“সাড়ে মানুষের বাজার” আমার প্রথম কবিতার বই, অথবা বিক্ষিপ্ত বোঝাপড়াদের একটা আকার ধারণ করানোর জন্য প্রথম পদক্ষেপ। মানুষের প্রাত্যহিক সমাধিস্থ হওয়া এবং তার আকস্মিক প্রত্যাবর্তনের সহজাত উদ্বেগ থেকে যার শুরু- শেষটা শুধুই একটা সংখ্যায় এসে, অথবা তাও না।

এর মাঝে আরেকটি মানুষের দুঃখবোধেও অক্লান্ত নার্সিসিজম, সিন্ডারেলা হতে চাওয়া একটা মেয়ের নকশাকাটা বারান্দার হেলুসিনেশন, বেঁচে থাকার অর্থ লুকিয়ে ফেলা স্বেচ্ছাচারী জটলাকে পেছনে রেখে আসার অসহ্য দ্রোহের কথা জানাবে “সাড়ে মানুষের বাজার”। জানাবে বর্ণমালা কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হবার আশঙ্কার কথা, জমাট বাঁধা জেদের কারণে প্রিয় মানুষকে গল্প শোনানো হবে নাকি হবেনা সে দ্বন্দ্বের কথাও। ডানা ঝাপটানো অলস কবুতরগুলোর নির্বুদ্ধিতার গল্প শোনাবে; সেই সাথে মাঝরাতের দুঃখী কুকুরটার দিকে আঙ্গুল তুলবে, ছাপোষা বাবুই পাখির দুঃখ বাড়িয়ে দেবার অভ্যাস মনে করিয়ে দেবে কিংবা বাদামী গলার শ্লথেদের অভিযোজন ক্ষমতায় সান্ত্বনা খুঁজে নেবার ব্যর্থ চেষ্টাও করবে সাড়ে মানুষের বাজার। আরও চেষ্টা করবে বলে দিতে অভ্যন্তরীণ বিষয় সংক্রান্ত দায়মুক্তির ঘোষণায় কতটা রক্তের দাগ লেগে থাকে! নির্মম বিপ্লববোধের ফলাফল কেবলই এবং কেবলই সুদীর্ঘ লাশের মিছিল।

প্রচ্ছদ: সিদ্দিকা আফরিন লামিয়া। মূল্য ১৫০ টাকা।