যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে আসা সেটা অনেক বড় গ্লানিকর। আমরা সেই গ্লানির দহনে দগ্ধ হচ্ছি। হাঁটতে হাঁটতে তিন রাস্তার মোড়ে এসে কয়েকজন সহযোদ্ধার সঙ্গে আমাদের দেখা হলো। তারা আমাদের অপেক্ষায় বসে আছে। যুদ্ধ শুরুর দিকে তারাই প্রথম পালিয়ে এসেছে। আমাদের দেখে তারা উচ্ছ্বাস করে উঠলো। ভাবখানা যে, তারা ধরে নিয়েছিল আমরা বাঘের খাঁচায় আটকা পড়েছি। জীবিত ফিরে আসতে পারবো না। বিমর্ষ মুখে, আমরাও দম নেওয়ার জন্য সেখানে বসে পড়লাম।
তাদের উচ্ছ্বাস ভাব দেখে পান্নাভাই ভীষণ বিরক্ত হলন। তিনি মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে রইলেন। প্রচণ্ড রাগে তিনি কিছু বলতে পারলেন না। তিনি হতাশভাবে মাটিতে ঠেস দিয়ে বসে পড়লেন। তারপর তিনি দু’হাটুঁর মধ্যে মাথা দিয়ে লম্বা করে শ্বাস ফেললেন। তিনি দলের কমান্ডার। দায়টা তাঁরই বেশি। ক্যাম্পে তাকেই জবাবদিহি করতে হবে।
আমি রাগমুখে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমরা আমাদের বিপদের মধ্যে রেখে এইভাবে পালিয়ে এলে কেন? এই তোমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতার শপথ?’
সবাই মাথা নামিয়ে নিল। কারও মুখে কথা নেই।
‘তোমাদের অস্ত্র কোথায়? অস্ত্র রেখেই পালিয়ে এসেছ?’
সবাই নিরুত্তর।
‘আমাদের বাকি যোদ্ধারা কোথায়?’
একজন আমতা আমতা করে বললো, ‘ওরা মাইনকারচর চলে গেছে।’
‘কেন?’
‘ভয়ে’। ক্যাম্পে গেলে যদি শাস্তি দেয়?’
‘সব কাপুরুষের দল। তোমাদের হাত পা বেঁধে পাক আর্মির কাছে ছেড়ে দেওয়া উচিৎ।’
কমান্ডার পান্নাভাই উঠে দাঁড়ালেন। গোলগাল মুখখানা রাগে দুঃখে চিমটে ধরে আছে। তার বিপদটা আমি বুঝতে পারছি। যুদ্ধে পরাজয়, অস্ত্র এবং রসদ ফেলে আসা সব কিছুর কৈফিয়ত তাকেই দিতে হবে।
এত কিছুর চাপ যার মাথায় তার মুখ থমথমে থাকাই স্বাভাবিক।
সংখ্যায় আমরা ৬০/৬৫জন যোদ্ধা ক্যাম্প অভিমুখে রওনা হলাম। বাকিরা মাইনকারচর চলে গেছে। শুরু থেকে আমাদের কোম্পানিতে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ছিল। হায়ার ট্রেনিং এর আগে দলে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন আলী ইমাম তৌহিদ। কিন্তু তুরার পাহাড়ে হায়ার ট্রেনিং এর সময় ভারতীয় প্রশিক্ষকদের পরীক্ষায় তৌহিদ ভাই ফেল করলেন। প্রশিক্ষকদের পছন্দের তালিকায় জায়গা পেলেন টি আই শামীম পান্না। নেতৃত্ব তিনি চাননি। তার যোগ্যতা তাঁকে নেতৃত্বে টেনে এনেছে। কিন্তু অনেকেরই সেটা পছন্দ হয়নি। উচ্চতর ট্রেনিঙের আগে মাইনকারচর যে পাহাড়ে আমরা ছিলাম, অস্থায়ী সেই ক্যাম্প পরিচালনা করতেন সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এমপিএ সৈয়দ হায়দার আলী। তার পছন্দের মানুষ আলী ইমাম তৌহিদ। তৌহিদের নেতৃত্বেই আমাদের তিনি উচ্চতর ট্রেনিঙে পাঠান। আমার ধারণা তৌহিদসহ বাকিরা সৈয়দ হায়দার আলী পরিচালিত অস্থায়ী ক্যাম্প মাইনকারচরের ‘মরণ টিলা’ পাহাড়ে ফিরে গেছে।
অর্ধেকের সামান্য বেশি যোদ্ধা ফিরে এলাম মহেন্দ্রগঞ্জ মূল ক্যাম্পে।
আমাদের সবারই কমবেশি টেনশন হচ্ছে। শাস্তি দিলে কমান্ডারকে একা দেবে না। আমাদের কপালেও ছিটে-ফোটা দায় এসে পড়বে।
ছিটে-ফোটা না, ভয়ংকর এবং সমান দায় এসে পড়লো আমাদের ঘাড়ে।
ক্লান্ত বিধ্বস্ত অবস্থায় ধুঁকতে ধুঁকতে পাহাড় বেয়ে ক্যাম্পে পৌঁছানর পর আমাদের নাস্তানাবুদ করা শুরু হলো। ক্যাম্প ইনচার্জ ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন স্যার এসে যাচ্ছেতাই ভাষায় আমাদের গালাগাল করতে লাগলেন। তার মধ্যে কিছু কিছু শব্দ খুবই আপত্তিজনক।
অশ্লীল গালাগাল করতে করতে কাউকে জিজ্ঞেস করছেন, ‘তোর অস্ত্র কোথায়? অস্ত্র যে ফেলে এলি, তোর কোন বাপ অস্ত্র এনে দেবে?’
আমরা সবাই মাথা নিচু করে নিরবে গালাগাল হজম করছি। বেশি আক্রমণের শিকার হচ্ছেন পান্নাভাই। সে আশংকা আমরা আগেই করেছিলাম।
তাঁকে কঠিন ভাবে চেপে ধরলেন ক্যাপ্টেন, বললেন, ‘কেমন করে নেতৃত্ব দিস, হারামজাদারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে আসে কীভাবে?’
একজনের সার্টের কলার চেপে ধরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কেন পালিয়েছিস? ভাত খাস না? গায়ে জোর নাই? মুক্তিযুদ্ধে আইছস বাল ফালাইতে? বল, কেন পালাইছস ফিল্ড থেকে?’
মুক্তিযোদ্ধাটি কোন রকমে জবাব দিল, ‘স্যার, আমাদের ভারী অস্ত্র ছিল না। তাই আমরা যুদ্ধে টিকতে পারি নাই।’
এইটুকু বলার পরই তারসহ আমাদের সবার উপর গজব নাজেল হলো। ভয়ংকর ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলেন তিনি। চিৎকার করে বললেন, ‘এই হারামজাদাদের খাওয়া বন্ধ। ওরা পলাতক পার্টি।’ তারপর তিনি ছুটে গেলেন কমান্ডার পান্নাভাইয়ের কাছে। বললেন, ‘যে হারামজাদারা ফিল্ড থেকে ভাগছে, তাদের ধরে নিয়ে আয়। না হলে সবাইকে বন্দি করে রাখা হবে।’
ঠিক হলো পান্নাভাইসহ আরও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা মাইনকারচর গিয়ে যারা পালিয়ে গিয়ে সেখানে অবস্থান করছে তাদের ধরে নিয়ে আসবে। না হলে তাদের শাস্তিও আমাদের ভোগ করতে হবে।
চলে গেলেন পান্নাভাই। আমাদের বলে গেলেন, আপনারা ভাববেন না। আমি তাদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে নিয়ে আসবো।’
আমি মনে মনে বললাম, আপনাকেও হারালাম পান্নাআই। আমি বন্ধু আসগরকে বললাম, ‘দেখিস, পান্নাভাই আর আসবেন না। মুক্ত পাখি কি খাঁচায় ফিরে আসে?’
আমাদের নাম দেওয়া হলো পলাতক পার্টি। আমাদের শাস্তি হলো ক্যাম্পের তিন গেইটে সকাল-সন্ধ্যা-রাত পালাক্রমে আমাদের পাহারা দিতে হবে। ক্যাম্পের পাঁচ হাজার যোদ্ধার খাওয়ার পানি পাহাড়ের নিচে ঝর্ণা থেকে আমাদের আনতে হবে। এনে ড্রামে জমা করতে হবে। এই কাজটি ছিল অত্যন্ত কঠিন। সামান্য বৃষ্টি হলে পাহাড়ের মাটি ভীষণ পিছলে এবং কাদা-কাদা হয়ে যায়। পানি ভর্তি বালতি নিয়ে সাততলা সমান পাহাড়ে ওঠা আর এভারেস্ট জয় করা ছিল সমান। আমরা বালতির বালার মধ্যে বাঁশ ঢুকিয়ে দুপাশে দুজন কাধে নিয়ে পা টিপে টিপে পাহাড়ে উঠতাম। কোন কোনদিন কষ্টে আমার কান্না পেত। যে আমাকে বাড়িতে লেখাপড়া ছাড়া আর কোন কাজই করতে হতো না। সেই আমি ভরা বালতি কাধে নিয়ে পাহাড়ের পিচ্ছিল সিঁড়ি বেয়ে কুকতে কুকতে উঠছি এ কথা আমার মা শুনলে ঠাস করে পড়ে মারা যাবে। বিশ্বাস করতে চাইবে না আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও। যে ছেলে সংসারের কুটোটা ভেঙ্গে দু’টো করেনি কোনদিন, সে নাকি বালতি ভর্তি পানি কাধে নিয়ে পাহাড়ের সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে ওঠে। আমার ধারণা ঠিক হলো। দুদিন পেরিয়ে গেল পান্নাভাই এবং তার সঙ্গে যাওয়া সঙ্গিরা কেউ ফিরে এলো না। ফিরে যে আসবেন না আমরা আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম। আমরা হতাশায় ডুবে নিয়তির উপর নিজেদের ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমাদের গ্রামের তিনজন একসঙ্গে এসেছিলাম এই দলে। আমি আসগর এবং রফিকুল আলম সুকুর। সুকুর, সম্পর্কে তিনি আমার মামা। আমি ডাকি সুকুরমামু। তিনিও মাইনকারচর চলে গেছেন। এখন একসঙ্গে আছি দু’জন। আমি এবং আসগর। আসগর আমার বড় ভরসা। আমার মন খারাপ দেখলে আমাকে নানাভাবে সাহস যোগায়। অনেকসময় আমার ডিউটি ও করে দেয়।
গভীর রাতে মেইন গেটে পাহাদারের ডিউটি করছিলাম আমি এবং আরও একজন সহযোদ্ধা। সেইসময় একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। যে ঘটনা আমাদের যুদ্ধ মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
রাত আনুমানিক দুই/আড়াইটা হবে। প্রচণ্ড বিরক্তি নিয়ে রাইফেল হাতে গেট পাহারা দিচ্ছি। এইসময় দেখলাম পাহাড়ের পাশ ঘেঁষে পাকা রাস্তায় একটি জীপ এসে থামলো। জীপ থেকে লাফিয়ে নামলেন একজন স্মার্ট ব্যক্তি। পরনে সাদা প্যান্ট সাদা গেঞ্জি। মাথায় হ্যাট। হাতে ছড়ি। ছড়ি নাচাতে নাচাতে সাঁই সাঁই করে পাহাড়ের সিঁড়ি ভেঙ্গে দ্রুত উপরে উঠে আসছেন। আমার ধারণা তিনিই মেজর তাহের। আমার সেক্টর কমান্ডার। যদিও তখন পর্যন্ত তাঁকে দেখার সুযোগ আমার হয়নি। কাছাকাছি আসতে আমি চেঁচিয়ে ‘হল্ট’ বলে তাঁকে থামালাম। আমার সঙ্গি সহযোদ্ধা কিছু বুঝতে না পেরে চমকে উঠলো।
চেঁচিয়ে বললাম, ‘পাসওয়ার্ড।’
ক্যাম্পে প্রতিদিন সাংকেতিক একটি শব্দ সবার কানে কানে বলে দেওয়া হয়। তারই নাম পাসওয়ার্ড। এই পাসওয়ার্ড বলতে পারলে তাঁকে ক্যাম্পে ঢুকতে দেওয়ার নিয়ম। বলতে না পারলে ধরে নিতে হবে সে এই ক্যাম্পের কেউ না। সে আমাদের শত্রু। কমান্ড ফলো না করলে তাকে গুলি করার আদেশ রয়েছে।
আমি চেঁচিয়ে বললাম, ‘এবাউট টার্ন। মার্ক টাইম।’
আমি কঠিন কণ্ঠে অর্ডার করলে আগত ব্যক্তি হাসতে হাসতে বললেন, ‘বাবারে, আমি মেজর তাহের বলছি। জরুরী মিটিংয়ে আমি কোলকাতা গিয়েছিলাম। আমিতো পাসওয়ার্ড জানি না।’
আমার মাথায় আগুন চেপেছে। আমি বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললাম, আপনি মেজার তাহের হন আর জেনারেল ওসমানী হন, আমার তাতে কিছু যায় আসে না। আমার অর্ডার ফলো না করলে আমি গুলি করবো। এবাউট টার্ন। মার্ক টাইম।’ বলেই আমি রাইফেল লোড করলাম। মেজর তাহের আবার একই কথা বললেন। ‘বাবারে আমি সেক্টর কমান্ডার মেজর তাহের বলছি। আমি দুদিন হলো কোলকাতায় ছিলাম। দুদিন ধরে জেনারেল ওসমানীর সঙ্গে সেক্টর কমান্ডারদের মিটিং চলছিল। পাসওয়ার্ড কীভাবে জানবো?’
‘আমি কোন শুনতে চাই না।’ আমি এইটুকু বলতে না বলতে মেজর সাহেব হন হন করে এসে আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে তারপর চলে গেলেন তাঁর তাবুর দিকে। আমার সঙ্গি ভয়ে অস্থির। বার বার বলতে থাকলেন, ‘এ আপনি কি করলেন? এমনিতে আমরা শাস্তির মধ্যে আছি। তারউপর আপনি আরও বিপদ ডেকে আনলেন।’
আমি বললাম, ‘কপালে যা আছে তাই হবে। আমি আমার ডিউটি করেছি।’
পরেরদিন আমাদের দলের ডাক পড়লো। মেজর সাহেব আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চান। আমাদের দলের নেতৃত্বে তখন আশরাফ আহমদ। তিনি আমাদের নিয়ে মেজর তাহেরের তাবুতে গেলেন। তিনি ততক্ষণে আমাদের দল সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। আমরা ভয়ে ভয়ে তাঁর সামনে উপস্থিত হলাম। কমান্ডারের পাশে দাঁড়ানো ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন আমাদের দেখামাত্র রাগমুখে বললেন, ‘এই যে স্যার, এরাই সেই পলাতক পার্টি।’
ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিনের কথায় কান না দিয়ে মেজর তাহের ঠাণ্ডা মাথায় জিজ্ঞেস করলেন,’তোমাদের সমস্যা কি?’
আশরাফ ভাই সংক্ষেপে সুন্দর করে আমাদের সমস্যার কথা বললেন। ‘স্যার আমরা গেরিলা ট্রেনিং নিয়েছি। আমাদেরে পাঠানো হচ্ছে সম্মুখ যুদ্ধে। এরকম একটি অসম যুদ্ধে আমাদের প্রেরণ করা হয়েছিল। যুদ্ধে আমরা হেরে যাই। তারপর থেকে আমাদের কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে।’
তিনি গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, ‘যুদ্ধে জয় পরাজয় দুটোই স্বাভাবিক ঘটনা। তার জন্যে শাস্তি হবে কেন?’ বলেই তাকালেন ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিনের দিকে। ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিনের চেহারা তখন বিধ্বস্ত। আমরা মনে মনে ভীষণ খুশি।
‘তোমরা গেরিলা যুদ্ধের জন্য কোন অঞ্চলে যেতে চাও?’
‘স্যার আমরা সিরাজগঞ্জ এলাকায় যেতে চাই।’
‘কেন?’
‘স্যার, আমাদের দলের বেশিরভাগ যোদ্ধার বাড়ি সিরাজগঞ্জ। আমাদের চেনা অঞ্চল। গেরিলা যুদ্ধে আমাদের সুবিধে হবে।’
‘তোমরা সিরাজগঞ্জের ছেলে! সিরাজগঞ্জের ছেলেরা সব ফ্রন্টে ভাল ফাইট করছে। আমাদের কাছে রিপোর্ট আছে। কাল রাতে গেটে তোমাদের এক ছেলের পাহারায় আমি ভীষণ খুশি হয়েছি।’ তখন ভেতরে ভেতরে আমার বুক গর্বে ফুলে উঠছিল। মেজর সাহেব আমাদের ডেকেছেন, এই খবর শোনার পর ভয়ে ভয়ে আমি রাতের ঘটনাটি আশরাফকে বলেছি। শুনে তিনি মুখে শুধু হুম শব্দ উচ্চারণ করলেন। আর কোন মন্তব্য করেননি। এক্ষণে তিনি একঝলক আমার দিকে গর্বিত ভঙ্গিতে তাকালেন।
মেজর তাহের আমাদের আবেদন মঞ্জুর করলেন। আমাদের দেশের অভ্যন্তরে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে বললেন, ‘যারা নিয়মিত বাহিনীর সদস্য না, শুধুমাত্র দেশপ্রেমের টানে যুদ্ধে এসেছে তাদের ভালভাবে নার্সিং করতে হবে।’ বলে তির্যক চোখে তাকালেন ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিনের দিকে।
তাবুতে ফিরে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন আশরাফ ভাই। ততক্ষণে রাতের ঘটনাটি দলের সবাই জেনে গেছে। আমাকে ঘিরে আনন্দে মেতে উঠলো সঙ্গিরা।
সেদিনই প্রচুর অস্ত্রসহ দেশের ভেতর পাঠিয়ে দেওয়া হলো আমাদের। বদলে গেল যুদ্ধ জীবন।