অনেক দিন আগে একটা দূরবীন বা টেলিস্কোপ সংগ্রহ করেছিলাম। সেটা দিয় আমি আকাশ দেখি। দুরবীনের প্রসঙ্গ আসলে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিষশাস্ত্র এর প্রসঙ্গ আসে। এদুটার মধ্যে পার্থক্য আছে। জ্যোতির্বিজ্ঞান হলো আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে জানার বিজ্ঞান। গ্রহ নক্ষত্রে রকেটে করে যাওয়াই হলো জ্যোতির্বিজ্ঞানের চুড়ান্ত ধাপ। জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের বলা হয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী। আর জ্যোতিষশাস্ত্রবিশারদকে বলে জ্যোতিষী। তারা গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্হান দেখে মানুষের ভাগ্য সম্পর্কে ধারণা দেন। জ্যোতিষশাস্ত্র বিজ্ঞান নয় এবং এই বিষয় ধর্মবিরোধী।

অনেকেরই প্রশ্ন জাগে, আকাশে খালি চোখে আমরা কি পরিমান তারা দেখি ?
আকাশে জ্বল জ্বল করা বস্তুগুলোকে আমরা তারা বলে থাকি। সন্ধ্যায় আকাশে ফুটে উঠতে থাকে অসংখ্য তারা। ধীরে ধীরে তারাগুলো আরও বেশি স্পষ্ট হতে থাকে। খালি চোখে বড়জোড় পাঁচ হাজার তারা দেখা যায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দুরবীন দিয়ে দেখেন লক্ষ লক্ষ তারা। যারা তারাভরা আকাশের আলোকচিত্র নিয়ে কাজ করেন তারা বলেন তারার সংখ্যা কোটি কোটি।

তারা আছে অনেক রকমের। কোনটির আলো আছে। কোনটির নেই। যাদের আলো আছে তাদের আমরা নক্ষত্র বলি। আমাদের সূর্য হলো নক্ষত্র। তার আলো আছে। তার আলোর হতে আমরা আলো পাই।
বিজ্ঞানীরা বলেন এক লিখে বারটা শূণ্য লিখলে যে সংখ্যা হয় তার সমপরিমান নক্ষত্র নিয়ে একটা গ্যালাক্সি হয়।

নক্ষত্রগুলোকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু তারা ঘুরে, তাদের বলা হয় গ্রহ। আমাদের পৃথিবী সূর্যেরই একটি গ্রহ। কারণ পৃথিবী সূর্যের চার দিকে ঘুরে। আমরা যে গ্যালাক্সিতে বাস করি তার নাম মিল্কিওয়ে। কারণ সূর্য মিল্কিওয়ের অংশ।

মিল্কিওয়ে নাম করণের পেছনে একটা কারণ আছে। বলা হয়- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি যা গ্রীক দেবী হেরা-র বুকের দুধ হতে সৃষ্টি হয়েছে। তার শিশু ছেলে দেবতা হারকিউলিস-কে দুধ খাওয়ানোর সময় তার দুধ আকাশে পড়ে যেয়ে এই গ্যালাক্সি সৃষ্টি হয়েছে। প্রাচীন গ্রীক পুরাণে এই কথাই লেখা আছে। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি ২০০ হতে ৪০০ বিলিয়ন নক্ষত্রের সমাবেশ। আমাদের সূর্য হলো এই মিল্কিওয়ে গ্রালাক্সির একটি নক্ষত্র। ১০০ কোটি-তে ১ বিলিয়ন হয়। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে এই গ্যালাক্সিতে কত নক্ষত্র আছে। সাধারণত ১ লিখে ১২ টা শূণ্য লিখলে যত সংখ্যা হয় ঠিক সেই পরিমান নক্ষত্র থাকে একটা গ্যালাক্সিতে। আর নক্ষত্রের সাথে ঘুরে গ্রহ। আর গ্রহের সাথে ঘুরে উপগ্রহ। সুতরাং এই বিষয়টা নিয়ে ভাবতে গেলে আর পড়াশোনা করতে গেলে একটা সময় জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনাটা একটা নেশার মতো মনে হবে।