কুহক সময়

এ কোন সময়ের বৃওে ঘুরছি প্রতিদিন
কুহক সময়ে ঐন্দ্রজালিক এক যাদুকর
চোখের সামনে ঘোরায় শলাকা
মাতাল শহরের ঘরে ঘরে এতো মিথ্যাচার
যৌবন ফেরি করে বেড়ায় লাস্যময়ী নারী।
গড্ডালিকা প্রবাহে ভাসে রাজনীতির পাঠ
কুহক সময়ে রৌরর ছড়ায় এ শহরে
নমিত চাঁদ জোছনায় আলো ফেলে যায়
অশ্বারোহী চোকিত পথ চলায় ধুনন বাজায়
রাত্রি ঘোরাল হয়ে উঠে,
বৃষ্টিস্নাত সময়ে ঘোরে এ শহরে মাতাল মধুকর।
…………………………………………..

পূর্ণিমার চাঁদ ও জোছনালোক

অফুরান চাঁদের আলো জোছনা প্রহরে
যামিনী হতে না হতেই চাঁদ নীরবতা ভাঙ্গে
মাঠ,নদী, জোছনা প্রহরে জেগে ওঠে,
সোনামুখী ধান ক্ষেতে জোছনা দেয় ঘ্রাণ
জোছনা শব্দ বুনে যায় জুঁই ফুলের গন্ধমাখা প্রকৃতিতে ।
চন্দালোকিত রাতে চাঁদ দোলা প্রকৃতি সূতোর মতো
শুক্লা দ্বিতীয়ার চাঁদ, অমলিন চাঁদ আর জোছনার বিভা
ছাড়িয়ে আষাঢ়ের জল ভরা ধানের মাঠে চাঁদের দোলা
জোছনার নৃত্য মেলা উদ্বেলিত প্রাণে জেগে থাকে
পূর্ণচন্দ্রের আলো অতল রাত্রিতে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়
ধবল বকের মতো শুভ্র জোছনায়,
প্রেম, দু:খ, বিষাদ ,স্বপ্ন চাঁদ ঢেকে দেয় মথিত আলোয়।
কামরাঙা সুখ, জুঁই ফুলের ঘ্রাণ
জোছনা রাতে আনে যৌবন সুর,
অনুপম বিপন্নতাকে ঢেকে রাখে
অন্তহীন জোছনালোকে
জীবনের মায়াবী চাঁদ যখন হেলে পড়ে
আকাশ কুসুমিত জোছনায়।
…………………………………………..

শব্দেরা আসুক

দরজাটা খুলে দাও, শব্দেরা আসুক ঘরে ছুটে ছুটে
সকল বর্ণমালার বাঁধ ভাঙা উচ্ছাসে শব্দেরা ছুটোছুটি করবে ঘরময়,
অলোকিত করে নতুন আলোর জোছনায়,
বেলা- অবেলায় আসুক শব্দেরা তাদের সাহসী ঠিকানায়।
শীত বিকেলের ছায়া হেলে পড়লে চন্দ্রাহত রাতের জোছনায় শব্দরা
পাতবে সংসার উঠোন জুড়ে, জোছনায় উঁকি দেয়া চাঁদের সাথে
শব্দেরা করবে মিতালী ,হিরন্ময় রাত্রির সুখে।
ঝরে পড়া বকুলের মতো,শব্দেরা ঝরতে চায়না,
শব্দেরা আসুক আজ,
আজতো স্মৃতিকাতর একুশের প্রহরবেলা
স্বপ্নবোনা স্মৃতির মায়ায় শব্দরা আসবে,
দরজাটা খুলে দাও,
সোনালী চাদর বিছানো অপরুপ জোছনায়
শব্দেরা আসবে, আমাদের প্রাণের অলিন্দ ছুঁয়ে।
…………………………………………..

প্রকৃতি ও বৃষ্টি

শান বাঁধানো পুকুর ডোবে
বুনো মেঘের স্পর্শে উঠোনে আকাশ ছুঁয়ে বৃষ্টি নামে
বৃষ্টির কাছে সমৃপিত হয় প্রকৃতির রুপ
ভাঙতে ভাঙতে সবটুকু জল অবরুদ্ধ জনপদে
ঋতুস্নান যেনো দ্ধিধার প্রতিক্ষণে
কাঁঠালি পাতায় বুনো বৃষ্টি
উপ্ত হয় নতুন প্রাণবীজ, ভাসমান মেঘে
যুগল পায়রা অস্তিত্ব খুঁজে বাড়ির কার্ণিশে
কর্দমাক্ত মাটির টানে খড়কুটো ভাসে
অস্তিত্ব আবিস্কারে জাগে জনপথ
এমনি অবগাহনে মাতে প্রকৃতি ও বৃষ্টি জলের খেলায়।
…………………………………………..

বৃষ্টি নেমেছিলো আজ

কেয়ার কাঁটা উপচে পড়ে
বৃষ্টি নেমেছিলো আজ
বৃক্ষের ডালে বাসা বেঁধেছিলো অচেনা পাখি
মাতাল হাওয়ায় ভেঙে পড়ে ঘরবাড়ি
মনের মাধুরী মেশানো বৃষ্টির ছোঁয়ায় নি:স্তব্দ
অন্ধকারে অবগুন্ঠন খুলে মেঘ বলিকা
গর্জনে ভরিয়ে দেয় তুমুল প্রকৃতি
চাঁদ ও জোছনা গেছে বাড়ি
লুকিয়ে তারা ভরা মেঘের আকাশে
অলীক সময়ে অচিন বাঁশি বাজে দুরে
বৃষ্টি খুলে দেয় বুকের ঝরণা
সব দু:খ মুছে দিয়ে বৃষ্টির জলে
স্নান করে অনিকেত এক কাক।
…………………………………………..

অপার বিস্ময় জাগে

অপার বিস্ময় জাগে এ মৃওিকা, এ বিপুলা প্রকৃতি
একদিন র্দীঘ জীবনের সঙ্গী হবেনা
জীবনের র্দীঘ ছায়া ফেলে যে পথে চলেছি
এক দিগন্তের স্বপ্ন নিয়ে
সে পথ একদিন মলিন হয়ে যাবে।
দৃষ্টির সীমানায় বহমান এ জীবন
অদৃর্শ্য ছায়ার মতো মিলিয়ে যাবে
জীবনের গভের্, যে স্বপ্ন আশায়
অফুরান সময় কেটেছে নিজের গহীনে
নিজেকে খুঁজে নিতে নিতে,
তার পদচিহ্ন একদিন হারাবে ধূলোয়।
অলীক সময়ের স্রোতে ভেসে ভেসে
নদীর স্রোতের মতো আবহমান জীবন
প্রসন্ন রাতের গভীর থেকে শব্দের গন্তব্য ছেড়ে
মাটির গভীর থেকে উঠে আসা ঘাসে
শিশির ফোটার মতোস মিলাবে অলক্ষ্যে
আশ্চর্য্য জীবন সিঁড়ি ভেঙ্গে।

অপার বিস্ময় জাগে
অলৌকিক জোছনায় আলোকিত প্রহরে প্রহরে
মধ্যরাতের হাতছানিতে
নিরাকার অন্ধকারে জীবন উৎসব ছেড়ে,
মৃত্যুর কাছাকাছি, একদিন চলে যাওয়া
চাঁদের আলোয় জোছনার ডাকে
পাখা মেলে অপার বিস্ময়ে।
…………………………………………..

কেমন মাধুরী ফুটেছে

বৈশাখের ব্যাকুল করা বাতাসে
আমের মুকুল ঝরার গন্ধময় সময়
বাতাবী লেবুর গন্ধমাখা দুপুরে
কুকিলের কন্ঠের ডাক
ঝলমল ঢেউ তোলা নদীর হাওয়ায়
লাল কৃষ্ণচুঁড়া উঁকি দেয় রৌদ্রের খেলায়।
চৈত্র সংক্রান্তির মেলা ভেঙ্গে গেলে
বাঁশির অধরা সুরের নাচন
রাত্রির দীপান্বিতা শিখা জ্বলে অর্ন্তলীন
জীবনের উপলব্দিতে নতুন স্বপ্ন
কালো মেঘপুঞ্জের মতো উড়ে যায়
কৃষ্ণচূঁড়া, মাধূরী কেমন ফুটেছে
অনন্ত সুর সাজা প্রকৃতিতে,
ফুলের গন্ধমাখা পাঁপড়ি ফোটা সময়ে
বৈশাখ জানান দেয় সৌন্দর্যের আকুলতার ছোঁয়া।
…………………………………………..

যে মুগ্ধ জোছনায়

বকুল পাতার ফাঁকে আকাশের চাঁদ
মুগ্ধতা দিয়ে যায়, প্রকৃতির বুনো জোছনা প্রগাঢ় স্তব্দতায়
উওরের হাওয়ায় অর্ধবৃও চাঁদ, সমর্পণ করে প্রকৃতির নির্জন অনূভূতিতে।
তমস নির্জনতা খাঁ খাঁ করে বইছে
রাতের জোছনার মুগ্ধতায়,
এক নি:সঙ্গতার ভেতর বকুল গন্ধে
জানালার পর্দায় উঁকি দেয় জোছনার প্রচ্ছায়া,
কুয়াশা এসে জমে ঘাসের ডগায়
ফুরোয় না প্রদোষে পথিকের পথ চলা।
নির্জন অতল রাত্রি আর জোছনা ঢাকা
উঠোনে ডুব দিয়ে শুনতে
পাই শিশির ঝরার শব্দ
শুকনো পাতারা ঘুমিয়ে
শিশির ঢাকা জোছনার মিলনে।
যে মুগ্ধ জোছনার গভীর দৃষ্টি
কাতর করে মনের লাবণ্য
ব্যাকুল করে মনের স্বপ্ন ছোঁয়া
তবু ফিরে আসে চাঁদ
জেগে থাকা মুগ্ধতায়
প্রকৃতির মেঘের লুকোচুরিতে।
…………………………………………..

এই শহরে দিনরাত্রি

প্রেমহীন বিশ্বাসে আজ নির্মোহ তুমুল যাত্রার ধ্বনি
বিবর্ণ অন্ধকার গলির মোড়ে ময়লার ভাগাড়
বাউন্ডলে ঘোরে একা একা পথে
প্রেমহীন নি:সঙ্গতায় স্বপ্ন ফেরি করে বেড়ায়
তীব্র হাহাকার শহরের শান্তির নীড়ে।
মৃর্ত্যুজ্ঞয়ী করে জেগে থাকে নারী’র যৌবন
আঁচলে বাঁধা শত কষ্ট ছুঁড়ে দেয় সৌমত্ব পুরুষের তাপে
নিরন্তর জন্ম-মৃত্যুর সংবাদ আসে কালের যাত্রায়
রৌরব সন্ত্রস্ত মাতাল শহরের রাত্রিদিন
রাত গভীরে মাতাল প্রেমিক কড়া নাড়ে দরজায়
মাটির ঢেলা ছুঁড়ে মারে ক্ষিপ্ত জুয়ারী
নারকীয় ভুবনের মতো মৃত্যু সংবাদ পাঠে সোচ্চার লাস্যময়ী তরুণী
বিপর্যস্ত জানালায় দুলে উঠে অশান্ত ছায়াপাত।
কুসুসিত ছায়া ঘোরে গৃহহীন ঘরে
আলোকের মত ছায়া ফেলে, জোছনায় সূর্যের দৃর্শ্যপট উঁকি মারে
অপরাহ্নে শুনশান শহরে শ্বাপদের বিড়ম্বনা
আলো ও আঁধারে ডোবে কুসুমিত চাঁদ
তবুও বাসনা জাগে মানুষের মনে
স্বপ্ন ও যাপিত জীবনে খুঁজে নেয় নতুন পথ।
…………………………………………..

কীনব্রিজে এক সন্ধ্যা
(কবি দিলওয়ারকে নিবেদিত)

কীনব্রীজে রাত্রি নামে নীরব প্রকৃতিকে ঘুম পাড়িয়ে
সুরমা নদীর দু:খ জাগানিয়া জলের ঢেউ খেলায়
কীনব্রীজ দাঁড়িয়ে থাকে দু’চোখের স্বপ্নে
এক পদাতিক কবি দিলওয়ার প্রতিদিন
কীনব্রীজে হেঁটে হেঁটে স্বপ্ন রেখে যায়,
আলী আমজাদের পেন্ডুলাম শব্দ করে জানিয়ে দেয়
কালের ধূলোর ইতিহাস।
কীনব্রীজে পাখিরা রাত্রির ছায়ায় নিত্য ছুটে চলে
কীন ব্রীজে তমস সন্ধ্যা নামে
ঘুমিয়ে থাকে শহর রাত্রির ওমে,
কীনব্রীজের দু’কূলের সৌন্দর্য্য ধারণ করে বুকে
পথচারীর নিত্য আসা-যাওয়া,
ভোরে’র পাখি জাগিয়ে তোলে প্রদোষ জীবন।
…………………………………………..

ওমর আলী
(পষ্ণাশ দশকের স্বতন্ত্র কন্ঠস্বর কবি ওমর আলীকে )

না থাকাটাই সত্য আজ,
সত্যকে মাড়িয়ে একে একে দূরে চলে যাওয়া,
এ মৃওিকা, এক নিবিড় মমতায় , শিশিরের ছোঁয়া ছেড়ে, সব চষ্ণলতা মাড়িয়ে
নিয়তির প্রাণিত বিশ্বাসে। তবু নিসর্গে ফুটে ফুল, বকুল ছড়ায়, মাটি ও
প্রকৃতি মিলায়ে স্বপ্ন আপন স্বওয়।
না থাকাটাই সত্য আজ
স্বপ্নের পূর্ণপ্রাণে, আলো নেই কোন ল্যম্পপোষ্টে,
অন্ধকারে চোখ রেখে আলো-ছায়ার খেলায় চলে যাওয়া।
এদেশে শ্যামল রমণীর
ছায়া প্রতিদিন উঠোনে ফেলে স্বপ্ন,
মনের ভেতর চষ্ণলতা নিয়ে নারীরা
মেলে দৃষ্টি সীমানায়।
হাঁটুরে প্রতিদিন ফেরে বাড়ি, ফেরা হয়না চেনা পথের
মোড় ফেলে, সত্য বিশ্বাসে।
না থাকাটাই সত্য আজ
সত্য কেবল একে একে অনুপস্থিতি জানান দেয় মাটির মৌনতায়,
তবু , এক ফালি চাঁদের আলোয়, তুমি অস্তিত্বে মিশে যাও কবিতার জমিনে।
…………………………………………..

জলেশ্বরী নদীর কাছে
(সব্যসাচী কবি প্রয়াত সৈয়দ শামসুল হক’কে নিবেদিত)

পরানের গহীনে যে নি:স্তব্দতা, যে দু:খবোধ
তার কন্ঠরোধ করা যায়না , কষ্টের যাপিত জীবনে
প্রিয় কবির প্রস্থান যেনো আজ,
অস্তমিত সূর্যের মতো সব ভালোবাসাকে ঢেকে রাখে।
জলেম্বরীর কবি, নদীর কূল জুড়ে বয়ে যাওয়া লু হাওয়া
তোমাকে ছায়া দেবে, ছায়া দেবে নিবিড় প্রকৃতি,
যে জলের মৃওিকা তোমার স্পর্শের অপেক্ষায় ছিলো এতকাল।
এদেশের মাটি, মানুষকে ভালোবেসে পরানের গহীনে
যে স্বপ্ন রেখেছিলে জমা, তাকে ছড়িয়ে দিয়েছো
আকাশের উচ্চতায় মানুষের গহীন ভূবনে,
তবুও হে কবি, কবিতার সৌকর্যে তুমি রাজপুওর হয়ে
পাঠকের প্রতিদিনের বেঁচে ওঠার সময়ে, থাকবে মূচ্ছনায়
সকল ভালোবাসা বেদনায়,
জলেশ্বরী’র নদীর কাছে, ডাহুকের ডাক, ভোরের শিশিরের কাছে
আমরা খুঁজে নেবো তোমার আপন ঠিকানা।
…………………………………………..

তোমার জন্য অপেক্ষায় স্বদেশ
(বাংলা কবিতার অনিবার্য নাম প্রয়াত কবি রফিক আজাদকে)

তোমার জন্য অপেক্ষার প্রহর ফুরোবেনা,
তুমি জাগবেনা জানি আর কোনদিন
ঠান্ডা ,তপ্ত শীতল হাওয়ায় শেষ মূহুর্তে কেটেছে কষ্টের সীমানায়, মৃত্যুর প্রহরেন তোমার।
ট্রিগারে আঙ্গূল রেখে যে কবি বারবার মৃত্যুর শপথ থেকে
জাগিয়ে তুলেছেন স্বাধীনতার শক্তিকে
সৌন্দর্য্যর প্রকৃত প্রেমিক দ্রোহে গেঁথেছেন উচ্চারিত শব্দাবলি
সে কবির জন্য আজ প্রতীক্ষা সবার,
কুর্ণিশ করি, এক বসন্তে তোমার নীরব চলে যাওয়া।
তোমার জন্য অপেক্ষায় স্বদেশ
পুরো মানচিত্র জুড়ে শোকের ছায়া
ভোরের শিশিরের মতন স্নিগ্ধ সকালে।
দু’জন দু’জনার মুখোমুখি বসে যে ভালোবাসা ছড়ায় আকুলতায়
সে ভালোবাসা আজ কবির জন্য উন্মুখ হয়ে আছে
দু’হাত উজার করে দেয়া শব্দের গড়িয়ে পড়ার মত
রক্তে ঢেউ তোলা জীবনের গানে।
তোমার পরিচয় এ মৃওিকায়
প্রকৃতিতে জেগে থাকা সৌরভের কাছে পরাজিত মৌনতায়,
শাণিত হয় দ্রোহে, চেতনায়।
তোমার জন্য অপেক্ষায় স্বদেশ
যে তোমার গভীরে ছিলো দেশভাগ, স্বাধীনতার স্বাদ,
নতুন স্বপ্নভুমির জন্য প্রস্তুতি, কবিতার জন্য নিত্য আকুলতা
সে তোমার অস্তিস্তে¡ আজ অনিবার্য হয়ে জেগে আছে বাংলা কবিতা,
পরির্কীণ তোমার পানশালা ছেড়ে চলে যাওয়া
কবিতার গহীনে হারিয়ে যাওয়া পথের মৌনতা ভেঙ্গে।
তবু, ফিরে এসো, তোমার অপেক্ষায় স্বদেশ, হে কবি, হে যোদ্ধা।