একদিন ঠিক হবে

উনিশ কুড়ির বিষে নীলাভ এই পৃথিবী
থমকে আছে সবই ডুবে ভয়ের সাগরে
নিয়তির রেখা চেপে সাহস অবলম্বী
মন্ত্র খোঁজে সবে নিষ্ঠুরতার ভাগাড়ে।

আর সব প্রজাতিরা লজ্জায় মুখ ঢাকে
সেরা মাখলুকাতের হাবভাব অস্থির
দু’হাতের রোজগারে গড়া অশুভর বুকে
তালাশ করছে সবে এক ফোঁটা স্বস্তির!

তওবার দরজাতে মানুষ জাতির ভীড়!
অবনত মস্তকে মুখোমুখি অতীতের
ক্ষমার যোগ্য হয়ে পাবে সুন্দর নীড়
হতাশাযে অস্থায়ী এখবর আয়াতের।

একদিন ঠিক হবে সুদিন আসবে ফিরে
প্রজাপতির ডানায় লাগে নতুন হাওয়া
সময়ের কালশীষ রইবে না এই ঘরে
স্বাভাবিক নীতি হবে পূরণ হবে চাওয়া।
…………………………………………..

সমাপনীর অপেক্ষায়

রাত গুলো এখন ঘুম চাদরে আসেনা
ঝরে যাওয়া কথার মোড়ক হয়ে ঘুমের কোষে হানা দেয়।

কী নেই?
আকুলিবিকুলি বিকাল, লুকোচুরি অপেক্ষা
অনাগতের চোখাচোখি; ভয় ভয় বুকে অজানা শিহরণ!

চোখের পাতাই আজ বড় মনিটর-
থ্রিডি চিত্র; নিখুঁত পরিবেশন
নিয়ন বাতির ঝোলে মিশে অচেনা রসায়ন।
পর্দায় এখন তুমি আমি…

সম্মুখে হেঁটে যাচ্ছি…
তুমি আমি সমান্তরাল দুটি পথ
পেছনে অযুত নিযুত মৃত বৃক্ষের সারি
জাগ্রত রাত সমাপনীর অপেক্ষায়…
…………………………………………..

যাওয়ার সময়-অসময় নেই

যাওয়ার! সময় কী?
অদৃশ্য ইশারা-
শোনেনা আকুতি।

এই তরিকায় হেঁটেছিলো পূর্বসূরী
একই পথে আমিও-
অযথাই দিয়েযাও বাহানার সুড়সুড়ি!

আসা-যাওয়ার এই মঞ্চে-
কখনো সুনীল আকাশ-
কখনো মেঘের ঘনঘটা
কখনো তপ্তরোদের চাবুক-
কখন সবুজ মোলায়েম পাখা।

তফাৎ যতই থাকুক চলনের হাঁটে-
একসাথে মিলি সবাই পারাপারের গঞ্জে।

যাওয়ার সময়-অসময় নেই
অদৃশ্য ইশারায়
যাত্রী হবো পারের নৌকায়।
…………………………………………..

প্রার্থনা

আমরা পাপী।পাপ করেছি সীমাহীন
পাপ নদীতে ডুবে ছিলাম।রাত আর দিন
এই ঘনঘোর, বিপদ দিনে
কে আছে আর?তুমিবিনে
মাফ করে দাও। ওগো রাব্বুল আলামীন।।

আমরা মানুষ। ভুল করেছি লোভে পড়ে
পথভুলে তাই, চলে গেলাম পাপের ঘরে!
আঁধার যখন, এলোনেমে
চারদিকে টানছে যমে
পথের দিশা খুঁজি এখন আসতে ফিরে।।

ওগো কাবার মালিক। তুমি রহম করো
বিপদ-আপদ গজব থেকে রক্ষা করো
তুমি গাফুর, তুমি মালিক
তোমার নেইতো কোন শরীক
কাতর স্বরের এই আকুতি কবুল করো।।
…………………………………………..

নিস্তব্ধতার খবর

নিস্তব্ধতার পর নিস্তব্ধতা! মিশে আছে আরো নিস্তব্ধতার খবর!
আতঙ্কিত হয়ে উঠে হৃদয়-
তোমাকে ভেবে!
বিচ্ছিন্ন বাতাসে আহত সুর-
গল্পে গল্পে যখন জীবনের কাছে দাঁড়াই।

রাতের গায়ে অনায়াসে ঢলে পড়ে রাত-
সুক্ষ্ম অনু জীব আজ মহারাজ!
ভূখন্ডবাসীর অসহায় আত্মসমর্পণ!
চারদিকে ভেসে আসে-
আল-কোরআনের সতর্কতা!

নিগুঢ় সংবাদ-
আরো! আরো! নিস্তব্ধতার খবর অপেক্ষমাণ!
যদি না ফিরে আসি, যদি না ফিরে আস-
সোজা পথের ডাকে, বিনয়ী ভাবে
অবনত মস্তকে মহামহিমের দরবারে
তবে অপেক্ষা করো! শুরু হবে-
আরো! আরে! নিস্তব্ধতার শত আহ্বান
…………………………………………..

তোমার কারণে

তোমার কারণে-
আজও হাঁটি আমি স্বপনের হাটে
জোছনার জলে সতত সাঁতার
আকাশের বুকের দুষ্ট বলাকা
সবুজ মখমলে ভাবের বিন্যাস।

তোমার কারণে-
সিমান্তের বাঁধা রুখে দিতে চাই
অহর্নিশ ছুটি বন্ধুতার পানে
ভোর-কোমলতা মেখে পরিপূর্ণ-
এক-টি শুদ্ধ আবেগের বয়াম।

তোমার কারণে-
ঝরা পালকের সঞ্চয় সম্ভার
বুনো হাওয়া ভাসে মিলনের সুর
ঝরাপাতা গায় বাসরের গান।

তোমার কারণে-
আজও ঝুলে আছি স্বপ্নের কার্নিশে
নিয়তির কোলে ঘুমের শহর
বন্ধক রাখিনি হারানোর ভয়ে

তোমার কারণে
তোমার কারণে-
জেগে থাকি আমি মানুষের হাটে।
…………………………………………..

দু’হাজার বিশ

এইযে থমকে যাওয়া পৃথ্বী,কীযে ভয়ানক!
তোমার আমার মাঝে, দৃশ্যমান বেড়া!
নৈমিত্তিক সৌজন্যতা বিপর্যয়ে ঘেরা!
ঘোরতর অন্ধকারে! মানুষের ঝোঁক।

প্রাণঘাতী সূক্ষ্ম জীবের, অশালীন নাচ!
মৃতের সামিয়ানায় নিঃসঙ্গ বাতাস!
প্রতিরোধের সীমানায় ব্যর্থ হা-হুতাশ
মৃত্যুপরোয়ানায় ভরা আনাচকানাচ!

আগামীর দিনলিপিতে এই পঞ্জিকাটা
বিধিমতো শোকাবহ!বিষাদের নাম
তোমাদের জন্য আছে, সতর্কতা খাম
হে আগামী মনে রেখ্ ধুসর আকাশটা!
মনে রেখ্ মনে রেখ দুহাজার বিশ!
…………………………………………..

ঝরার শব্দ

ঝরার শব্দে ঘুম ভাঙ্গে!
ফুটন্ত অফুটন্ত
তরু-লতার মতো বেড়ে উঠা
কচি কচি স্বপ্ন…
ঝরার শব্দে আচমকা এলোমেলো হই।

জোছনা ঝরা রাত দেখি। যখন…
ঝুরঝুর করে নেমে আসে আঁধারের গা বেয়ে
ঝর্ণার কাছে যাই; কোল ঘেঁষে বসি
ঝরঝর করে তার ঝরা দেখি
তারপর বিরহ… ঝরে যাওয়ার বিরহ
চাঁদের বিরহ!ঝর্ণার বিরহ!নদীর বিরহ!
ঝরার শব্দে ঘুম ভাঙ্গে…
বিরহ! বিরহ! বিরহ…

এইতো ঝরে গেলো কত! কত স্বপ্ন!
যা উড়াতাম কিশোর নাটাইতে!
কত স্বপ্ন ঘুমিয়ে আছে কুয়াশা ভেজা রাতের আঁচলে!

যখন রাত হয় সব আসে…
ঝরা শব্দের মিহিন সুর ওঠে
হটাৎ ডাকে যেন সু-চেনা এক কবুতর
আমার অপেক্ষা কেউ যেন খড়কুটো সাজিয়ে রাখে
আমার অপেক্ষা সে! সময়ের সুদীর্ঘ হাহুতাশ
ঝরার শব্দে ঘুমহীন দু-চোখ আমার!
ঝরার অপেক্ষা এখন আমিও!
…………………………………………..

নিঃশব্দ নদীর কথা

ঝরে পড়া চন্দ্রকিরণ-রাতের গায়ে মিশে হয় কবিতার উপকরণ
নিঃশব্দে বয়ে চলা জলহীন নদীটির-
উতলা ঢেউ হয়;আছড়ে পড়ে স্মৃতির বালুচরে
চলমান অনুচ্ছেদ ডুবে যায় অদেখা নদীর বুকে…

বিস্মৃতি হয়ে আসে অনেক কিছু!
স্পষ্ট স্মৃতির গোলায় জমানো ধন-
তোমার কথা- নিঃশব্দ নদীর কথা!
…………………………………………..

তৈলাক্ত জাবর কাটা

আহতসুর গুলো ভুলে যাওয়ার মন্ত্র শিখি
হৃদয়ের দুর্দিনে-অতিনিকটজনও চাঁদাবাজ!
হাতধরার কৌশলে-মেপে নিবে বুকের উঠান!
-ভাগবসায় সঞ্চিত গোলায়!

সভ্যতার যুগে প্রতিবাদের শব্দগুলোই-
হয়ে যায় কলঙ্কময়!
চাঁদের জোছনা বিলানোর অপরাধেও হতে পারে মামলা-হামলা!
এখন ভুলে যাওয়ার মন্ত্রটাই -আনন্দ কোলাহল!

বেঁচে থাকার কলাকৌশল জানো?
-তৈলাক্ত জাবর কাটা!