান বিশপ (ধর্মযাযক) ছিলেন, অত্র মসজিদে ১৪ এপ্রিল বক্তৃতা করবেন, এবং ৩. অত্র ইসলামিক সেন্টারের বার্ষিক নৈশ্যভোজ ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে।
উপরিউক্ত তিনটি কর্মসূচিতেই তিনি উপস্থিত সকল মুসল্লিকে অংশগ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানালেন। এলাকার সকল মুসলমানের মিলন কেন্দ্র হলো অত্র মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার। স্থানীয় মুসলমানগণ সপরিবারে তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও ধর্মীয় সকল অনুষ্ঠানাদি এখানকার মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে আয়োজন করে থাকে। এর মাধ্যমে পাস্পরিক জানাশোনা, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি হয়। ইসলাম সংঘবদ্ধ বা জামায়াতবদ্ধভাবে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের উপর গুরুত্ব দেয়। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে। মুসলমানদের জন্য বিশেষত যেসব দেশে মুসলমানরা সংখ্যালঘিষ্ঠ, সেসব দেশে এধরনের কর্মসূচির গুরুত্ব অত্যধিক।