রাস্তা পার হতে গিয়ে রানু আমার হাত ছেড়ে দিল।একটি চিৎকার। টু কু ন! এতটুকুই।ব্যস! তখনই একটি বাস রানুকে পিষে চলে গেল।
তাকিয়ে দেখি একটি মেয়ের করুণ রক্তাক্ত মুখ। থেতলে গেছে সারা শরীর। রানুর শরীর নয়।অন্য কারও শরীর। তাহলে রানু কোথায় গেল?তবে এটা কার শরীর? মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য কাঁপা কাঁপা দুটি চোখ দেখলাম। আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এই চোখ তো রানুর চোখ না।এই চোখ অস্তির প্রকৃতির নীলচে লাল রঙের। রানুর চোখ তো অন্যরকম। ভীষন কালো। এই চোখ থিরঁ থিরঁ করে কাপঁছে। কাউকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। না! পাচ্ছে না! খানিক বাদে একদম স্হির হয়ে আমার দিকে চেয়ে আছে।যেন অবাক হয়ে হাতি দেখছে। এই চোখ হয়তো কোনদিন হাতি দেখেনি। তাহলে আমি একটা হাতি। আমিও তাকিয়ে আছি হাতির মত স্বাভাবিকভাবে। মানুষের চোখ হাতের তালুতে রাখা স্বাভাবিক ব্যাপার না।একটা চোখ ধূলো মাখা রাস্তা থেকে হাতের তালুতে তুলি। থিঁর থিঁর করে কাপঁছে। অবাক হওয়ার কথা।অথচ আমি অবাক হচ্ছি না। রানুর চোখ রাস্তায় পড়ে থাকবে কেন?বুঝতে পারছি না। সেতো পালিয়ে গেছে টুকুনের সাথে। এখন হয়তো ঢাকাগামী কোন এক বাসে রানু টুকুনের হাত ধরে পাশাপাশি সিটে বসে আছে। দুজনেই আতংকে ভবিষ্যত বিপদে অস্তির।তাদের কারও মা বাবা মা মেনে নেয়নি তাদের এই বাল্যপ্রেম।বাস ছুটছে। এসব উদ্ভুদ চিন্তা আমার মাথায় কেন আসছে?বুঝতে পারছি না। কারও চোখ পিচঢালা পথে কেন পড়ে থাকবে? আমার হাতে একটা ব্যাগ ছিল।ব্যাগে প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র ছিল। সে ব্যাগ কোথায় গেল? মস্তিষ্কের কোষ গুলো ঝিম মেরে ঘুমিয়ে যাচ্ছে। অবাক কান্ড! আস্তে আস্তে কুয়াশায় ঢেকে গেল চারদিক।এখন নাকি গ্রীষ্মের সময় দুপুর, তাহলে কুয়াশা আসছে কেন? আমি কুয়াশার ভেতর অন্ধের মত ঢুকে পড়ি। হাতড়ে হাতড়ে সামনে এগিয়ে যাই। আশ্চর্য! কুয়াশা এত ঘন অন্ধকার কেন?কিছুই দেখা যাচ্ছে না। রানু! এই রানু! ঘোর কুয়াশায় অদ্ভুত অন্ধকার নেমে এসেছে পিচঢালা পথে। কিছুক্ষণ পর দেখি কুয়াশা মেঘের মত উড়ে উড়ে যাচ্ছে। খুব ধীরে ধীরে। রাস্তা ফাঁকা। গাড়ির চলাচল নেই। অথচ কিছুক্ষণ পূর্বে দৌড়ে রাস্তা পেরুতে হয়েছে।একটার পর একটা গাড়ি দানব গতিতে ছুটে গেছে। রানু নেই। কেউ নেই। আমি ও নেই।আমার বাম হাতে একটি ব্যাগ ও ডান হাতে ছিল রানুর হাত।আমার দুটি হাত খালি। রানুও নেই। ব্যাগ ও নেই। ব্যাগ কোথায় গেল?রানু কোথায় গেল? হঠাৎ রাস্তা ও দেখি নেই? এই যে আমি অনুভব করছি। এই আমি টা তাহলে কোথায়? আমি কি এখন আকাশে? না! ভাবতে পারছি না! এখন আমার ঘুম পাচ্ছে। অদ্ভুত ঘুম। ঘুমের ভেতর যেন ঘুম নেমেছে। আকাশের ভেতর আকাশ নেমেছে। এতো আকাশ, এতো ঘুম এতোদিন কোথায় ছিলো? সেখানে কেউ একজন উঁকি দিচ্ছে। আমাকে জাঁগিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। কে সে?
সে কি রানু? না! আমার কিছুই মনে আসছে না।
না! কিছুই মনে আসছে না।দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আমি ঘুমিয়ে গেলাম। অদ্ভুত ঘুম নেমে এল চোখে।যেন আকাশে পেতেছি শয্যা।চাঁদের বালিশের রেখেছি মাথা। কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম জানি না। একসময়
চোখ মেলে দেখি আমার চারপাশ কেমন সাদা সাদা মেঘে ঢাকা। আমি শুয়ে আছি সাদা বিছানায়। পাশে সাদা টেবিল।ঘরের দেয়াল ছাদঁ ফ্লোর সব সাদা। দুজন মানুষের দেখা পেলাম। দুজনেই পা থেকে মাথা অবধি সাদা পোশাকে আবৃত। নাকি এরা মৃত? কাফনের কাপড় পড়ে ঘোরে বেড়াচ্ছে। বুঝতে পারছি না। এরা একজন অন্য জনের সাথে কথা বলছে। হাত নাড়ছে। এরা হাত নেড়ে কী কথা বলছে? আমি কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। সাদা রংয়ের জন্য নাক মুখ আলাদা করা যাচ্ছে না। চিনতে পারছি না। আজব তো! সাদা মানুষের দেশে কখন কিভাবে এলাম? উফ্! তাহলে কি এটা হাসপাতাল। উফ্! কেউ একজন কেন বলছে না? কেন বলছে না? এটা কি হাসপাতাল? মাথার ভেতর টুকুন টুকুন বলে কে আবার চিৎকার শুরু করে দিয়েছে? টুকুন! টুকুন! টুকুন!
আমিও চিৎকার করে ওঠি। আমি টুকুন নই ! আমি টুকুন নই !
তাহলে আমি কে?একথা মনে হতেই আমি আবার চিৎকার শুরু করি। আমি কে? আমি কে?

অনেক যন্ত্রণার পর একদিন ঘুম ভাঙতেই সাদা ঘর থেকে চুপি চুপি পালিয়ে গেলাম। কেউ টের পায়নি। টের পেলেই কি? ঐ সাদা ঘরে টুকুন বলে একটি মেয়ে সারাক্ষণ চেঁচামেচি করে।মাথার ভেতর নাড়াচাড়া করে। আমাকে অস্তির করে তুলে। না পালালে মরেই যেতাম। না হয় কিছুদিন থাকলে পাগল হয়ে যেতাম আর কি!

আজ কত বছর হল। বলতে পারছি না।আমি কে? বাবা মা কে?ভাইবোন? কিছুই মনে নেই। কোথায় আমার বাড়ি? শুধু আমি জানি এটা একটা পরিত্যক্ত ব্রিজ। নদীটির নাম মনে নেই। ব্যস, এটুকুই। আমি কিছুই জানিনা। আমি কাউকে জিজ্ঞেস করলে উত্তর না দিয়ে পাশ কেটে চলে যায়।কেউ আবার তেড়ে আসে। কেউ গালি দিতে দিতে চলে যায়। তখন ইচ্ছে হয় তারার দেশে ধরে নিয়ে গিয়ে হাঁটু গেড়ে সালিশ বসাই। সেই সালিশে আমি হব বিচারক। প্রত্যেককে সাম্যেনীতি শিক্ষা দেই। ব্রীজের ফুটপাতে শুয়ে আছি। মানুষের আনাগোনা তেমন নেই। মাথার ভেতর একটা ঘড়ি আছে। সেখানে টিক টিক টিক শব্দ হচ্ছে। বিষম অস্তির শব্দ। শব্দের পাশাপাশি একটি মেয়ে আসে। টুকুন! টুকুন! বলে চেঁচামেচি শুরু করে।

তাহলে টুকুন কি আমার নাম? নিশ্চয়ই। না হলে মাথার ভেতর একটি মেয়ের কন্ঠস্বর টুকুন! টুকুন! বলে চিৎকার করে ওঠে কেন?
কেন ওঠে? কেন ওঠে?
আমি ও চিৎকার করে ওঠি। আমি টুকুন নই! আমি টুকুন নই!

আমার পাশে শুয়ে থাকা কুচকুচে কালো কুকুরটা ভোঁ দৌড় দিল। ভয় পেয়েছে। তখনই আমি হেসে ওঠি। হাঃ হাঃ হাঃ। পালিয়ে গেলে! পালিয়ে গেলে!
আমি অবাক হই। কুকুর না। মাথার ভেতর থেকে একটি মেয়ে দৌড়ে বেড়িয়ে গেল। লাল ফ্রগ পড়নে কিশোরী। খালি পা। চুলগুলো এলোমেলো। মায়া মায়া মুখ।
কুকুর হয়ে গেল মেয়ে। আশ্চর্য! আমি দৌড়াতে থাকি মেয়েটির পিছু পিছু। আমার মনের ভেতর অনেক মন। আবার একটা মনের অনেক রং। একেক মনের চিন্তা ভাবনা একেক রকম। একটা মন চিৎকার করে ওঠে তখনই, রানু! মেয়েটি পিছু ফিরে তাকায়। শুধু একবার। শুধু একবার।
তাহলে মেয়েটির নাম রানু।আমার কন্ঠস্বর সে চিনে নিয়েছে। তা না হলে পিছু ফিরে তাকাতো না। অচেনা মানুষ প্রথম ডাকে সাড়া দেয় না। দ্বিতীয় ডাকে দেয়।কারণ মস্তিষ্ক সময় নিয়ে চিন্তা করে। নির্দেশ দেয়। উফ! কী যন্ত্রণা! মাথার ভেতর আকাশ ঢুকে যাচ্ছে। অন্ধকার ঢুকে যাচ্ছে। অবশেষে চাদঁটি ঢুকে গেল। আমি রাস্তার পাশে উবু হয়ে বসে পড়ি।
আকাশ নেই। চাদঁ নেই। তাহলে এত জোছনা কোথায় থেকে এল? আমি স্পষ্ট ব্রিজের নিচে নদীর জল দেখতে পাচ্ছি। উফ! মাথার যন্ত্রণা বেড়েই যাচ্ছে। বেড়েই যাচ্ছে । ইচ্ছে হচ্ছে জলে লাফিয়ে পড়তে।
আমি চিৎকার করে বলি, আমি কি জলে লাফিয়ে পড়ব? আমি কি জলে লাফিয়ে পড়ব?
কেউ কথা বলল না। মাথার ভেতরের শব্দ থেমে গেছে।

এখন আমাকে কিছু একটার ভেতর ঢুকে যেতে হবে। ডাস্টবিন খুঁজে বের করতে হবে একটা।আশেপাশে ডাস্টবিন নেই। একটা সরু পাইপ রাস্তার পাশে অলস পড়ে আছে।
আমি যতই চেষ্টা করি পাইপের ভেতর ঢুকে যেতে,
পাইপ ততই সরু হয়ে আমাকে ঢুকতে বাধা দেয়।
উহু! পাইপ ভেঙে ঢুকে পড়েছি।আশ্চর্য! আমি একটুও ব্যাথা পাইনি। আমি কি ব্যাথার উর্ধ্বে?ও বুঝে গেছি আমিতো এই পৃথিবীর মানুষ না!এই জন্যই আমার ব্যাথা নেই। মাথাটা বাহিরে বের করে দেই। রাতের বেলা বাহিরে তাকিয়ে থাকতে হবে। না হলে যে কেউ এসে আমাকে চুরি করতে পারে পাইপ ভেবে । বঙ্গদেশে চোর অবশ্যই নেই। চোরেরা এখন সব পাগলাগারদে।
আহ্! মাথা থেকে আকাশ, চাদঁ বেরিয়ে গেলো। আহ্ শান্তি! শান্তি! ঘুমের ভেতর ওম নিয়ে ঘড়ি আঁকি মাটিতে। ঘন্টার কাটাঁ তিনটার ঘরে। মিনিটের কাটাঁও তিনটার ঘরে।তাহলে এখন রাত তিনটে পনের?
সেকেন্ড এর কাটাঁ নেই। উফ! কয়েক সেকেন্ড অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা মেয়েটির মুখ। কয়েক সেকেন্ড!সেকেন্ডের কাটাঁ আকঁতে পারিনা।উফ্! আমি কেন সেকেন্ডের কাঁটা আঁকতে পারি না? সেকেন্ডের কাটাঁ আকাঁ দরকার নেই। সেকেন্ডের কাটাঁ খুব যন্ত্রণাদায়ক। বাদ দিয়ে দিতে হবে।
পৃথিবীর সকল সেকেন্ডের কাটাঁ পাল্টে দিতে হবে। পাল্টাতে হবে। দেশে দেশে অবরোধ গড়ে তুলতে হবে। নতুন আন্দোলনের ডাক দিতে হবে।
দেশ ভরে গেছে পাগলে। পাগলের জন্যে পাগলা প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে হবে। পৃথিবীর সকল দেশের সকল পাগল ছড়িয়ে পড়ুক।

কে? কে? কে ওখানে? কে ডাকে?
টুকুন! টুকুন! টুকুন!
আবার শুরু হল।মথার ভেতর কেউ ঘাপটি মেরে বসে আছে। আমি আবার বলি, কে? কে? কে ওখানে?
আমি রানু, আমি রানু, আমি রানু।

তাহলে রানু কে?রানু কে? রানু কে?

শেষ রাতের দিকে কে যেন আমার চুল আচড়ে দিচ্ছে। চিরুনি বেশ অমসৃন। আটকে যাচ্ছে চুলে। আমি চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকি। বেশ আরাম পাচ্ছি।
কান চাটে আবার কে? ভেঁজা ভেজা লাগছে।
চোখের পাতা খুলতেই দেখি সেই কুচকুচে কালো কুকুর টা। হেই হেই বলে নড়ে ওঠি।
কিছুটা দূর সরে গিয়ে কুকুর টা লেজ নাড়াতে লাগল। আকাশের দিকে মুখ করে ঘেউ ঘেউ আওয়াজ করল।
আমি বললাম, দূর হ!
কুকুর বলল, ঘেউ। মানে সে কোথা ও যাবেনা।
আমি বললাম, আয়, ঘুমাই।
কিছুটা কাছে এসে বলল, ঘেউ।
ভোরের শয্যা পেতেছি নদী তীরে, ভয় কী রে নদী তোর বুকে
অকেজো ব্রিজ কাঁপুক রাতভর, ভয় কীরে ?

সকাল বেলা চোখ মেলতেই দেখি এক লোক হেঠেঁ যাচ্ছে। আমি বললাম, ভাই! ভাই! আমি কে? রানু কে? আমি এখানেই কিভাবে এলাম।
লোকটি দাড়াঁল না।আড়চোখে দেখে দ্রুত চলে গেল। ভাবছে বোধহয় আমি ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দেব।
এ নদীর নাম আমার আজো জানা হল না।
কোথায় যেন শুনেছি? কোথায় যেন শুনেছি?
জানো, সেই নদীর কথা?
আমি বললাম, কোন নদী?
যে নদী অকালে শুকায়।
সে বলল, নদীর নাম কাছাঁমাটিয়া।
কে বলল? নদীর নাম কাছাঁমাটিয়া। কে বলল, রানু?
ঐ যে একটি লোক আসছে। উদোম শরীরে।ন্যাংটো দেখি আবার। দেশের লোক কি মরে গেছে সব। ওকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারছে না কেন? আসুক ব্যাটা। দু এক ঘা দিলেই গড় গড় করে বলে দিবে এ নদীর নাম কী? নদীর নাম বলতে পারলে আমার পোশাক তাকে ধার দেব।বলতে না পারলে ধাক্কা মেরে ফেলে দেব নদীর জলে। হাঃহাঃহাঃ বাছাধন! মজা টের পাবে! এতো দেখি আস্ত একটা পাগল! হায়, হায়, হায়, পৃথিবীর সব লোক পাগল হয়ে গেল দেখছি!
আমার দিকে তাকিয়ে লোক টা দাঁত খেলিয়ে হাসলো ।হলুদ দাঁত দেখি ব্যাটার। আগে দেখতাম চুলে রং মাখাতো। এখন দেখি দাঁতে রং মাখে।
কি হে এখানে কি করছ, টুকুন? লোকটির সাহস তো কম নয়। ভেতরটা মোচড়ে ওঠল। মাথার ভেতর একজন টুকুন বলে চিৎকার করে ওঠে দিন রাত । এই পাগল ও দেখি আমাকে টুকুন বলে ডাকে। সত্যিই
আমার নাম তাহলে টুকুন?
এই পাগলা! কি বললি? আমার নাম টুকুন?
আমি পাগল না! তুই পাগলা!
কী বললে? আমি পাগলা?
হুমম টুকুন ভাই রাগ করেন ক্যা?
আবার টুকুন?
তাইলে আপনের নাম কী?
সত্যিই তো তাহলে আমার নাম কী?
আমি তাকে জাপটে ধরি। বললাম, তোকে একটা প্রশ্ন করব, উওর দিবি তো? মাথা চুলকে বলল,
হুমম। দেব।
তুই ন্যাংটা ক্যা?
আমি ইচ্ছে করে ন্যাংটো হইনি। রাতের বেলা তুই আমাকে ন্যাংটো করে দিয়েছিস।
কি বলছিস রে? পাগলা, আমার নামে নালিশ। বুঝাচ্ছি রে মজা!
আমাকে ফেলিস নারে টুকুন, আমি তোর প্রেমের সাক্ষী ছিলাম রে!
রানুর বাবা তোকে খুঁজে বের করে ফাঁসি তে ঝুলাবে। তার পর তোকে উলঙ্গ করে দিবে।তুই রানুকে বাসের নিচে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিস।তুই রানু কে ধাক্কা মেরে বাসের নিচে ফেলে দিয়েছিস! পুলিশ তোকে খুঁজছে। দেখিস!
আমি অবাক না হয়ে বলি। আমার কে ভয় দেখাচ্ছিস?
আমি লোকটাকে সত্যি সত্যি নদীতে ফেলে দিলাম।তখনই কে যেন চিৎকার করে বলল, নদীর নাম কাঁছামাটিয়া! নদীর নাম কাঁচামাটিয়া!
ইশ! চালাকি! নদীর নাম বলে বাচাঁর আকুতি! মর গে ব্যাটা ন্যাংটো পাগল!
মাথার ভেতর দেখি পাগলটা ঢুকে গেছে। চিৎকার করছে। টুকুন! টুকুন! টুকুন!
অশয্য! আমি চোখ বন্ধ করে চেঁচাতে শুরু করি।
আমি টুকুন নই ! আমি টুকুন নই ! আমি কেউ না! আমি কেউ না!