ভাটপিয়ারী যুদ্ধে অনেক পাকিস্তানি সৈন্য, পাকিস্তানি পুলিশ এবং রাজাকার নিধন হয়েছে তাই পাকিস্তানিরা ক্ষ্যাপা কুত্তার মতো প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠতে পারে। তারা আমাদের অবস্থান লক্ষ্য করে বোম্বিং করে আমাদের ধূলায় মিশিয়ে দিতে চেষ্টা করবে। এটা আমাদের ধারণা। অতীতে আমরা তেমনটাই দেখেছি। সিদ্ধান্ত হলো ভাটপিয়ারী থেকে অনেক দূরে কোন এক নিভৃত গ্রামে আমরা শেল্টার নেব।
প্রায় দশ/বারো মাইল হেঁটে গিয়ে একটি গ্রামে আমরা কয়েকটি বাড়িতে আশ্রয় নিলাম। ক্লান্তিতে অনেকে না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লো। একেতো যুদ্ধের ধক্কল তারপর অস্ত্র, নিজেদের ব্যাগ সব মিলিয়ে দশ পনের সের ওজনের বোঝা কাধে নিয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে আসায় সবাই ক্লান্ত পরিশ্রান্ত।
আমরা যে বাড়িতে আশ্রয় নিলাম বাড়ির লোকজন আমাদের খেদমতের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করার সুযোগ পেয়ে যেন ধন্য। এতদিন তারা দেশে যুদ্ধ চলছে শুনেছেন কিন্তু তারা মুক্তিযোদ্ধা দেখেননি। বালক কিশোররা প্রচণ্ড কৌতূহলে আমাদের চারপাশ ঘুর ঘুর করতে থাকে। বউঝিরা বেড়ার ফাঁক ফোঁকর দিয়ে আমাদের দেখে।
প্রকাশ্য দিবালোকে আমরা গ্রামে আশ্রয় নিলেও আমাদের গোপনীয়তা রক্ষা করে চলার নির্দেশ দিলেন কমান্ডার। কিন্তু একবার গোপনীয়তা ভেঙ্গে গেলে সেটা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন। তারপরও আমরা কমান্ডারের নির্দেশ মতো নিজেদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে লাগলাম।
এই বাড়ির একজন কলেজ ছাত্র আমাদের নানাভাবে সাহায্য করছিল। ছাত্রটির নাম ভুলে গেছি। হারুন অথবা নাইম এই ধরণের নাম। ছেলেটি আমার বয়সী। আমার মতো কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। গোলগাল মিষ্টি চেহারা। চটপটে স্বভাবের। যুদ্ধের অনেক খোঁজ খবর রাখে। নিয়মিত বিবিসি, স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্র এবং আকাশবাণীর খবর শোনে। যুদ্ধের পরিস্থিতি জানতে চাইলে ছেলেটি অতি উৎসাহে বললো, স্বাধীনতা পাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সব সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি মিলিটারিদের পর্যুদস্ত করছে। নিজে থেকেই সে যুদ্ধের নানা খবর দিচ্ছিল আমাদের। তার মুখে এমন একটি খবর শুনলাম। শুনে আনন্দে আবেগে আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। জর্জ হ্যারিসন নামের একজন বিখ্যাত ইংরেজ গায়ক মুক্তিযুদ্ধ এবং স্মরণার্থিদের আর্থিক সাহায্য করতে পণ্ডিত রবি শংকরের অনুরোধে স্বউদ্যোগে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ৭১ সালের ১ আগস্ট আয়োজন করেছিলেন ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ।’ সেখানে জর্জ হ্যারিসন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নিজের লেখা একটি অসাধারণ গান গেয়ে সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরেছেন। অনুষ্ঠানে সেতার বাজিয়েছেন পণ্ডিত রবি শংকর, ওস্তাদ আলী আকবর খান। গান গেয়েছেন বব ডিলান, গিটারিস্ট ক্লিপটনসহ আরও অনেক আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা শিল্পী। আমি নিজে অবশ্য প্রথম এই শিল্পীদের নাম শুনলাম। আরও জানলাম ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পণ্ডিত রবি শংকরের ওস্তাদ এবং শশুর। ওস্তাদ আলী আকবর খান হলেন আলাউদ্দিন খাঁর ছেলে। সবই ওই কলেজ ছাত্রটির মুখে শোনা। আলাউদ্দিন খাঁ বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়ির সন্তান। কিন্তু তিনি বাস করেন ভারতে।
সেই কনসার্ট থেকে আয় হয় ২ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার। যা বাংলাদেশের সরকারের হাতে তুলে দেন তারা। এই অভাবনীয় ঘটনা শুনতে শুনতে আবেগে আনন্দে চোখে পানি এসে গেল। আমেরিকার সরকার আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমেরিকার জনগণ আমাদের পক্ষে। তাদের এই সহযোগিতার কথা আমরা কোনদিন ভুলবো না।
ছেলেটি যুদ্ধের অনেক খবর আমাদের জানালো। যা আমরা যুদ্ধের ময়দানে থেকে জানার সুযোগ পাইনি। সে আরও জানালো, কলকাতা থেকে ‘স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্র’ নামে প্রবাসি সরকার একটি রেডিও স্টেশন চালু করেছে। খুবই জনপ্রিয় স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্র। মানুষ লুকিয়ে লুকিয়ে গোপনে স্বাধীনবাংলা শোনে।
বললাম, ‘স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের নাম শুনেছি। কিন্তু অনুষ্ঠান শোনার সুযোগ হয়নি।
সন্ধ্যার পর সেই দুর্লভ সুযোগ করে দিল আমাদের সেই কলেজ পড়ুয়া বন্ধু। এক ব্রান্ডের একটি রেডিও নিয়ে এলো আমাদের রুমে। আমরা রেডিও ঘিরে চারপাশ গোল হয়ে বসলাম। কলেজ পড়ুয়া ছেলেটি রেডিওর নব ঘুরিয়ে-ঘুরিয়ে সেন্টার ধরার চেষ্টা করছে। স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের ফিকয়েন্সি কম। সেন্টার সহজে ধরা যায় না। ছেলেটি চেষ্টা করছে। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমাদের আগ্রহ ক্রমশ হতাশার দিকে চলে যাচ্ছে। সেইসময় ছেলেটি আওয়াজ করে বলে উঠলো, ‘পাওয়া গেছে।’ সঙ্গে সঙ্গে আমরা জয়বাংলা বলে ধ্বনি দিয়ে উঠলাম।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে মিউজিক বাজছে। পরিচিত গানের মিউজিক। ‘জয়বাংলা বাংলার জয়। হবে হবে হবে নিশ্চয়’। স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্ব মুহূর্তে ‘জয়বাংলা’ নামে একটি সিনেমা নির্মিত হয়। সেই সিনেমায় এই গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন আব্দুল জব্বার এবং কয়েকজন সহশিল্পী। এই গানের মিউজিক দিয়ে ওপেন হলো রেডিও। তারপর ভারী কণ্ঠে উচ্চারিত হলো স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্রে আপনাদের স্বাগত। আরও কিছু ঘোষণা দিল। অনুষ্ঠানের সূচি জানালো। শুরুতেই বজ্রকন্ঠ। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের চুম্বক অংশ বাজিয়ে শোনালো। এতদিন পর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুনে রক্ত আবার চঞ্চল হয়ে উঠলো। মনে হলো এই ভাষণটি বার বার শুনি। খানিক অংশ শুনে কিছুতেই মন ভরছিল না। খবর শুরু হলো। সালেহ আহমেদ নামের একজন খবর পড়ছেন। কণ্ঠটি ভীষণ চেনা লাগছিল। আমার মনে হচ্ছিল এ কণ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমামের। খবরে অনেকস্থানে যুদ্ধে আমাদের মুক্তিবাহিনীর সাফল্যগাঁথা প্রচার করলো। শুনে আমরা হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করি। পৃথিবীর অনেক দেশ আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করছে। খবর শুনে আমরা ভীষণ আশাবাদি হয়ে উঠি। এরপর একটি গান। আহা কি কাব্যময় সেই গান। আবেগে চোখ ছলছল করে ওঠে। রক্তে নাচন দিয়ে যায়। ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি। একটি মুখের হাসির জন্য যুদ্ধ করি। সারাবিশ্বের শান্তির জন্য আজকে লড়ি।’ গানের কথা ও সুরে আমরা বিমহিত এবং বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ি। হৃদয়ে নতুন প্রেরণার জন্ম হয়। তারপর আরও আরও উদ্দীপনামূলক অনুষ্ঠান হলো। সবশেষে পাঠ হলো একটি কথিকা। নাম ‘চরমপত্র’। খাওয়ার পর যেমন মিষ্টি খেয়ে খাওয়াটাকে পরিপূর্ণ করতে হয় তেমনি ‘চরমপত্র’ যেন সেই কাজটি করলো। চমৎকার রস সম্বলিত নাটকীয় ঢঙে কথিকাটি পাঠ করলেন সাংবাদিক এম আর আক্তার মুকুল। এক কথায় অসাধারণ। আমরা মুগ্ধ হয়ে গেলাম। নানান জেলার নানা ভাষার সংমিশ্রণে সরস কথায় রচিত চরমপত্রটি আমাদের হৃদয়ে রীতিমতো আলোড়ন তুললো। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্রের এই চরমপত্র না শুনেছেন তারা বিরাট কিছু মিস করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্র বিশেষ ভুমিকা পালন করেছে। কথায় বলে যুদ্ধ অর্ধেক করে সৈন্যবাহিনী বাকি অর্ধেক করে প্রচার মাধ্যম। আমাদের স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্র তার চেয়ে অনেক বেশি করেছে। আমরা একদিন শুনেই রীতিমতো প্রেমে পড়ে গেলাম।
আমরা ওই শেল্টারে দুইদিন ছিলাম। দুইদিনই আমরা শুরু থেকে শেষপর্যন্ত স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্রের অনুষ্ঠান শুনেছি। আর ভেতরে ভেতরে ভীষণ উজ্জীবিত হয়েছি।
দুদিনপর আমাদের শেল্টার পরিবর্তনের নির্দেশ এলো। আমরা কোথায় যেতে পারি, কোথায় গেলে ভাল হয় এই নিয়ে যখন আমরা ভাবছিলাম তখন কলেজ পড়ুয়া ছেলেটি আমাদের সাহায্যে এগিয়ে এলো। সাত/আট মাইল দূরে একটি এলাকার কথা বললো সে। এলাকাটি চর এলাকা। এবং নিরাপদ। সঙ্গে একজন গাইড দিল যে আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে। মাঝ বয়সী গাইড লোকটি এর আগেও মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সাহায্য করেছে। সে নিজে থেকে গর্বের সঙ্গে বলে যাচ্ছিল তার কথাগুলো। নিঃসন্দেহে এটা তার গর্বের বিষয়। যুদ্ধ করতে না পারলেও যুদ্ধের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। এটাও কম কি। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধ এগিয়ে চলছে।
রাত নয়টার দিকে আমরা এক কাধে অস্ত্র আর অন্য কাধে ব্যাগ নিয়ে নতুন শেল্টারের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। আমাদের গাইড লোকটি আগে আগে যাচ্ছে। লোকটি সরল প্রকৃতির। তাকে কথা বলতে বারণ করার পরও খানিক থেমে আবার কথা বলা শুরু করে। তার বলার বিষয় একই, মুক্তিযুদ্ধ। কিভাবে সে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেছে, সেই সব কথা। আমি নিচু গলায় বললাম, এই গ্রামে এর আগে মুক্তিযোদ্ধারা আসেনি। আপনি মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করলেন কিভাবে? লোকটি বলে, ‘আমার শশুর বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা প্রায়ই আসে।’
‘কোথায় আপনার শশুর বাড়ি?’
‘শিয়ালকোল। চেনেন?’
বললাম, ‘চিনি। সিরাজগঞ্জ শহরের কাছাকাছি। তাই না?’
লোকটি জবাব দেওয়ার আগে কমান্ডার হল্ট বলে উঠলেন। লোকটি ভাবলো তাকেই হল্ট বলা হয়েছে। লোকটি ভয়ে কাঁপতে লাগলো। তার ধারণা ভুল। খোলা মাঠের মধ্যে আমাদের দাড় করালেন কমান্ডার। আমরা কেউই কারণ বুঝতে পারলাম না। তারপর একজন মুক্তিযোদ্ধার নাম ধরে ডাক দিলেন। যোদ্ধাটি কমান্ডার মোজাম্মেল ভাইয়ের দলের লোক। সে এগিয়ে তার কাছে গেলে কমান্ডার তার অস্ত্র এবং ব্যাগ অন্য একজনকে নিতে বললেন। তারপর তার হাত বাঁধতে বললেন। আরেকজনকে ডেকে একজোড়া কঞ্চি হাতে দিয়ে বললেন, ‘ওকে পেটো।’ বলা মাত্র সপাং সপাং কঞ্চির বাড়ি পড়তে লাগলো। ছেলেটি আর্তনাদ করতে করতে লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। তারপরও মার চলতে থাকে। আমরা সবাই হতভম্ব মুখে দাঁড়িয়ে এই নির্মম দৃশ্য নিরবে অবলোকন করছি। মারের চোটে ছেলেটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে কমান্ডার থামতে নির্দেশ দিয়ে ওকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বললেন। কানাঘুষায় জানা গেল আমরা যে শেল্টারে ছিলাম সেখানে একটি মেয়ের গায়ে ছেলেটি হাত দিয়েছিল। অভিযোগ পেয়ে কমান্ডার শাস্তি দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। অপরাধীকে শাস্তি দিয়ে বাকিদের বুঝিয়ে দিলেন শৃঙ্খলা ভঙ্গের শাস্তি কত ভয়ংকর। কমান্ডার সবার উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আমরা সবাই যোদ্ধা। যুদ্ধ করতে এসেছি। আমাদের টার্গেট মাতৃভূমির স্বাধীনতা। এখানে অনৈতিক কিছু করার কোন অবকাশ নেই। অতএব সাবধান!’
আহত ছেলেটিকে কাধে নিয়ে কোম্পানি আবার যাত্রা শুরু করলো। আমাদের গাইড সেইযে চুপ হয়ে গেছে জিজ্ঞেস করলেও ভয়ে কাঁপতে থাকে। কথা বলে না। এতটাই সে ভয় পেয়েছে বার বার সে পথ ভুল করে ফেলছিল।
অনেকক্ষণ যাওয়ার পর একটি বিলের পাড়ে এসে থামলো সে। আমরা নিশ্চিত সে ভুল পথে নিয়ে এসেছে আমাদের। তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সে একেকবার একেক কথা বললে কমান্ডার করা গলায় ধমকে ওঠে। লোকটি বলে, ‘এই বিল পারি দিয়ে যেতে হবে। বিলে বেশি পানি নাই। বড়জোর কোমর পর্যন্ত পানি।’
কি আর করা। পানি দেখে ভয় পেলে আমাদের চলবে না। লোকটি লুঙ্গিতে কাছা মেরে আগে নেমে পড়লো। আমরা যারা লুঙ্গি পরা তারা লুঙ্গি গুটিয়ে নেমে পড়লাম পানিতে। আর যারা প্যান্ট পরা তারা প্যান্ট খুলে শুধু জাঙ্গিয়া পরে নেমে পড়ে। শীতের রাত। পানি ভীষণ ঠাণ্ডা। শরীরের যে অংশ পানিতে ভিজছে সেটুকু মনে হয় ঠাণ্ডায় জমে যাচ্ছে। লোকটি তখনও আলাভোলা হয়ে আছে। বলেছিল পানি কোমর পর্যন্ত। কিন্তু ক্রমশ পানি কোমর ছাড়িয়ে বুক পর্যন্ত উঠে পড়ছে। তাতে অবশ্য আমাদের লুঙ্গি ভিজছে না। পানি যত বাড়ছে লুঙ্গি ততো উপড়ে উঠছে।
মলয়কে কাধে তুলে নিয়েছে আসগর। মলয় আপত্তি করছিল। আসগর তবু একরকম জর করেই মলয়কে কাধে নিয়ে পানিতে নেমে পড়ে।
একটুপর লোকটি গভীর পানিতে ডুবে যায়। আমরা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি। সাঁতরে লোকটি কম পানিতে এসে বলে, ‘ভুল হয়ে গেছে। ডান দিকে কম পানি। আপনারা আমার সাথে ডান ডিকে আসেন।’ কমান্ডার কষে একটা ধমক দিলেন। ভয়ে ভয়ে লোকটি তবু বলে, আপনারা আমার সাথে ডান দিকে আসেন।
অগত্যা আমরা লোকটিকে ফলো করে ডান দিকে যেতে থাকি।